টাইটেলে পেনড্রাইভ না দিয়ে মেমোরি কার্ড দেওয়ার প্ল্যান ছিলো। কিন্তু বর্তমান যুগে মেমোরি কার্ড এর ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। মাত্র ৩/৪ বছর আগের কথা, তখনো ৩২ গিগাবাইটের উপরের স্টোরেজের ডিভাইসগুলো দাম মিডরেঞ্জের উপরে ছিলো। কিন্তু এখনকার যুগে আপনি ৪/৬৪ ডিভাইস মাত্র ১৩ হাজার টাকার মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছেন। আর তাই বর্তমানে মোবাইল ডিভাইসে মেমোরি কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন কমতির পথে। কিন্তু মেমোরি কার্ড, পেনড্রাইভ যাই বলেন না কেন এগুলো নস্ট হতে তেমন দেরি লাগে না। বিশেষ করে পেনড্রাইভ এর বেলার এই বেশি প্রযোজ্য হয় কারণ মেমোরি কার্ড সাধারণত আমরা ডিভাইসে ডিভাইসে অদল বদল করি না; কিন্তু পেনড্রাইভকে বানানোই হয়েছে বিভিন্ন পিসি থেকে ফাইলস আদান প্রদান করার জন্যই। আর অনেক সময় দেখা যায় যে পেনড্রাইভ করাপ্ট হয়ে পড়ে। মানে পেনড্রাইভ পোর্টে ডুকানোর পর পিসিতে দেখা গেলো পেনড্রাইভ ডিক্স ফুল; কিংবা পেনড্রাইভের Drive Icon ই শো করছে না। তখন আপনি পেনড্রাইভের উপর রাইট বাটন ক্লিক করে ফরম্যাট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফরম্যাট অপশন এলে সেখানে ফরম্যাট করার কোনো চান্সই থাকে না। এক্ষেত্রে হতাশ হয়ে পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ডটি ফেলে দেবার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে আজকের দেখানো পদ্ধতিগুলো ট্রাই করতে পারেন। তবে উল্লেখ্য যে, পেনড্রাইভ / মেমোরি কার্ডের সফটওয়্যারগত দিক থেকে এই সমস্যায় পড়লে সেটায় এই পদ্ধতি কাজ করবে; মানে হলো আপনার পেনড্রাইভের হার্ডওয়্যারগত সমস্যার কারণে নস্ট বা আনরিডেবল হয়ে গেলে এভাবেও ফরম্যাট নিবে না।

১) অন্য কম্পিউটারে ব্যবহার

প্রায় অধিকাংশ সময়ই আমাদের নিজেরদের পিসির Incompatibility কিংবা অনান্য Driver জাতীয় সমস্যার জন্য আমরা মেমোরি কার্ড / পেনড্রাইভ জনিত ইস্যুর সাথে সম্মুখিন হয়ে থাকি। তাই আপনার পিসিতে কোনো পেনড্রাইভ প্রবেশ করানোর পর সেটায় যদি কোনো সমস্যার দেখা পান তাহলে পেনড্রাইভটিকে নস্ট বলে বিবেচনা করার আগে অন্য পিসি / ল্যাপটপে পেনড্রাইভটি ঢুকিয়ে ডাবল চেক করে নিন। যদি সেখানে পেনড্রাইভ ঠিকঠাক মতো কানেক্ট পায় তাহলে বুঝবেন আপনার পিসিতে সমস্যা রয়েছে।

২) Troubleshooter ব্যবহার

যেকোনো ধরণের হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যার সমাধানের প্রথম ধাপ হিসেবে আপনি উইন্ডোজের বিল্ট ইন ট্রাবলশুট্যার ফিচারটির ব্যবহার করে নিতে পারেন। এজন্য প্রথমে পেনড্রাইভটি পিসিতে ইনপুট করুন। তারপর কন্ট্রোল প্যানেল থেকে Troubleshooting > Hardware and Sound থেকে আপনার স্ক্রিণে দেখানো নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে নিন।

৩) USB ড্রাইভার আপডেট

অনেক সময় আউটডেটেড ড্রাইভারের কারণেও উইন্ডোজ আপনার পেনড্রাইভটি ডিটেক্ট করতে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। আর এ জন্য আপনি ডিভাইস ড্রাইভার আপডেট করেও সমস্যাটির সমাধান করে নিতে পারেন। USB ড্রাইভার আপডেট খুবই সহজ কাজ।


প্রথমে RUN বক্স চালু করে লিখুন devmgmt.msc এবং এন্টার দিন। এটা আপনাকে ডিভাইস ম্যানেজার চালু করাবে। অথবা সরাসরি সার্চ বক্সে টাইপ করুন Device Manager এবং সার্চ রেজাল্ট থেকে ডিভাইস ম্যানেজার সিলেক্ট করুন।

ডিভাইস ম্যানেজার থেকে আপনাকে Universal Serial Bus Controllers মেন্যুকে এক্সপ্যান্ড করতে হবে। সেখানে আপনার করাপ্ট কিংবা Unrecognized পেনড্রাইভকে “Unknown Device” হিসেবে দেখাবে। সেটার উপর ডাবল ক্লিক করুন। ড্রাইভার ট্যাবে আসুন।

এখান থেকে আপডেট ড্রাইভার বক্সে ক্লিক করুন। যদি কোনো দরকারি আপডেটের দরকার হয় তাহলে এটা আপনাকে জানিয়ে দেবে। তাহলে সিম্পলি আপডেট করে নিন।

৪) ড্রাইভ লেটার পরিবর্তন

অনেক সময় দেখা যায় যে কম্পিউটার আপনার স্টোরেজ মিডিয়ার ড্রাইভ লেটার এসাইন করতে পারে না; তার ফলে স্টোরেজ মিডিয়ার ফাইলসগুলো একসেস হতে পারে না।  তাই এই ধরণের সমস্যায় পড়লে আপনার খেয়াল রাখা উচিত যে আপনার পেনড্রাইভে কোনো একটি লেটার রয়েছে কিনা; না থাকলে নিজে থেকে ড্রাইভে একটি লেটার যুক্ত করে দিতে হবে।

এ জন্য প্রথমে আপনার স্টোরেজ মিডিয়াকে (পেনড্রাইভ/মেমোরি কার্ড) পিসির সাথে কানেক্ট করুন। তারপর সার্চ বারে লিখুন Disk Management এবং ওপেন করুন।

এবার ড্রাইভ লিস্ট থেকে আপনার পেনড্রাইভের উপর রাইট ক্লিক করে Change Drive Letter and Paths অপশনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনাকে জাস্ট ড্রপডাউন মেন্যু থেকে পেনড্রাইভের জন্য একটি ড্রাইভ লেটার সিলেক্ট করে দিতে হবে।

৫) ড্রাইভার রিইন্সটল

কিছু কিছু সময় দেখা যায় যে আপনার ফ্ল্যাশড্রাইভটিকে পিসি ডিটেক্ট করতে পারে না এবং ফলে আপনি করাপ্ট পেনড্রাইভ দেখতে পান। এজন্য পিসি থেকে পেনড্রাইভের ড্রাইভার কে রিইন্সটল করে নিন। এটাও বেশ সহজ।

প্রথমে সার্চ বক্সে লিখুন Device Manager এবং এটাকে ওপেন করুন। তবে এর আগে পিসিতে পেনড্রাইভকে ঢুকিয়ে নিতে ভূলবেন না যেন।

এবার ডিভাইস লিস্ট থেকে ডিক্স ড্রাইভ সাব-গ্রুপ থেকে আপনার পেনড্রাইভটির উপর রাইট ক্লিক করে Uninstall Device অপশনে ক্লিক করুন।

এবার পেনড্রাইভটি পিসি থেকে খুলে ফেলুন। তারপর আবার লাগান, পিসি এবার এটাকে ডিটেক্ট করতে পারবে।

৬) রিপেয়ার

অনেকেই জানেন না যে সরাসরি উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার থেকে রিপেয়ার করেও অনেক সময় পেনড্রাইভের বিভিন্ন এরর থেকে সহজেই বেঁচে আসা যায়। তবে এতে পেনড্রাইভের বর্তমান ফাইলসগুলোকে গচ্ছা দিতে হবে। ফাইলের মাঁয়া ছেড়ে যদি পেনড্রাইভ ফিরে পেতে চান তাহলে এটা ফলো করুন।

প্রথমে পিসিতে পেনড্রাইভ লাগান। তারপর পেনড্রাইভের উপর রাইট ক্লিক করে Format… অপশনে ক্লিক করুন।

ফরম্যাট উইন্ডো থেকে Restore Device Defaults প্রয়োগ করার পর পেনড্রাইভ টিকে ফরম্যাট মারুন।

৭) CMD ব্যবহার করে

উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার থেকে ফরম্যাট না নিলে শেষ চেষ্টা হিসেবে কমান্ড প্রমোট কে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য প্রথমে পেনড্রাইভ / মেমোরি কার্ডকে পিসিতে কানেক্ট করে বাকি সব এক্সটারনাল ডিভাইসগুলোকে পিসি থেকে ডিসকানেক্ট করে দিন।

তার পর Administrator হিসেবে CMD চালু করুন।

কমান্ড প্রমোটে টাইপ করুন diskpart এবং এন্টার দিন।

আপনার পিসিতে লাগনো সকল ডিক্সগুলোর লিষ্ট এখানে পাবেন। চিত্রে ডিক্স ০ হচ্ছে আমার পিসির হার্ডডিক্স (যেটা ৯৩১ জিবি) আর ডিক্স ১ হচ্ছে পেনড্রাইভ। আপনি ডিক্স নাম্বারটি নোট করে রাখুন। কারণ ভূল ডিক্স এন্টার দিলে আপনার পুরো হার্ডডিক্স ফরম্যাট হয়ে যাবার চান্স থাকবে।

এবার টাইপ করুন select disk disk 1 (আমার টায় ডিক্স ১ দেখে ডিক্স ১ লিখলাম, আপনার টায় ডিক্স নাম্বার যা হবে সেটা লিখবেন।)

এবার টাইপ করুন clean এবং এন্টার দিন।

এবার টাইপ করুন create partition primary এবং এন্টার দিন।

এবার active লিখে এন্টার দিতে হবে।

এবার লিখবেন select partition 1 এবং এন্টার দিন।

এবার কোন ফাইল ফরম্যাটে পেনড্রাইভ টিকে ফরম্যাট করবেন যেটা বেছে নিন। এখানে format fs=fat32 ফ্যাট ৩২ এর স্থানে আপনার ফাইল ফরম্যাটটি লিখে দিয়ে এন্টার দিন।

এবার আপনার পেনড্রাইভের সাইজের উপর ভিক্তি করে ফরম্যাট হতে কিছুক্ষণ সময় নিবে। ফরম্যাট হয়ে গেলে কমান্ড প্রমোট কেটে দিয়ে পেনড্রাইভ ব্যবহার করা শুরু করে দিতে পারেন।

উপরের সকল পদ্ধতি ফলো করেও যদি দেখেন যে আপনার পেনড্রাইভ / মেমোরি কার্ডটির থেকে সমস্যা যায়নি তাহলে ৯০% হিসেবে ধরে নিবেন যে সেটা Dead হয়ে গিয়েছে। নতুন কোনো পেনড্রাইভ কেনার আগে বর্তমান পেনড্রাইভটিকে শেষ চেষ্টা হিসেবে পিসি সার্ভিস সেন্টারে একবার দেখিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।

Avatar
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.