গত ২৩শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো MSI Meet & Greet 2019 অনষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিশ্ব বিখ্যাত ল্যাপটপ এবং কম্পিউটার হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ড Micro-Star International বা MSI এর তরফ থেকে তিনটি নতুন ল্যাপটপ সিরিজের সাথে অনুষ্ঠানে পরিচিত করিয়ে দেয়া হয়। 

  1. Creator
  2. Prestige
  3. Modern

ট্রাডিশনাল গেমিং সিরিজের বাইরে এসে MSI কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, টু-ডি, ২.৫ডি, থ্রি-ডি ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন অথবা গেম ডিজাইন সম্পর্কিত কাজ করার জন্যই এই ল্যাপটপ সিরিজ আসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বাজারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল MSI এর পক্ষ থেকে ছিল মার্কোস টুস্যাং এবং মার্ক লি। অনুষ্ঠানের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্তু এই ৩ টি প্রোডাক্টিভ স্টেশন ল্যাপটপ সিরিজের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। 


ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটা অংশই আছে যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েশন কাজে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে চান কিন্তু সচরাচর গেমিং ল্যাপটপগুলো সাধারনত গেমিং কাজেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং এসব ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল এদের ডিস্প্লে, ব্যাটারি লাইফ এবং প্রোডাক্টিভিটি রিলেটেড সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন। এই সমস্যাগুলো সমাধানে MSI নিয়ে এসেছে তাদের Creator, Prestige এবং Modern সিরিজ। 

 

তিনটি ল্যাপটপ সিরিজের মধ্যে Creator সিরিজটি সর্বোচ্চ পার্ফামেন্স বেসড ল্যাপটপ। টু-ডি থেকে শুরু করে থ্রি-ডিএবং হেভি ওয়ার্কলোডের কাজ করার জন্য এই ল্যাপটপগুলো। এর পরেই আসে Prestige সিরিজ যেটি টু-ডি এবং ২.৫ডি সফটওয়্যারগুলোতে কাজ করতে সক্ষম  এবং সর্বশেষে হলো Modern সিরিজের ল্যাপটপগুলো যেগুলো সাধারন টু-ডি সম্পর্কিত কাজ, ফটো বা ভিডিও এডিটের কাজ করতে সক্ষম। 

যদিও ল্যাপটপগুলো সব রকম মিডিয়া এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটিভদের উদ্দেশ্যে তৈরী করা হলেও ব্যবসায়ী কাজে অথবা নিজেস্ব কাজের জন্য ল্যাপটপগুলো ভালো একটি অপশন হতে পারে।
স্লিম,স্লিক এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনের এই ল্যাপটপগুলো যেমন ওজনে হালকে তেমনি বহনযোগ্য বটে। 

ল্যাপটপগুলো সাধারন স্লিম প্রোফাইলের ল্যাপটপের থেকেও কিছুটা আলাদা বটে। যেমন প্রেস্টিজ সিরিজের ল্যাপটপগুলোর ট্রাকপ্যাডটি সাধারন ট্রাকপ্যাড থেকে যথেস্ট চওড়া বটে। সিল্কি স্মুথ টাচপ্যাডটিতে যথেষ্ট জায়গা দেয়া হয়েছে যাতে ব্যবহারকারি সহজে ড্রাগ এবং ড্রপের কাজটি করতে পারে।  

ক্রিয়েটর সিরিজের P65 এবং P75 ল্যাপটপগুলো ১৭ এবং ১৫ ইঞ্চ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। এতে প্রসেসর হিসবে ব্যবহার করা হবে ইন্টেলের ৯ম প্রজন্মের কোর আই নাইন এবং কোর আই সেভেন প্রসেসর। গ্রাফিক কার্ড হিসেবে সর্বোচ্চ মডেলে থাকবে আরটিএক্স সিরিজের ২০৮০ এবং ২০৭০ ম্যাক্স কিউ জিপিউ। র‍্যাম সর্বোচ্চ ৬৪ জিবি পর্যন্ত সাপোর্টেড হলেও মডেলভেদে পরিবর্তন হবে। এছাড়া ল্যাপটপগুলোর মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এর ডিস্প্লে। সর্বোচ্চ মডেলের ল্যাপটপে আছে 4k, 100% Adobe RGB, True Color Technology সুবিধা। কালার একুরেসি এবং ডিস্প্লে সার্টিফিকেশনের জন্য ডিস্প্লেগুলো CalMAN ভ্যারিফাইড। মাত্র ১.৮ কেজি ওজনের ল্যাপটপগুলো হবে আল্ট্রা থিন। তাই পোর্টেবিলিটির সমস্ত সুবিধা দিচ্ছে লেটেস্ট হার্ডওয়্যারের সাথেই। 

প্রেস্টিজ সিরিজের Prestige 15 এবং Prestige 14 ল্যাপটপগুলো ইন্টেল কোর আই সেভেন প্রসেসর এবং জিটিএক্স ১৬৫০ ম্যাক্স কিউ এর সাথে থাকবে এবং ল্যাপটপের ডিস্প্লে 4k এবং ফুল এইচডি ডিস্প্লে হবে। সাধারনত এই ল্যাপটপগুলো টু-ডি কিংবা ২.৫ডি ধরনের মিডিয়া এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের কাজের জন্যই ব্যবহ্যার করা যেতে পারে। এছাড়া ল্যাপটপগুলো যথেস্ট স্লিম হবে এছাড়া ওজনে প্রায় ১.৬ কেজি হবে।

অন্যদিকে Modern সিরিজে আছে Modern 14 এবং এই ল্যাপটপটি আরো বেশি স্লিম এবং হালকা ওজনের হবে। এতেও থাকছে ১০ম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই সেভেন  ইউ প্রসেসর। সর্বোচ্চ ৩২ জিবি র‍্যাম সাপোর্টের সাথে থাকবে এনভিডিয়া জিফোর্স এমএক্স২৫০ এক্সটার্নাল গ্রাফিক্স চিপ। এই ল্যাপটপগুলোকে নোটবুক বলাই শ্রেয় কারন এর ডিজাইন এবং ওজন প্রায় নোটবুকের মতই। তবে ভিডিও কিংবা ফটো এডিট এবং ২ডি গ্রাফিক্যাল কাজগুলো এতে করা সম্ভব। যদিও এই মডার্ন সিরিজের ল্যাপটপ বেশিরভাগ ব্যবসায়িক এবং অফিস ব্যবহারের জন্যই তৈরী করা।    

ল্যাপটপগুলো ট্রাডিশনাল সিংগেল হিট সিংক না দিয়ে একাধিক হিট সিংক দেয়া হয়েছে। যেটি MSI এর ভাষ্যমতে আরো ভালো কুলিং দিতে সক্ষম।
তিনটি ল্যাপটপ সিরিজ দাবি করছে লং ব্যাটারি লাইফের। সর্বনিম্ন ৮ থেকে ১৬ ঘন্টার ব্যাটারি ব্যাকাপ দিতে সক্ষম এই ল্যাপটপগুলো। এছাড়া উন্নত মানের শব্দের জন্য আছে Hi-Res Audio সার্টিফিকেশন যাতে Nahimic সাউন্ড ড্রাইভার প্রযুক্তি। 

আশা করা যায় ল্যাপটপগুলো বাংলাদেশের বাজারে যথেস্ট সাড়া ফেলতে পারবে।