যারা ক্যাজুয়াল গেমার রয়েছেন তাদের কাছে Mods বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে থাকে প্রফেশনাল গেমারদের তুলনায়। ক্যাজুয়াল গেমাররা মূলত টাইম পাস করার জন্য বিনোদনমূলক গেমস খূঁজে থাকেন। আর এই মোডস দিয়ে আপনি যেকোনো গেমকে আরো মজাদার করে তুলতে পারেন। মোডস বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। তবে মূলত মোডসকে আমি দুটি ভাবে বিভিন্ন করবো, ১) গ্রাফিক্স মোড, ২) অনান্য মোডস! গ্রাফিক্স মোডগুলোতে আপনি বিভিন্ন গেমের আনঅফিসিয়াল গ্রাফিক্স টুইকস দেখতে পাবেন এবং এগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে থাকে। বিশেষ করে বেশ পুরোনো গেমসগুলোকে বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাফিক্স আপগ্রেড আমরা এই সব থার্ড পার্টি মোডসগুলোর মাধ্যমে করতে পারি। আর অনান্য মোডস হচ্ছে গ্রাফিক্স ক্যাটাগরি ছাড়া বাকি যত মোডস রয়েছে সেগুলো। যেমন নতুন কোনো গেমের নতুন কোনো ফিচার যেটা গেমাররা চাচ্ছে কিন্তু অফিসিয়াল ভাবে আসার কোনো নাম নেই সেটা থার্ড পার্টি মোডসের মাধ্যমে গেমে আনা সম্ভব। যেমন গেমে নতুন মিশন যোগ, নতুন গাড়ি, হোন্ডা, হেলিকপ্টার যোগ, বিল্ডিং যোগ, ম্যাপে কাস্টমাইজেশন, মিশনে কাস্টমাইজেশন, গেমে নতুন ক্যারেক্টার যোগ সহ ইত্যাদি অনেক কিছুই আপনি Mods এর মাধ্যমে করতে পারবেন।

মজার ব্যাপাার হলো গেমিং ইতিহাসে ২০১২ সালের Skyrim গেমের মোডস রয়েছে সবথেকে বেশি। মানে কোনো সিঙ্গেল গেমে সবথেকে বেশি মোডস সংখ্যা রয়েছে এই Elder Scrols V : Skyrim গেমের। তবে আজ স্কাইরিম গেম নিয়ে কথা বলতে আসেনি। আজ কথা বলবো ২০২০ সালের সেরা গেমিং মোডসগুলো নিয়ে। আশা করবো এই মোডসগুলো আপনাকে এই গেমসগুলো খেলার স্বাদকে আরো বাড়িয়ে দেবে। আর আপনাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেলে এই মোডস দিয়ে আরো পোষ্ট ভবিষ্যৎতে নিয়ে আসবো।

Skyrim (2011)

স্কাইরিম গেমটি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। জিটিএ সিরিজে গেমে যদি আপনি বাস্তবতা চান তাহলে স্কাইরিম গেমটি খেলে দেখতে পারেন। তবে ২০১১ সালের এই গেমটির গ্রাফিক্স বর্তমানে এসে আপনার ভালো নাও লাগতে পারে। আর সেখানেই রয়েছে এর বিশাল মোডস কমিউনিটি। উপরের ভিডিওতে গেমটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 4K রেজুলেশনের টেক্সচার, রয়েছে রিমেকৃত গাছ, ঘাস, আবহাওয়া সহ কমপক্ষে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন মোড। আর এই সবকিছু মিলিয়েই এবার আপনি পরবর্তী Elder Scrolls VI গেমের থেকে ভালো গ্রাফিক্স পাবেন এই গেমটিতে। মনে রাখবেন এখানে একাধিক মোড ব্যবহার করে এই ফলাফলে আসা সম্ভব হয়েছে। তাই একটি গেমে একাধিক মোড ইন্সটলের সময় একটু খেয়াল রাখবেন একটির সাথে অন্যটির কোনো সংঘর্ষ যাতে না হয়। আর এই গেমটিকে এই গ্রাফিক্সে 4K রেজুলেশনে চালাতে হলে আপনার চাই শক্তিশালি একটি পিসি!

GTA SA (2004)

জিটিএ স্যান এন্ড্রেস নিয়ে বলার কিছুই নেই। ২০০৪ সালের এই নস্টালজিক গেমটি জিটিএ সিরিজের সেরা স্টোরিলাইনযুক্ত গেম। আর আমার নিজেও সেরা জিটিএ গেম এটি। এই গেমের অনেক মোডস আপনি ইন্টারনেটে পেয়ে যাবেন। কিন্তু গেমটির ২০০৪ সালের গ্রাফিক্স কে ২০১৯ সালের মানিয়ে নিতে এই মোডটি আমার কাছে বেশ পছন্দ হয়েছে। এই মোডটি ইন্সটল দেবার পর গেমটির চেহারাই পাল্টিয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য যে মোডটি ইন্সটল দেবার পর গেমটি আর ২০০৪ সালের পিসি কনফিগারেশনে চালাতে পারবেন না (লুল) । গেমটি আবারো গেম ওভার দিতে চাইলে এই মোডটি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

মোড লিংক। ইউটিউব লিংক।

GTA IV (2008)

জিটিএ ৪ গেমটি দিয়ে জিটিএ সিরিজটি নতুন একটি Era তে প্রবেশ করে । তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই গেমটি অফিসিয়ালভাবে পরবর্তীতে কোনো তেমন মেজর গ্রাফিক্স আপগ্রেড পায় নি। বিশেষ করে আমার কাছে গেমটির গ্রাফিক্স বেশ হলুদ হলুদ ভাব লাগে! আর এই হলুদ ভাব মুছে ফেলা সহ গেমটিতে বর্তমানের গ্রাফিক্স নিতে আপনি এই মোডটি ব্যবহার করতে পারেন। এই মোডটি অরিজিনাল জঘণ্য Motion Blur কেও “সাইজ” করে নিয়েছে। এটা মূলত iCEnhancer, নতুন টেক্সচার আর ENB সেটিংস নিয়ে তৈরি।

Fallout 4 (2015)

আপনারা হয়তো ভাবছেন ২০১৫ সালের সম্প্রতি এই গেমের আবার কি রকম মোডের প্রয়োজন হবে? Fallout 4 গেমটি ম্যাক্স গ্রাফিক্সে খেললেও আপনার মনে হবে কেমন জানি Washed Out ভাব। আর সেটাই এই মোডটি এডজাস্ট করে নিয়েছে। আর তাতেই রেজাল্ট দেখুন! গেমটি এখন আপনার কাছে বেশ জীবন্ত মনে হবে। ব্যাক্তিগত ভাবে এই মোডটি নিয়ে আমি কিছুই বলবো না কারণ Fallout 4 গেমটি বেশ লো সেটিংসয়ে আমি গেমওভার দিয়েছে! মোড লিংক।

Minecraft

পাবজি, ফোর্টনাইটের পাশাপাশি গেমিং দুনিয়ায় প্রায় ১০ বছর ধরে যে গেমটি মাতিয়ে আসছে সেটা হচ্ছে মাইনক্রাফট। ইউটিউবের সবথেকে বড় চ্যানেল পিউডিফাই এখন নিয়মিত মাইনক্রাফট খেলেন। কিন্তু গেমটির মজা গেমপ্লেতে, এর গ্রাফিক্সে নয়। অনেকেই রয়েছে গেমটির পিক্সেল গ্রাফিক্স দেখে গেমটি এখনো টাচও করেননি। কিন্তু অফিসিয়াল ভাবে এনভিডিয়া তাদের RTX প্রযুক্তিকে Minecraft এ আনতে যাচ্ছে, সেটা গতমাসে এনাউন্সও করা হয়। কিন্তু কবে নাগাদ আসবে সেটার ঠিক নেই । কিন্তু এক বছর আগেই ২০১৮ সালে একজন মোডার গেমটির লাইটিং নিয়ে খানিকটা মোডিং করেই গেমটিতে RTX ইফেক্ট নিয়ে আসতে পেরেছেন! এখন গেমটিকে আরো চমৎকার মনে হবে আপনার। মোড লিংক। ইউটিউব লিংক।

Resident Evil 4 (2004)

রেসিডেন্ট ইভিল সিরিজের একটি মাস্টারপিস গেম হচ্ছে রেসিডেন্ট ইভিল ৪। গেমটির একটি অফিসিয়াল HD রিমাস্টার ভার্সন চলে এসেছে। কিন্তু থার্ড পার্টি এই মোডটি গেমটিতে আসলেই একটি আলাদা ভাব নিয়ে আসে। যারা গেমটি এখনো খেলেননি তাদের কে বলবো গেমটি অবশ্যই খেলতে আর এই মোডটিও অবশ্যই ট্রাই করতে । এক প্রকারের নস্টালজিক কিন্তু HD ভাব চলে আসবে গেমটিতে। মোড লিংক।

Resident Evil 2 (2019)

আচ্ছা! ২০১৯ সালের গেমে আবার কি ধরণের গ্রাফিক্স মোডের দরকার পড়ে? তাও আবার একটি Remastered গেমে! রেসিডেন্ট ইভিল ২ গেমটি অবশ্যই এ বছরের সেরা গ্রাফিক্সযুক্ত একটি গেম। কিন্তু Re Immersion ReShade 2.0 মোডটির মাধ্যমে গেমে আপনি অরিজিনাল ইফেক্টকে হাইলাইট, Depth of Field ক্ষেত্রে আপগ্রেড এবং সত্যিকারের HDR ইফেক্ট পাবেন! মোড লিংক। 

GTA 5 (2013)

জিটিএ গেমসগুলো পিসিতে আসার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন কারণ পিসিতে জিটিএ গেমসগুলোর অনেক গ্রাফিক্স মোড চলে আসে যেগুলো আসলেই চোখ ধাঁধানো! জিটিএ ৫ গেমটি ২০১৩ সালে আসার পর এখনো অনেকের কাছেই এই গেমটি এখনো তুমুল জনপ্রিয়। আর গেমটিকে আরো চোখ ধাঁধানো করতে এই গেমে মোডের মাধ্যমে আনা হয়েছে Ray Tracing প্রযুক্তিকে। ইউটিউব লিংক।

DOOM II (1994)

আমার জীবনে খেলা প্রথম গেম এটি! সেই ১৯৯৪ সালে রিলিজ পাওয়া এই গেমটি দিয়ে FPS গেমের নতুন একটি যুগ শুরু হয়। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এটি একটি 2.5D গেম যেটা অনেকের কাছেই 3D মনে হয় এর বুদ্ধিমান কারিগরির কারণে। আর এখন DOOM II গেমটির বেশ কিছু থার্ড পার্টি রিমেক ও গ্রাফিক্স মোড চলে এসেছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে এটাকে বেশ জোস লাগে আমার। DOOM (2016) গেমটিকে তারা DOOM II এর সাথে মিক্স করে নিয়েছে! আর তাই এখন DOOM II গেমটিকে আপনি 60FPS স্পিডে খেলতে পারবেন! মোড লিংক। 

 

Avatar
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.