18 C
Dhaka
Monday, January 25, 2021

Google Photos এর সেরা কয়েকটি বিকল্প

- Advertisement -asus motherboards

ইতিমধ্যে মোটামুটি সবাই জেনে গিয়েছেন যে, সামনের বছরের জুনের ১ তারিখের পর থেকে গুগল ফটোস এ বিনামূল্য  হাই কোয়ালিটিতে আনলিমিটেড ছবি রাখা যাবে না। এর কারন ব্যাখা করতে গিয়ে গুগল জানিয়েছে অলরেডি তাঁদের কাছে ৪ট্রিলিয়ন ফটোস রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৮বিলিয়ন ছবি গুগল ফটোসে আপলোড হচ্ছে। এ বিশাল চাপ তাঁদের সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই ১ জুনের পর থেকে গুগল ফটোস এ ছবি রাখলে তা আপনার জিমেইলের এইগনেস্টে দেওয়া ১৫জিবি স্টোরেজে কাউন্ট হবে। গুগল জানিয়েছে এভারেজ ইউজারদের এই স্টোরেজ শেষ করতে অলমোস্ট ৩ বছর লেগে যায়।

যারা বেশি বেশি ছবি তোলে এবং তা সংরক্ষণ এর জন্য এতদিন গুগল ফটোস ব্যবহার করে আসছেন তাঁদের জন্য দুইটি রাস্তা খোলা রয়েছ।
১। Google One এ সাবক্রিপশন কিনা।(বা অন্য কোনো পেইড ক্লাউড স্টোরেজ সাবক্রিপশন )
২। ফ্রিতে অন্যকোনো অল্টারনেটিভ খুঁজে নেওয়া।

- Advertisement -

Google One এ মাসে ২ ডলার বা বছরে ২০ ডলারে ১০০জিবি স্টোরেজ অফার করছে। এছাড়াও আরো বেশি স্টোরেজসহ প্ল্যান রয়েছে।

এখন আপনি যদি ডলার পে করতে না চান তাহলে আপনার অন্য রয়েছে নিচে কয়েকটি বিকল্প যা অবশ্যই ফ্রি-

বিঃদ্রঃ- গুগলের মত আনলিমিটেড ‘হাই কোয়ালিটিতে’ ফ্রি স্টোরেজ বর্তমানে কেউ দিচ্ছে না। তাই আমরা ফ্রি কিন্তু লিমিটেড স্টোরেজ দিচ্ছে এমন বেস্ট কয়েকটি সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করব।

- Advertisement -

*প্রতিটি টাইটেলেই ঐ ওয়েবসাইটের  লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে।*

১। Degoo

বর্তমানে সবচেয়ে ফ্রিতে সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ দিচ্ছে Degoo। সাইন-আপ করলেই ১০০জিবি লাইফ-টাইম এর জন্য স্টোরেজ। তাছাড়া পার রেফারেলে ৫জিবি করে বোনাস এইভাবে সর্বোচ্চ ৫০০ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা যাবে। Degoo তে একসেস এর জন্য ওয়েব ইন্টারেফ ও রয়েছে। এন্ড্রয়েড/আইফোনের উভয়ের জন্য এ্যাপ রয়েছে। অটো আপলোড সুবিধা রয়েছে। সিকিউরিটি এর জন্য রয়েছে এন্ড টু এন্ড এঙ্ক্রিপশন। একসাথে সর্বোচ্চ তিনটি ফোনে একই একাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। ফ্রি ভার্সনে একটা অসুবিধা সেটা হচ্ছে ফ্রি প্ল্যানে এড বা বিজ্ঞাপন রয়েছে।

২। Mega

এর পর আসবে Mega। Mega দিচ্ছে আপটু ৫০জিবি। এইখানে কিছু প্যাঁচ আছে যদিও। সাইনাপ-করার ৩০দিন পর ৫০জিবি থেকে ১৫জিবিতে চলে আসবে। কিন্তু মেগা উইন্ডোজ এন্ড্রয়েড এ্যাপ ইন্সটল করলে ২০+১৫=৩৫ জিবি দেওয়া হবে ১৮০ দিনের জন্য। এইখানেই শেষ না প্রতিটা ফ্রেন্ড রেফারেলের জন্য ১০ জিবি করে দেওয়া হবে যার মেয়াদ হবে ১ বছর। সো ওভারল গুড ডিল। সাথে এদেরও রয়েছে এন্ড টু এন্ড ডাটা এঙ্ক্রিপশন। Mega একচুয়েলি ডাটা সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি নিয়ে অনেক বেশি কনসার্ন। যার কারনে মাস্টার-কি ভুলে গেলে রিসেট দিলে ডাটা সব মুছে যাবে। সব প্লাটফর্মেই সিংকিং ও শেয়ারিং খুব ইজিলি করা যাবে।

৩।MiMedia

- Advertisement -

এটি একটি মিডিয়া অর্থাৎ ফটো-ভিডিও সেন্ট্রিক ক্লাউড সলিউশন। এরা সাইন-আপ বোনাস দিচ্ছে প্রায় ১০জিবিতে মত। ওয়েবে ইন্টারফেস, ডেক্সটপ(পিসি+ম্যাক), এন্ড্রয়েড ও আইওএস সব প্ল্যাটফর্ম এর জন্য রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন। ফটো ভিডিও অর্গানাইজ করার জন্য তাঁদের ও রয়েছে নিজস্ব টুলস। সাথে অন্যান্য ক্লাউড সার্ভিস থেকে সহজেই ইম্পোর্ট করে  MiMedia তে নিয়ে আসা যাবে। প্রাইভেট শেয়ারিং এর মত গুরুত্বপূর্ন অপশনও থাকছে এতে। কিন্তু ডাটা এঙ্ক্রিপশন এর ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

৪। Amazon photos

গুগল ফটোস এর পর যদি কেউ ট্রুলি ফ্রিতে(?) আনলিমিটেড ফটো আপ্লোড করার সুযোগ দিয়ে থাকে সেটা হচ্ছে Amazon photos কিন্তু সেটা শুধু মাত্র এমাজন প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের জন্য। বাহিরের দেশে এমাজন প্রাইম সাবস্ক্রিপশন খুবই কমন। এটা কাউন্ড অফ একটা বান্ডেল প্যাকেজ বলা চলে এতে প্রাইম ভিডিস,ফ্রি ডেলিভারি সহ আরো অনেক সুবিধা উপযোগ করা যায় নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে। ওয়েল তাহলে তো এটা ফ্রি না? এটার উত্তর আসলে হ্যাঁ না দুইটোই। একদিকে যেমন আপনাকে প্রাইম সার্ভিস এর জন্য পে করতে হচ্ছে এটা যেমন সত্য অন্যদিকে শুধু মাত্র ক্লাউড স্টোরেজের অন্য আলাদা করে পে করতে হচ্ছে না যেমনটা গুগল বা আদার সার্জিস গুলোতে করতে হচ্ছে। তাহলে কি ফ্রি ইউজারদের জন্য কিছুই নেই? একদম কিছু নাই তা না। এমাজন প্রাইম সাবস্ক্রাইবার না হলে আপনাকে সর্বোচ্চ ৫জিবি ক্লাউড স্টোরেজ দেওয়া হবে।

৫। Flickr

এটা আগে ইয়াহুর মালিকাধীন প্রতিষ্টান ছিল। ইন্সটাগ্রামের মত এটা খুব জনপ্রিয় ফটো শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের কাছে এটা খুবই পপুলার একটি প্ল্যাটফর্ম। এরাও গুগলের মত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউস করে টাইম, জিওলোকেশন ফেশিয়াল এক্সপ্রেশন ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে অটো অ্যালবাম করে দিতে পারে। তাছাড়া তাঁদের অনলাইনে ফটো ইডিটিং টুলস রয়েছে যা দিয়ে বেসিক ইডিটিং সহজেই সেরে নেওয়া যায়। Flickr এ ফ্রি একাউন্টে ১০০০টা আনকমপ্রেডস ছবি রাখা যাবে। এর বেশি দরকার হলে তাঁদের প্রিমিয়াম সার্ভিসে যেতে হবে হবে যা শুরু হচ্ছে মাসে ৭ ডলার এর মত।

৬। Onedrive

এটি মাইক্রোসফট এর ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার। ফ্রিতে এরা অফার করছে ৫জিবি এর মত স্টোরেজ।উইন্ডোজ ব্যবহার কারি সবাই কে একটা মাইক্রোসফট একাউন্ট ব্যবহার করতেই হয়। সেই হিসেবে এই ৫জিবি স্টোরেজ সহজেই ইউটিলাইজ করা যেতে পারে। তাঁদের প্রিমিয়াম প্ল্যান গুগলের মত ১০০জিবি প্রতি মাসে ২ ডলার। অনেকেই Microsoft 365 সাবস্ক্রিপশন কিনে থাকেন তাঁদের জন্য তো ১টেরাবাইট স্টোরেজ রয়েছেই। ওয়ান ড্রাইভেরও সব প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। যা দিয়ে অটো আপ্লোড ও সিংকিং করা যায়।

৭। ফোন কোম্পানির দেওয়া ফ্রি স্টোরেজ

বর্তমানে পপুলার সব স্মার্টফোন কোম্পানি এটলিস্ট ৫জিবি ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজ অফার করছে একটা একাউন্টের সাথে। এটাও একটা ভাল বিকল্প হতে পারে গুগল ফটোস এর কেননা এখনকার ফোন গুলো  একাউন্ট[ঐ ব্র্যান্ডের ফোনের জন্য নির্দিষ্ট একাউন্ট] ছাড়া চালানোও যায় না ক্ষেত্রবিশেষে। মেইনস্ট্রিম সব স্মার্টফোন গুলোতে এই স্টোরেজ ব্যবহার এর জন্য রয়েছে অটো-আপ্লোড ও কুইক সিং এর মত ফিচার। যেমনঃ শাওমি ফোনের জন্য Xiaomi Cloud, এপলের ফোনের সাথে iCloud ইত্যাদি।

৮। নিজের সার্ভার ব্যবহার করা।

এই কাজটা সবার জন্য না। যারা টেক এন্থুজিয়াস্ট আছেন তাঁরা চাইলেই একটা NAS সার্ভার বানিয়ে নিয়ে নিজের ইচ্ছামত ঐটাকে ব্যবহার করতে পারেন। এটা করতে টেকনিক্যাল স্কিলস এর প্রয়োজন আছে। কিন্তু চাইলে Plex, Synology, OwnCloud ইত্যাদি সার্ভিস ব্যবহার করে কাজ্টা কিছুটা সহজ করে নেওয়া যেতে পারে।

 

বোনাসঃ গুগল ফটোস আপনার বর্তমানে থাকা ছবি গুলো বহাল তবিয়েতই থাকবে তা যদি ১৫ জিবি এর চেয়ে বেশি স্টোরেজ নিয়েও থাকে। ২০২১ সালের ১ জুনের পর থেকে আপলোড কৃত ছবি ১৫জিবি ফ্রি স্টোরেজ এর জায়গা নিবে। আরেকটা ইনফো সেটা হচ্ছে শুধুমাত্র স্টোরেজ লিমিট করা হয়েছে বাদ বাকি ফিচার্স গুলো ফ্রিতেই ব্যবহার করা যাবে।

বিঃদ্রঃ এইখানে যে ক্লাউড স্টোরেজ এর কথা বলা হয়েছে তা আসলেই ছবি বা ভিডিও এর জন্য অপটিমাইজড। এইজন্য কিছু কিছু ফ্রি সার্ভিস যেমনঃ pCloud,MediaFire & Box সহ ইত্যাদি আরো নেক সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে যাতে সাইন-আপ বোনাস ১০জিবি দিলেও তা এইখানে মেনশন করা হয়নি।

- Advertisement -asus graphics card
Kowcher Chy
Kowcher Chy
A tech enthusiast ,amateur photographer and sluggish coder with an Engineering degree to destroy them all.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here