স্মার্টফোন সেক্টরে কি ক্যামেরা যুদ্ধ চলছে? বর্তমানের স্মার্টফোনগুলোতে পেছনে দুটি ক্যামেরা না থাকলে যেন চলেই না। আর ব্যাপারটি কিন্তু এখানেই থেমে নেই। এ বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রথম তিনটি পেছনের ক্যামেরা নিয়ে আলোচনায় আসে Huawei P20 Pro স্মার্টফোনটি। আর তার দেখা দেখি ধীরে ধীরে অনান্য ব্রান্ডও ট্রিপল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ ধীরে ধীরে প্রয়োগ করা শুরু করেছে। কিন্তু স্যামসং ক্যামেরার দিক থেকে এক ধাপ এগিয়ে গেল তাদের নতুন Galaxy A9 (2018) মডেলটির মাধ্যমে! ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত স্যামসং ইলেক্ট্রনিক তাদের আপকামিং গ্যালাক্সি এ৯ মডেলটি কিছুদিন আগে উন্মোচন করেছে। আর ডিভাইসটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে এর ৫টি ক্যামেরা! LG V40 ThinkQ স্মার্টফোনেও ৫টি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু গ্যালাক্সি এ৯ ডিভাইসের পেছনেই রয়েছে চারটি ক্যামেরা!

২৪ মেগাপিক্সেল (f/1.7) + ১০ মেগাপিক্সেল (f/2.4) + ৮ মেগাপিক্সেল (f/2.4) + ৫ মেগাপিক্সেলের (f/2.0) প্রাইমারি ক্যামেরা রয়েছে ডিভাইসটিতে। আর সামনে রয়েছে ২৪ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। এত ক্যামেরা কই রাখবেন? আর উল্লেখ্য যে, বিশ্বের প্রথম কোয়াড ক্যামেরার স্মার্টফোন হতে যাচ্ছে এটি!

স্যামসংয়ের ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইস গ্যালাক্সি এস সিরিজ এবং গ্যালাক্সি নোট সিরিজের প্রতিই সাধারণত সবারই আইফোনের মতো আকর্ষণ থাকে। তবে ফ্ল্যাগশীপের পারফরমেন্স যাদের প্রয়োজন হয় না এবং যারা ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসের বাজেট নেই তারা অনেকেই স্যামসংয়ের A সিরিজের স্মার্টফোনকে বেশ পছন্দ করে থাকে। এই সিরিজের ফোনগুলো ফ্ল্যাগগশীপের থেকে দামে সস্তা হয়ে থাকে কিন্তু ফ্ল্যাগশীপের মতোই ডিজাইন এবং কাছাকাছি পর্যায়ের পারফরমেন্স দিয়ে থাকে। কিন্তু এবারের স্যামসংয়ের A সিরিজের ডিভাইসে ক্যামেরা সেক্টরে স্যামসং নিয়ে এলো পাগলামো!

তবে ক্যামেরার কথা যদি বাদ দেন তাহলে ডিভাইসটিকে কিন্তু বর্তমানের গ্যালাক্সি এস৯ বা নোট ৯ এর থেকে কনফিগারেশনে কিছুটা কমিয়ে রাখা হয়েছে। কারণ এটি একটি মিড-হাই এন্ড ডিভাইস। Samsung Galaxy A9 (2018) ডিভাইসে প্রসেসর হিসেবে থাকছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ । যেখানে স্যামসংয়ের ফ্ল্যাগশীপ Galaxy S9 এবং Note 9 ডিভাইসে রয়েছে লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসর। এছাড়াও এই ডিভাইসে অনান্য স্পেসিফিকেশন সময় উপযোগীই রয়েছে, ১২৮ গিগাবাইটের ইন্টারনাল স্টোরেজ যা আপনি আলাদা মেমোরি কার্ড দিয়ে ৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত বর্ধিত করতে পারবেন, রয়েছে ৬ গিগাবাইট র‌্যাম, ৬.৩ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, ব্যাটারি হিসেবে পাবেন ৩৮০০ mAh ক্ষমতার ব্যাটারি। আর ভাগ্য বা দুভাগ্য বশত এই ডিভাইসেও স্যামসং কোনো নচ ডিজাইন রাখেনি।

স্পেসিফিকেশন বাজেট থাকলেই বাড়ানো যাবে কিন্তু ক্যামেরা কি বাড়ানো যাবে? যাবে না। কিন্তু আপনার কি সত্যিই ৪টি ক্যামেরা সেটআপে স্মার্টফোন দরকার? সত্যিই কি DSLR বাদ দিয়ে এখন ৩/৪ টা ক্যামেরাওয়ালা স্মার্টফোন কেনা শুরু করবেন আপনি? সেটা আপনার উপরই নির্ভর করে। Samsung Galaxy A9 (2018) ডিভাইসের পেছনের ৪টি ক্যামেরা সিস্টেমটি একটি Ultra Wide Camere, একটি Telephoto Camera, একটি ২৪ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা এবং একটি Depth ক্যামেরার সমন্নয়ে তৈরি করা হয়েছে। আর বলা বাহুল্য যে এই ডিভাইসটি দিয়ে ব্যবহারকারীরা চমৎকার এবং ডাইনামিক ছবি কোনো প্রকার আলাদা সেটিংস এবং ক্যামেরা টুল ছাড়াই তুলতে পারবেন। স্যামসংয়ের ভাষ্যমতে স্মার্টফোন দিয়ে আপনি “shoot like a pro” বা প্রফেশনাল ক্যামেরা আর্টিস্টদের মতোই ছবি তুলতে পারবেন!

ক্যামেরার সেক্টরটি বাদ দিলে ডিভাইসটিতে আপনি পাচ্ছেন Snapdragon 660 প্রসেসর। যেটা একটি অক্টা কোর ARM চিপসেট। আর এটা কিন্তু এন্ট্রি লেভেলের প্রসেসর নয়। তবে এই সিপিইউ জেনারেশনটি একটু পুরোনো এবং স্বাভাবিক ভাবেই আপনি  বর্তমানের Snapdragon 845 এর থেকে এখানে পারফরমেন্স কম পাবেন। এছাড়াও ডিভাইসটিতে 845 এর থেকে তুলনামূলক কম পারফরমেন্সের জিপিইউ এবং মেমোরি পাবেন। পারফরমেন্স কম হলেও ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬ গিগাবাইটের র‌্যাম যা দিয়ে মিডিয়াম থেকে হেভি মাল্টিটাস্কিং সহজেই আপনি করতে পারবেন। আর ১২৮ গিগাবাইটের স্টোরেজ আপনার কাছে কম মনে হলে আলাদা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে ৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত তা আপনি বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

এছাড়াও ডিভাইসটিতে রয়েছে স্যামসংয়ের OLED প্যানেল যার ডিসপ্লে সাইজ হচ্ছে ৬.৩ ইঞ্চি। মানের নোট ৯ ডিভাইসের থেকে মাত্র দশমিক ১ ইঞ্চি ছোট ডিসপ্লে রয়েছে এই Galaxy A9 (2018) ডিভাইসটিতে। কিন্তু নোট ৯ এর মতো উচ্চ রেজুলেশন আপনি এই ডিভাইসে পাচ্ছেন না।

সর্বশেষে আসি দামের ব্যাপারে। ডিভাইসটির লঞ্চ প্রাইস রাখা হয়েছে ৫৪৯ ইউরো বা ৭২৬ মার্কিন ডলারের মতো। ভারতে ডিভাইসটির দাম ৫২ থেকে ৫৩ হাজার রুপি হতে পারে সে হিসেবে বাংলাদেশে এর দাম ৬০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে এটা বলা যায়। তো প্রশ্ন থাকলো আপনার কাছে, কিনবেন নাকি চার ক্যামেরার স্মার্টফোন?

Avatar
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.