Why Gamdias Hephaestus P1 RGB Headset Review?

ফ্ল্যাগশিপ হেডসেটের কথা যখনি শুনি তখনি চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১০/১২ হাজার টাকার প্রাইস ট্যাগ। আর সাধারণত ১০ হাজার টাকার নিচে কোয়ালিটি সম্পন্ন ফ্লেগশিপ হেডসেট খুজে পাওয়া অনেকটা কষ্টকর। কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই Gamdias আপনাকে অফার করছে তাদের ফ্ল্যাগশিপ হেডসেট যা কিছু ১০/১২ হাজার হেডসেটকেও হার মানাতে পারে? ঠিক এই প্রশ্নটি শোনার পর মনে খুব আকু পাকু করছিল হেডসেটটি ব্যাবহার করে দেখার জন্য। তাই রিভিউ কপি পাবার অপেক্ষা না করে সরাসরি ৫১০০ টাকা দোকানদারকে দিয়ে কিনে আনা হল Gamdias Hephaestus P1 RGB হেডসেট। আর হেডসেটটি দেখা মাত্র মনের মধ্যে যে প্রশ্নটি আসলো, ”হেডসেটের মধ্যে আবার হিটসিঙ্ক কি করে?”

Unboxing

আনবক্সিং অভিজ্ঞতা খুবি সিম্পল। প্যাকেট থেকে পাতলা প্লাস্টিকের বক্সে হেডসেট ছাড়া আমরা আর কিছুই খুজে পাই নি। গামডিয়াসের ফ্ল্যাগশিপ প্রোডাক্টের চিপ প্যাকেজিং আমাকে কিছুটা হতাশ করেছে। তবে হেডসেট সম্পর্কে যা জানতে চান তার বেশিরভাগ জিনিস জেনে নিতে পারবেন প্যাকেট থেকেই।

Specification

মূল রিভিউতে যাবার আগে দেখে নেয়া যাক Gamdias Hephaestus P1 RGB হেডসেটের স্পেসিফিকেশনঃ

Sensitivity 119±3 dB
Impedance 32 Ohm + / – 15%
Driver diameter 50mm
Driver Magnet NdFeB
Microphone size Φ6*5mm
Microphone Sensitivity -58db±5db
Microphone Pick up Pattern Omnidirectional
Vibration Unit Size 30mm
Cable Length 1.8m
Plug type Gold-plated USB plug
Dimension (LxWxH) 232 × 100 × 216 mm
Application UI HERA Software

Review:

Body Design

প্যাকেজিং চিপ হলেও ফ্ল্যাগশিপ হেডসেট হিসেবে লুক, এস্থেটিক এবং ডুরাবিলিটির দিকে কোন কমতি রাখেনি গামডিয়াস। এখানে তারা দিয়েছে স্টিল ফ্রেম যা অন্যান্য হেডসেট থেকে অনেকটাই ফ্লেক্সিবল করে তুলেছে এই মডেলটিকে। তবে বেশি টানাটানি করলে কি হবে সেটা জানার রিস্ক আমি আর নেই নি। হেডসেটের স্পীকার বেইজ বডি হচ্ছে প্লাস্টিকের এবং এই বডির মধ্যে ইন্টিগ্রেড করা আছে RGB। আই মিন ২০১৮ সালে আরজিবি ছাড়া কোন প্রোডাক্ট এখন কি আর বাজারে দেখা যায়? যাই হোক, গামডিয়াসের হেরা সফটওয়্যার দিয়ে আপনি স্ট্যাটিক, ব্রিথিং, রেইনবো এবং ফ্ল্যাশ এই ৪ টি স্টাইলের আর জি বি লাইটিং সাইকেল করতে পারবেন। তবে আমি রেইনবোতেই আরজিবি স্টাইল সেট করে রাখি। এছাড়াও হেডসেটের বেইজকে অন্যান্য হেডসেটের মতই মাথার সাইজ অনুযায়ী এডজাস্ট করে নিতে পারবেন। তবে আমার মতে এডজাস্টমেন্ট হাইট আরো আধা বা এক ইঞ্চি বেশি হলে ভাল হত।

হেডসেটে দেয়া হয়েছে ৬ ফিট লম্বা হাফ ব্রেডেড কেবল এবং ইউএসবি কানেক্টরটি করা হয়েছে গোল্ড প্লেটেড যা একটি প্লাস পয়েন্ট। হেডসেট থেকে বের হওয়া কেবলের প্রায় এক ফিট নিচেই পেয়ে যাবেন কন্ট্রোল বারটি। সেখানে রয়েছে মাইক অন/অফ এবং ভলিউম আপ ও ডাউন বাটন। অন/অফ বাটনটি লাল থাকবে যখন মাইক অফ থাকবে এবং নীল হয়ে উঠবে যখন মাইক অন করবেন। এছাড়া হেডসেটের ভাইব্রেশন অন/অফের সুইচ পাবেন ভলিউম আপ/ডাউনের পাশেই। তবে আমার কাছে তাদের বাটন ডিজাইন কিছুটা উদ্ভট লেগেছে। এই কন্ট্রোল বারটি কিছুটা স্লিম করলে আমার মতে আরো বেটার লুকিং হত।

Comfort

ফ্রেমের নিচে লেদার কভারে ফোম কুশন দেয়া আছে তাই মাথার উপরে কোন আনকমফোর্টেবল ফিলিং খুব সহজে আসে না। এছাড়া হেডসেটটি হচ্ছে ওভার ইয়ার হেডসেট অর্থাৎ এটি আপনার পুরো কানকে কভার করে রাখবে। ইয়ার কাফ দুটিতেও লেদার কভারের নিচে বেশ ভাল পরিমাণের ফোম কুশন দেয়া হয়েছে যা অন্যান্য ব্রান্ডের এই রেঞ্জের হেডসেটে খুব কম দেখা যায়। যে কোন অন ইয়ার হেডসেট ব্যাবহারে এক দেড় ঘন্টা পর কান বেথা করে, চরচর করে, হেডসেট আর পরে রাখা যায় না অথবা অনেক অস্বস্তি হয়। কিন্তু এই হেডসেট টানা ৩/৪ ঘন্টা ব্যাবহার করার পরেও কখনোই কানের মধ্যে খুব বেশি অস্বস্তিকর ফিলিং আসে নি। কমফোর্টেবলটির দিক থেকে বেশ ভালো মার্ক আনায়াসে দেয়া যেতে পারে।

আর শুরুতেই একটি প্রশ্ন মনের মধ্যে এসেছিল হেডসেটে আবার হিটসিঙ্ক কেন? দীর্ঘ সময় ব্যাবহারের পরও চোখে পরল না এর প্র্যাক্টিকালিটি। গেমডিয়াস ক্লেইম করছে, হেডসেটের ভেতরের দিক গরম হয়ে গেলে এই কুলিং ভেন্ট থার্মাল কন্ট্রোলে বেশ ভাল ভূমিকা রাখবে। কিন্তু ৩৫/৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে টর্চার করার পরেও হেডসেটের ভেতরের অংশ তেমন গরম হয় নি। যে কারণে, হিটসিঙ্ক থেকে কোন প্রকারের গরম ভাপ পাওয়া যায় নি। তাই আমার কাছে হেডসেটে কুলিং ভেন্ট দেয়া অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে।

Sound Quality

এবার আসা যাক হেডসেটের মেইন ফিচার, এর সাউন্ড কোয়ালিটির দিকে। এতে ব্যাবহার করা হয়েছে ৫০ মিমি. ড্রাইভার এবং এর ইম্পিডেন্স হচ্ছে প্রায় ৩২ ওহম। যারা টেকনিক্যাল জিনিসে আগ্রহী না তাদের জন্য সোজা কথায় বলা যায় এর ডিফল্ট সাউন্ড ইন্টেন্সিটি কিছুটা লো। যদি ভালো ও লাউড সাউন্ড কোয়ালিটি পেতে চান তাহলে গেমডিয়াসের হেরা সফটওয়্যার দিয়ে আপনি প্রয়োজনমত বিভিন্ন সাউন্ড প্রিসেট সিলেক্ট করে নিতে পারবেন অথবা পছন্দ ও কম্ফোরটেবিলিটি অনুযায়ী কাস্টম সাউন্ড সিস্টেম বা EQ সেট করে নিতে পারবেন।

আর যেহেতু ফ্ল্যাগশিপ হেডসেট তাই এটি অবশ্যই 7.1 ভার্চুয়াল সারাউন্ড সাউন্ড সাপোর্টেড। হেরা সফটওয়্যার দিয়ে আপনি ভার্চুয়াল সারাউন্ডের ভার্চুয়াল স্পীকার নিজের পছন্দমত জায়গায় নিয়ে রাখতে পারবেন। তবে পারফেক্ট অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধকল সহ্য করতে হবে। স্পীকারগুলোর বেস্ট পজিশনিং কম্বো পাওয়ার জন্য প্রায় এক ঘন্টার মত কস্ট করতে হয়েছে। এছাড়া আরো এনহান্সড অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে 3D অপশনটিও ইনেবল করে দিতে পারেন। এই 7.1 সারাউন্ড টেস্ট করার জন্য হেডসেটটিকে ওয়ারফেস, সি এস গো, ফোরটনাইট ব্যাটেল রয়্যাল এবং ডিসঅনারড ২ এই চারটি গেমের মধ্য দিয়ে হেভি টেস্ট করা হয়। পজিশনিং একুরেসি বলা যায় ৬০/৬৫%। তবে কিছু ক্ষেত্রে একুরেট পজিশনিং পাওয়া গিয়েছে।

Mic Quality

মাইক কোয়ালিটি নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই। শুধু এটা বলে রাখি যদি বিশ্বের টপ ৫ হেডসেট মাইকের লিস্ট করা হয় তাহলে ২ থেকে ৪ এর মধ্যে কোন এক নাম্বারে স্থান হবে এই হেডসেটের মাইকের। Gamdias Hephaestus P1 RGB হেডসেটের মাইক রেজার, লজিটেক, কিংস্টন, টারটল বিচসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ২০০/২৫০ ডলারের হেডসেটের মাইককেও লজ্জা দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

মাইক টেস্ট শোনার জন্য এখানে ক্লিক করুন

আনইডিটেড অবস্থায় ভোকালের পাশাপাশি একটু স্ট্যাটিক ভেসে আসে। প্রথমে মনে করেছিলাম হার্ডওয়্যার ফল্ট থাকতে পারে, কিন্তু রিসার্চ করে জানতে পারলাম এই স্ট্যাটিক প্রায় সব ইউএসবি হেডসেটের মাইকে ভেসে আসে। তবে সামান্য এডিটেই তা মুছে ফেলা যায়। এছাড়া মাইকটি ওমনিডিরেকশনাল হওয়ায় এটি আশেপাশের যা সাউন্ড আছে সব পিক আপ করে নেয়। তাই হেডসেটের মাইক দিয়ে যারা রেকর্ডিং করতে চান তাদের জন্য পরামর্শ রাতের বেলা অথবা কোন নীরব জায়গায় রেকর্ডিং করার।

Some Negative Sides

যদিও অরিজিনালি রিভিউটি লিখেছিলাম মার্চে, কিন্তু এখন হচ্ছে সেপ্টেম্বার মাস। এই ছয় মাসের মধ্যে বেশ কিছু নেগেটিভ সাইডের সম্মুখীন হয়েছি যা আসলে এক মাস দুই মাসের ব্যাবহারের রিভিউতে পয়েন্ট আউট করা সম্ভব হয়ে উঠে না। প্রথমত হচ্ছে, আপনি যদি হেভি ইউজার হয়ে থাকেন বিশেষ করে গরম কালে আপনাকে যদি ডেইলি ৪/৫ ঘন্টা বা তার বেশি হেডসেট পরে রাখতে হয় তাহলে দুটি ইয়ার কাফ থেকেই অনেকটা উৎকট টাইপের দুর্গন্ধ বের হয়। এছাড়াও, হেডসেট কেনার আড়াই মাসের মাথায় হেডসেটের ইয়ারকাফের আঠা শুকিয়ে তা হেডসেট থেকে আলাদা হয়ে যায়। অবশ্য এটা একটু মাইনর প্রবলেম। গেমডিয়াসের সাপোর্ট বলেছে, তারা ডিজাইন এমনভাবে করেছে যাতে ভবিষ্যতে যেন ইয়ার কাফ ছিড়ে গেলে বা ড্যামেজ হলে যেন পুরো হেডসেট না রিপ্লেস করে কম খরচে শুধু যেন ইয়ার কাফটিই রিপ্লেস করা যায়।

ফিচারওয়াইজ যদি নেগেটিভ সাইড নিয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে তা হচ্ছে এর ওভারঅল সফটওয়্যার সাপোর্ট। গেমডিয়াসের বেশিরভাগ পেরিফেরালস তাদের নিজস্ব ‘হেরা’ সফটওয়্যার সাপোর্ট করে। কিন্তু, এর সফটওয়্যারে হিবি সিরিজের হেডসেটের জন্য থাকা অনেকগুলো ফিচার এভেলেবল নেই যার কারণে এর পুরো মজা আমি এখনো উঠাতে পারিনি। এছাড়াও এতে কোন প্রিসেট সেভ করে রাখার সিস্টেম নেই অর্থাৎ আপনাকে কম্পিউটার অন করার পর প্রতিবারই সারাউন্ড সাউন্ড এবং প্রিসেট কাস্টমাইজ করতে হবে।

তবে সবচেয়ে বেশি আফসোসের বিষয় হল, হেডসেট কেনার মাত্র ৭ মাসের মাথায় ওয়ারেন্টি ক্লেইম করা লাগল। হঠাৎ করেই হেডসেটে আর ভোকাল শোনা যাচ্ছিল না। এরকম আচমকা ডিফেক্ট আমি একদমই আশা করিনি।

Overall Opinion

প্রথম দিকে Gamdias Hephaestus P1 RGB হেডসেটটি আমার কাছে ভাল লাগলেও, এই ৮ মাস ধরে ব্যাবহার করতে করতে অনেক নেগেটিভ সাইড খুজে পেয়েছি যা এক মাসের ব্যাবহারে রিভিউ দিলে খুজে পাওয়ার কথা নয়। তবে যে নেগেটিভ সাইডগুলো পেয়েছি তা ওভারঅল পারফর্মেন্সে কোন প্রকার ইফেক্ট ফেলেনি। সফটওয়্যার সাপোর্ট, কাস্টম প্রিসেট সেভ করে রাখার অপশনের অভাব ও ভার্চুয়াল ৭.১ সারাউন্ড সেটাপ এর নেগেটিভ দিক হলেও সাউন্ড কোয়ালিটি, গ্রেট কমফোরট, আরজিবি লাইটিং আর স্পেশালি এর মাইক কোয়ালিটি (যা ওয়ান অফ দি বেস্ট হেডসেট মাইক্রোফোন) Gamdias Hephaestus P1 RGB হেডসেটটিকে আনায়াসে একটি বায়িং অপশন করে তোলে।

হেডসেটটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

আর সময় পেলে পড়ে আসতে পারেন Gamdias HERMES E1 Combo + NYX E1 Gaming Keyboard & Mouse Combo এর রিভিউ।