28 C
Dhaka
Saturday, July 24, 2021

Xiaomi Mi 11 সিরিজের আদ্যপান্ত

- Advertisement -asus motherboards

গত বছরের একদম শেষের দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরের ২৮ তারিখে প্রথম Snapdragon 888 ফোন হিসেবে Mi 11 এর যাত্রা শুরু করার মাধ্যমে Mi 11 সিরিজের অফিশিয়ালি বাজারে চলে আসে চায়নাতে। এর পর এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাঁরা চায়না, গ্লোবাল মার্কেট(ইউরোপ) ও ইন্ডিয়ান মার্কেটে এই সিরিজের আন্ডারে অনেকগুলো ফোন লঞ্চ করে। Xiaomi’র অদ্ভু মার্কেটিং পলিসির কারণে তাঁরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি ফোন একই নামে সব মার্কেটের জন্য এনাউন্স করে না। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় এক সিরিজের ফোন ভিন্ন রিজিয়নে ভিন্ন সিরিজের আন্ডারে এনাউন্স করে থাকে। পুরো ব্যাপারটি ক্রেতা সাধারণের জন্য পাজল সলভিং এর মত হয়ে যায়। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা 11 সিরিজের সবকটি ফোন কোথায় কি নামে এনাউন্স হয়েছে এবং পুরো 11 সিরিজের ডিজাইন ডিসপ্লে, ক্যামরা ও চিপসেট নিয়ে তুলনামূলক স্পেসিফিকেশন তুলে ধরা হবে-

Mi 11 Series- All Phones

২০২১ সালের জন্য বানানো এই সিরিজটিতে একধারে মিড বাজেট থেকে শুরু করে একদম হাই-এন্ড ফোন পর্যন্ত রয়েছে। তাই এই সিরিজটিকে ব্যালান্সড একটি সিরিজ বলা চলে। একদম লোয়ার এন্ডে দুইটি ফোন রয়েছে Mi 11 Lite ও Mi 11 Lite 5G নামে। তারপর রয়েছে রেগুলার Mi 11। টপ এন্ডে রয়েছে Mi 11 Pro ও Mi 11 Ultra নাম দুইটি ফোন।

- Advertisement -

এখানে চাইনিজ রিজিওনের জন্য Mi 11 Lite, Mi 11 Lite 5G, Mi 11, Mi 11 Pro ও Mi 11 Ultra এই পাঁচটি ফোন এনাউন্স করা হয়েছে।

গ্লোবালি Mi 11 Lite, Mi 11 Lite 5G, Mi 11 ও Mi 11 Ultra এই চারটি ফোন চাইনিজ রিজিওয়ের একই নামে এনাউন্স হয়েছে। কিন্তু গ্লোবালি কিছুদিন আগে Mi 11i নামে আরো একটি ফোন লঞ্চ হয়েছে যেটি কিনা নতুন কোনো ফোন হয় বরঞ্চ ফ্রেব্রুয়ারিতে এনাউন্স হওয়া Redmi K40 Pro+ কে ভিন্ন নাম রিব্যান্ড করা হয়েছে।

- Advertisement -

সবশেষে Xiaomi’র চায়নার পর সবচেয়ে বড় মার্কেট ইন্ডিয়াতেও Mi 11 সিরিজ এনাউন্স হয়েছে। কিন্ত এই আর্টিকেল লিখা পর্যন্ত ইন্ডিয়াতে Mi 11 সিরিজের একটি মাত্র ফোন অর্থাৎ Mi 11 Ultra এনাউন্স হয়েছে। অন্যদিকে Mi 11 Ultra লঞ্চিং ইভেন্টে আমরা Mi 11X ও Mi 11X Pro নামে দুইটি ফোন এনাউন্স করতে দেখি। Mi 11i এর মতই এই ফোনগুলো রিব্র্যান্ডেড। যেখানে Mi 11X হচ্ছে Redmi K40 Pro+ এবং Mi 11X Pro হচ্ছে K40 Pro+ এর গ্লোবাল(ইন্ডিয়ান) ভার্সন।

তাহলে দেখা যাচ্ছে Redmi K40 Pro+ কে দুই নামে অর্থাৎ Mi 11X Pro( ইন্ডিয়ান গ্লোবাল) ও Mi 11i(গ্লোবাল) এনাউন্স করা হয়েছে। এবং Mi 11 Pro এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র চাইনিজ রিজিওনে সীমাবদ্ধ।

Mi 11 Series- Design

- Advertisement -

এই সিরিজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই সিরিজের এমনকি ২০২১ সালের Xiaomi’র সব ফোনের ডিজাইন প্যটার্ন একই রাখা চেষ্টা করা হয়েছে। তা হচ্ছে ফোনের সামনের দিকে অর্থাৎ ডিসপ্লেতে ছোট একটি পাঞ্চহোল এবং পিছনে ক্যামেরা মডিউল একই স্থানে এবং দেখতে অনেকটা একই রকম রাখা হয়েছে। চায়নাতে এনাউন্স হওয়া সব ফোনের পাঞ্চহোল স্ক্রিনের লেফট সাইডে দেওয়া হয়েছে এবং ক্যামেরা মডিউলটিও দেখতে রাউডেন্ড স্কায়ার শেইপের রাখা হয়েছে শুধু মাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে Mi Ultra যেখানে ক্যামেরা মডিউলেই দেওয়া হয়েছে Mi Band 5 এর ডিসপ্লে। অন্যদিকে Mi 11i(& Mi 11X Pro) এবং Mi 11X এর সেলফি ক্যামরা পাঞ্চহোল ডিসপ্লের ঠিক মিডলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাক ক্যামরা মডিউল কিছু লম্বাকার এইক্ষেত্রে। সবগুলো ফোনের বাটন ও পোর্ট প্লেসমেন্ট শাওমির অন্যান্য ফোনের মতই। Mi Ultraতে সিরামিক বডি ব্যবহার করলেও বাদ বাকি সব ফোনে গ্লাস সান্ডউইচ ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। সবগুলো ফোনেই বেশ ইউনিক ও ভাইব্রেট কালারে এভাইলেবল

Mi 11 Series- Display

Lite ফোন দুইটিতে দেওয়া হয়েছে  6.55-inch FHD+ AMOLED Flat ডিসপ্লে। যাতে সর্বোচ্চ 90Hz পর্যন্ত রিফ্রেশ রেইট সাপোর্ট করবে। ডিসপ্লেতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দেওয়া হয় নি কিন্তু ডিসপ্লে প্রোটেকশনের জন্য Gorilla Glass 5/6 ব্যবহার করা হয়েছে।

Mi 11 Lite Display

Regular, Pro Ultra মডেলগুলোতে অনেকটা সিমিলার ডিসপ্লে অর্থাৎ  6.81-inch QHD+ quad-curved AMOLED প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। সবগুলো ফোনে হায়েস্ট 120Hz রিফ্রেশ রেইট ও 480Hz দেওয়া হয়েছে কিন্ত রেগুলার Mi 11 এ প্যানেলটি এডাপটিভ রিফ্রেশ রেইট সাপোর্ট করে না অর্থাৎ প্রয়োজনে 90,60,30 Hz এ নামতে পারবে না। এছাড়া এদের পিক ব্রাইটনেস 1500nits এর উপরে। প্রোটেকশনের জন্য দেওয়া হয়েছে লেটেস্ট জেনারেশনের এর গরিলা গ্লাস এবং ডিসপ্লতেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দেওয়া হয়েছে।

Mi 11 Display

Mi 11 Ultra/Pro Display

অন্যদিকে রিব্র্যান্ডেড Mi 11X ও Mi 11X Pro তে ফ্ল্যাট 6.67-inch FHD+ AMOLED প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে যার সর্বোচ্চ রিফ্রেশ রেইট হচ্ছে 120Hz এবং টাচ স্যামপ্লিং রেইট হচ্ছে 380Hz। এইখানেও ডিসপ্লেতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দেওয়া হয় নি এবং ডিসপ্লে প্রোটেকশনের জন্য Gorilla Glass 6 ব্যবহার করা হয়েছে।

Mi 11 Series- Chipset, Storage & Ram

Mi 11 সিরিজে Qualcomm এর লেটেস্ট ও গ্রেটেস্ট Snapdragon 888 চিপসেটের একক আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে Mi 11 সিরিজের প্রায় বেশির ভাগ ফোন অর্থাৎ Mi 11i(& Mi 11X Pro) Mi 11, Mi 11 Pro ও Mi 11 Ultra তে Snapdragon 888 ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে Lite মডেলেগুলোতে Snapdragon 7 সিরিজের প্রসসের ব্যবহার হয়েছে।

Mi 11 Lite এ Snapdragon 732G দিলেও Mi 11 Lite 5G মডেলে 7 সিরিজের প্রথম 5nm প্রসেসর Snapdragon 780 দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ার জন্য এনাউন্স করা  Mi 11X এ রয়েছে Snapdragon 870 (ওভারক্লকড Snapdragon 865+)

স্টোরেজ ও র‍্যাম সেগমেন্টেও Lite মডেল গুলো পিছিয়ে আছে। এইখানে ব্যবহার হয়েছে কমপক্ষে 6GB LPDDR4X র‍্যাম ও 64GB UFS 2.2 স্টোরেজ টাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে Regular, Pro Ultra মডেলগুলোতে লোয়েস্ট 8GB LPDDR5 র‍্যাম ও 128GB  UFS 3.1 স্টোরেজ টাইপ দেওয়া হয়েছে।

Mi 11 Series- Camera

প্রথমেই যদি Lite মডেলগুলোর দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যাছে উভয়ে সেলফি ক্যামেরা বাদে পিছনের ক্যামেরার ক্ষেত্রে একই স্পেকস শেয়ার করছে। যেখানে 64MP f/1.79 এর একটি প্রাইমারি ক্যামেরা, 8MP f/2.2 এরকটি আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, এবং 5MP f/2.4 এর একটি টেলিফটো ক্যামেরা। অন্যদিকে ফ্রন্ট ক্যামেরার দিকে Lite 5G তে দেওয়া হয়েছে 20MP এর ক্যামেরা এবং রেগুলার Lite এ 16MP এর একটি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

এতক্ষন ধরে রেগুলার, প্রো ও আল্ট্রা মডেলগুলো কমবেশি একই ধরনের স্পেকস শেয়ার করে আসলেও ক্যামেরা সেকশানে এদের মধ্যে প্রথম পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ রেগুলার Mi 11 এ Samsung এর 108MP(ISOCELL Bright HMX) f/1.85 প্রাইমারি ক্যামেরা সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া 13MP f/2.4 আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, এবং 5MP f/2.4 এর একটি টেলিম্যাক্রো ক্যামেরা এবং Lite 5G এর মতই সেইম ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে এতে।

Mi 11 Pro তে দেওয়া ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ রেগুলার Mi 11 এর মতই শুধুমাত্র এতে প্রাইমারি ক্যামেরা সেন্সর হিসেবে দেওয়া হয়েছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্যামেরা সেন্সর অর্থাৎ 50MP f/1.95 Samsung ISOCELL GN2 এবং 8MP f/2.3 এর টেলিম্যাক্রো ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

আবার আল্ট্রা ভ্যারিয়েন্টেও সেইম 50MP f/1.95 Samsung ISOCELL GN2  দেওয়া হলেও বাদবাকি ক্যামেরা সেন্সর পুরাই ভিন্ন। যেখানে 8MP f/2.3 এর একটি টেলিফটো ক্যামেরা, 48MP f/2.2 এর একটি আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, 48MP f/4.1  এর একটি টেলিফটো ক্যামেরা যাতে 5x optical zoom, 10x hybrid zoom, and 120x digital zoom দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য গুলোর মত এইখানেও 20MP ফ্রন্ট ক্যামেরা অপরিবর্তিত আছে।

সবশেষে Mi 11X এ 48MP Sony IMX 582 মেইন ক্যামেরা, 8MP এর একটি আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, এবং 5M এর একটি টেলিম্যাক্রো ক্যামেরা। কিন্তু  Mi 11X Pro তে Lite মডেলগুলোর মত 108MP Samsung ISOCELL HM2 এর প্রাইমারি ক্যামেরা সেন্সর। ফ্রন্ট ক্যামেরা সেকশানেও এইখানে ব্যতিক্রম কিছু নাই অর্থাৎ 20MP এর সেলফি শুটার দেওয়া হয়েছে।

Image Credit: GSMArena, XDA

- Advertisement -asus graphics card
Kowcher Chy
A tech enthusiast ,amateur photographer and sluggish coder with an Engineering degree to destroy them all.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here