এখন থেকে প্রায় বছর তিনেক আগে আমাদের জাহিদ ভাই আল্টিমেট পোর্টেবল গেমিং এবং অন দ্যা গো’তে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের অন্বেষণে কিনে ফেলেন MSI GT80 Titan SLI গেমিং ল্যাপটপটি। সেই ল্যাপটপটি নিয়ে তার করা একটি রিভিউ ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে, যা নিচের লিঙ্কড ভিডিওটিতে ক্লিক করে চাইলে দেখে নিতে পারেন। এই তিন বছরে প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গিয়েছে, এবং আমরা গত দুই বছরে রেকর্ড সংখ্যক সিপিইউ লঞ্চ হতে দেখেছি। নতুন এই সিপিইউগুলো পারফরমেন্সে উন্নতির পাশাপাশি কম্পিউটিংকে করে তুলেছে আরো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, এবং এটি সম্ভব হচ্ছে আগের চেয়ে অনেক কমপ্যাক্ট ফর্ম ফ্যাক্টরে। পারফরমেন্স, এফিসিয়েন্সি এবং ফর্ম ফ্যাক্টরের প্রসঙ্গ যখন এলোই, আমরা আজকে এসব প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সম্মিলিত ফলাফলের বাস্তব প্রতিচ্ছবি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো, এমএসআই এর মাঠ কাপানো একটি গেমিং ল্যাপটপ নিয়ে। পিসি বিল্ডার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আজ রিভিউ করা হচ্ছে এমএসআই জিই৬৩ রেইডার আরজিবি ৮আরএফ (MSI GE 63 Raider RGB 8RF) ল্যাপটপটির।

স্পেসিফিকেশন্স

প্রসেসরঃ

আমাদের রিভিউ ইউনিটটি ইন্টেলের ৮ম প্রজন্মের কফি লেইক কোর আই৭ ৮৭৫০এইচ প্রসেসর বিশিষ্ট, যার বেইস ক্লক হচ্ছে ২.২ গিগাহার্জ এবং সর্বোচ্চ বুস্ট ক্লক হচ্ছে ৪.১ গিগাহার্জ।

চিপসেটঃ

ল্যাপটপটিতে ব্যবহৃত চিপসেটটি হল ইন্টেল এইচএম৩৭০।

অপারেটিং সিস্টেমঃ

ল্যাপটপটিকে উইন্ডোজ ১০ হোম অথবা উইন্ডোজ ১০ প্রো দিয়ে কনফিগার করতে পারবেন, আমাদের রিভিউ ইউনিটটিতে উইন্ডোজ ১০ হোম প্রি ইন্সটলড ছিলো।

মেমরীঃ

ল্যাপটপটি সর্বোচ্চ ৩২ জিবি ২৬৬৬ মেগাহার্টজ ডুয়াল চ্যানেল ডিডিআর৪ মেমোরি দিয়ে আপনি কনফিগার করতে পারবেন, তবে আমাদের রিভিউ ইউনিটটিতে ১৬ জিবি ডুয়াল চ্যানেল ২৪০০ মেগাহার্টজ ডিডিআর৪ দিয়ে কনফিগার করা ছিলো।

স্টোরেজঃ

আমাদের রিভিউ ইউনিটটিতে বুট এবং ওএস স্টোরেজের জন্য আছে সামসুং ২৫৬জিবি এনভিএমই এসএসডি এবং রেগুলার স্টোরেজের জন্য আছে ১ টেরাবাইট হিটাচি ৭২০০ আরপিএম বিশিষ্ট ২.৫” হার্ড ড্রাইভ।

গ্রাফিক্সঃ

ল্যাপটপটিতে হেভি ডিউটি গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য আছে এনভীডীয়া জিটিএক্স ১০৭০ যার ভির‍্যাম ৮জিবি জিডিডিআর৫, এবং সেকেন্ডারি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে আছে ইন্টেলের ইন্টিগ্রেটেড ইউএইচডি ৬৩০।

ইনপুটঃ

ইনপুটের জন্য আছে টাচপ্যাড এবং স্টিলসিরিজের পার কী কাস্টোমাইজেবল আরজিবি মেমব্রেইন কিবোর্ড।

ডিসপ্লেঃ

ল্যাপটপটির ডিসপ্লে ১৫.৬” আইপিএস লেভেল অথবা ১০৮০পি ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ৩ মিলিসেকেণ্ড ল্যাটেন্সি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ভিউ বিশিষ্ট ডিসপ্লে দিয়ে কনফিগার করা সম্ভব, এবং আমাদের রিভিউ ইউনিটটি ১০৮০পি ১২০ হার্জ ডিসপ্লে দিয়ে কনফিগার করা ছিলো।

সাউন্ডঃ

সাউন্ড প্লেব্যাকের জন্য আছে নাহিমিক ৩ সাউন্ড স্যুট বিশিষ্ট রিয়াল্টেক এএলসি ১২২০ অডিও কোডেক, যাতে কানেক্টিভিটির জন্য আছে  একটি ৩.৫ মিলিমিটার মাইক্রোফোন জ্যাক এবং একটি হাই-ফাই/এসপিডিআইএফ সমর্থিত হেডফোন জ্যাক, এবং ল্যাপটপটির পৃষ্ঠদেশে আছে এক জোড়া করে ৩ ওয়াট বিশিষ্ট স্পিকার এবং উফার।

কানেক্টিভিটিঃ

ল্যাপটপটির বাম পাশে কানেক্টিভিটির জন্য আছে

  • একটি আরজে৪৫ কানেক্টরবিশিষ্ট কিলার গিগাবিট ল্যান পোর্ট,
  • একটি ৪কে ৬০ হার্জ সমর্থিত এইচডিএমআই ২.০ পোর্ট,
  • একটি মিনি ডিসপ্লে পোর্ট,
  • একটি সেকেন্ড জেনারেশন টাইপ এ ইউএসবি ৩.১ পোর্ট এবং
  • একটি টাইপ-সি ইউএসবি ৩.১ পোর্ট।

অন্যদিকে ল্যাপটপটির হাতের ডান পাশে আছে

  • দুইটি ফার্স্ট জেন টাইপ এ ইউএসবি ৩.১ পোর্ট এবং
  • একটি এসডি কার্ড রিডার স্লট।

ওয়াইয়ারলেস কানেক্টিভিটি: ওয়াইয়ারলেস কানেক্টিভিটির জন্য আছে ৮০২.১১ এসি ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ ভি৫।

ডাইমেন্সন্সঃ ল্যাপটপটি দৈর্ঘ্যে ১৫.১ ইঞ্চি, প্রস্থে ১০.২ ইঞ্চি, এবং উচ্চতায় ১.২ ইঞ্চি।

ব্যাটারি: ৬টি সেল বিশিষ্ট ব্যাটারি সহ ল্যাপটপটির ওজন আড়াই কেজি।

ওয়েব ক্যাম: ল্যাপটপের ওয়েব ক্যামটি ৭২০পি ৩০ এফপিএসে ভিডিও ধারন করতে পারে।

চার্জারঃ চার্জিংয়ের জন্য আছে ২৩০ ওয়াট চার্জিং অ্যাডাপ্টর।

মূল্যঃ এই ল্যাপটপটির সর্বশেষ খুচরা মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার টাকা মাত্র।

আউটলুক্স

এবার আসি ল্যাপটপটির আউটলুক্স ইন্সপেকশনে।

ল্যাপটপটির সম্পূর্ণ বডিটিতে আছে ব্রাশড আলুমিনাম ফিনিশ, যা ল্যাপটপটিকে বেশ মজবুত এবং প্রিমিয়াম একটি ফিল দেয়।

এই গেমিং ল্যাপটপটির আউটলুক্সের যে ফিচারটি আপনি কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারবেন না, সেটি হল আরজিবি। ল্যাপটপটির কভারে এবং কীবোর্ডে আছে ফুলী কাস্টমাইজেবল মিস্টিক লাইট আরজিবি, যার মাধ্যমে আপনার চাহিদা এবং রুচিমাফিক অফুরন্ত আরজিবি প্রোফাইলিং এবং কাস্টমাইজেশন করা সম্ভব।

ল্যাপটপটির ডানে, বামে, এবং ভাঁজ বা ফোল্ডে তাকালে দেখতে পাবেন অনেকগুলো খাঁজবিশিষ্ট হিট সিঙ্কের ফিন, যা কুলার বুস্ট ৫ কুলিং সল্যুশনের একটি অংশ।

অন্ধকারে সহজে কীবোর্ড ব্যাবহারের জন্য এই মেমব্রেইন কি গুলোতে ব্যাবহার করা হয়েছে উচ্চ মানের সিল্ভার লাইনিং প্রিন্ট। এছাড়াও অন্ধকারে ইউএসবি পোর্ট খুজে পেতে কোন কষ্ট করতে হবে না, কারন পোর্টগুলোতে লাল রঙের লাইটিং ব্যাবহার করা হয়েছে।

ল্যাপটপটির স্পিকারের আওয়াজ এক কথায় দারুন তবে এই স্পিকারের সাউন্ডের স্বাদ পুরোটা পেতে হলে আপনাকে ল্যাপটপটিকে টেবিল বা কোন শক্ত সার্ফেসের উপরে রেখে কাজ করতে হবে, কেননা এর স্পিকার এবং উফারগুলোর অবস্থান নিচে হবার কারনে কাপড় জাতীয় সার্ফেসে সাউন্ড কিছুটা ঢাকা পড়ে।

১২০ হার্জ ৩ মিলি সেকেন্ড রিস্পন্স টাইমের ডিসপ্লেটিতে গেমিং আসলেই অত্যন্ত সুখকর একটি অভিজ্ঞতা।

সফটওয়্যার

এমএসআই ড্রাগন সেন্টার

MSI_DRAGON_CENTER_IMAGE01 MSI_DRAGON_CENTER02 MSI_DRAGON_CENTER03এমএসআই ড্রাগন সেন্টার সফটওয়্যারটি আপনাকে ল্যাপটপের ওভারঅল সব কম্পোনেন্টের টেম্পারেচার মনিটরিং, চাহিদামাফিক পারফর্মেন্স প্রোফাইল কাস্টোমাইজিং, ওভারক্লকিং এবং ফ্যান স্পীড নিয়ন্ত্রন, ডিসপ্লে কালার প্রোফাইল পরিবর্তন, ভিআর রেডি টগোল এবং নানাবিধ সুবিধা একটি সফটওয়্যারের ভেতরেই দিয়ে থাকে।

স্টিলসিরিজ ইঞ্জিন ৩

Steelseries_Engine3-01 Steelseries_Engine3-02 Steelseries_Engine3-03স্টিলসিরিজ ইঞ্জিন ৩ সফটওয়্যারটির মাধ্যমে মিস্টিক লাইট আরজিবির সব রকম প্রোফাইলিং, কাস্টমাইজিং, কীবোর্ডের প্রতিটি সুইচের জন্য নিজস্ব লাইটিং কাস্টমাইজ করা এবং আপনার অন্যান্য স্টিলসিরিজ পণ্যগুলোর জন্য সেভ করা প্রোফাইল ক্লাউড সিঙ্কের মাধ্যমে সিঙ্ক্রনাইজ করা অত্যন্ত সহজ।

নাহিমিক ৩

Nahimic-01 Nahimic-02 Nahimic-03 Nahimic-04নাহিমিক ৩ ব্যাবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার রুচি মাফিক সাউন্ড সেটিংস এবং প্রি ডিফাইন্ড প্রোফাইল নির্ধারণের পাশপাশি সেগুলো টুইক করার সুবিধা পাচ্ছেন, যা আপনার সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্সকে আপনার প্রেফারেন্স অনুযায়ী আরো শ্রুতিমধুর করে তুলতে ভুমিকা রাখে।

পারফর্মেন্স

এবার আসি ল্যাপটপটির পারফর্মেন্সে।

বেঞ্চমার্ক মেথডোলজি

ল্যাপটপটির পারফর্মেন্স যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য বেশ খাটাখাটনির পর আমরা এই ফলাফলগুলোতে উপনীত হয়েছি। আমাদের বেঞ্চমার্ক মেথডোলজি খুব জটিল কিছু নয়, প্রতিটি বেঞ্চমার্ক তিনবার চালানোর পর প্রাপ্ত স্কোরের গড় আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। গেমিং বেঞ্চমার্কগুলোতে অ্যাাভারেজ, মিনিমাম এবং ম্যাক্সিমাম ফ্রেমরেট ডাটা ও তুলে ধরা হয়েছে।

সিনথেটিক সিপিইউ বেঞ্চমার্ক

শুরুতেই কিছু সিনথেটিক সিপিইউ বেঞ্চমার্ক দিয়ে শুরু করছি।

গীকবেঞ্চ ৪

Geekbench 4 Synthetic CPU Benchmarkগীকবেঞ্চ ৪ এ ল্যাপটপটির সিপিইউ পারফর্মেন্স আশানরুপ।

সিনেবেঞ্চ আর১৫

Cinebench R15 CPU Benchmark Resultsসিনেবেঞ্চ আর১৫ একটি রিয়াল লাইফ সিপিইউ বেঞ্ছমারক টুল, এবং এখানেও আমরা বেশ খুবই শক্ত সিঙ্গেল এবং মাল্টি কোর পারফর্মেন্স দেখতে পাচ্ছি।

এডোবি প্রিমিয়ার প্রো

এছাড়াও এডোবি প্রিমিয়ার প্রো ব্যাবহারে আমাদের জামান ভাইয়ের করা একটি ২৪ মিনিটের একটি প্রোজেক্ট রেন্ডার করতে সক্ষম হয় প্রায় ২১ মিনিটে, এবং এই প্রজেক্টটিতে বেশ ভারি কিছু এডিটিঙয়ের কাজ করা হয়েছে।

গেমিং বেঞ্চমার্ক

এবার আসি কিছু গেমিং বেঞ্চমার্কে।

থ্রিডিমার্ক টাইম স্পাই

3DMark TimeSpy Benchmark Resultsথ্রিডিমার্ক টাইম স্পাই এক্সট্রিম

3DMark TimeSpy Extreme Benchmark Resultsথ্রিডিমার্ক ফায়ার স্ট্রাইক

3DMark FireStrike Benchmark Resultsথ্রিডিমার্ক ফায়ার স্ট্রাইক এক্সট্রিম

থ্রিডিমার্ক ফায়ার স্ট্রাইক আলট্রা

3DMark FireStrike Ultra Benchmark Resultsথ্রিডিমার্ক (3DMark) টাইম স্পাই এবং টাইম স্পাই এক্সট্রিমের ফলাফলের দিকে তাকালে আমরা দেখাতে পাই যে এই ল্যাপটপটি ১৪৪০পিতে বেশ ভালো রেজাল্ট করলেও ৪কেতে উপভোগ্য পারফর্মেন্স ধরে রাখাতে সক্ষম নয়। এই একই চিত্র আমরা ফায়ার স্ট্রাইক বেঞ্ছমারকেগুলোতেও দেখতে পাই। যেহেতু এই ল্যাপটপটির নেটিভ ডিসপ্লে রেজোলিউশান ১০৮০পি, বেশিরভাগ গেমে এই রেজোলিউশানটি আপনার প্রেফারেন্স হওয়া উচিত সবচেয়ে উপভোগ্য এক্সপেরিএন্সের জন্য।

রাইজ অফ দা টম্ব রেইডার

মাউন্টেইন পিকRise Of The Tomb Raider Mountain Peak Benchmark Resultsসিরিয়া Rise Of The Tomb Raider Syria Benchmark Resultsজিওথার্মাল ভ্যালীRise Of The Tomb Raider Geothermal Valley Benchmark Results

রাইজ অফ দা টম্ব রেইডার গেমটির বিল্ট ইন বেঞ্চমার্কে আমরা ভেরি হাই প্রিসেটে তিনটি ভিন্ন টেস্টে অভারঅল প্রায় ৯০ ফ্রেমস পার সেকেন্ডের কাছাকাছি রেসাল্ট দেখতে পাচ্ছি যা গেমিঙয়ে ল্যাপটপটির পারদর্শিতার একটি নমুনা মাত্র। ল্যাপটপটির রেইডার নামকরণটিকে পূর্ণ সার্থকতা দেবার মতই এই স্কোর।

ফার ক্রাই ৫

Far Cry 5 Benchmark Resultsফার ক্রাই ৫ গেমটির বিল্ট ইন বেঞ্চমার্কে এই গেমিং ল্যাপটপটি গড়ে ৮৬ ফ্রেমস পার সেকেন্ড স্কোর করে আলট্রা প্রিসেটে, উল্লেখ্য এখানে এন্টী এলিয়াসিং এর জন্য টিএএ ব্যাবহার করা হয়েছে।

অ্যাসাসিন্স ক্রিড অরিজিন্স

ACO Benchamark Result Chartঅ্যাসাসিন্স ক্রিড অরিজিন্স নিঃসন্দেহে একটি রিসোর্স হাঙরী গেম। এই দানবীয় হার্ডওয়্যারের ক্ষুধার বাধা উপেক্ষা আলট্রা হাই প্রিসেটে গেমটির বিল্ট ইন বেঞ্ছমারকে এই ল্যাপটপটি গড়ে ৬৫ ফ্রেমস পার সেকেন্ড স্কোর করে, যা আমাকে রীতিমত অবাক করে দিয়েছে।

রিভিউইয়ারের নোট

সময়ের স্বল্পতার কারণে আমাদের পক্ষে জনপ্রিয় কিছু ইস্পোর্টস টাইটেলগুলো বেঞ্চমার্ক করা সম্ভব হয়ে উঠেনি, তবে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে এই ল্যাপটপটি দিয়ে খুব উপভোগ্য গ্রাফিক্স কোয়ালিটি প্রিসেটে সিএস গো, ডোটা ২, অভারওয়াচ, রকেট লীগ, রেইনবো সিক্স সীজ, পাবজির মতো গেমগুলো অনায়াসে বেশ ভালো ফ্রেমরেটে খেলা সম্ভব হবে।

নয়েজ এবং টেম্পারেচার

আমি ল্যাপটপটিকে ব্যালান্সড পাওয়ার প্রোফাইলে ব্যাবহার করেছি, কেননা হাই পারফর্মেন্স মোডে কোন ওয়ার্ক লোড না থাকলেও প্রসেসরটির ক্লক স্পীড অযথা বেশি সেট করা থাকে যা আপনার ব্যাটারি লাইফে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আইডল টেম্পারেচার কিছুটা বেশি থাকবে খুবই নগণ্য কিছু পারফরমেন্স পাবার জন্য যা একদমই কাম্য নয়।

আমাদের করা এই বেঞ্চমার্কগুলোতে এবং রিয়াল লাইফ ওয়ার্কলোডে আমি সিপিইউটির ক্লক স্পীড কখনো ২.৮ গিগাহার্জের নিচে নামতে দেখিনি। ল্যাপটপের প্রসেসর গেমিং এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের লোডে কিছুটা গরম হবেই, এবং এটি স্বাভাবিক। জিপিইউ সর্বোচ্চ ৭৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস পৌঁছাতে দেখেছি বেশ লম্বা গেমিং সেশনের পর।

ফুল লোডে ফ্যানগুলো বেশ স্পষ্টভাবেই শোনা যায়, তবে তা আপনার গেমিঙয়ে বিঘ্ন ঘটানোর মতো জোরালো নয়। আপনি যদি হেডফোন ব্যাবহার করেন তাহলে এটি সম্পূর্ণভাবেই ঢাকা পরে যাবে।

কুলার বুস্ট ফ্যান প্রোফাইলে ফ্যান অত্যন্ত হাই আরপিএমে চলে, যা বেশ জোরালো। তবে ফ্যানের আওয়াজ অনুযায়ী ল্যাপটপটির ফুল লোডের তাপমাত্রার তেমন তারতম্য হয় না, যদিও এটির ব্যাবহারে আইডল টেম্পারেচার বেশ খানিকটা কম থাকে।

ব্যাটারি লাইফ

এবার আসি ব্যাটারি লাইফের প্রসঙ্গে। যেহেতু এটি একটি গেমিং ল্যাপটপ, সেহেতু বেশিরভাগ সময়ই এটি ব্যাবহার হবে চারজিং অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে ওয়াল সকেট থেকে পাওয়া কারেন্টে। ব্যাটারি লাইফ সম্পূর্ণই নির্ভর করবে আপনার ব্যাবহারের উপর। আপনি যদি ব্যাটারিতে আরজিবি লাইটিং সহ গেমিং করতে থাকেন, তাহলে আপনার চার্জ এক দেড় ঘণ্টাও হয় তো থাকবে না, বিশেষত রিসোর্স খেঁকো গেম বা কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে। তবে আপনি যদি একটু মিতব্যয়ী হয়ে আরজিবি লাইটিং বন্ধ রেখে এবং ডিসপ্লে ব্রাইটনেস কমিয়ে ক্যাসুয়াল কাজে ল্যাপটপটি ব্যাবহার করেন তাহলে খুব সহজেই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বার তার চেয়ে বেশি ব্যাটারি লাইফ পাওয়া সম্ভব হবে।

মতামত

এমএসআই জিই৬৩ রেইডার আরজিবি ৮আরএফ ল্যাপটপটির অভারঅল লুক্স, ফিচার,  পারফর্মেন্স, ডাইমেনসন্স  এবং ওজনের বিচারে এটির প্রাইস ট্যাগ কি যথার্থ?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলবো আপনি যদি একজন গেমার কিংবা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন, এবং আপনাকে অনেক ভ্রমণ বা দৌড় ঝাঁপের উপর থাকতে হয়, তাহলে এই ল্যাপটপটি হতে পারে একটি আদর্শ হাতিয়ার। এই ল্যাপটপটির সমালোচনার এক মাত্র যে দিকটি খুঁজে পেলাম সেটি হল মেকানিকাল কীবোর্ডের অনুপস্থিতি, এছাড়া প্রায় সব কিছুই এতে আছে এবং এটির গেমিং এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন পারফর্মেন্স দারুন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ফ্লোরা লিমিটেডকে আমাদেরকে রিভিউ ইউনিটটি সরবরাহ করার জন্য, এবং সেইসাথে অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে এখন থেকে MSI ল্যাপটপের যেকোনো আন্তর্জাতিক মডেল সরাসরি ফ্লোরা লিমিটেডের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রি অর্ডার করতে পারবেন।