HUAWEI P9 Review in Bangla

স্মার্টফোন এর ক্যামেরা কত ভাল হতে পারে তার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল হুয়াওয়ে পি৯। গত কয়েক মাস যাবত অ্যাপলের দুই লেন্সের ক্যামেরা ফোন নিয়ে যে গুজবগুল চলছিল সেটাকে বাস্তবে রুপ দিল হুয়াওয়ে, তাদের পি৯ হ্যানডসেটে। বাজারে এটিই প্রথম এবং আপাতত একমাত্র ডুয়াল ক্যামেরা স্মার্টফোন।

ডিজাইন

পি৯ এর বডিটিকে দেয়া হয়েছে মেটাল ফিনিশ এবং যথেস্ট প্রিমিয়াম কোয়ালিটি মেটাল ব্যাবহার করা হয়েছে। ফোনের কর্নার গুলো কিছুটা রাউন্ড শেপড হওয়াতে হ্যান্ডলিং বেশ কমফোর্টেবল। রাউন্ড কর্নার গুলোর জন্য এর থিকনেস ৬.৯৫ এমএম এর থেকেও স্লিম মনে হয়। অভারল বিল্ড কোয়ালিটি সলিড। ডানদিকে পাওয়ার বাটনের উপরে দেয়া আছে ভলিউম রকার, বাম দিকে দেয়া আছে সিম ট্রে, এর সাথেই এসডি কার্ড স্লট। নিচের দিকে প্রথমেই দেখা যাবে ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক, এরপরেই ইউএসবি টাইপ সি এবং সব শেষে স্পিকার। এই প্রথম কোন একটি স্মার্টফোনে ইমপ্লিমেন্ট করা হল ১০ জিবিপিএস ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে ফাস্ট চার্জিং এবং সুপার ফাস্ট ডাটা ট্রান্সফার।

পিছনের সাইডে প্রথমেই রয়েছে ক্যামেরা দুটি এবং ফ্ল্যাশ,  একটু নিচেই লেভেল ৪ ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, হুয়াওয়ে ক্লেইম করছে লেভেল ৩ স্ক্যানার থেকেও ্যা অনেক বেশি আপগ্রেডেড। আমরা নিজেরাও এটাকে পরীক্ষা করে দেখেছি একদমই ফ্ললেস, খুবই ফাস্ট। হুয়াওয়ে আরেকটা নতুন জিনিস ইমপ্লিমেন্ট করেছে এই স্ক্যানারের মধ্যে, যা স্মার্টফোন বাজারে এবারই প্রথম, স্ক্যানারের মধ্যে কিছু বেসিক কমান্ড দিয়ে দেয়া হয়েছে যেশ্চার কনট্রোল করার জন্য। স্ক্যানারটি ব্যাবহার করা যাবে অয়েক আপ বাটন হিসেবে। এছাড়া এটা দিয়ে ছবি গুলোকে স্ক্রল করা যাবে স্ক্যানারের উপর সোয়াপিং করে। যদিও খুব মাইনর আপডেট, কিন্তু এক হাত দিয়ে ইউজ করার জন্য এটা অত্যন্ত ইউজফুল একটি ফিচার। এমনকি স্ক্যনারে প্রেস করে ছবিও তোলা যাবে।

স্ক্রিন

পি৯ এর স্কিনটি হচ্ছে ৫.২ ইঞ্চ ফুল এইচডি ডিসপ্লে, ডিসপ্লেটি ৪২৩ পিপিয়াই হয়াতেদিচ্ছে যথেষ্ট শার্পনেস , ব্ল্যাক লেবেল যথেষ্ট ডিপ কালার অত্যন্ত ভিভিড এবং স্যাচুরেটেড। ব্রাটনেস আরেকটি যায়গা যেটা অত্যন্ত ইম্প্রেসিভ।

পি৯ এর স্ক্রিনে যেকন ভিডিও বেশ গর্জিয়াস, এক্সলেন্ট ব্ল্যাক ডেপথ এর কারনে ডার্ক সিন গুলো বেশ প্রানবন্ত। এছাড়াও পিকচার এবং গেমিং এর সময়েও দৃশ্য গুলো বেশ এঞ্জ্য়াবল। আইকন এবং টেক্সট গুলো যথেষ্ট শার্প।

স্পেক

হুয়াওয়ে পি৯ যথেষ্ট শক্তিশালি একটি স্মার্টফোন। এতে দেয়া হয়েছে অক্টাকোর এআরএম কর্টেক্স এ৭২ প্রসেসর, যার মধ্যে থ্রি ওয়ে এল ওয়ান ইন্সট্রাকশন এবং টু ওয়ে এল ওয়ান ডেটা ক্যাশ দেয়া আছে। যথেষ্ট লো পাওয়ার কঞ্জিউম করে এই সিপিউটি আবার এল টু ক্যাশে দেয়া হয়েছে হাইয়ার ব্যান্ড উইথ আর এর সবই নিশ্চিত করছে হাইয়ার পার্ফরমেন্সকে। আন্টুটু বেঞ্চমার্ক এ স্কোর পেয়েছি ৯৬০৬৭। আবার হাইএন্ড গেমিং এবং মাল্টি টাস্কিং কে নিশ্চিত করার জন্য দেয়া আছে ৩ জিবি র‍্যাম। ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে দেয়া আছে ২৫ জিবি, এবং মাইক্রো এসডি স্লট সাপর্ট করবে ১২৮ জিবি পর্যন্ত।

ইন্টারফেস

পি৯ এ চলছে হেভিলি মডিফাইড এন্ডরইয়েড ৬.০ মার্শমেল ওএস, হুয়াওয়ের ভাষায় ইমোশন ইউয়াই ৪.১। ই এম ইউ আই ৪.১ এ হোম স্ক্রিনে আপ মেনুটাকে বাদ দিয়ে সব অ্যাপ গুলো সরাসরি দিয়ে দেয়া হয়েছে, যা একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি মুভ । হুয়াওয়ের আগের ইন্টারফেসগুলর থেকেও যথেষ্ট ইউজার ফ্রেন্ডলি। অ্যাপ হুয়াওয়ে এতে দিয়েছে অনেক প্রকারের ইউজফুল মোশন কন্ট্রল, যেগুল মার্শমেলোর ইউজুয়াল ফিচারের পাশাপাশি যথেষ্ট হেল্প করবে ইউজারদেরকে আশা করি। উল্লেখযোগ্য মোশন কনট্রল গুলর মধ্যে একটা হচ্ছে স্মার্ট ক্স্রিনশট, যেটাকে এনাবল করে দুবার নক করলে স্ক্রিনশট তুলবে। এছাড়া দেয়া আছে ড্র ফিচার,  বেসিকালি ড্র ফিচার হচ্ছে, ফ্রিকুয়েন্টলি ব্যাবহার করা অ্যাপ গুলো সাথে এসাইন করা আছে লেটার, যেগুলকে স্ক্রিনে লিখলে আপনি সরাসরি অ্যাপ গুলোর মধ্যে ঢুকে যেতে পারবেন, যেটা কাজ করবে একটা শর্টকাট হিসেবে। কিছুটা সময় হয়ত লাগবে ইউজডটু হতে, বাট বেশ হ্যান্ডি একটি ফিচার। এছাড়া ই এম ইউ আই ৪.১  ইন্টারফেসটি যথেষ্ট স্মুথএবং হুয়াওয়ে একে বেশ ভালভাবে অপ্টিমাইজ করেছে পি৯ এর সাথে।

ক্যামেরা

এরপরে আসি হুয়াওয়ের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ফিচার যেটা হচ্ছে ফেমাস জার্মান কোম্পানি লাইকা তৈরি ডুয়েল লেন্স ক্যামেরা।

দুটি ক্যামেরাই ১২ মেগাপিক্সেল একটি হচ্ছে আরজিবি সেন্সর কালার ইমেজের জন্য এবং আরেকটি সেন্সর হচ্ছে মনোক্রোম অর্থাৎ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট, দুটি লেন্স সেন্সর নিশ্চিত করছে বেটার ইমেজ কোয়ালিটি। যেহেতু এটাই পি৯ এর অন্যতম সেলিং পয়েন্ট, সেহেতু যথেষ্ট খেলা করা হয়েছে এর ক্যামেরা নিয়ে। ছবিগুলকে তোলা হয়েছে এপারচার ২.২তে। যেটা আপনারা স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছেন অত্য্যন্ত হাই কোয়ালিটি ইমেজ পি৯ এর ক্যামেরা তুলতে সক্ষম। এছাড়া ওয়াইড এপারচার থাকাতে ক্যামেরাগুলোর সেস্নর অধিক লাইট ক্যাপচার করতে সক্ষম ডার্ক সিচুয়েশনে। নাইট বা ডার্ক শুটিং অত্যন্ত ইম্প্রেসিভ।

স্ক্রিনের উপর স্ক্রল করেই সাবজেক্ট এর কন্ডিশন অনুযায়ী লাইট অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। এছাড়া পি৯ দিচ্ছে ১৪টি শুটিং মোড। যার মধ্যে আমরা পরীক্ষা চালিয়েছি প্যানারোমা শটের উপরে। যেটা এক কথায় খুবই ইম্প্রেসিভ। পজ। এছাড়াও ক্যামেরার মেনুগুলকে সহজেই পেয়ে যাবেন এবং ক্যামেরার সেটিংস পছন্দমত কাস্টমাইজ করতে পারবেন। ফ্রন্টক্যামেরাটি হচ্ছে ৮ মেগাপিক্সেল এবং এপারচার হচ্ছে ১.৯, হাই কোয়ালিটি সেলফি তোলার জন্য যেটি মোর দ্যান এনাফ। এর লেন্স ও যথেষ্ট ফাস্ট। ভিডিও শুটিং করার এক্সপেরিয়েন্স ছিল বেশ চমৎকার, এমেজিং কিছু ফুটেজ পেয়েছি আমরা পি৯ এর ক্যামেরা গুলো থেকে। ফুটেজগুল যেগুলো দেখছেন সবই ১০৮০পি তে ধারন করা। আরেকটা ব্যাপার পার্সোনালি আমাকে খুব ইমপ্রেস করেছে, ভিডিও করার সময় এর ফাস্ট অটো ফোকাস এবিলিটি। যেখানে সাবজেক্ট এর উপর টাচ করার সাথে সাথেই ফোকাস হবে। যেটা ভিডিও শুটিং এর জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি ফিচার।

সাউণ্ড/মিউজিক

হুয়াউয়ে পি৯ এর সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ স্ট্যান্ডার্ড। এর সাথে দেয়া আছে ব্লু টুথ ৪.১, ব্লু টুথ হেডফোনের সাথে কানেক্ট করার জন্য অভারল বেশ ভাল সাউন্ড কোয়ালিটি। এছাড়া স্পিকারটিও ডিসেন্ট এবং যথেষ্ট লাউড। চলুন শুনে নেয়া যাক স্পিকারটি পারফর্ম করে।

ব্যাটারি

পি৯ এর সাথে দেয়া আছে নন রিমুভেবল ৩০০০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। সাধারন ব্যাবহারের ক্ষেত্রে এক চার্জেই সারাদিন ব্যাক পাওয়া যায় এবং হেভি ইউসেজ এর ক্ষেত্রে ৬ ঘণ্টা ব্যাক আপ পাউয়া গেছে। এছাড়া ব্যাটারি লাঈফ বাড়ানোর জন্য ইউলিটী স্ফটওয়ারটি ব্যাবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ফাস্ট চার্জিং ফিচারটির সুফল পুরেপুরি উপভোগ করতে পারবেন।

সো ফার হুয়াওয়ে পি৯ আমাদের দেখা একটি গুড লুকিং এবং বেস্ট ক্যামেরা স্মার্টফোন। এর ডিজাইন স্পেক সব কিছুর মধ্যে একটা সামঞ্জস্য রেখে হুয়াওয়ে স্মার্টফন বাজারের ক্মপিটেশন কে একটা অন্য মাত্রা দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি সলিড ফোন, যারা ছবি তুলতে বেশি পছন্দ করেন, পি৯ এবার তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে।