AMD এবং তার ইতিহাস- AMD এর রাইজিং এবং Intel এর সাথে যুদ্ধ

২০১৭ সাল মনে হয় গেমার এবং পিসি এন্থুসিয়াস্ট কমিউনিটিতে সবচেয়ে বেশি তোলপাড় তুলেছিল AMD Ryzen লাইন আপের নিউ প্রোসেসরগুলো।
রিলিজের দিন প্রাইস আর পার্ফামেন্স দেখে নিউট্রাল জাতি যেমন হয়েছিল মুগ্ধ আবার ইন্টেল ফ্যানবয়েজেরা একটু আড়ালেই ছিল।
অনেক মার্কেটিং পলিটিক্স চলে এবং চলছে এই দুয়ের মদ্ধ্যে।  🙂

যাইহোক, আজকে মুলত দুই রাইভাল কোম্পানি (Intel vs AMD) এর ইতিহাস,তাদের এভুলুশন আর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বলবো 🙂
তাই আরাম করে বসুন কারন পোস্টটা বড় হবে 🙂

আচ্ছা তো শুরুতে ইতিহাস পড়ে একটু বোর হই। এর পরে ইন্টারেস্টিং ব্যাপারগুলায় যাব। একি সাথে ইন্টেল আর এমডি এর ইতিহাস বলা হবে 🙂

১৯৬৮ সালে ইন্টেল কর্পোরেশন স্থাপিত হয় যার প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট নোয়েস আর গর্ডন মোর। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬৯ সালের পহেলা মে Advanced Micro Devices মানে সংক্ষেপে AMD স্থাপিত হয় যার প্রতিষ্ঠাতা জেরি স্যান্ডারস।

এরই ৩ বছর পরে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৫ই নভেম্বর ইন্টেলতাদের প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর রিলিজ করে। এর নামকরন হয় ৪০০৪। তখনকার আমলে এর দাম ছিল ২০০ ডলার। তাই বুঝাই যাচ্ছে তখনকার আমলে এটি সাধ্যের বাইরে ছিল একরকম।

পরের বছরের এপ্রিলে ইন্টেল ৮০০৮ প্রসেসর রিলিজ করে। এর পর ১৯৭৬ এ ইন্টেল ১৬ বিটের প্রসেসর রিলিজ করে যার মডেল হল ৮০৮৬।
১৯৭৯ এ আশে ৮০৮৮ প্রসেসর।
এর পরের দশকেও ইন্টেলের প্রসেসরে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে থাকে আর কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রি আরো আধুনিক হতে থাকে।
১৯৮২ এর দিকে ইন্টেল,এমডি এর সাথে চুক্তিপত্র সই করে যার মাধ্যমে দুই কোম্পানির মধ্যে প্রযুক্তির বিনিময় হয় এবং এতে যাতে এমডি দ্বিতীয় সরবরাহকারী হয়। এতে দুই কোম্পানি তাদের চিপ টেকনলজি শেয়ার করবে। এতে করে এমডি এর সুযোগ হয় ইন্টেলের সেকেন্ড জেনারেশনের ২৮৬ চিপের বিস্তারিত জানার।
কিন্তু ইন্টেল এইখানেই গুটিবাজি করলো। তারা গোপনীয়তার সাথে থার্ড জেনারেশনের (৮০)৩৮৬ এর গবেষণা চালাতে থাকে। ইন্টেল প্রথমেই ৩৮৬ মাইক্রোপ্রসেসর রিলিজ করে ফেলে আর এমডি একরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারন ইন্টেল তার চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
এমডি মামলা করে এবং রায় হিসেবে ১০মিলিয়ন ডলার আর এর সাথে এমডি ৩৮৬ এর পেটেন্ট ইউজ করতে পারে। আর সে মোতাবেক AM386 ইন্টেলের ক্লোন মাইক্রোপ্রসেসর হিসেবে বের হয় যাতে সামান্য মডিফিকেশন থাকে।
কিন্তু যেহেতু চুক্তি শেষ এমডি ইন্টেলের ৪৮৬ এর কোন রকম স্বত্বাধিকার পায় না। তাই তারা নিজেরাই প্রসেসর বানানোর সিধান্ত নেয়।

এবার একটু টেনে ১৯৯৬ এ আসি, ইন্টেল পেন্টিয়াম প্রসেসরের সাথে পাল্লা দেয়ার জন্য এমডি রিলিজ করে এমডি k5 ইন্টেলের রিলিজের দুই মাস পরেই তারা তাদের প্রসেসর বাজারজাত করে। যেখানে পেন্টিয়ামের ছিল ১৫০ মেগাহার্জ সাথে ৬০ মেগাহার্জ বাস স্পিড। অপরদিকে k5 এর ছিল ৭৫ থেকে ১৩৩ মেগাহার্জ স্পিডের সাথে ৫০,৬০ আর ৬৬ মেগাহার্জ বাস স্পিডের।
বলতে গেলে এমডি এর অফিশিয়াল প্রথম প্রসেসর কিন্তু k5 কারন আগের গুলো ইন্টেলের আদলে বা ইন্টেলের সাথে বানানো হয়েছিল।

এর পরের বছর এমডি k6 আনে আর ইন্টেল আনে পেন্টিয়াম ২। এভাবেই চলতে থাকে দুই রাইভাল কোম্পানির দৌড়। k6-2 দিয়ে এমডি মার্কেটের ৭০% বিক্রয় পায়।
এবার একটু টেনে ২০০০ সালের দিকে আসি। এ বছর জানুয়ারিতে ইন্টেল সেলেরন ৫৩৩ মেগাহার্জের প্রসেসর বের করে আর একই বছর জুনে এমডি ডুয়োরন প্রসেসর বের করে যা কিনা ৬০০ মেগাহার্জ থেকে ১.৮ গিগাহার্জ প্রসেসর বের করে। বুঝতেই পারছেন এমডি কিন্তু কোন অংশে কম ছিল না প্রতিযোগীতায়।
আর মজার ব্যাপার হল এমডিই প্রথম যাদের সিপিউ প্রথম ১ গিগাহার্জের উপরে ছুয়েছে। এমডির জন্য তখন ছিল স্বর্ণযুগ। তবে একই বছরে অগাস্টে ইন্টেল ১.৩ গিগাহার্জের সিপিউ আনতে সক্ষম হয়। ইন্টেল আসলেই নাছোড়বান্দা। 😛 যাইহোক এর পরে এমডি এন্থেলন এক্সপি যেটা কিনা উইন্ডোজ এক্সপি এর নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়েছিল যদিও এইটা ছিল একধরনের মার্কেটিং ট্রিক। যাতে ক্রেতারা মনে করে উইন্ডোজ এক্সপি এর জন্য এমডির প্রসেসর বেশি ভাল হবে।
তবে তখন আসলেই কিন্তু এমডি এর সিপিউ যথেস্ট পরিচিত ছিল।

২০০৫ এ আসা যাক যদিও এর মধ্যে অনেক সিপিউস রিলিজ হয়েছিল আর দুই কোম্পানির মধ্যে লড়াইটা ছিল হাড্ডাহাড্ডি।


এমডি এই বছরে প্রথম ডুয়াল কোর সিপিউ বের করে যার নাম Athlon 64 x2। এছাড়া ৬৪ বিট সিপিউ এর প্রযুক্তিটিও ছিল এমডি এর। এখনো আমরা অনেক ৬৪ বিট সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারে AMD64 দেখি যা এমডি এর ৬৪ বিট প্রসেসর আর্কিটেকচারের নির্দেশনা দেয়।

এর ২ বছর পরে ইন্টেল কোয়াড কোর সিপিউ বের করে। আর এর পর থেকেই কোর বৃদ্ধির আর আরো পাওয়ারফুল সিপিউ বানানোর প্রোতিযোগিতা শুরু হয়।
ইন্টেলের কোর২ডুয়ো,কোর২কোয়াড সিপিউ বের করতে থাকে আর এমডি Phenom X4 আর X3 লাইনাপের সিপিউ বের করে।

২০০৮ এর দিকে ইন্টেল অনেক সিপিউ বের করতে থাকে এমডি এর গতিটা একটু ধীর হয়ে যায়। এর মধ্যে ইন্টেল Core i7(i7-920) প্রসেসর আনে। এর পর থেকেই মার্কেটে একরকম পরিবর্তন আসে যেখানে ইন্টেল রাজত্ব করা শুরু করে।

একটু বাইরের দিকে আসি এর মধ্যে ২০০৬ সালের দিকে এমডি ATI কে কিনে নেয় ৫.৬বিলিয়ন ডলারে। গ্রাফিক্স ইউনিটের দিকে নজর দিতে শুরু করে ATI এর মাধ্যমে।
এমডি আর এনভিডিয়া রাইভালের ব্যাপারটা নাহয় পরেই বললাম কিন্তু এমডি তখন চেয়েছিল সিপিউ আর জিপিউ এর একত্রে হাইব্রিড সিপিউ বানাবে যার নামকরন হবে “Fusion APU” । তো বুঝতেই পারতেছেন APU প্রসেসরগুলোর আইডিয়া কোথা থেকে আর কবে থেকে ছিল এমডি এর মাথায়। যদিও এই প্রসেসরগুলো বড়সড় পরিবর্তন দেখাতে পারে নি।

তবে এই APU চিপসেটগুলো ডেস্কটপের জন্য আসার আগে xbox360,Nintendo wii তে ব্যবহার করা হয়েছিল। এইসব বলতে গেলে ইতিহাসের বই হয়ে যাবে কারন এমডি এর সাথে প্রায় সব বড় বড় টেক কোম্পানি চুক্তি করে। এপল,সনি তাদের মধ্যে অন্যতম।

মেইন ইতিহাসে আসি আবার। ২০০৮ এর পরের দিকে এমডি স্তমিত হয়ে যায় অনেকটা কারন তাদের চেস্টাগুলো একরকম বিফলে যায়। ইন্টেলের সিপিউগুলো রাজত্ব করা শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক আর ব্যাক্তিগত দুই দিকেই।
২০১০ এ ইন্টেলের i5-430m(mobile processor) এবং i5-650(desktop processor) আসে। একই বছরে i3-330M এবং i3-350M বের করে। এবং ডেস্কটপের জন্য i3-530 সিপিউ আসে।

এসব লাইনাপের সিপিউকে টেক্কা দেয়ার জন্য এমডি A6,A8 এবং A4 লাইন আপের কিছু মোবাইল প্রসেসর সহ ডেস্কটপ প্রসেসর রিলিজ করে।
ডেস্কটপ প্রসেসর গুলোর মধ্যে হল, A6-3650,A8-3850,A4-3300,A4-3400
২০১২ সালে আসে A10 লাইনআপ যেখানে থাকে A10-5700,A10-5800K
এইসবই কিন্তু APU সিরিজের লাইনআপ।

২০১১ এর দিকে এমডি তাদের বুলডজার আর্কিটেকচারের AMD FX সিরিজ রিলিজ করে যা হোম ইউজার আর গেমারদের মধ্যে মোটামুটি সাড়া ফেললেও ইন্টেলের কথাই সবার মুখে মুখে ছিল।
অন্যদিকে ইন্টেল তার আই সিরিজের জেনারেশন আপডেট করতে থাকে আর এমডি সিপিউ মার্কেটে আশাহত হতে থাকে।

এর মদ্ধ্যে AMD এর অনেক এক্সপেরিমেন্ট এবং অনেক লাইন আপের প্রসেসর ডিসকন্টিনিউড অবস্থায় চলে যায়।

[চলবে………]

ভাল লেগে থাকলে জানান। এখনো এর ২য় পর্ব নিয়ে লেখা হয়নি যদি ভাল সাড়া পাই তাহলে ২০১১ এর পরে কি হল AMD এর তা নিয়ে লেখতে বসবো।
ভুল ইনফো থাকতে পারে। যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল।

ধন্যবাদ।