বর্তমানে সারা বিশ্বে যে পরিস্থিতি চলছে সে অনুযায়ী বাসায় লক ডাউনের অবস্থাটুকুকে ভালো মতো সময় কাটিয়ে নিতে আমাদের অনেকেই ভিডিও গেমস খেলে থাকি। বর্তমানে সাধারণ ইউজাররা পিসির থেকে মোবাইলে বেশি গেমস খেলে থাকে। কিন্তু পিসি গেমসগুলোর খেলার মজা আপনি মোবাইলে পাবেন না এবং একই সাথে পিসি গেমস টাইটেলগুলো খুবই কম মোবাইলের জন্য রিলিজ করা হয়। পিসি গেমসগুলো আমাদের অনেকেই খেলতে পারেন না হাই কনফিগারেশনের সিস্টেম না থাকার কারণে। আর এমনিতেও আমাদের অনেকেরই গেমিং ডেক্সটপ কিংবা ল্যাপটপ নেই। অধিকাংশ “নরমাল” পিসি / ল্যাপটপে Intel HD সিরিজের ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স দেওয়া থাকে। আর এই গ্রাফিক্স সিস্টেম টি ভিডিও গেমস খেলার জন্য বানানো হয়নি। কিন্তু লকডাউনের এই সময়ে পিসিতে ভিডিও গেমস খেলতে চাচ্ছেন কিন্তু Intel HD সিরিজের গ্রাফিক্স আর লো-স্পেক কম্পিউটারের জন্য গেমস কস্ট করে ইন্সটল দিবেন কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত? তাহলে আজকের পোষ্ট আপনারই জন্য। গত দুই পর্বের মতো এবারেও থাকছে ইন্টেল এইচডি ইন্টিগ্রেটেড এবং ৪ গিগাবাইট র‌্যাম কনফিগারেশনের জন্য কিছু মর্ডান গেমস যা কাস্টম সেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার পিসিতে মোটামুটি ভালোভাবেই খেলতে পারবেন!

যারা সিরিজের আগের দুটি পর্ব দেখেনি তারা সেগুলো থেকে একটু চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন:

১ম পর্ব।
২য় পর্ব।

নিচের সবগুলো গেমস কেই আমার ব্লগিং ল্যাপটপে টেস্ট করা হয়েছে (যে ল্যাপটপটি দিয়ে এই পোষ্টটি লেখা হচ্ছে)। আমার ল্যাপটপটির স্পেসিফিকেশন হচ্ছে :
Intel Core i3 5005u প্রসেসর। (৫ম প্রজন্ম)
4 গিগাবাইট DDR3 র‌্যাম।
Intel HD 5500 গ্রাফিক্স।

উল্লেখ্য যে ৫ম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৩ হচ্ছে একটি কোয়াড কোর প্রসেসর। তার উপরে এটা হচ্ছে ল্যাপটপ। অর্থাৎ আপনার একই কনফিগারেশনের ডেক্সটপ থাকলে সেখানে আমার এই ল্যাপটপের চাইলে বেটার পারফরমেন্স পাবেন; কারণ ল্যাপটপগুলোতে পারফরমেন্স অনেক আন্ডারক্লক করা থাকে। তবে আর যাই বলেন না কেন, ৪ গিগাবাইটের নিচের র‌্যামে গেমস খেলতে যাবেন না এবং একই সাথে ইন্টিগ্রেটেড জিপিইউযুক্ত ল্যাপটপেও হেভি প্রেসার গেমস চালাতে যাবেন না, এতে ল্যাপটপের উপর অনেক চাপ পড়বে! আমার ল্যাপটপটির বয়স ৬ বছরের কাছাকাছি তাই এর উপর আমার তেমন চিন্তা নেই।

Dragon Ball Z: Kakarot (2020)

ড্রাগন বল সিরিজের লেটেস্ট গেম এটি। Dragon Ball Z: Kakarot হচ্ছে একটি সেমি ওপেন ওয়ার্ল্ড রোল-প্লেয়িং ভিডিও গেম যেটা ড্রাগন বল ফ্রাঞ্চাইজের উপর ভিক্তি করে বানানো হয়েছে। গেমটি এ বছরের ১৬ জানুয়ারি (২০২০) রিলিজ পায়। আর এই কনফিগারেশনে আপনি এই একটি গেমই রয়েছে যেটা ২০২০ সালের লেটেস্ট আর আপনি একে লোয়েস্ট সেটিংসয়ে 30FPS+ পেতে পারেন। ড্রাগন বল সিরিজের গেমস যারা খেলতে পছন্দ করেন তাদের কাছে গেমটি ভালোই লাগবে। ভিডিওতে রেজুলেশন দেওয়া রয়েছে 800×600. রেজুলেশন বাড়ালে FPS কমে যাবে। রেকডিংয়ের জন্য FPS একটু কম দেখাচ্ছে।

Halo: The Master Chief Collection (2014-2020)

মাইক্রোসফটের লেজেন্ডারি FPS সাই-ফাই ভিডিও গেমস সিরিজ Halo এর ফ্যান রয়েছেন অনেকেই! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে Halo 2 এর পর সিরিজের কোনো গেমই পিসিতে রিলিজ দেয়ই মাইক্রোসফট । কিন্তু ২০১৪ সালে Halo: The Master Chief Collection নামে একটি প্যাক বের করা হয় যেটায় Halo: Combat Evolved Anniversary, Halo 2: Anniversary, Halo 3, Halo 3: ODST, Halo: Reach এবং Halo 4 সবগুলোই গেমস রয়েছে। আর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্যাকটিকে পিসির জন্য রিলিজ দেওয়া হয়। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পটোটো ল্যাপটপ কনফিগারেশনেও আপনি লোয়েস্ট সেটিংস দিয়ে এই গেম প্যাকটিকে ভালোমতোই খেলতে পারবেন!

Prey (2017)

গেমটি একটু পুরোনো, ২০১৭ সালের। কিন্তু যারা যারা এখনো গেমটি খেলনি কিংবা পটোটো পিসির জন্য ইন্সটল দেবেন কিনা ভাবছেন তারা নিশ্চিন্তে গেমটিতে ঝাপিয়ে পড়তে পারেন। 1280×720 রেজুলেশন দিয়ে রেকর্ডিং সহ এই কনফিগারেশনে FPS পাওয়া যাচ্ছিলো 15 থেকে 17 এর মধ্যে। আর রেকর্ডিং ছাড়া FPS 3/4+ বেশি পাওয়া যাচ্ছিলো। সিঙ্গেল প্লেয়ার গেম বিধায় এই FPS য়ে গেম ওভার দেওয়া সম্ভব! Prey হচ্ছে একটি ফার্স্ট পারসন শুট্যার ভিডিও গেম যেখানে আপনাকে পৃথিবী-চাঁদের মাঝামাঝির একটি স্পেস স্টেশনকে এক্সপ্লোর করতে হবে।

Resident Evil 2 (2019)

২০১৯ সালের Resident Evil 2 গেমটির মাধ্যমে সিরিজকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন প্রজন্মের উপযুক্ত করে রিবুট করা হয়। আর তারই ধারবাহিকতায় এ বছরেই কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে Resident Evil 3 এর রিবুট। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে সে গেমটি এই কনফিগারেশনে চালানো সম্ভব নয়। তবে Resident Evil 2 কে আপনি লোয়েস্ট সেটিংস দিয়ে ২২/২৫ FPS পেতে পারেন। রেকডিংয়ের জন্য উপরের ভিডিওতে FPS কমে গিয়েছে, রেকডিং ছাড়া আরো ১০+ FPS পাওয়া যাবে।

Watch Dogs 2 (2016)

কিছুদিন আগেই Epic Games স্টোর Watch Dogs গেমটিকে কিছুদিনের জন্য ফ্রি করে দেয়। আর সেটা নিয়ে পিসিবি সাইটে আমি পোষ্টও করেছিলাম। সেখানে অনেকেই গেমটি তাদের পটোটো পিসিতে খেলতে পারবেন না বলে আফসোস জানিয়েছেন। কিন্তু দেখুন ইন্টেল এইচডি ৫৫০০ আর ৪ জিবি র‌্যাম দিয়েই সিরিজের লেটেস্ট Watch Dogs 2 গেমটিকেও “খেলা” যাচ্ছে, তবে লোডিং টাইম একটু বেশি লাগে আরকি! তবে ল্যাপটপের মায়া থাকলে গেমটি ইন্সটল না দেওয়ার জন্যই আমি সাজেস্ট করবো। তবে ডেক্সটপ হলে দিতে পারেন। আবার এই কনফিগারেশনে ১ জিবির এক্সটারনাল যেকোনো পুরোনো আমলের গ্রাফিক্স কার্ড থাকলেও আপনি পারফরমেন্সে বেশ বুস্ট দেখতে পাবেন।

Tom Clancy’s Ghost Recon Wildlands (2017)

এই কনফিগারেশনে SSD ছাড়া এই গেমটি না চালানোর জন্যই আমি সাজেস্ট করবো। কারণ SSD ছাড়া রেকর্ডিং ব্যাতিত গেমটিতে 800×600 রেজুলেশনে সবোর্চ্চ ৭/৯ FPS পাওয়া যাচ্ছিলো যা খেলার অযোগ্য। SSD সহ এই কনফিগারেশনে উপরের ভিডিওর মতো স্পিড পাবেন, উল্লেখ্য যে রেকর্ডিংয়ের জন্য ভিডিওতে FPS কম দেখাচ্ছে, রেকর্ডিং ছাড়া ৫ থেকে ৭ FPS বাড়বে। আর গেমটি চালু করার পর লোডিং টাইম প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট!

Fallout 4 (2015)

এই কনফিগারেশনে গেমটিকে লোয়েস্ট সেটিংস দিয়ে লোয়েস্ট রেজুলেশনে কোনো রকমে খেলা যাবে। 15 থেকে 20 আর Indoor লোকেশনে আরেকটু বেশি FPS পেতে পারেন। তবে ওপেন ওয়ার্ল্ড লোকেশনে গেলেই FPS ড্রপ খাবে প্রচুর। তাই এই কনফিগারেশনে এই গেমটি ইন্সটল না দেওয়াই উত্তম। তবে এক্সটারনাল GPU থাকলে চালিয়ে দেখতে পারেন। কারণ 4 জিবি র‌্যামের জন্য এই গেম নয়।

Assassin’s Creed Odyssey (2018)

এই কনফিগারেশনে এই গেম “চালু হলেও” খেলার মতো স্পিড পাবেন না। কারণ র‌্যাম খুবই কম, এক্সটারনাল GPU থাকলেও আমার মনে হয় না 4 জিবি র‌্যামের কনফিগারেশনে এই গেম থেকে ভালো রেজাল্ট পাবেন। তবুও আমার ল্যাপটপে গেমটি চালিয়ে দেখাচ্ছি। রেকর্ডিং ছাড়া FPS আরো ৫/৬ বাড়বে।

HITMAN 2 (2018)

অনান্য গেমের মতোই জনপ্রিয় Hitman সিরিজের রিবুট এসেছে। আর ২০১৬ সালের রিবুটের সিকুয়্যাল ২০১৮ সালের Hitman 2 গেমটিকে আপনি এই কনফিগারেশনে চালাতে পারলেও খেলার মতো স্পিড পাবেন না। তবে এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ড থাকলে ক্ষেত্রবিশেষে স্পিড বাড়বে। এই গেম 4GB তে র‌্যামের জন্য প্রচুর প্রেশার দিবে। কারন 1280×720 এর নিচে রেজুলেশন নামানোর সিস্টেম নেই গেমটিতে।

Mass Effect: Andromeda (2017)

*ল্যাপটপের মায়া থাকলে এই কনফিগারেশনে এই গেম ভুলেও ইন্সটল দিতে যাবেন না!*

জনপ্রিয় Mass Effect গেমস সিরিজের লেস্টেট গেমটি এই কনফিগারেশনে চালানো গেলেও দেখতে পাচ্ছেন যে FPS প্রচুর ড্রপ করছে। তবে সিরিজের আগের সবগুলো গেমসই আপনি ভালোমতো এই কনফিগারেশনে চালাতে পারবেন বিশেষ করে Mass Effect 3 গেমটি এই কনফিগারেশনে লো গ্রাফিক্সে দৌড়াবে! (30 থেকে 50 FPS পাবেন)। Mass Effect: Andromeda গেমটি এই কনফিগারেশনে চালানো যাবে কিন্তু খেলা যাবে না। গেম চালু করার পর নুন্যতম ৬ থেকে ৮ মিনিট বসে থাকতে হবে গেমটি লোড নেবার জন্য!

পরিশিষ্ট:

লক্ষ্য করলে দেখবেন যে উপরের সবগুলো গেমসই কিন্তু সিঙ্গেল প্লেয়ার। কারণ অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমসগুলো এরকম কম FPS দিয়ে খেলা যায় না। কিন্তু সিঙ্গেল প্লেয়ার গেমসগুলো কম FPS দিয়েও গেম ওভার করে ফেলা যায় যদি গেমটির উপর আপনার প্রচুর আগ্রহ থেকে থাকে। তবে এই কনফিগারেশনে আপনার জন্য মাল্টিপ্লেয়ার হিসেবে আমি PUBG Lite, Dota 2, Black Squad, Warface এগুলোকে সাজেস্ট করতে পারি। সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং গেমস খেলুন!

Avatar
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.