গুগল স্টেডিয়া আসলে কী?

স্টেডিয়া মূলত গুগলের একটি নতুন গেম স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম যেটি ব্যবহার করতে কোনরকম হাই এন্ড ব্যয়বহূল পিসি কিংবা কনসোল এর প্রয়োজন হবেনা। আপনি স্মার্টফোন, ক্রোমবুক, ক্রোমকাস্ট কিংবা ট্যাবলেট যেটাই ব্যবহার করুন না কেন ক্লাউডের মাধ্যমেই এটি সবার হাতের মুঠোয় পৌছে দেবে হাই এন্ড গেমিং এক্সপেরিয়েন্স।

যেহেতু এটি একটি ক্লাউড বেস্ড প্ল্যাটফর্ম  তাই একজন গেমার খুব সহজেই কোন ফিজিক্যাল ডিস্ক কিংবা ডাউনলোড এর হতাশাজনক অভিজ্ঞতা ছাড়াই যেকোন গেম তাৎক্ষনিকভাবে  খেলতে পারবেন যা লোড হতে সময় নেবে মাত্র ৫ সেকেন্ড। আর এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে শুধুমাত্র একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশন।

শুরুতে গুগল এই গেমগুলো ৪কে ৬০ এফপিএস এ এইচডিআর ও সারাউন্ড সাউন্ডসহ স্ট্রিম করবে। তবে পরবর্তিতে তারা ৮কে সাপোর্ট যোগ করারও পরিকল্পনা করছে।

স্টেডিয়াতে আপনি কী কী গেম খেলতে পারবেন?

২০১৮ সালে গুগল তাদের “প্রজেক্ট স্ট্রিম” নামের একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে অ্যাসাসিন্স ক্রিড অডিসি পরীক্ষামূলকভাবে ক্রোমের সাহায্যে গেমারদের খেলার ব্যবস্থা করে এবং তাতে সফল হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে অ্যাসাসিন্স ক্রিড সিরিজের সবগুলো গেমই স্টেডিয়ার মাধ্যমে খেলা যাবে।

যদিও গুগল এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন গেমের নাম প্রকাশ করেনি তবে স্টেডিয়া ঘোষণা করার দিন তাদের ডুম ইটার্নাল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে দেখা যায়। তাছাড়া স্টেডিয়ার কমার্শিয়ালে তারা এনবিএ ২কে১৯ এবং টুম্ব রেইডারকে বেশ ভালোভাবেই ফোকাস করে। তাই ধরেই নেয়া যায় এই গেমগুলো স্টেডিয়াতে থাকছে।

তাছাড়া একইদিনে গুগল তাদের নিজস্ব স্টুডিও পরিচালনারও ঘোষণা দেয় যার পরিচালনায় থাকছেন জেইড রেমন্ড। এই স্টুডিওর মাধ্যমে গুগল শুধুমাত্র তাদের স্টেডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্যই এক্সক্লুসিভ গেম তৈরি করবে। যদিও তারা আলাদাভাবে কোন গেমের নাম প্রকাশ করেনি।

স্টেডিয়াতে আপনি কীভাবে স্ট্রিম করবেন বা খেলবেন?

গুগল এখনও জানায়নি স্টেডিয়া দিয়ে স্বাচ্ছন্দে গেম খেলতে ঠিক কতটুকু ব্যান্ডউইড্থ প্রয়েজন তবে ধারনা করা যায় তাদের “ইন্সট্যান্ট অ্যাক্সেস” আর ৫ সেকেন্ডে গেম বুটের জন্য বেশ ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন হবে।

তবে গত বছর যখন গুগল তাদের বেটা “প্রজেক্ট স্ট্রিম” চালু করে তখন নূন্যতম রিকোয়ারমেন্ট ছিল ১৫ এমবিপিএস এবং লেটেন্সি ৪০ মিলিসেকেন্ড কিংবা তার কম। যদিও গুগল স্টেডিয়া আপনাকে হাই এন্ড পিসি বা কনসোল কেনার খরচ বাচিয়ে দেবে তবে মাসিক ইন্টারনেট ও স্টেডিয়ার সাবস্ক্রিপশনে বেশ ভালো অংকের একটি খরচ ঠিকই যুক্ত করবে। এখন আপনি কোনটি বাছাই করবেন সেটি পুরোপুরি আপনার উপর।

তারপরও ধরে নেয়া যাক আপনার ইন্টারনেট কানেকশন বেশ ভালো, গুগল স্টেডিয়ার মাধ্যমে আপনি যেকোন ডিভাইস যেমন স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন ইত্যাদির মাধ্যমে হাই এন্ড গেমে খেলার অ্যাক্সেস পাচ্ছেন যা আগে ধারণাও করা যেতনা। তাছাড়া গুগল জানিয়েছে স্টেডিয়ার মাধ্যমে আপনি সিমলেসলি ডিভাইস পরিবর্তন করে গেম খেলতে পারবেন, অর্থাৎ ফোনে আপনি যতদূর খেলেছেন আপনি সেখানে থামিয়ে পিসি, ল্যাপটপ কিংবা টিভিতে আপনার আইডি দিয়ে ঢুকলে ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে।

কোন কোন কনট্রোলার স্টেডিয়া সমর্থিত?

শুরুতেই স্টেডিয়া বেশ কিছু ব্লুটুথ কনট্রোলার সমর্থন করবে যার মাঝে সনি ও মাইক্রোসফটের কনট্রোলারও থাকছে। তাই সবাই ধারনা করছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সনির কনট্রোলার ডিএস৪ ও এক্সবক্স ওয়ান এস বা এক্স এর কনট্রোলার দুটি দিয়েই স্টেডিয়াতে আপনি গেম খেলতে পারবেন। এর বাইরেও শুটিং গেম কিংবা জেসচার বেস্ড গেমিং এর জন্য সনির বানানো গান ও অন্যান্য কনট্রোলারেরও সমর্থন পরবর্তিতে যুক্ত করা হবে। আর কীবোর্ড ও মাউসের সমর্থন তো থাকছেই!

এছাড়া গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব স্টেডিয়া কনট্রোলারেরও ঘোষণা দেয় যার মূল লেআউট ট্রেডিশনাল গেম কনট্রোলারগুলোর মত হলেও এক্সট্রা দুটি বাটন যুক্ত করা হয়েছে স্টেডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সক্লুসিভ ফিচার অ্যাক্সেস করার জন্য। দুটি বাটনের একটি হলো গুগল অ্যাসিসট্যান্ট যা আপনাকে ইন গেম গেম চ্যালেঞ্জ কিংবা পাজল পার করতে সহায়তা করবে। আর আরেকটি বাটন আপনাকে সরাসরি ইউটিউবে শেয়ার করার সুবিধা দেবে। আপনার ক্লিপের প্রাইভেসি কিংবা কীভাবে শেয়ার করবেন তার সম্পূর্ন অ্যাক্সেস আপনার কাছেই থাকবে। তাছাড়া গুগলের এই স্টেডিয়া কনট্রোলারটি ওয়াইফাই এর মাধ্যমে সরাসরি কানেক্টেড থাকবে। শুরুতে এটি সাদা, কালো এবং অ্যাকুয়া রং এ পাওয়া যাবে যা তাদের বর্তমান পিক্সেল লাইনআপের মত বলে সবাই ধারণা করছে।

স্টেডিয়া এবং ইউটিউব

গুগল জানিয়েছে স্টেডিয়ার সাথে ইউটিউব সরাসরি সংযুক্ত থাকবে। যখন আপনি কোন স্টেডিয়া সমর্থিত গেমের ভিডিও দেখবেন তখন একটি বাটনের মাধ্যমেই সরাসরি সেই গেমটি খেলতে পারবেন। শুধু তাই নয়, ভিডিওর যেই মুহূর্তে বা যেই স্টেইজে আপনি স্টেডিয়া চালু করবেন ঠিক সেখান থেকে খেলারও সুযোগ থাকবে। ইউটিউবের সাথে এই ইনটিগ্রেশন বলতে গেলে গেমিং এর ভবিষ্যৎ ডিফাইন করে।

তাছাড়া গুগল ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অডিয়েন্সকে আরো কাছে নিয়ে আসতে স্টেডিয়াতে  “ক্রাউড প্লে” ফিচারটি চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন ক্রিয়েটর কোন গেম স্ট্রিম করলে একজন অডিয়েন্স সরাসরি তার সাথে কিংবা তার বিপরীতে চ্যালেঞ্জ করে খেলার সুযোগ পাবে। তাছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ক্যাপচার, হাইলাইটস বা লাইভ স্ট্রিমের বেশ কিছু সুবিধা থাকছে স্টেডিয়াতে। এজন্য আপনার কোন হাই এন্ড গ্রাফিক্স কার্ড কিংবা ক্যাপচার কার্ডেরও প্রয়োজন হবেনা, সবকিছু থাকছে ক্লাউডেই।

তাছাড়া গেম খেলা অবস্থাতেই গুগল অ্যাসিসট্যান্টের মাধ্যমে আপনি গেমের ঠিক সেই মুহূর্ত কিংবা কঠিন কোন স্টেইজের ওয়াকথ্রু ভিডিও দেখতে পারবেন। শুধুমাত্র গুগল অ্যাসিসট্যান্টকে জিজ্ঞেস করলেই হবে, সে ভিডিওর মাধ্যমেই আপনাকে উত্তর দেবে।

কখন চালু হচ্ছে স্টেডিয়া?

গুগল এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন দিন বা তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে এতটুকু নিশ্চিত করেছে যে এই বছরেরই য যেকোন সময় ইউএস, কানাডা, ইউরোপ ও ইউকে তে গুগল স্টেডিয়া চালু হতে যাচ্ছে।

ঘোষণার পরপরই স্টেডিয়াকে গেমিং এর ফিউচার বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গুগল যা ঘোষনা করেছে তা যদি আসলেই করে দেখাতে পারে তাহলে এটি গেমিং ইন্ডাস্ট্রির পুরো কনসেপ্টই বদলে দেবে। গুগল স্টেডিয়ার পূর্ণ বিস্তারিত জানতে এক নজরে দেখে নিতে পারেন স্টেডিয়ার পুরো লঞ্চিং ইভেন্ট: