Nokia 6

নতুন বছরে অতিপরিচিত এবং একসময়ে দুনিয়া কাপানো সেলফোন নির্মাতা কোম্পানি নোকিয়া নতুন চমক নিয়ে আসে। ইতিমধ্যে সবাই জেনেগেছেন তাদের নতুন স্মার্টফোনের ব্যাপারে।

গত ৮ই জানুয়ারি নতুন Nokia 6 ডিভাইসটি লঞ্চ করার ঘোষণা দেয় নোকিয়া। তবে এইবার আর উইন্ডোজ ওএস বেসড না। এন্ডয়েড বেসড হবে। দেরি হলেও নোকিয়াও বুঝতে পেরেছে এন্ড্রয়েডের প্রয়োজনীয়তা।

ফোনের ব্যাপারে বলার আগে নোকিয়ার কিছু রিসেন্ট হিস্টোরি জেনে আসা যাক। এন্ড্রোয়েড বেসড ডিভাইস আর আইফোনের জোয়ারে নোকিয়া কিছু আলাদা করতে চেয়েছিল।। কিন্তু স্মার্টফোন বাজার দখল করা শুরু করলে নোকিয়ার অনেক ফোন (যার বেশিরভাগই ফিচার) ফোনগুলোর কাস্টোমার হারাতে থাকে।। অনেক স্ট্রাগেল করতে করতে তারা মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রি হয়ে যায় যা কিনা ‘মাইক্রোসফট মোবাইল’ নামে পরিচিতি পায়। কিন্তু ব্রান্ড নেম নোকিয়া শুধুমাত্র একটি নামমাত্র হয়ে থাকে। যেটা ব্যবহার করে মাইক্রোসফট স্মার্টফোন মার্কেটে জায়গা করে নিতে চেয়েছিল।। কারন নোকিয়া ডিউরেবল ফোনের পরিচয় বহন করে। কিন্তু অক্টোবর ২০১৪ এর দিকে উইন্ডোজ বেসড ফোনগুলো একটী নতুন নামে বাজারে আসে যেটি কিনা লুমিয়া সিরিজ।

Nokia 6

মাইক্রোসফট নোকিয়ার নাম বেচে খাওয়ার পরিবর্তে তাদের নিজেদের নামেই ফোন সেল করা শুরু করে।

এর মধ্যে নোকিয়া HMD Global নামের নতুন একটি কোম্পানির ছত্রছায়ায় আসার সুযোগ পায় এবং তাদের সাথেই চুক্তি করে HMD Global নোকিয়ার লাইসেন্স নেয়। লাইসেন্সের ব্যাপারটা আমার মাথায়ও তেমন ঢুকে নাই কিন্তু সোজা বাংলায় বললে এখন নোকিয়ার স্বত্বা নোকিয়া একা না। HMD Global এর ব্যাপারে সহজে বলতে গেলে এরা হল নোকিয়ার নতুন আশ্রয়দাতা। তবে তাদের ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচার করবে Foxconn প্রতিষ্ঠানটি। HMD Global এর মেইন হেডকোয়াটার ফিনল্যান্ডে এবং মজার ব্যাপার এই হচ্ছে HMD Global এর বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মকর্তা হল নোকিয়ার পুরানো কর্মকর্তা-কর্মচারী। HMD Global এর যাত্রা শুরু হয় এখন থেকে প্রায় ৭ মাস আগে। ১৮ মে ২০১৬ তে। HMD Global এর CEO Arto Nummela নোকিয়া এবং মাইক্রোসফট এ ছিলেন এর আগে।

Nokia 6 specifications list

যাইহোক হিস্টোরি পড়া শেষ। এইবার আসি ডিভাইসের কথায়।। ডুয়াল সিম সাপোর্টেড, ৫.৫ ইঞ্চের ২.৫ডি ফুল-এইচডি গরিলা গ্লাসের Nokia 6 এ থাকছে এন্ড্রয়েডের লেটেস্ট ভার্সন নোগাট(Nougat) চিপসেট হিসেবে থাকছে Qualcomm MSM8937 Snapdragon 430 যা একটি অক্টা কোর ১.৪ গিগাহার্জে ক্লকড করা। আমি জানি এইখানেই অনেকেই মুখ বাকাবেন কারন স্নাপড্রাগন ৪৩০ অনেক আগের একটা প্রসেসর। কিন্তু বাজেট ডিভাইস আর ব্রান্ড ভ্যালু হিসেবে চিন্তা করতে গেলে এইটা ঠিকই আছে। আবার ঠিক নাই। কেন ঠিক নাই ঐটা পরে বলছি। এছাড়া জিপিউ হিসেবে আছে Adreno 505, ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম তা ছাড়া মাইক্রো এসডি কার্ড স্লটও আছে যা ২৫৬ জিবি পর্যন্ত সাপোর্ট করবে। ডুয়াল সিমের সাথে এক্সট্রার্নাল এসডি কার্ড স্লট এইটার জন্য একটা থাম্বস আপ।

রিয়ার ক্যামেরা হিসেবে আছে ১৬ মেগাপিক্সেল আর ফ্রন্ট ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেলের এবং উভয় ক্যামেরা f 2.0 এপার্চারের। অডিও হিসেবে আছে Dolby Atmos sound enhancement সো মিউজিক লাভারদের জন্য ফোনটা ভালই একটা অপশন।

বাকি ইনফরমেশন গুগল করলেও পাবেন কিন্তু এখন আমি যেটা বলতে যাচ্ছি সেটা শুনলে হয়তো আপনার এই ফোন নিয়ে আর খুব একটা ইন্টারেস্ট নাও থাকতে পারে। ফোনটি রিলিজ হয়েছে শুধুমাত্র চায়নার জন্য।। আমি জানি না নোকিয়া কি স্ট্রাটেজি নিয়ে চায়নায় এই ফোন লঞ্চ করেছে। কারন সেম প্রাইসে আরো বেটার ফোন পাওয়া যাবে। শাওমি,লেইকো, হুয়ায়ে ছাড়াও চায়নাতে আরো অনেক স্মার্টফোন ব্রান্ড আছে যারা মার্কেটে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। তাছাড়া স্নাপড্রাগন ৪৩০ চায়নার মার্কেটের হিসেবে লোএন্ড বলা চলে।। এর মধ্যে এই ফোন নিজের জায়গা করতে পারে কিনা সেটাই দেখবার বিষয়।

গ্লোবালি এই ফোন লঞ্চ করবে কিনা সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি। হয়তো এর থেকে বেটার ফোন রিলিজ করবে নোকিয়া। এবং এই ২০১৭ তে ফোনের সাথে ট্যাবলেটও রিলিজ করবে তারা।

ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। পিসিবি বিডি’র সাথে থাকুন।
ধন্যবাদ।