30 C
Dhaka
Tuesday, June 6, 2023

৩০ হাজার থেকে ১ লাখ বাজেটের পিসি বিল্ড গাইড

- Advertisement -

ঈদের আগে পবিত্র রমজান মাসে পিসি বিল্ডিং এর হিড়িক ও পরে আমাদের দেশে। বিভিন্ন কম্পোনেন্টে বিভিন্ন ধরনের অফার ও ডিস্কাউন্ট দিয়ে থাকে ছোট বড় শপ গুলো। পিসি বিল্ডারদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এই সময় পিসি বিল্ড করতে চান। এসএসডি ও র‍্যাম এর দাম আমাদের দেশে কমেছে বেশ কয়েক মাস যাবত। সম্প্রতি এএমডি আর ইন্টেলের প্রায় সবগুলো প্রসেসরের দামই কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সব মিলিয়ে পিসি বিল্ড এর জন্য খুবই অনুকুল সময় এটি। পিসি বিল্ড যারা এই সময়ে করতে চান, তাদের সুবিধার জন্য নিয়ে আসলাম কয়েকটি পিসি বিল্ড গাইড। প্রথম পর্বে কথা হবে ৩০ হাজার থেকে ১লাখ ৫  হাজার টাকা পর্যন্ত বাজেট রেঞ্জের বেশ কিছু বিল্ড নিয়ে।

দ্বিতীয় পর্বঃ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার পিসি বিল্ড গাইড

দাম ও স্টোরেজ বাছাইঃ

  • শপ থেকে শপ প্রসেসর,গ্রাফিক্স কার্ড,এসএসডি, র‍্যাম এর দাম ভিন্ন হতে পারে। এছাড়াও কম্পিউটার কম্পোনেন্ট এর দাম সর্বদাই পরিবর্তনশীল এই ব্যাপারটিও পাঠককে মনে রাখতে অনুরোধ করা হলো।স্টক ও সর্বদা পরিবর্তনশীল। আর একটি বিষয়, প্রতিটি কম্পোনেন্ট এর আলাদা আলাদা অনলাইন প্রাইস ধরে বিল্ড গুলো করা হয়েছে। জনপ্রিয় শপ গুলো থেকে সম্পুর্ণ বিল্ড করলে প্রতিটি বিল্ডেই এক থেকে দুই হাজার বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ডিস্কাউন্ট পাওয়া যেতে পারে।
  • স্টোরেজ এর ব্যাপারটি ইউজার থেকে ইউজার সম্পুর্ণ ভিন্ন, কারো অনেক বেশি ডাটা স্টোর করার জন্য হার্ড ড্রাইভ লাগতে পারে, কারো ক্ষেত্রে শুধু ২৫০ জিবির এসএসডিই যথেষ্ট, কেও বা শুধুমাত্র একটা ৫০০ জিবির এসএসডি দিয়ে বিল্ড সাজাতে পারেন, আবার হার্ড ড্রাইভ ও এসএসডি,উভয় ধরনের স্টোরেজ দিয়েই অনেকে বিল্ড করে থাকেন।এসব বিষয় মাথায় রেখে ও যেহেতু এসএসডির দাম এখন অনেকটাই কম, সেজন্য আমরা placeholder হিসেবে সবথেকে কমদামী ৫০০ গিগাবাইট M.2 NVMe এসএসডি HP EX900 ব্যবহার করেছি। এসএসডির ব্রান্ড মডেল ও ক্যাপাসিটি সিলেকশন প্রকৃতপক্ষে সম্পুর্ণ ক্রেতার উপরেই নির্ভর করছে।

কম্পোনেন্ট স্কেলিং,মাদারবোর্ড,কেসিং ও পাওয়ার সাপ্লাই

  • শেষ পয়েন্ট- প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বাজেটে একই সাথে প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ড এর আপগ্রেড করা কঠিন, প্রসেসর এর সাথে সাথে মাদারবোর্ড ও অন্যান্য দুই একটা কম্পোনেন্ট আপগ্রেড করা গেলেও গ্রাফিক্স কার্ড এর Higher tier এ প্রত্যেক বাজেট রেঞ্জে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না । এজন্য কিছু বাজেট রেঞ্জে আগের বাজেট এর প্রসেসর ও মাদারবোর্ড বা প্রসেসর সেম রেখে গ্রাফিক্স কার্ড আপগ্রেড করা হয়েছে অথবা গ্রাফিক্স কার্ড একই রেখে অন্যান্য কম্পোনেন্ট, যেমন প্রসেসর,মাদারবোর্ড ইত্যাদি আপগ্রেড করা হয়েছে।
  • এএমডি বিল্ড গুলোর ক্ষেত্রে তুলনামুলক কম দামী মাদারবোর্ড গুলো ব্যবহার করা হয়েছে কারণ AM4 প্লাটফর্মে তুলনামুলক কমদামী মাদারবোর্ড গুলোও হাই এন্ড প্রসেসর সুন্দর ভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে। বায়োস্টার এর মত বোর্ড গুলো তাই নিসন্দেহে ব্যবহার করা যায়।
  • গ্রাফিক্স কার্ড ও প্রসেসর এর আপগ্রেডিবিলিটির কথা মাথায় রেখে হাই ক্যাপাসিটি পাওয়ার সাপ্লাই এর একই মডেল বেশ অনেক গুলো বিল্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্রেতা মনমত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
  • র‍্যাম এর প্রাইস খুবই ডিসেন্ট হওয়ায় Non-RGB অনেক গুলো বিল্ডে একই র‍্যাম ও RGB বিল্ডেও একই র‍্যাম দেওয়া হয়েছে।
  • প্রসেসর গ্রাফিক্স কার্ড এর মত কম্পোনেন্ট এ বেশি জোর দিতে কেসিং এ তুলনামুলক কম টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং একটি কেসিং অনেক গুলো বিল্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।  তবে এই কেসিং এর   এয়ারফ্লো,স্পেস, যথেষ্ট ভালো হওয়ায়, রেডিয়েটর সাপোর্ট, প্রি ইন্সটল ফ্যান এর সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিসন্দেহে ক্রেতা এটা বাছাই করতে পারেন। তবে কেসিং যেহেতু ব্যক্তিগত পছন্দ ক্রেতা আরো কম দামী বা বেশি দামী অন্য যেকোনো মডেল নিতে পারেন।

বাজেট ৩০-৪০ হাজার টাকাঃ

স্পেকস, ভালো আইজিপিইউ ,পারফর্মেন্স, সব মিলিয়ে অনেক দিন ধরেই আমাদের দেশের জাতীয় প্রসেসরের তকমাটা নিজের কাছে নিয়ে বসে আছে Ryzen 5 5600G। ১৫-১৭ হাজার টাকায় অনেক দিন যাবত এই প্রসেসরটি বিক্রি হয়ে আসছিল আমাদের দেশের বাজারে। তবে সম্প্রতি সর্বশেষ প্রাইস ড্রপ এর পর এর দাম নেমে এসেছে ১২০০০-১২৫০০ টাকার মধ্যে। মোটামুটি ২৮-৩৪ হাজার টাকার মধ্যেই বেশ ভালো এন্ট্রি লেভেল All In One পিসি বিল্ড করা সম্ভব Ryzen 5 5600G দিয়ে।

- Advertisement -

পর্যালোচনাঃ

বাজারের হটকেক এই প্রসেসর দিয়ে বিল্ড হচ্ছে হাজার হাজার। বাজারে মাদারবোর্ড সেরকম নেই বললেই চলে। যা আছে দাম বেশি, তারপরেও মানুষ এর আগ্রহ এর কমতি নেই।।আমরা মুলত একই প্রসেসর দিয়ে একাধিক বিল্ড সাজানোর চেষ্টা করেছি। একটি একটু প্রিমিয়াম, ৫০০ জিবি এনভিএমই এসএসডি, আলাদা পাওয়ার সাপ্লাই, ১৬ জিবি র‍্যাম, মোটামুটি মানের মাদারবোর্ড দিয়ে। যেখানে পরবর্তীতে টুকিটাকি কম্পোনেন্ট আপগ্রেড করার ব্যাপারটি মাথায় রাখা হয়েছে। এখানে আমরা মাদারবোর্ড হিসেবে Gigabyte B450M H, অপশনাল পাওয়ার সাপ্লাই হিসেবে একটি Revenger 350W PSU, কিংস্টনের ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম, Value Top এর একটি কেসিং বেছে নিয়েছি। (কেসিং এও পাওয়ার সাপ্লাই রয়েছে যা দিয়ে কাজ হয়ে যাবে ভালো মতই) এই বিল্ডের সর্বনিম্ন খরচ ৮ গিগাবাইট র‍্যাম,পাওয়ার সাপ্লাই ছাড়া আসে ৩০৭০০ টাকা।হার্ড ড্রাইভ নেওয়া না নেওয়া, ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম নেওয়া, পাওয়ার সাপ্লাই আলাদা নেওয়ার উপর ভিত্তি করে এই খরচ সর্বোচ্চ ৩৮৮০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।

আরেকটি বিল্ড সাজানোর চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ কম খরচ করে। এক্ষেত্রে এরকম ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ করে বিল্ডটি সাজানো হয়েছে যারা একেবারেই বাজেট এর শর্টেজে রয়েছেন। একদম যত সম্ভব কম খরচে যারা এই প্রসেসর দিয়ে একটি Allrounder PC বিল্ড করতে চান। এখানে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম,২৫০ জিবি এসএসডি, একদমই বেসিক একটি মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে।এই বিল্ডটির সর্বনিম্ন খরচ ২৭৯০০ টাকা। চাইলে এসএসডি কম নিয়ে ও অন্য মডেলের কেসিং নিয়ে  খরচ আরো ১৫০০ টাকা মত কমানো যেতে পারে।

***একসাথে বিল্ড করতে গেলে হয়তো দুটি বিল্ডেই ৫০০-৭০০ কিংবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত ডিস্কাউন্ট পেতে পারেন অফলাইন স্টোর থেকে।***

- Advertisement -

কম্পোনেন্টসঃ

বাজেট ৩৫ হাজার টাকা ( পরবর্তীতে Graphics Card লাগানো হবে, র‍্যাম বাড়ানো হবে)ঃ

অনেকেই আছেন যারা পরবর্তীতে গ্রাফিক্স কার্ড এড করবেন এবং আপাতত দুই ,চার বা ছয় মাস গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়া চালাতে চান পিসি।পরে গ্রাফিক্স কার্ড ও র‍্যাম আপগ্রেড করবেন এই টাইপ এর পিসি ইউজারদের কথা মাথায় রেখে এই বিল্ডটি দেওয়া।

- Advertisement -

ব্যবহার করা হয়েছে ১৩হাজার টাকা বা এর নিচে সবথেকে পাওয়ারফুল চার কোরের প্রসেসর Core i3 12100।

কম্পোনেন্টসঃ

 

পর্যালোচনাঃ

বিল্ডটির মোট খরচ ৩৪ হাজার টাকার মত। মাদারবোর্ড বা র‍্যাম এ খরচ কমানোর খুব বেশি জায়গা নেই। যেহেতু ৫০০ জিবি NVMe SSD এর দাম এখন ৩৫০০ টাকার আশেপাশে, আমরা অন্য সব বিল্ডের মত এখানেও এটাকেই standard মনে করেছি। যেহেতু ব্যবহারকারী পরে গ্রাফিক্স কার্ড লাগাবেন, সেই হিসেবে তিনি পরে একটি র‍্যাম  ও লাগিয়ে নিতে পারবেন এটা ধরে নিয়ে র‍্যাম ও দেওয়া হয়েছে একটি। কেসিং এর ক্ষেত্রেও খরচ কমানোর সেরকম সুযোগ নেই, কারণ যেহেতু এই বিল্ডে গ্রাফিক্স কার্ড যাবে, সেজন্য কেসিং এর ক্ষেত্রে compromise করার সুযোগ ও কম।

বাজেট ৩৫-৪০ হাজার টাকাঃ অক্টাকোর প্রসেসর বিল্ড

৩৫-৪০ হাজার টাকায় যদি আপনি সবথেকে কম দামের অক্টাকোর প্রসেসর বিল্ড চান , সেক্ষেত্রে Ryzen 7 5700G এর বিল্ডটি আপনার জন্য। 5600G বিল্ডটির সবগুলো কম্পোনেন্টই এই বিল্ডের সাথে খুবই ভালোভাবে যায়।  লাইট টু মিডিয়াম প্রোডাক্টিভিটি,গ্রাফিক্স এর কাজ, ভিডিও এডিটিং বা Esports Gaming, 5600G এর পারপাস গুলো আরো বেশি ভালো ভাবে পুরণ করে এই 5700G বিল্ডটি।

কম্পোনেন্টসঃ

 

 

পর্যালোচনাঃ

এখানেও আমরা দুই রকম ক্রেতার কথা মাথায় রেখে দুই রকম এর বিল্ড সাজিয়েছি। যার প্রধান উদ্দেশ্য যেকোনোভাবে সর্বনিম্ন খরচে 5700g দিয়ে একটি পিসি, তার কথা মাথায় রেখে একটি কম দামী পিসি বিল্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, যিনি সবগুলো কম্পোনেন্টেই মোটামুটি একটু খরচ করতে চান, বাজেট ও রয়েছে, তার জন্য আরো কিছুটা বেশি দামী বিল্ড দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই, বাজারে 5700g ১৮০০০ টাকার আশেপাশে পাওয়া যাচ্ছে ,কিন্ত অনলাইন প্রাইস ধরেই বিল্ড গুলো করা হয়েছে। আশা করা যায় প্রসেসর এর দাম তো বটেই ,ফুল বিল্ড করলে অফলাইন শপগুলোতে আমাদের উল্লেখ করা দাম থেকে আরো বেশ কিছুটা কম দামে বিল্ড করা যাবে।

***৩৫ হাজার টাকার বিল্ডটিতে এসএসডিতে আরো কিছুটা খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব***

***অনেক জায়গায় 5600g এর বিল্ড ২৪-২৫ হাজারে দেখা যাচ্ছে । সেটি একটি বায়োস্টারের 6000 টাকার মাদারবোর্ডের বিল্ড, এই মাদারবোর্ড এ কোনো এনভিএমই স্লট নেই। অর্থাৎ কখনোই এই বিল্ডে NVMe SSD লাগানো যাবে না। আমাদের কাছে এই মাদারবোর্ড দিয়ে বিল্ড করাটা একেবারেই যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি তাই এটাকে আমরা আমাদের বিল্ডে সাজেশন দিতে পারছি না।***

***এখন থেকে পরবর্তী যে উচ্চতর বাজেটের বিল্ড গুলো আছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিতেই র‍্যাম দেওয়া হবে ১৬ গিগাবাইট***

5600g vs 5700g?

এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে  5600g আর 5700g দিয়ে বিল্ড এর খরচ দেখা যাচ্ছে খুব বেশি নয় , একেবারেই অল্প কয়েক হাজার টাকার ব্যবধান। সেক্ষেত্রে কোনটা নেওয়া ঠিক হবে?

উত্তর হলোঃ এই সম্পুর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে ক্রেতার বাজেটের উপরে। ক্রেতার যদি বাজেট ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সেক্ষেত্রে 5600g দিয়েই বিল্ড সম্পন্ন করে ফেলেন। উপরে আমরা দেখেছি যে ৩৫ হাজার টাকা মত খরচে 5700g দিয়ে একটি বেসিক পিসি বিল্ড করা সম্ভব, আবার 5600g এর একটু হাই ফাই ধরনের পিসি তেও ৩৫ হাজারের মত খরচ চলে আসে।

এখানে সিদ্ধান্তটা ক্রেতাকে ভেবে চিনতে নিতে হবে। একটি ১২০ জিবি এসএসডি তে আপনার কাজ হবে কি না, পরবর্তীতে এই পিসিতে আপনি টাকা খরচ করবেন কি না, গ্রাফিক্স কার্ড লাগাবেন কি না বা প্রসেসর আপগ্রেড করবেন কি না এই বিষয়গুলো ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ক্রেতাকে। 5700g থেকে 5600g এর পারফর্মেন্স এ পার্থক্য যে আকাশ পাতাল,তা কিন্ত বলার সুযোগ নেই গ্রাফিক্স এর পারফর্মেন্স ৯০% একই থাকবে। দুটি কোর ও অতিরিক্ত চারটি থ্রেড পাবেন।  এখন আপনার কাজ কি 5600g তেই ভালোমত হয়ে যাবে কি না, এই দুটি কোর,অতিরিক্ত চারটি থ্রেড আপনার কাজকে কতটুকু বুস্ট দেবে সেটাও ক্রেতাকেই ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আর এখানে খরচের ব্যাপারটাও ক্রেতার উপর নির্ভর করছেন। 5600g দিয়ে সবথেকে সর্বনিম্ন খরচে বিল্ড এর চিন্তাভাবনা করতে পারেন একজন।আবার, 5600g দিয়ে ,কিছুটা ভালো, মোটামুটি মানের কম্পোনেন্ট দিয়ে কিছুটা বেশি টাকা খরচ করে বিল্ড করার কথাও ভাবতে পারেন।

একই ভাবে, যেকোনোভাবে ,সর্বনিম্ন খরচে,অন্য সব কিছুতে পয়সা বাচিয়ে 5700g দিয়ে বিল্ড এর লক্ষ থাকতে পারে কারো, আবার মানানসই ও প্রয়োজন,আপগ্রেড এর কথা মাথায় রেখে বেশি খরচ করে 5700g দিয়ে বিল্ড ও করতে চাইতে পারেন কেও কেও।

বাজেট ৪৫-৫০ হাজার টাকা (Cheapest GPU Build)

সবথেকে কম ঠিক কত খরচে একটা মোটামুটি মানের এন্ট্রি লেভেল এর গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে বর্তমানে পিসি বিল্ড করা সম্ভব??? সেটাই চলুন একটু দেখার চেষ্টা করি। যদি আমরা আমাদের বাজেট ৪৫-৪৭ হাজার টাকার মধ্যে রাখতে চাই, সেক্ষেত্রে হয়তো ইন্টেল 10th Gen Core i3 প্রসেসর দিয়ে ,GTX 1650 GPU ও ১৬ GB Ram দিয়ে একটা পিসি বিল্ড বেশ ভালোভাবেই করা সম্ভব। প্রসেসর,র‍্যাম ও এসএসডির দাম বেশ অনেকটাই কমে আসায় পিসি বিল্ড গুলো করা এখন অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে গিয়েছে আগের থেকে।

কম্পোনেন্টসঃ

 

পর্যালোচনাঃ

মোট খরচ দাড়াচ্ছে ৪৭৭০০ হাজার টাকা। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে ভাই Biostar এর মাদারবোর্ড কেন, উত্তর হচ্ছে, মাদারবোর্ডটি ও চিপসেটটি এই প্রসেসর এর জন্য, বরং সম্পুর্ণ বিল্ডটির জন্যই পারফেক্ট। সবগুলো কম্পোনেন্ট এর সাথেই মাদারবোর্ডটি ভালোভাবেই যায়। র‍্যাম দুটি স্টিক দেওয়া হয়েছে কারণ এটি দিয়ে গেমিং ও প্রোডাক্টিভিটি বেশ ভালোভাবেই করা হবে, পরবর্তীতে বছর দুয়েক অন্তত আপগ্রেড করা হবে না এরকম চিন্তা মাথায় রেখেই বিল্ডটি সাজানো হয়েছে। হার্ডডিস্ক চাইলে লাগিয়ে নিতে পারেন বিল্ডের সময়েই।

পাওয়ার সাপ্লাই কেন ডিপকুল? উত্তর হচ্ছে, Its Just Fine। ৩ বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে, ওয়াটেজ ও বাজেট অনুসারে ঠিকঠাক। যদি কেও চান তো অন্য মডেল এর নিতে পারেন।  তবে আমাদের কাছে সব মিলিয়ে একটা ideal choice মনে হয়েছে এই মডেলটিকে।

মোটামুটি একই উদ্দেশ্যে যদি বাজেট ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে বিল্ড করতে চাই তাহলে কি করবো?

মোটামুটি একই ধরনের পারপাসে ৫৫ হাজার টাকা বাজেটে যদি বিল্ড করতে চান, সেক্ষেত্রে উপরের বিল্ডটির মাদারবোর্ড ও প্রসেসর ব্যতীত সবগুলো কম্পোনেন্ট অপরিবর্তিত রেখেই বিল্ড করা সম্ভব। প্রসেসর হিসেবে Ryzen 5 5500ও মাদারবোর্ড হিসেবে gigabyte b450m h নিলেই হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিল্ড এর মোট খরচ গিয়ে দাড়াচ্ছে  ৫২/৫৩ হাজার টাকায়। এক্ষেত্রে আপনি আপনার বিল্ডে একটি ৬ কোর ১২ থ্রেডের প্রসেসর যোগ করতে পারছেন।

বাজেট ৫৫-৫৭ হাজার টাকা (পরবর্তীতে GPU লাগানো হবে)

আপাতত বিল্ড করে দুইমাস তিনমাস বা ছয়মাস পর হাই এন্ড GPU লাগাবেন এরকম পরিকল্পনা যারা করছেন তারা নিচের বিল্ডটি দেখতে পারেন। ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম, সিপিইউ কুলার, ভালো মানের কেসিং, Gen4 এসএসডি দিয়ে বেশ প্রিমিয়াম স্টাইলে বিল্ডটি সাজানো হয়েছে । যেহেতু ক্রেতা পরবর্তীতে ভালো একটি হাই এন্ড GPU লাগাবেন, তার কাজ ও এই গ্রাফিক্স কার্ড বিবেচনায় রেখেই বাকি কম্পোনেন্ট গুলো সিলেক্ট করা হয়েছে।

বাজেট ৬০-৬৫ হাজার টাকা

বাজেট ৬০-৬৫ হাজার টাকা হলেই মোটামুটি ভালো মানের পাওয়ারফুল পিসি গুলো বিল্ড করা সম্ভব হয়। এই বাজেট থেকেই আমরা মিডিয়াম টূ হেভি Esports,AAA Gaming, বেশ ভারি ভারি ভিডিও এডিটিং এর কাজ, গ্রাফিক্স এর কাজের জন্য পিসি বিল্ড করা শুরু করতে পারি।

কম্পোনেন্টসঃ

পর্যালোচনাঃ

Ryzen 5 5600 ও গিগাবাইট এর মাদারবোর্ড কম্বো এর সাথে GTX 1660 Super, GTX 1660 TI ও GTX 1660 পেয়ার করা যায় খুব সহজেই। যাদের বাজেট সর্বোচ্চ ৬৫/৬৬ হাজার টাকা, তারা 1660ti টাই নেওয়ার চেষ্টা করবেন। যাদের বাজেট ৩/৫ হাজার টাকা কম, তারা GTX 1660 Super/1660 নিলেই হয়ে যাচ্ছে। (তবে এই মুহুর্তে ২৫-২৬ হাজারে 1660 Super বা ২৩/২৪ হাজারে 1660 বাজারে নেই বললেই চলে।) পাওয়ার সাপ্লাই যেটা সিলেক্ট করা হয়েছে সেটাও ঠিকঠাকভাবে যায় এই বিল্ডটির সাথে। চাইলে অবশ্য অন্য ব্রান্ডের পাওয়ার সাপ্লাই নিতে পারেন।   হার্ড ড্রাইভ যোগ করার ব্যাপারটিও একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাজেট বাড়িয়ে পছন্দের কেসিং,আরো দামী কেসিং নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাজেট ৭০-৭৫ হাজার টাকা

মোটামুটি এই বাজেট থেকেই আমরা তুলনামুলক প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট গুলো সিলেক্ট করা শুরু করবো। র‍্যাম,কেসিং, মাদারবোর্ড ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই পারফর্মেন্স এর কোয়ালিটির পাশাপাশি আরজিবি, লুকস ও প্রাধান্য পাবে এখন থেকে। Gen4 Supported Components ও ব্যবহারের চেষ্টা থাকবে পরবর্তী বিল্ডগুলোতে।

৭৫ হাজার টাকার আশেপাশের বাজেটে Ryzen 5 5600, Intel Arc A750 8GB দিয়ে প্রোডাক্টিভিটি হোক বা গেমিং, যেকোনো সেক্টরের জন্যই অত্যন্ত পাওয়ারফুল ভ্যালু ফর মানি পিসি বিল্ড করা সম্ভব।

এই বাজেটে একচেটিয়া রাজত্ব করেছে বেশ কিছুদিন Intel arc a750l তবে বাইরের দেশে যতই সমালোচিত হোক, ২৭০ ডলার MSRP আর দেশের বাজারে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা দামে RTX 3060 থেকে ২৫-২৮% গড়ে বেশি এফপিএস দেওয়া RX 7600 হয়ে উঠেছে আল্টিমেট চয়েস। হাই এফপিএস এ ১০৮০পি গেম এবং বেশ ডিসেন্ট ৬০+এফপিএস এ ১৪৪০পি গেমিং এর জন্য সবথেকে কম দামে সবথেকে ভালো ভ্যালু ফর মানি জিপিইউ এখন এটাই।

কম্পোনেন্টসঃ

 

পর্যালোচনাঃ

প্রসেসর নিয়ে তেমন আলোচনার কিছু নেই, ইন্টেল এর Core i5 12400 এর মতই পারফর্মেন্স দেয় Ryzen 5 5600। এএমডির AM4 প্লাটফর্মের সুবিধা হচ্ছে মাদারবোর্ড এর দাম কম+ তুলনামুলক কমদামী মাদারবোর্ড গুলো ও অপেক্ষাকৃত হাই এন্ড প্রসেসরগুলোকে ভালো সাপোর্ট দিতে পারে।

আরজিবি র‍্যাম দেওয়ার জন্য কিছুটা খরচ বেশি করা হয়েছে র‍্যামে। ক্রেতা চাইলে র‍্যাম অন্য ব্রান্ডের বা RGB ছাড়াও নিতে পারেন। এসএসডি চাইলে অন্য ব্রান্ডের নিতে পারেন, Gen4 সাপোর্টেড মাদারবোর্ড ও প্রসেসর থাকায় Gen4 এসএসডি ও নিতে পারেন। কেসিং যার যার পছন্দের ব্যাপার, তবে লক্ষ রাখবেন যেহেতু বেশ ভালো একটি গ্রাফিক্স কার্ড ও প্রসেসর রয়েছে বিল্ডে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এয়ারফ্লো যাতে নিশ্চিত হয় কেসিং এ। ***৫০০টাকা বাড়িয়ে Gen4 SSD নিতে পারেন***

বাজেট ৮৭-৯৫ হাজার টাকা(FOR EXTRA VRAM Concern,productivity work,gaming)

পর্যালোচনাঃ

এক্ষেত্রে আমরা বিল্ড এর উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা,কাজের ধরন বিবেচনা করে ও ভিন্ন ভিন্ন ক্রেতার কথা মাথায় রেখে দুই রকমের বিল্ড সাজিয়েছি। প্রথমটি হচ্ছে গেমার এর জন্য, যিনি শুধু গেমিং ই করবেন, বিশেষ করে ১০৮০পি রেজুলুশনে। তার ক্ষেত্রে এই বিল্ডটি আগের বিল্ড এরই উন্নত সংস্করণ বলা যেতে পারে। এখানে প্রসেসর আরো পাওয়ারফুল দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে RTX 3060 দেওয়ার কারণ যারা 1440p তে অনেক বছর গেম খেলতে চান ভালো ভাবে, অথবা যারা গেমিং নয়, মেমোরি ইন্টেন্সিভ অন্যান্য কাজ করবেন, প্রোডাক্টিভিটি,গ্রাফিক্স এর কাজ বা ভিডিও এডিটিং করবেন কিংবা এর পাশাপাশি গেম খেলবেন।তাদের জন্য RTX 3060 এর বিল্ডটা।

বাজেট ১ লাখ ৫ হাজার টাকার আশেপাশে

 

পর্যালোচনাঃ

আমাদের ৯৫ হাজার টাকার বিল্ডটিতে আরো একটু ভালো  মাদারবোর্ড ও RTX 3060 Ti ব্যবহার করলেই ১ লাখ ৫ হাজার টাকার বিল্ডটি হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্বঃ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার পিসি বিল্ড গাইড

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here