বাংলাদেশের গেমিং কম্পিউনিটির প্রায় ৯০% মানুষ পাইরেট গেমার অর্থাৎ, ক্র্যাক করা গেম খেলে থাকেন। অবশ্য বাংলাদেশে লেজিট গেম কেনার বিষয়টি অনেক সৌখিন জিনিস হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে। এক একটি AAA গেমের দাম ৩০০০ টাকা থেকে শুরু করে ডিলাক্স এডিশন, GOTY এডিশন টাইপের ভার্শনের গেমগুলোর দাম ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি চলে যায়। স্টীমে রিজিওনাল প্রাইসিং থাকলেও কনসোল নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য গেমিং লঞ্চারে আমরা আমেরিকা ও ইউরোপে নির্ধারিত দামেই গেম কিনতে হয়। তাই এর জন্য অনেকেই সেলের অপেক্ষায় থাকে এবং যথাযথ বাজেটের মধ্যে পছন্দের গেমটি পেয়ে গেলে তা কিনে নেয়।

তাই ইন্টারনেটের ডাটা ছাড়া যেন কোন প্রকারের অতিরিক্ত খরচ না করতে হয় এ কারণে বাংলদেশের মানুষেরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন ধরণের রিপ্যাক বা ক্র্যাকড গেম নামিয়ে থাকেন অথবা দোকানদারদের কাছ থেকে পাইরেটেড ডিভিডি কিনে থাকেন। এতে করেন সিঙ্গেল প্লেয়ার মোডে গেম খেলা গেলেও তারা বিভিন্ন ধরণের জিনিস থেকে বঞ্চিত হোন যা না পেলে আসলে গেমিং এক্সপেরিয়েন্স পরিপূর্ণ হয় না। আজ আমরা কথা বলব পাইরেট গেমার হলে আপনারা কি কি ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন আর কি কি ফিচার মিস করতে পারেন।

No Multiplayer Mode

আজকালকার সকল গেমের মধ্যে যে মোডটি দেখা যায় তা হচ্ছে মাল্টিপ্লেয়ার মোড। অনলাইনে অন্য গেমারদের সাথে কো অপ মোডে বা একা একাই অন্য প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে গেম খেলার মজা বাংলাদেশের খুব কম গেমারই জানে। আগে সিঙ্গেল প্লেয়ার গেমের পাশাপাশি মাল্টিপ্লেয়ার মোড ঢুকান হলেও গত কয়েকবছর ধরেই মাল্টিপ্লেয়ার এক্সক্লুসিভ গেম বের হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাটল রয়াল এবং হিরো শুটারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

তাই যাদের পছন্দ মাল্টিপ্লেয়ার গেম তাদের জন্য টাকা খরচ করাটা আবশ্যকীয় বলতে গেলে। পাবজি, কল অফ ডিউটি, ওভারওয়াচ, রেইনবো সিক্স সিজ, রকেট লীগের মত গেম কখনোই ক্র্যাক করা যায় না। আর করা গেলেও আপনি সিঙ্গেল প্লেয়ারের সীমাবদ্ধতায় পড়ে থাকবেন। মাল্টিপ্লেয়ারের বিশাল দুনিয়ার সাথে আপনার কখনোই সম্পর্ক স্থাপন করা হয়ে উঠবে না।

No Instant Updates

পাইরেট গেমার হওয়ার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে (আমার মতে) কোন ইন্সট্যান্ট আপডেট না পাওয়া। যখনি কোন প্রকার বাগ ফিক্স হয়, কোন নতুন জিনিস গেমের মধ্যে যোগ করা হয় বা ডিএলসি রিলিজ করা হয় তখন লেজিট গেমাররা সাথে সাথেই সেগুলোর আপডেট তাদের কাংখিত প্ল্যাটফর্মে পেয়ে যায়।

কিন্তু অপরদিকে এই আপডেটগুলো আসার পর আপনাকে সেই আপডেটের ক্র্যাকড ফাইলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আপডেট পাওয়ার পর দেখা যায় কম পাওয়ারের সিপিউ বা জিপিউতে গেমের পারফর্মেন্স অনেক ভালো হয়ে উঠে বা গ্রাফিক্স সেটিংস আরো ভালো হয়। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই আপডেট ফাইলগুলো ক্র্যাকড গেমের জন্য আসতে আসতে আপনার পুরো গেম খেলা শেষ হয়ে যাবে। আপডেট পাওয়ার পর আপনি যে স্মুথ অভিজ্ঞতা পেতেন ক্র্যাকড গেম খেলে তা আর পাচ্ছেন না।

No Developer Support

পাইরেট গেমার হওয়ার আরেকটি অসুবিধা হচ্ছে আপনি কোন প্রকারের ডেভেলপার সাপোর্ট পাবেন না। ধরুণ, আপনি কোন একটি গেম ইন্সটল করার পর দেখতে পাচ্ছেন কোন একটি বাগের কারণে আপনি স্টোরিতে প্রগ্রেস করতে পারছেন না। বা, দেখা যাচ্ছে গেমের বেশ কিছু জায়গায় তা সঠিকভাবে রান হচ্ছে না, ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছে বা স্ট্রেট আপ ক্র্যাশ করছে।

তখন এসকল অভিযযোগ নিয়ে যখন আপনি কোন অফিসিয়াল ফোরাম বা ডেভেলপার ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন তখন আপনি চাইলেও কোন প্রকার পোস্ট করতে পারবেন না। কারণ, আপনার কাছে কোন লেজিট কপি নেই। লেজিট কপি না থাকার কারণে যে প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইটে ঢুকেছেন সেই প্ল্যাটফর্ম আপনার একাউন্টে কোন প্রকার লেজিট কপি ডিটেক্ট না করতে পারার কারণে সেখানে আপনাকে পোস্ট করতে দেবে না।

এছাড়াও আপনি যখন ডেভেলপার ফোরামে পোস্ট করবেন বা ইমেইল দেবেন তখন তারা আপনার কাছ থেকে ইন গেম আইডি, কখন গেমটি কিনেছেন, কোন প্ল্যাটফর্মে কিনেছেন এই সকল বহুল তথ্য জানতে চাবে। যদি পাইরেট গেমার হয়ে থাকেন তাহলে আপনি সেগুলো চাইলেও তাদেরকে সরবরাহ করতে পারবেন না। এর ফলে তারা তো আপনাকে কোন প্রকার সাপোর্ট দেবেই না, উপরন্তু ফ্রড হিসেবে গণ্য করলে আপনার ইমেইল একাউন্টের সাথে সম্পর্কিত সকল প্ল্যাটফর্মে তাদের গেম কেনা থেকে ব্যান করে দিতে পারে।

Malware Infection

ক্র্যাকড গেম ডাউনলোড করার অন্যতম বড় একটি অসুবিধা হচ্ছে আপনি যে গেমটি নামাচ্ছেন সেই গেমের মধ্যে থাকতে পারে বিভিন্ন প্রকারের ভাইরাস ও ম্যালওয়ার। আপনি হয়ত ইন্সটল করার সময় কোন কিছু খেয়াল না করতে পারেন, কিন্তু গেম চালানোর পর দেখবেন হঠাত করেই পিসি বা গেম ক্র্যাশ করতে পারে অথবা কম্পিউটার পুনরায় চালানোর পর আপনার হার্ডড্রাইভের অনেক ফাইল ডিলিট হয়ে যেতে পারে।

কিংবা আপনার পিসি যদি ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড থাকে তাহলে ইনফেক্টেড ফাইলের সাহায্যে হ্যাকাররা কম্পিউটারের সকল তথ্য এবং ফাইলের এক্সেস নিয়ে নিতে পারে। বা, আপনার পিসি রিমোট ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বেআইনি কাজ চালাতে পারে। সুতরাং, আপনার বিনা পয়সার গেম খেলার শখ আপনার পিসির জন্য বড় ধরণের ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে।

Extra Storage Allocation

পাইরেট গেমার হওয়ার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে সেগুলোর সেটাপ ফাইলের জন্য আলাদা স্টোরেজ এলোকেট করে রাখতে হয়। ধরা যাক আপনি জিটিএ ৫ গেমটির সেটাপ ফাইল নামাবেন। জিটিএ ৫ এর সাইজ হচ্ছে প্রায় ৭২ জিবি। সেই ৭২ জিবি গেম ইন্সটল করার জন্য আপনাকে মিনিমাম ৪৫ জিবি সেটাপ ফাইল নামাতে হবে। তাহলে মূল গেম ইন্সটলেশন এবং সেটাপ ফাইলের জায়গা মিলিয়ে আপনাকে মোট ১১৭ জিবি জায়গা খালি রাখতে হবে।

আর সেই সেটাপ ফাইল যদি থাকে কোন কমপ্রেস করা ফাইল যেমন .zip বা .rar এর মধ্যে তাহলে আরো অতিরিক্ত ৪৫ জিবি জায়গা বরাদ্দ করতে হবে। সেক্ষেত্রে একটি ৭২ জিবি গেম ইন্সটল দেবার জন্য আপনাকে ১৬২ জিবি জায়গা বরাদ্দ রাখতে হবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এটি কেমন একটি অসুবিধা।

Conclusion

তো এই ছিল পাইরেট গেমিং করার বেশ কিছু অসুবিধা এবং ঝুঁকি নিয়ে তথ্যাদি। যদি মনে করেন কিছু একটা মিস করে যাওয়া হয়েছে বা কোন প্রকার ভুল রয়েছে তাহলে পিসি বিল্ডার বাংলাদেশের ফেসবুক পেইজে কমেন্ট বা ম্যাসেজ করতে ভুলবেন না। এখানে কোন গেমারদেরই হেয় করার চেস্টা করা হয় নি। বরং কিছু বাস্তবিক ফ্যাক্ট তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, হ্যাপি গেমিং!