28 C
Dhaka
Friday, September 23, 2022

PC Gaming ইন্ডাস্ট্রির সেরা ভিডিও গেমস! (দ্বিতীয় পর্ব-মর্ডান যুগ ২০০৬-২০১৫)

- Advertisement -

পিসি গেমস এর যাত্রা শুরু হয় সেই ১৯৮৩ সালে। কিন্তু পিসি গেমস মেইনস্ট্রিমে জনপ্রিয় হওয়া শুরু হয় মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ১৯৯৫ সাল থেকে। আর তাই পিসি গেমিংয়ের গোল্ডেন এইজ বা স্বর্ণযুগ ধরা হয় ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ এই দশ বছরকে। এই দশ বছরে গ্রাফিক্স, গেমপ্লে ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই বিপুল বিপ্লব সংঘটিত হয়। আর এই স্বর্ণযুগের সেরা গেমসগুলো নিয়েই প্রথম পর্বটি সাজানো হয়েছে। যারা প্রথম পর্বটি এখনো পড়েন নি তারা চাইলে পোষ্টটি পড়ে আসতে পারেন এখানে ক্লিক করে।

আজকে আমরা ২০০৫ এর পরের সেরা গেমসগুলোকে নিয়ে আলোচনা করবো। মানে আজকের আলোচনার বিষয় মর্ডান যুগের গেমসগুলোকে নিয়ে। ২০০৫ এর পরে আমরা নতুন প্রসেসর কোর আই সিরিজ পেয়েছি , পেয়েছি জিটিএক্স এবং আরটিএক্স সিরিজের পাওয়ারফুল গ্রাফিক্স কার্ড, পেয়েছি উইন্ডোজ এর কয়েকটি নতুন ভার্সন।

- Advertisement -

বি:দ্র: এই লিস্টগুলো সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত জীবনের ১৫ বছরের গেমিং অভিজ্ঞতা থেকে লেখা হয়েছে। গেমসগুলো সবার ভালো নাও লাগতে পারে কিন্তু তাই বলে এগুলোকে খারাপ বলা ঠিক হবে না। কারণ আপনার কাছে ভালো না লাগলেও একটা মাস্টারপিস is a Masterpiece।

মর্ডান যুগের সেরা পিসি গেমস (২০০৬ – ২০১৫)

Outlast 2 (2017)

এই গেমটি একটি True মাস্টারপিস! হরর গেম যারা পছন্দ করেন তাদের অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই এই গেমটি একবার হলেও খেলে দেখতে হবে। স্টোরিলাইন, ভিজুয়্যাল ইফেক্স, গেমিং মেকানিক্স, গেমপ্লে, সাউন্ড সব দিক থেকেই গেমটি একটি চমৎকার Survival Horror ভিডিও গেম।

- Advertisement -

ভয়ংকর সুন্দর এক চাঁদনি রাতে, একটি গ্রাম্যঞ্চলে আপনি একা! চারিপাশে অন্ধকার, একমাত্র চাঁদের আলোতে আপনি হেঁটে চলেছেন আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর খোঁজে। হ্যাঁ এইরকমই সুন্দর এবং গাঁ ছম ছম করা একটি গেম হলো এই আউটলাস্ট ২। সঠিক পরিবেশে আপনি গেমটি খেলতে পারলে অবশ্যই আপনার গাঁয়ে কাটা দিয়ে উঠতে বাধ্য। আউটলাস্ট ২ গেমটির আগের গেম আউটলাস্ট যারা যারা খেলেছেন তারা নিশ্চয় জানেন যে এই সিরিজের গেমগুলো কি রকম। আর একটি চমৎকার সিকুয়্যাল কাকে বলে তা এই আউটলাস্ট ২ গেমটির দিকে তাকালেই বুঝা যায়। আগের গেমটির থেকে শুধুমাত্র গ্রাফিক্সের দিকেই গেমটি উন্নত নয়, বরং গেমপ্লে, স্টোরিলাইন এবং সবথেকে ইউনিক বিষয় “ভয়” কে খুব সুন্দর ভাবে গেমটিতে সাজানো হয়েছে। হ্যাঁ পিলে চমকে দেবার মতো ভয় রয়েছে গেমটিতে।

আউটলাস্ট ২ হচ্ছে একটি ফার্স্ট পারসন সারভাইবাল হরর ভিডিও গেম যেটি নির্মাণ করেছে এবং একই সাথে প্রকাশ করেছে Red Barrels। গেমটি ২০১৩ সালের আউলাস্ট গেমটির সিকুয়্যাল হিসেবে ২০১৭ সালের এপ্রিলের শেষে দিকে বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়া হয়। আউটলাস্ট গেমটির সাথে মিল রেখে আউটলাস্ট ২ গেমটির ইউনিভার্স ঠিক রাখা হয়েছে তবে এখানে নতুন ক্যারেক্টার এবং ভিন্ন স্টোরিলাইন দেওয়া হয়েছে। মানে আগের গেমটির মতোই এটিও একটি Found Footage স্টাইলে খেলা যাবে। হলিউডের ভৌতিক ছায়াছবির মতোই গেমটি খেলার মজা পাওয়া যাবে। আর আগের গেমটির মতোই ভূতদের সাথে ফাইটিং এর চাইতে Run and Hide হিসেবে গেমটিতে বেশির ভাগ সময়ে আপনাকে খেলতে হবে। গেমটিতে কোনো মাল্টিপ্লেয়ার ফিচার নেই যেটি সিরিজের আগের গেম Outlast এবং Outlast: Whistleblower গুলোতেও ছিলো না।
হরর গেমিংয়ের আসল মজা আমরা সিরিজের আগের গেম আউটলাস্টে যেমনটি পেয়েছি সিরিজের নতুন গেম আউটলাস্ট ২ তেও ঠিক এরকমের ভয়ের স্বাদ রয়েছে। রাত্রের বেলা কানে হেডফোন লাগিয়ে একা রুমে বসে বসে গেমটি একবার খেলে দেখুন, তাহলেই বুঝবেন কেন একে সেরা ভৌতিক গেম বলছি। বেয়ার গ্রিলসের একটি কথা এই গেমটির গেম-প্লে সাথে মিলে যায় আর তা হলো “বেঁচে থাকার লড়াই”। হ্যাঁ গেমটিতে আপনাকে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হবে। এর জন্য আপনি গেমটিতে দৌড়াতে পারবেন, বিভিন্ন অবজেক্টের পিছনে লুকাতে পারবেন এবং সবথেকে মজার ব্যাপার গেমটিতে আপনি সরাসরি কিছু স্ক্রিপকৃত সিন ছাড়া অন্য কোথাও ভূতদের সাথে মারামরি করতে পারবেন না। যারা গেমটি খেলেননি আমি Highly Recommend করবো গেমটি রাতের বেলা রুমের লাইট নিভিয়ে একা একা খেলতে।

Metal Gear Solid V: The Phantom Pain (2015)

- Advertisement -

মাঝে মাঝে কিছু গেম বের হয় যেগুলো আমাদেরকে গেমিং জগত সম্পর্কে নতুন করে কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। Metal Gear Solid V: The Phantom Pain গেমটি সেরকই একটি টাইটেল। লেজেন্ডারি নির্মাতা Hideo Kojima এর প্রতিষ্ঠান Kojima Productions গেমটি ২০১৫ সালে রিলিজ দেয়।
Metal Gear Solid V: The Phantom Pain একটি স্টেলথ ধাঁচের ভিডিও গেম, যারা সিরিজের আগের গেমগুলো খেলেছেন তারা এ ব্যাপারটি জানেন। গেমটি ২০১৪ সালের Ground Zeroes এর সাথে স্টোরিলাইনে কানেক্ট রয়েছে তাই গেমটি খেলার আগে Metal Gear Solid V: Ground Zeroes গেমটি খেলে দেখার জন্য অনুরোধ থাকবে।

Bully (2006)

 

রকস্টার স্টুডিও একটি ইউনিক মাস্টারপিস গেম হচ্ছে Bully । আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে বাচ্চাদেরকে ভিডিও গেমে আহত বা মারা যায় না। অনেক গেমে বাচ্চা কাচ্চাই দেওয়া নেই, যেমন RDR2 গেমে সব কিছুই আছে কিন্তু কোনো Child এর মডেল দেওয়া নেই। খোদ জিটিএ সিরিজে আপনি বাচ্চাকাচ্চা খুঁজে পাবেন না কিংবা পেলেও তাদেরকে ধরাছোঁয়া করতে পারবেন না।
ঠিক তখন রকস্টার স্টুডিও Bully গেমটি বের করে। এখানে আপনি নিজেই একজন টিনএজের ভূমিকায় খেলবেন।

মনে করেন এটি একটি জিটিএ গেম কিন্তু এর পটভূমি হচ্ছে একটি বড় স্কুল। আর আপনি স্কুলের একজন টিনএইজের ভূমিকায় খেলবেন। আর স্কুলের বিভিন্ন ধরণের দুর্নীতি আর অপরাধ এর ভীড়ে Bullying বন্ধ করতে আপনি র‌্যাঙ্ক আপ কিভাবে করবেন সেটাই স্টোরিলাইনে বলা হয়েছে। মানে টিপিক্যাল জিটিএ গেমের মতো। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে এখানে প্রাপ্তবয়স্কের স্থানে রয়েছে স্কুল কলেজের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে পেলে আর এই কারণেই গেমটি একটি ইউনিক গেম। গেমটি যারা আজ পর্যন্ত খেলেননি তারা অবশ্যই একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন। গেমটি এখন অ্যান্ড্রয়েডেও পাওয়া যাচ্ছে।

Hitman: Blood Money (2006)

হিটম্যান সিরিজের সর্বশ্রেষ্ঠ গেম বলতে পারেন একে। ২০০৬ সালের রিলিজ পাওয়া এই মাস্টারপিস গেমটি সিরিজের ৪র্থ গেম এবং এটা ২০০৪ সালের Contracts গেমের সিকুয়্যাল। গেমটিতে যথাযথ ভাবে আপনি এজেন্ট ৪৭ এর ভূমিকায় খেলবেন। স্টোরিলাইন সাজানো হয়েছে এজেন্ট ৪৭ তার প্রতিপক্ষ গ্রুপের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়ে যায় সেটার উপর। প্রতিপক্ষ একটি এসাসিন গ্রুপ এজেন্ট ৪৭ এর ICA গ্রুপের সদস্যদের উপর হুমকি দিয়ে আসছিলো।

সিরিজের আগের গেমসগুলোর মতোই এখানেও আপনাকে TPP হিসেবে এজেন্ট ৪৭কে কনট্রোল করতে হবে। আপনাকে প্রতিটি লেভেলে এক বা একাধিক টার্গেট দেওয়া হবে, যাদের কে হত্যা করে লেভেল কমপ্লিট করতে হবে। এজন্য আপনি বিভিন্ন ধরণের স্টেলথ পথ অবলম্বন করতে পারেন। যেমন সিকুরিটি গার্ড, বাবুর্চির পোষাক পড়ে রূপ ধরে টার্গেটকে হত্যা করা। আগের গেমসগুলোর মতো এখানেও আপনি স্টেলথ কিংবা Run-and-Gun হিসেবে মিশন কমপ্লিট করতে পারবেন তবে গেমের আসল মজা পেতে স্টেলথ মোডে বুদ্ধি খাটিয়ে মিশনগুলো খেলতে হবে।

Tom Clancy’s Rainbow Six: Vegas 2 (2008)

আরেকটি চমৎকার মাস্টারপিস গেম হচ্ছে Rainbow Six Vegas 2 । গেমটি তখনকার সময়ের সেরা ট্যাকটিক্যাল শ্যুটারের স্বাদ দিতে পেরেছিলো। সিঙ্গেলপ্লেয়ার ক্যাম্পেইন খেললেও আপনার কাছে মনে হবে কোনো মাল্টিপ্লেয়ার গেম খেলছেন। গেমটি মূলত FPS হলেও মাঝে মাঝে থার্ড পারসন ভিউতেও খেলা যায়। গেমটিতে আপনি একজন Elite সৈন্যদের লিডার হিসেবে টেরোরিস্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিভিন্ন মিশন কমপ্লিট করবেন। আপনার কমান্ডে ৩ জন সেনাসদস্য থাকবে আপনি তাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের কমান্ড দিতে পারবেন।

Call of Duty 4: Modern Warfare (2007)

শুধুমাত্র মাস্টারপিস নয় বরং এটি একটি লেজেন্ডারি গেম। কল অফ ডিউটি সিরিজটিই জনপ্রিয় হয় এই গেমটির মাধ্যমে। সিরিজের আগের গেমগুলো সব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর সেট হলেও এই গেমটিতে মর্ডান যুগের যুদ্ধ নিয়ে সেট করা হয়েছে। গেমপ্লে, গ্রাফিক্স, স্টোরিলাইন, মাল্টিপ্লেয়ার ইত্যাদি সব বিষয়েই গেমটি একটি অন্যতম মাস্টারপিস। বিশেষ করে স্টোরিলাইন তো সেইরকম জোস।

যারা এখনো গেমটি খেলেননি তাদের জন্য স্টোরিলাইনের কিছু বললাম না, আজই গেমটি খেলে দেখতে পারেন। গ্যারান্টি দিবো যে আপনি বোর হবেন না। যারা গ্রাফিক্স নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা গেমটির অফিসিয়াল Remastered ভার্সনটি খেলতে পারেন। তবে ২০১৯ সালের মর্ডান ওয়ারফেয়ার গেমটির সাথে এই গেমের স্টোরির কোনো যোগসুত্র নেই। এই গেমটি ভালো লাগলে সিরিজের বাকি দুটি গেম মর্ডান ওয়্যারফের ২ এবং ৩ এমনিতেই আপনার খেলতে মনে চাবে। আর সেই কারণে এখানে আলাদা করে বাকি দুটি গেমের কথা উল্লেখ্য করিনি।

Saints Row: The Third (2011)

জিটিএ সিরিজের অল্টারনেটিভ হিসেবে সেইন্টস রো সিরিজটি আপনি খেলতে পারেন। এটি একটি ওপেন ওয়ার্ল্ড একশন এডভেঞ্চার গেম। আর সিরিজের সবথেকে সেরা গেম হচ্ছে ২০১১ সালের Saints Row: The Third গেমটি। গেমটিতে জিটিএ সিরিজের মতোই গ্যাং রিলেটেড স্টোরিলাইন রয়েছে। যে চরিত্রে খেলবেন আপনি গেমে সে চরিত্রকে একদম Fully Customizable করতে পারবেন। যারা এখন এই গেমটি খেলতে চান তারা ২০২০ সালের অফিসিয়াল Remastered ভার্সনটি চেক করতে পারেন।

Mass Effect Legendary Edition (2021)

EA গেমস স্টুডিও একটি লেজেন্ডারি এবং মাস্টারপিস গেমস সিরিজ হচ্ছে Mass Effect । বিশেষ করে সিরিজের প্রথম ৩টি গেমের কথা বলছি। যারা প্রথম ৩টি গেম (Mass Effect, Mass Effect 2, Mass Effect 3) খেলেননি তারা গেমিং জগতের একটি চরম গেম সিরিজ মিস করেছেন। তাই ২০২১ সালে ইএ গেমস এই সিরিজের প্রথম ৩টি গেমসকে একত্র করে লেজেন্ডারি এডিশন বের করে। এখানে ৩টি গেম একসাথে থাকা ছাড়াও প্রতিটি গেমকে ভিজুয়্যালভাবে আপগ্রেড করা হয়েছে, গেমপ্লে এডজাস্ট করা হয়েছে।

এই ৩টি গেমের স্টোরিলাইন এক সুত্রে গাথা এবং মজার ব্যাপার হলো ১ম গেমের সেভ গেম আপনি ২য় গেমে ব্যবহার করতে পারবেন। আর একই সাথে ২য় গেমের সেভ গেম আপনি ৩য় গেমে ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি গেমে আপনার নেওয়া ডিসিশন পরের গেমের স্টোরিলাইনে প্রভাব ফেলবে।

Crysis Warhead (2008)

খোদ ক্রাইসিস সিরিজটিই একটি অন্যতম সেরা সিরিজ। তবে আমার মতে ক্রাইসিস ওয়ারহেড গেমটি তখনকার ২০০৮ সালের হিসেবে One of The Kind গেম ছিলো। মজার কথা হচ্ছে এটি একটি বেশ ছোটখাট গেম এবং মূলত Crysis (২০০৭) অরিজিনাল গেমের একটি Stand-alone এক্সপেনশন হিসেবে রিলিজ পেয়েছিলো। গেমটিতে আপনি একজন সুপার Soldier হিসেবে খেলবেন। আর আপনার থাকবে একটি ন্যানোস্যুট যেটার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরণের সুপারহিউম্যান এবিলিটি পাবেন।

Test Drive Unlimited (2006)

নিড ফর স্পিডের দাপ্যতের যুগে হঠাৎ করে একটি অন্যরকম রেসিং গেমস আমাদের মাঝে চলে আসে। গেমটির নাম টেস্ট ড্রাইভ আনলিমিটেড। সিলেটের চা বাগানের মধ্যে ড্রাইভ করতে করতে হারিয়ে যেতে চান? অথবা চট্টগ্রামের মনোরম পরিবেশের মধ্যে মানে রাস্তার এক পাশে সাগরের কোলাহল আরেক পাশে পাহাড়! আহ! হুমম! এই গেমটি সেরকমই! এদের এমন কিছু লোকেশন রয়েছে সেটার মধ্যে দিয়ে ড্রাইভ করে গেলে মনে হবে যে সিলেটের চা বাগান বা চট্টগ্রামের পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে ড্রাইভ করে যাচ্ছেন। টেস্ট ড্রাইভ আনলিমিটেড আমার সবচেয়ে প্রিয় রেসিং গেমস গুলোর মধ্যে অন্যতম। টেস্ট ড্রাইভ আনলিমিটেড টেস্ট ড্রাইভ গেমস সিরিজের ৯তম গেম। গেমটিতে ১২৫ টির বেশি গাড়ি এবং মোটরসাইকেল রয়েছে। এবং সাথে রয়েছে ১০০০ মাইলস দৈর্ঘ্যের সড়ক। গেমটি ২০০৬ সালের। যারা যারা গেমটি খেলেছেন তারা অবশ্যই মানবেন একই বছরে মুক্তি পাওয়া নিড ফর স্পিড কার্বন গেমটি এই টেস্ট ড্রাইভ আনলিমিটেড গেমটির কাছে কিছুই না। আমি নিড ফর স্পিড কার্বনকে হেয় করছি না। তবে কার্বন এর চেয়ে গ্রাফিক্স, গেম-প্লে এবং মজার গেম হল টেস্ট ড্রাইভ আনলিমিটেড। এতে শুধু গাড়িই নয় এর পাশাপাশি আপনি হোল্ডার ও পাবেন। তবে নিড ফর স্পিড কার্বন বা নিড ফর স্পিড সিরিজ এর গাড়ি হ্যান্ডিং বা কনট্রোল বেশ চমৎকার অন্যদিকে টেস্ট ড্রাইভ আনলিমিটেড গেমটি কনট্রোল একটু কঠিন। ধৈর্য্য লাগবে গেমটি খেলতে।

গেমটিতে আপনি ফ্রি-রম মোডে অন রোড এবং অফ রোডে খেলতে পারবেন। গেমটিতে জিটিএ সিরিজের মতই আপনি ক্যারেক্টারকে কাপড়, সানগ্লাস, জুতো ইত্যাদির সাহায্যে সাজাতে পারবেন, কিনতে পারবেন বাড়ি, গেম সেভ করার জন্য। গেমটির শুরুতে কয়েকটি ক্যারেক্টার এর মাঝে আপনাকে পছন্দের ক্যারেক্টারটি পছন্দ করে নির্বাচন করে গেমটি শুরু করতে পারবেন। গেমটিতে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে হাওয়াইয়া দ্বীপ কে। পাহাড় ঘেরা বিরাট এই দ্বীপেই আপনাকে খেলতে হবে বিভিন্ন ধরণের রেস। এদের মধ্যে রয়েছে সাধারণ রেসিং, টাইম রেসিং এছাড়াও সাইড মিশন হিসেবে আপনি খেলতে পারেন টপ মডেল চ্যালেঞ্জ, যেখানে আপনি সুন্দরী মেয়েদেরকে বিভিন্ন জায়গায় লিফট দিতে পারেন এবং সংগ্রহ করতে পারবেন কুপন। এই কুপন দ্বারাই আপনি ক্যারেক্টার এর জন্য কাপড়ের সপ থেকে কাপড় চোপড় কিনতে পারবেন।

Farcry 3 (2012)

মেইনস্ট্রিম লেভেলে ফারক্রাই গেমটি ২০০৫ সাল থেকে থাকলেও মূলত ২০১২ সালের ফারক্রাই ৩ গেমটির মাধ্যমেই সিরিজটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে ফারক্রাই ৩ গেমটি সিরিজের সবথেকে পুপুলার এবং ব্যবসাসফল গেম হিসেবে ধরা হয়। আর আপনাদের অনেকেই গেমটি খেলেছেন তবে যারা খেলেননি তারা আসলেই একটি মাস্টারপিস গেম মিস করেছেন।
ফারক্রাই ৩ গেমটির পটভূমিতে রয়েছে ইন্ডিয়ান এবং প্যাসিফিক সাগরের মর্ধ্যবর্তী একটি আইল্যান্ড। সিরিজের আগের গেম ফারক্রাই ২ গেমটির মতো এই গেমটিতে প্লেয়ার চরিত্র হিসেবে অনেকজন থাকছে না। প্লেয়ার চরিত্রে রয়েছে জ্যাসন ব্রডি। ‍সে বন্ধুদের সঙ্গে অবসরে ছুটি কাটাতে আসে উক্ত আইল্যান্ডে। জলপথ ভ্রমণে একসাথে বের হওয়ার নির্দেশ থাকলেও হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়ে সে বের হয় জলপথে মানে সাগরে।

ওদিকে জ্যাসনকে আগে থেকেই ফলো করছিল একদল মানবপাচারকারী জলদস্যুর দল। সাগরে একা একা ঘুরে বেরানোর এক পর্যায়ে জলদস্যুদের পাঁতানো ফাঁদে আটকে যায় জ্যাসন। হাত-পা বেঁধে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জলদস্যু নেতা ভ্যাসের আস্তানায়। ভ্যাস হলো গেমটির খলনায়ক চরিত্র এবং একজন সাংঘাতিক জলদস্যু।
কিন্তু জ্যাসনকে ধরে নিয়ে আসার পরপরই জলদস্যু দলের সদস্যদের মধ্যে কলহ ছড়িয়ে পড়ে। শেষমেষ ভ্যাস সিন্ধান্ত নেয় যে জ্যাসনকে ফেলে দেওয়া হবে একটি গভীর কূপে। তবে ভাগ্যগুণে সে আস্তানা থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় জ্যাসন। পরে সে জানতে পারে যে, তার বন্ধুদের ধরার জন্য একই রকমভাবে ওত পেতে আছে জলদস্যুরা। যেভাবেই হোক, তার বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তাদের সবাইকে এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে হবে।

গেমটিতে আপনাকে খেলতে হবে হ্যান্ডসাম বালক জ্যাসনের ভূমিকায়। উদ্ধার করতে হবে অপহরণ হওয়া বন্ধুদের, পালাতে হবে শত্রুদের সীমানা থেকে। খুঁজতে হবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

Chaos Legion (2003)

হিসেব মনে এই গেমটি প্রথম পর্বে থাকার কথা ছিলো কিন্তু তখন গেমটির নাম আমি মনে করতে পারছিলাম না বিধায় লিখতে পারিনি। ২০০৩ সালের মানে প্রায় ২০ বছর আগের একটি চমৎকার হ্যাক অ্যান্ড স্ল্যাশ গেমটি অনেকেই খেলেননি। এটি ডেভিল মে ক্রাই ধাঁচের একটি গেম। গেমে ১৫টি লেভেল রয়েছে, তবে সবগুলো লেভেলই বিশাল আকৃতির। গেমের রয়েছে ২টি চরিত্র, যেকোনো একটিতে আপনি খেলতে পারবেন। যারা এনিমে ভালোবাসেন তাদের কাছে এই গেমটি বেশ ভালো লাগবে।

Assassin’s Creed II (2009)

এসাসিনস ক্রিড সিরিজের সবথেকে সেরা গেম বলা হয় একে, এটা আমার একার কথা নয়। গেমটিতে যে পরিমাণ ইমোশন রয়েছে স্টোরিলাইনে যারা যারা এই গেমটি খেলেছেন তারাই বুঝবেন। গেমটি ২০০৭ সালের অরিজিনাল এসাসিন্স ক্রিড গেমের সিকুয়্যাল হিসেবে ২০০৯ সালে বাজারে আসে। গেমটির স্টোরিলাইন কাল্পনিক হিস্টোরিতে করা হলেও কাহিনীগুলো রিয়েল লাইফ এসাসিন্সদের উপর ভিক্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। গেমে Ezio Auditore da Firenze এর জীবন কাহিনী খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনার যারা সিরিজের লেটেস্ট গেমসগুলো খেলেছেন তারা অবশ্যই এই গেমটি একবার খেলে নিবেন। না হলে সিরিজের সেরা একটি গেম মিস করবেন।

The Saboteur (2009)

এটি কোনো মাস্টারপিস গেম নয়, কিন্তু তারপরেও এখানে দেওয়ার কারণ হচ্ছে গেমটির প্রচুর আন্ডাররেটেড একটি গেম। মনে করেন জিটিএ গেম কিন্তু EA এর গেম এটি। বিশেষ করে তখন নতুন জিটিএ ৪ বাজার মাতাচ্ছিল তাই এই গেমটি তেমন গেমারদের আলো দেখেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমির উপর তৈরি চমৎকার এই গেমটি আপনি খেলে দেখতে পারেন, বোর লাগবে না।

Medal of Honor (2010)

কল অফ ডিউটি আর ব্যাটলফিল্ডের ঠাসাঠাসিতে এই ধাঁচের আরেকটি গেমস সিরিজ Medal of Honor এর কথা আমরা অনেকেই জানি না। EA গেমসের একটি ব্যবসা সফল এবং চমৎকার একটি ফার্স্ট পারসন শ্যুটার ভিডিও গেম হচ্ছে ২০১০ সালের মেডাল অফ অনার। গেমটিতে আপনি আফগানিস্তানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতে খেলবেন। গেমপ্লে টপ অফ দ্যা লাইন, গ্রাফিক্স সেই সময়ের হিসেবে ঠিক আছে, স্টোরিলাইন মোটামুটি। শুধুমাত্র গেমপ্লে আর কনট্রোল সিস্টেম ভালো থাকার জন্য সেই সময়ে গেমটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। কড লাভাররা এই গেমটিতে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন, খারাপ লাগার কথা না।

Need for Speed: Hot Pursuit (2010)

নিড ফর স্পিড সিরিজের মোস্ট ওয়ান্টেড গেমটির প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু সেই ২০০৫ এর পর নিড ফর স্পিড সিরিজের কোনো গেমস ততটা ব্যবসা করতে পারেনি। প্রায় ৫ বছর পর ২০১০ সালে Need for Speed: Hot Pursuit গেমটির মাধ্যমে সিরিজটি গেমারদের মাঝে আবারো মন জয় করে জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর সেজন্যই ২০২০ সালে গেমটির অফিসিয়াল রিমেক ভার্সনও বের হয়েছে।

গেমটিতে আপনি রেসিংয়ের সময় পুলিশের সাথে গাড়ি নিয়ে গাড়িযুদ্ধ করতে পারবেন। তখনকার সময়ে এই জাতীয় তেমন কোনো গেম ছিলো না। তাই গেমটির গেমপ্লে বেশ সুন্দর ছিলো। বিশেষ করে গেমটির গ্রাফিক্স এখনকার যুগেও আপনার কাছে মনে হবে WOW! গেমপ্লে, পুলিশের ধাওয়া প্লাস চমৎকার গ্রাফিক্স সব মিলিয়ে গেমটি একটি মাস্টারপিস। ২০২০ সালে রিমেক এর থেকে ২০১০ সালে অরিজিনাল টা খেলে দেখতে পারেন সেটা বেশি সুন্দর।

Just Cause 2 (2010)

স্কোয়ার ইনিক্স কোম্পানির জিটিএ স্টাইলে গেম সিরিজ হচ্ছে Just Cause । আর ২০১০ সালের সিরিজের ২য় গেমটি সিরিজে আমার কাছে সবথেকে সেরা মনে হয়। গ্রাফিক্স, গেমপ্লে, স্টোরিলাইন সবকিছুই তখনকার সময়ে সরাসরি GTA IV এর সাথে পাল্লা দিচ্ছিলো। যারা গেমটি এখনো টেস্ট করেননি তারা গেমটি এখনোই খেলে দেখতে পারেন।

গেমটি ওপেন ওর্য়াল্ড ফিচারের গেম। তাই গেমটিতে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াতে পারবেন। গেমটিতে ধ্বংসযঞ্জ বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। খাটি ইংরেজি যাকে Chaos বলা হয়! হাহাহা! গেমটিতে ১০০% স্কোর বা টোটালি গেমওভার করতে হলে আপনাকে Chaos স্কোর অর্জন করতে হবে। যেটা আপনি অর্জন করতে পারেন সরকারী সম্পত্তি ধ্বংস করে, আইটেম সংগ্রহ করে ইত্যাদি। Chaos স্কোর নতুন নতুন এজেন্সি মিশন আনলক করবে।

গেমটিতে শত্রুপক্ষও কিন্তু সহজ নয়। শত্রু পরিবেশ এবং আবহাওয়ার সুবিধা নিয়ে আপনাকে আক্রমণ করতে পারবে। মানে গেমটিতে আপনি যা যা করতে পারবেন তার অনেকাংশই শত্রুরাও করতে পারবে। তবে মানুষের ব্রেইন তো আর পিসির মতো নয়!! গেমটির একটি ইউনিক ফিচার হচ্ছে আপনি প্লেয়ার চরিত্রের সম্পূর্ণ কন্ট্রোলে থাকবে। যখন যেখানে যেভাবে খুশি আপনি প্লেয়ারকে ব্যবহার করতে পারবে আপনি ইচ্ছে মতো! গেমটিতে আপনার সাথে সব সময় সদা সর্বদা একটি প্যারাসুট থাকবেই। তবে গেমটির বাস্তবিক ইফেক্টে কালি মেখেছে এই ফিচারটি। মাত্র ২ সেকেন্ড আগে ব্যবহার করা হলেও সবসময় আপনার কাছে একটি প্যারাসুট থাকবেই। এর দ্বারা উচুঁ ভবন / পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা খুব দ্রুতই ভ্রমণ করতে পারবে আপনি। করা হয়েছে ডাইরেক্ট এক্স ১০ এর উপকরণ তাই গেমটি উইন্ডোজ এক্সপিকে চলবে না। গেমটির পিসি সংস্করণে রয়েছে এক্সট্রা গ্রাফিক্স ইফেক্ট যা অন্যান্য গেমিং কনসোলে পাওয়া যাবে না।

The Witcher 3: Wild Hunt (2015)

সিরিজটি এতটাই জনপ্রিয় যে কয়েক মাস আগে গেমটির পটভূমি নিয়ে নেটফিক্স টিভি সিরিজ তৈরি করেছে। The Witcher সিরিজের সবথেকে জনপ্রিয় গেম হচ্ছে The Witcher 3: Wild Hunt । গেমটি একটি একশন রোল প্লেয়িং গেম যেখানে আপনি ওপেন ওয়ার্ল্ড দুনিয়ায় থার্ড পারসন ভূমিকায় খেলতে পারবেন। গেমটির কাহিনী বা স্টোরিলাইন ফ্যান্টাসি নোভেল The Witcher এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। গেমে আপনাকে Monster Slayer হিসেবে খেলতে হবে।

DmC: Devil May Cry (2013)

চাইনিজ হ্যাক এন্ড স্ল্যাশ ডেভিল মে ক্রাই এর পরিপূর্ণ রিবুট ২০১৩ সালের DmC: Devil May Cry গেমটির মাধ্যমে শুরু হয়। বলতে পারেন এটা সিরিজের অন্যতম সেরা একটি গেম। ডেভিল মে ক্রাই সিরিজের এই গেমটিতে আমাদের প্লেয়ার ডেন্টে কে একদমই নতুন সাজে দেখতে পাই আমরা। নেই সেই চাইনিজ স্টাইলিশ সাদা চুল, নেই স্টাইলিশ কোর্ট। ডেন্টেকে নির্মাণ কারী রা সাজিয়েছেন মর্ডান যুগের স্টাইল দিয়ে। গেম-প্লে তেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। ডেন্টে মারামারির মাঝে তার বন্দুক এবং তলোয়ার পাল্টাতে পারবে। গেমটির শুরু তে ডেন্টের মানব রুপে আপনাকে খেলতে হবে। গেমটির মাঝে আপনি ডেন্টের ডেমন এবং এনজেল রুপটি হাতে পাবেন। ডেমন এবং এনজেন মোডে প্রবেশ মাত্রই কাল চুল গুলো সাদা আকার ধারণ করবে যেটি সিরিজের আগের গেমস গুলোতে ছিল। গেমটির মাঝে লিমবো সিটির আকার এবং ধরণ অনেক পাল্টাবে আপনাকে ধাঁধাঁময় গেমস এর মজা দিতে। গেমটির প্লট হিসেবে থাকছে ডেভিল মে ক্রাই এর প্যারানরমাল বিশ্বে একজন তরুণ ডেন্টে যে কিনা লিমবো সিটিতে থাকে। লিমবো সিটি খুবই সাধারণ এবং শান-শিষ্ট থাকে গেমটির শরুতে। কিন’ যতই গেমটি খেলবেন ততই লিমবো সিটি ভয়ংকর হয়ে উঠবে ডেমন এবং শয়তানদের দ্বারা। গেমটিতে ডেন্টের জমজ ভাই ভারজিল ও রয়েছে।

Sleeping Dogs (2012)

জিটিএ গেমস আপনার পছন্দ? তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই গেমটি খেলতে হবে। ২০১২ সালের মাস্টারপিস এই গেমটি বানিয়েছে স্কোয়ার ইনিক্স। এটি একটি ওপেন ওয়ার্ল্ড মার্শাল আর্টস ভিডিও গেম। হ্যাঁ! মার্শাল আর্টস! মানে জিটিএ গেম কিন্তু গুলাগুলির চাইতে এখানে Hand to Hand কমবাট সিস্টেম বেশি রয়েছে! আর স্টোরিলাইন হিসেবে রয়েছে চাইনিজ Triad Organization এর ক্রিমিনাল দুনিয়ার কাহিনী! গেমপ্লে, গ্রাফিক্স, সাউন্ড, স্টোরিলাইন সব মিলিয়ে গেমটিকে আসলেই একটি মাস্টারপিস বলা যায়। এখন পর্যন্ত গেমটির কোনো সিকুয়্যাল আসবে কিনা তা জানানো হয় নি।

The Godfather (2006)

১৯৭০ দশকের জনপ্রিয় সিনেমা দ্যা গডফাদার সিরিজের কাহিনী নিয়েই এই চমৎকার গেমটি তৈরি করা হয়েছে। গেমটি একটি ওপেন ওয়ার্ল্ড একশন এডভেঞ্চার ভিডিও গেম, এটা EA এর একটি গেম। অনেকট জিটিএ টাইপের। গেমটি মাস্টারপিস গেম নয়, কারণ গেমের গাড়ি চালানোর কনট্রোল বেশ দুর্বল টাইপের। তাছাড়াও কমবাট সিস্টেমও আমার তেমন ভালো লাগেনি। গেমটির জনপ্রিয়তা হবার মূল কারণ হচ্ছে এর স্টোরিলাইন। কিভাবে একজন Rookie ছেলে একটি ক্রাইম সংগঠনের নেতা হয়ে উঠে সেটাই এখানে চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, আর স্টোরিলাইনটির অনেককিছু দ্যা গডফাদার ছায়াছবির পটভূমি থেকে নেওয়া হয়েছে। গেমটি একবার খেলে দেখতে পারেন।

Grid 2 (2013)

নিড ফর স্পিড আর Forza সিরিজের বাইরে সুন্দর সুন্দর রেসিং গেম রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রিড সিরিজ অন্যতম। আর সিরিজের সবথেকে সেরা গেম হচ্ছে Grid 2 । গ্রাফিক্স চমৎকার, গেমপ্লে আরো চমৎকার। বিশেষ করে গাড়ি কনট্রোল সিস্টেম এই গেমে এতটাই ভালো যে আমি নিজে গেমটি কয়েকবার কমপ্লিট করেছি। গেমটির সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যারিয়ারে আপনাকে একটি বিশ্ব রেসিং সিরিজে অংশগ্রহণ করতে হবে। আর বিভিন্ন লোকেশনে রেস জিতে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে হবে।

Prince of Persia: The Forgotten Sands (2010)

Prince of Persia গেমস সিরিজের সবথেকে ভালো এবং একই সাথে সবথেকে খারাপ গেম হচ্ছে ২০১০ সালের Prince of Persia: The Forgotten Sands এই গেমটি। এটি একটি একশন এডভেঞ্চার গেম। বিভিন্ন লেভেলে আপনি বিভিন্ন ধরণের পাজল সলভ করে লেভেলে এগিয়ে যেতে হবে। গ্রাফিক্স ২০১০ সালের হিসেবে ঠিকঠাক রয়েছে। তবে গেমটিকে সিরিজের সবথেকে খারাপ বলার কারণ হচ্ছে গেমে রয়েছে অসংখ্য বাঘ ভাল্লুক! Bug এর পরিমাণ এতটাই বেশি ছিলো যে আমি আজ অবধি গেমটি গেমওভার করতে পারিনি।

Max Payne 3 (2012)

রকস্টার স্টুডিও আরেকটি চমৎকার মাস্টারপিস গেম হচ্ছে ম্যাক্স পেইন সিরিজের সর্বশেষ গেম ম্যাক্স পেইন ৩। ২০১২ সালে এই মাস্টারপিস গেমটি রিলিজ দেওয়া হয়। গেমটির মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে বর্তমান মর্ডান সময়েও মাল্টিপ্লেয়ার ছাড়া শুধুমাত্র সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন দিয়েও একটি গেম ব্যবসা সফল হতে পারে। গেমটিতে আপনাকে ব্রাজিলের বিভিন্ন লোকেশনে খেলতে হবে। থার্ড পারসন শ্যুটার এই গেমটি যারা এখনো খেলেননি তারা একটি সেরা গেম মিস করেছেন। আজই গেমটি খেলতে বসে পড়ুন।

Spec Ops: The Line (2012)

জার্মান নির্মাতাদের একটি আন্ডাররেটেড গেম হচ্ছে Spec Ops: The Line । গেমটির ২০১২ সালে বাজারে আসে। থার্ড পারসন মিলিটারি শ্যুটার Genre তে একটু অন্যরকম কিছুর স্বাদ দেয় এই গেমটি। গেমটিতে আপনাকে ক্যাপ্টেইন মার্টিন ওয়ালকার এর ভূমিকায় খেলতে হবে। যাকে দুবাইতে একটি শ্বাসরুদ্ধকর মিশনে পাঠানো হয়। তার সাথে দেওয়া হয় একটি নতুন ডেল্ট ফোর্সকে। দুবাইতে গিয়ে মৃত আমেরিকান সৈন্য খুঁজে পায় তারা। এরপরই তাদের মিশন পরিবর্তন হয় এবং তা হয় বেঁচে থাকা সৈন্যদের খুঁজে বের করা ।

গেমটি একটি থার্ড পারসন শুটার গেম যেখানে কভার সিস্টেম এবং স্কোর্য়াড বেইসড ট্যাকটিস অনুসরণ করা হয়।  নতুন নতুন অস্ত্র এবং সরঞ্জাম গেমটি খেলতে খেলতে আনলক হবে। তবে কিছু কিছু অস্ত্র শত্রুরাও মরার সময় ড্রপ করে দিবে। এদের মধ্যে রয়েছে রাইফেল, হ্যান্ডগান, মেশিনগান, গ্রেণেড লাঞ্চার এবং হ্যান্ড গ্রেণেড ইত্যাদি। সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইনে স্কোর্য়াডের উপর তোমার নিয়ন্ত্রণ থাকবে নির্দিষ্ট কোনো টার্গেটকে মারতে এবং আহত স্কোর্য়াড মেমবারকে মেডিক্যাল সাহায্য নির্দেশের উপর। গেমটি অনেক অদ্ভুত ফিচার যোগ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন উচ্চতা ভীতি, ভূতের ভয়, হ্যালুসিনেশন ইত্যাদি! তবে প্লেয়ার চরিত্রটির ভবিষ্যৎ তোমার পছন্দের উপর নির্ভর করবে। গেমটির সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন মোডে রয়েছে ১৮টি লেভেল। এছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটি লেভেলে গুরুর্ত্বপূর্ণ তথ্য মানে Intel সংগ্রহ করা যাবে। এগুলোর মধ্যেই দুবাইতে আসলে কি ঘটছে তা বিস্তারিত দেওয়া রয়েছে।

FIFA 10 (2009)

ফিফা সিরিজ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ফুটবল গেমস মানেই ফিফা। আর ফিফা সিরিজের সবথেকে সেরা গেম ধরা হয় ২০০৯ সালের ফিফা ১০ গেমটিকে। গেমটিতে ম্যানেজার মোডকে রিমোড করা হয়। ফিফা ১০ গেমটির গেমপ্লে, সাউন্ডট্রাক, ডিজাইন এবং উপস্থাপন সবকিছুই ছিলো সাজানো গোছানো এবং পরিপাটি।

Mafia II (2010)

মাফিয়াদের দুনিয়া নিয়ে চমৎকার এই গেমটি প্রায় ১২ বছর পূর্বে বাজারে আসে। গেমটিতে ১৯৪৩ থেকে ১৯৫১ সালের মাফিয়া ক্রাইম ফ্যামিলির স্টোরিলাইন নিয়ে সাজানো হয়েছে। গেমটি একটি থার্ড পারসন একশন এডভেঞ্চার গেম। যারা এখনো গেমটি খেলেননি তারা ২০২০ সালের Definitive Edition মানে অফিসিয়াল রিমেক গেমটি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Dirt 3 (2011)

ওল্ড স্টাইলের রেসিং গেমসগুলোর মধ্যে আমার অন্যতম ফেভারিট হচ্ছে ডার্ট ৩। গেমটিতে বাস্তব দুনিয়ার বেশ কয়েকজন র‌্যালি ড্রাইভারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গেমটি মূলত অফরোড রেসিং টাইপের একটি গেম। লোকেশন হিসেবে রয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং নর্থ আমেরিকা।

Sniper Elite III (2014)

স্নাইপ করা যে এত মজার হয় সেটা আপনি এই গেমটি না খেললে বুঝতেই পারবেন না। রাইফেলের ভেতর থেকে গুলি বের হয়ে বিভিন্ন জিনিসের মাঝখান দিয়ে গিয়ে শত্রুর মাথায়, বুকে, হাটুতে, হাতে ইত্যাদি জায়গায় কিভাবে ভেদ করে হাড্ডিগুড্ডি ভেঙ্গে যায় সেটা এই গেমে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গেমটিতে আপনি স্বয়ং হিটলারকেও স্নাইপ করে হত্যা করতে পারবেন!!

Life Is Strange (2015)

এটি ভিডিও গেম না বলে এক ধরণের সিনেমা বলতে পারেন। কারণ এখানে গেমপ্লে বলতে তেমন কিছু নাই, সবই স্টোরিলাইন এবং স্টোরিটেলিংয়ের মধ্যে ফোকাস করা হয়েছে। এখানে চমৎকার পটভূমি রয়েছে। আপনি একজন ১৮ বছর বয়সী মেয়ের ভূমিকায় খেলবেন। তার একটি সুপার পাওয়ার রয়েছে সে যেকোনো সময়ে অতীতের টাইমে ফিরে যেতে পারে। এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে সে স্টোরিলাইনে এগিয়ে যায়। সুন্দর একটি স্টোরিলাইন পেতে আপনি এই গেমটি খেলে দেখতে পারেন।

The Elder Scrolls V: Skyrim (2011)

আজকের এই পর্বটি শেষ করছি স্কাইরিম গেমটি নিয়ে। গত যুগের সবথেকে বেশি Mod করা গেম হচ্ছে এই স্কাইরিম গেমটি। এটি একটি ওপেন ওয়ার্ল্ড একশন রোল প্লেয়িং ভিডিও গেম যেটি ২০১১ সালে বাজারে রিলিজ পায়। গেমটি যারা খেলেননি তারা একটি অসাধারণ মাস্টারপিস গেম মিস করেছেন।

Shoutout

আজকের এই পর্বটি শেষ করছি কিছু শাউটআউট দিয়ে। অনেক গেম রয়েছে যেগুলো সেরা গেমস নয় কিংবা মাস্টারপিস গেমও নয়। কিন্তু তাদেরকে আমরা আন্ডাররেটেড গেম বলতে পারি। কিছু আন্ডাররেটেড ভালো গেম রয়েছে যেগুলো লিস্ট আকারে নিচে দিয়ে দিলাম। চাইলে একবার পরখ করে দেখতে পারেন। আগামী পবে ২০১৮ এর পরের সেরা গেমগুলো নিয়ে আমি চলে আসছি। অপেক্ষায় থাকুন:

১) Burnout Paradise (2008) – রেসিং গেম

২) Dead Space Series – সারভাইবাল হরর। আসলেই একটি আন্ডাররেটেড সিরিজ।

৩) Farcry 2 (2008) – ফারক্রাই সিরিজের অন্যতম সুন্দর একটি গেম। স্টোরিলাইন ভালো না হওয়ায় একে মূল লিস্টে রাখিনি।

৪) Resident Evil 5 এবং 6 – দুটি গেমই বেশ চমৎকার।

৫) Grand Theft Auto IV এবং V – জিটিএ সিরিজের শেষ দুটি গেম। সবাই এই গেমগুলো সম্পর্কে জানেন বিধায় লিস্টে রাখা হয় নি।

৬) Battlefield Bad Company 2 (2010)

৭) Metro 2033 এবং Metro Last Light – যারা ইতিমধ্যেই সিরিজের Exodust গেমটি খেলেছেন তাদেরকে বলবো এই দুটি গেমসগুলো খেলতে। বেশ চমৎকার স্টোরিলাইন ও গেমপ্লে রয়েছে এগুলোতে।

৮) Alan Wake (2012) – একটি অন্যরকম একশন এডভেঞ্চার গেম।

৯) Castlevania Series

১০) Deus Ex: Human Revolution (2011)

১১) Battlefield 3 (2011)

১২) Rage (2011)

১৩) Dishonored (2012)

১৪) Crysis Series

১৫) Tomb Raider (2013)

১৬) Splinter Cell: Blacklist (2013)

১৭) ARMA 3 (2013)

১৮) Watch Dogs (2014)

- Advertisement -
Fahad Hossain
Fahad Hossain
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.

3 COMMENTS

  1. Have you even played Dark Souls series, Minecraft, RDR, Portal 2, Divinity: Original Sins 2, Nier Automata, Bioshock + Bioshock Infinity, Dark Souls 3, Fallout New Vegas, Undertale, TES IV?
    Please dont miss out on them and expand your horizon. Most of the games you have listed are over exaggerated mainstream bs.

    • কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বলা সবগুলো গেমসই আমার খেলা আছে। আমি এগুলো শেষ পর্বের জন্য রেখে দিয়েছি। এগুলোকে আমি ‘বর্তমান যুগের সেরা গেমস’ পোষ্টে দিবো চিন্তার কারণ নেই <3

  2. গেম গুলা কিভাবে সেভ ভাবে ডাউনলোদ করতে পারি সেভ ভাবে এটার এটা নিয়ে একটা আরটিকেল দিয়েন ভাই,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here