গত কয়েকদিন ধরেই পিসি বিল্ডার বাংলাদেশের কম্পিউটার বিষয়ে সাহায্য করার গ্রুপ পিসি হেল্পলাইন ও ডিসকাশনে একটি বিশেষ রকমের পোস্ট দেখা যাচ্ছিল। পোস্টের ধরণ হচ্ছে এরকম বিভিন্ন অনলাইন শপে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে GTX 750 ti অথবা GTX 960/970 জিপিউ পাওয়া যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে একজন জিপিউ কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতার মনে এটি নিয়ে কৌতূহল জাগার কথা। কিন্তু এরকম সস্তা গ্রাফিক্স কার্ড স্ক্যাম এর পেছনের কাহিনী সংক্ষিপ্তভাবে জানানোর জন্য আজ এই আর্টিকেল।

এই ধরণের সস্তা গ্রাফিক্স কার্ডের এড আমরা এখন নয়, আরো দুই তিন বছর আগে থেকেই দেখে আসছি। এটি নিয়ে লাইনাস, গেমারস নেক্সাস ও RandomGamingInHD সহ বেশ কিছু চ্যানেলে কভার করা হয়েছে। নীচে দুটি ভিডিও দেয়া হল, সময় পেলে দেখে আসতে পারেন।

কিভাবে তৈরি করা হয় এই সস্তা গ্রাফিক্স কার্ড?

প্রতি নতুন জেনারেশনের জিপিউ আসার পরেই আগের জেনারেশনের জিপিউর জন্য আনা অনেক কম্পোনেন্টই বাতিল পরে থাকে। এগুলো বাল্ক প্রাইসে বিভিন্ন মানুষের কাছে সেল করা হয়। তবে সেল করার জন্য প্রতিটি কোম্পানি বেশ কয়েক বছরই অপেক্ষা করে। স্ক্যামার কোম্পানি সস্তা দামে এরকম পুরাতন জেনারেশনের পিসিবি ও চিপসেট কিনে নেয়। আর তার সাথে সাথে কিনে নেয় একেবারে নিম্নমানের কোয়ালিটির কুলিং হিটসিঙ্ক ও ফ্যান। যার কারণে, এই ধরণের জিপিউ তৈরি করতে বেশি খরচ হয় না। প্রতি জিপিউ মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেই তৈরি করে ফেলা যায়। বর্তমান সময়ে এই স্ক্যামিং গ্রাফিক্স কার্ডগুলোতে ব্যাবহার করা হচ্ছে প্রায় ৬, ৮ এমনকি ১০ বছর আগের থাকা GTX 650, 550, 460 ইত্যাদি নিম্নমানের জিপিউর চিপসেট ও পিসিবি। যদিও কার্ডের স্টিকারে আপনাকে যে নাম দিয়ে সেল করছে সেই নামটিই থাকবে।

হার্ডওয়্যারে যখন এরকম পিসিবি দিচ্ছে তাহলে স্বভাবতই জিপিউটি কম্পিউটারে কানেক্ট করলে এরকম পুরাতন কার্ডের নামই শো করার কথা। এই দিক দিয়ে আসে কাস্টম বায়সের কাজ। তাদের সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্ট প্রতিটি কার্ডের জন্যই কাস্টম বায়স তৈরি করে। কাস্টম বায়সের কাজ হচ্ছে আপনার জিপিউর হার্ডওয়্যারের মধ্যে যে ধরণের কম্পোনেন্টই থাকুক না কেন, কম্পিউটারে যখন প্লাগ ইন করবেন, তখন বিভিন্ন সফটওয়্যার যেমন GPU-Z, MSI Afterburner ইত্যাদিতে যে নামে সেল করা হচ্ছে ঠিক সেই নাম ও কনফিগারেশন শো করা। তাই, কম্পিউটারে GTX 960 বা 1050 শো করলেও পারফর্মেন্স পাবেন পুরাতন জেনারেশনের জিপিউর সমানই যা আসল কার্ডের মোট পারফর্মেন্সের ৩০% এর কাছাকাছিও আসে না।

কিভাবে নিরাপদ থাকবেন এমন স্ক্যাম হতে

এই ধরণের স্ক্যাম হতে নিরাপদ থাকার বেসিক জিনিসই হচ্ছে টাইটেল এর দিকে নজর দেয়া। আপনি যদি প্রোডাক্ট পেইজে যান তাহলে দেখবে যে নাম দিয়ে কার্ড সেল করা হচ্ছে সেই পেইজে কার্ড সম্পর্কে অনেক ডিটেইলস দেয়া আছে যা সাধারণত আমরা সেই স্পেসিফিক কার্ডের মূল পেইজে পেয়ে থাকি।

কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন, সেই কার্ডের এডের মধ্যে কোন প্রকারের ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ থাকে না। যার কারণে খুব সহজেই বোঝা যায় এটা নকল গ্রাফিক্স কার্ড। বাংলাদেশে অফিসিয়ালি নিম্নোক্ত ব্র্যান্ডের জিপিউ পাওয়া যাচ্ছে।

  • ASUS / ROG
  • MSI
  • Gigabyte / Aorus
  • Zotac
  • Sapphire
  • Leadtek
  • XFX
  • Galax
  • ASRock
  • HIS
  • Colorful / iGame (Upcoming)

প্রতিটি আসল কার্ডের মধ্যেই আপনি এরকম কোন ব্র্যান্ডের নাম খুজে পাবেন আর এদের দামও হবে সাধারণ মার্কেট প্রাইসের কাছকাছি। এছাড়াও, কার্ডের এডের মধ্যে যে কনফিগারেশন দেয়া থাকে সেগুলো আপনারা কার্ডগুলোর অরিজিনাল অর্থাৎ এনভিডিয়া বা এ এম ডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে মিলিয়ে নিতে পারেন। হাজার টাকায় হীরের সন্ধান করতে গিয়ে কাঁচ কিনে বাড়ি ফেরত না আসাটাই আপনাদের জন্য বেশি ভালো হবে।