মিনি আইটিএক্স শব্দটির সাথে আমি পরিচিত হই আমাদেরই ইউটিউব চ্যানেলে থাকা ২০১৪ সালের প্রথম ভিডিওটির মাধ্যমে। মিনি আইটিএক্স মূলত হচ্ছে খুবই ছোট আকারের ফর্ম ফ্যাক্টর ডেস্কটপ সিস্টেম। এই সিস্টেমের মাদারবোর্ড বেশ ছোট সাইজের হয়ে থাকে। প্রথম যখন এই সাইজের মাদারবোর্ড বের হয় তখন তেমন পাওয়ারফুল ছিল না। যে কারণে ভাল মানের প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ড ব্যাবহার করা যেত না। টেকনোলজিক্যাল আপগ্রেডের কারণে এখন মিনি আইটিএক্স মাদারবোর্ড অনেক পাওয়ারফুল করা সম্ভব হয়েছে। মোটামুটি হাই এন্ড সকল কম্পোনেন্টই এখন আমরা মিনি আইটিএক্স মাদারবোর্ডে ব্যাবহার করতে পারছি। সুতরাং আমি নিজেও চিন্তা করলাম একটি পার্সোনাল মিনি আই টি এক্স বিল্ড করার। তাই এই বিল্ডের জন্য আমি চয়েজ করেছি Phanteks Enthoo Evolv ITX চ্যাসিস।

কেসটি মূলত আপনারা পাবেন ৩ টি ভ্যারিয়েন্টে, ফুল ব্ল্যাক, ব্ল্যক এন্ড রেড এবং ফুল হোয়াইট কালারে। আমাদের ইউনিটটি হচ্ছে হোয়াইট কালারের। প্রিমিয়াম লুকিং কেসটিতে টপ টু বটম সব কিছুতেই প্রিমিয়াম একটি ভাব আছে। ফুল বডি তৈরি করা হয়েছে স্টিল দিয়ে আর ফ্রন্ট প্যানেল্টিতে প্লাস্টিকের উপরে স্টিল প্ল্যাটিং করা আছে। সাইড প্যানলে দেয়া আছে আক্রিলিক। তবে এর টেম্পারড গ্লাস ভার্শন বাংলাদেশে এখনো এভেল্যাবল না।

Phanteks Enthoo Evolv ITX এর ফ্রন্টে পাবেন দুটি ইউএসবি ৩.০, এইচডি অডিও ও মাইক পোর্ট এবং রিসেট বাটন। পাওয়ার বাটনটি দেয়া হয়েছে উপরে। ফ্রন্ট প্যানেলের নীচে একটি ছোট লাইট বাল্ব দেয়া আছে যা ডিফল্ট সাদা কালারের। তবে আপনি ইচ্ছা করলে নিজের পছন্দমত কালার অনুযায়ী লাইট সেট করতে পারবেন।

যেহেতু নামের মধ্যেই আইটিএক্স আছে তাহলে বুঝতেই পারছেন, এতে আইটিএক্স ছাড়া আর কোন মাদারবোর্ড সাপোর্ট করবে না, কিন্তু গ্রাফিক্স কার্ড সাপোর্টে ফ্যান্টেক্স কোন কার্পণ্য করেনি। পুরো ১৩ ইঞ্চির জিপিউ কম্প্যাটিবল এটি। কিন্তু এতে কেবল দুটি পিসিআই ব্র্যাকেট থাকার কারণে ট্রিপল এক্স এল সাইজ ছাড়া বাকি সকল সাইজের জিপিউ ইন্সটল করতে পারবেন। কিন্তু পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে ফুল সাইজ পিএসিউ ইউজ করতে পারবেন। আর আজেবাজে ক্যাবল যেন না দেখতে হয় তার জন্য দেয়া আছে ফুল পিএসইউ শ্রাউড।কিন্তু ফেনহাবটি থাকবে শুধু টিজি ভারর্শন এর সাথে ।

Phanteks Enthoo Evolv ITX কেসে ফ্রন্ট সাইডে একটি ২০০ মিমি. ফ্যান ইনক্লুড করা থাকবে। তবে আপনারা চাইলে সামনে এবং উপরে ২ টি করে ১২০ মিমি. অথবা ১৪০ মিমি. ফ্যান লাগাতে পারবেন। এছাড়া রিয়ারে একটি ১২০ অথবা ১৪০ মিমি. এর ফ্যান ব্যাবহার করতে পারবেন। লিকুইড কুলিং এর রেডিয়েটরের ক্ষেত্রে ফ্রন্টে 240, টপে সরবচ্চো 280 এবং রিয়ারে 140 মিমি. পর্যন্ত রেডিয়েটর সাপোর্ট পাবেন।

এছাড়া কেসিঙে ধুলা যেন না ঢুকতে পারে তার জন্য ফ্রন্ট, টপ ও পিএসইউ এরিয়ার নীচে তিনটি ডাস্ট ফিল্টার দেয়া আছে। পিএসিউ শ্রাউডের পাশেই পেয়ে যাবেন দুটি হার্ডড্রাইভ কেজ। ইন্টিরিওরের ডান দিকে পাবেন একটি এস এস ডি ট্রে। এতে আপনি ইচ্ছা করলে কাস্টম লিকুইড কুলিঙ্গের রিজারভ ট্যাঙ্কও লাগাতে পারবেন।

আপনার কেবল যেন ড্যামেজ না হয় সে জন্য প্রতিটি হোলেই দেয়া আছে রাবার গ্রামিট। এছাড়া এতে ক্লিন কেবল এসেম্বলের জন্য দুটি স্ট্র্যাপ দেয়া আছে। তবে আমি রেকমেন্ড করব সেমি অথবা ফুল মডুলার পিএসইউ ব্যাবহার করা ও এক্সট্রা কেবল টাই ইউজ করা।

এখন আমার ওভারঅল মতামত। দাম মাত্র সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে হলেও এর প্রিমিয়াম কোয়ালিটি এবং অনেক বেশি ফিচার ও কম্প্যাটিবিলিটি থাকার কারণে আমার পার্সোনাল পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকা কেসগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিল এটি। তবে আপনি যদি একটু খুৎখুতে স্বভাবের হোন এবং বেশি ময়লা হবার ভয় থাকে তাহলে অন্য দুটি কালারের যে কোন একটি নিতে পারেন। Phanteks Enthoo Evolv ITX কেসটি যদি আপনাদের কেনার পরিকল্পনা থাকে তাহলে এটি পাবেন গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড এবং ওয়ান স্টপ গেমিং সলিউশনের শো রুমে।

আর এই কেইস নিয়ে আশা করি পিসি বিল্ডার বাংলাদেশ ইউটিউব চ্যানেলে একটি বিল্ড ভিডিও আসবে। অবশ্য সেটার টিজার আপনারা ফিচার ফটোতেই পেয়ে গিয়েছেন।

আপনারা সবাই ভাল থাকুন,সুস্থ থাকুন আর পিসিবি বিডির সঙ্গে থাকুন ।