অফিসের বিভিন্ন কাজ কর্ম সারতে আমরা বিভিন্ন অফিস Suit এর ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এটা বলার আর কোনো উপায় রাখে না যে মাইক্রোসফট অফিস প্রোগ্রাম প্যাকেজটিকেই আমরা সাধারণত বেশিই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমাদের প্রায় ৮০% ই পাইরেটেড মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করে থাকি। কারণ মাইক্রোসফট অফিস কখনোই ফ্রি হিসেবে বাজারে আসে নি। আর আমি নিজেও আমার জীবনদ্দশায় কখনোই লেজিট ভাবে অফিস কিনে ব্যবহার করিনি।
তবে অনেকেই রয়েছেন যাদের “ক্ষুত” স্বভাব রয়েছে যে তারা কখনোই কোনো বেআইনি কাজ করে না। আর সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ভাবে তারা কোনো পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে না। আর আপনি যদি এই রকম মানুষ হয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনের তাগিদে অফিস ব্যবহার করা লাগলেও টাকা খরচ করতে চাচ্ছেন না তাদের জন্যই আমার আজকের এই পোষ্ট। তো চলুন দেখে নেই মাইক্রোসফট অফিসের কিছু বিকল্প সফটওয়্যারগুলোকে:

Google Docs, Sheets, Slide

আমরা সবাই গুগলকে কমবেশি চিনে থাকি তার সার্চ ইঞ্জিণের জন্য। তারপর জিমেইল বা গুগলের মেইল সার্ভিস আমরা অনেকেই বেশিরভাগ সময়ে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু গুগল টেকনোলজির প্রায় সব স্থানেই নিজের হাত রেখেছে। আর অফিস অ্যাপ্লিকেশন তাদের মধ্যে একটি অন্যতম। গুগলের নিজস্ব ওয়েব ভিক্তিক অ্যাপের সেট রয়েছে যেগুলোকে আপনি মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প হিসেবে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে আমার মতো যারা ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদের জন্য এটা একটা মাস্ট ট্রাই সফটওয়্যার।
ওয়েব ভিক্তিক ক্লাউড অফিসের সুবিধা হচ্ছে আপনি যেখানে সেখানে থেকেই এতে কোনো প্রকার ইন্সটালেশনের ঝামেলা ছাড়াই একসেস করতে পারবেন, আবার একই ভাবে এর অসুবিধা হচ্ছে এতে বিনা ইন্টারনেটে আপনি একসেস করতে পারবেন না।
এম এস ওর্য়াডের বিকল্প হিসেবে Google Docs , Powerpoint এর বিকল্প হিসেবে Goole Slides এবং এক্সেলের বিকল্প হিসেবে গুগলের রয়েছে Sheets । এছাড়াও অফিস স্যুটের মধ্যে রয়েছে Drawings, Forms ।
গুগলের এই সকল অ্যাপসকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে শুধুমাত্র আপনার একটি গুগল একাউন্ট লাগবে।
আর অফিসিয়াল একটি এক্সটেনশনের মাধ্যমে আপনার গুগল ড্রাইভের ফাইলসগুলোকে আপনি অফলাইনেও এডিট করতে পারবেন।

LibreOffice

প্রথম প্রথম এই অ্যাপটি OpenOffice হিসেবে বাজারজাত করা হয়, পরবর্তীতে “পলিটিক্যাল” কারণে এর নাম পরিবর্তিত করে নেওয়া হয়। তবে নাম যাই হোক, এই LibreOffice দিয়ে আপনি মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প হিসেবে সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন কারণ এটি হচ্ছে একটি ফ্রি সফটওয়্যার। আর গুগলের মতো এটা ব্যবহার করতে হলে আপনার কোনো প্রকার নেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। আর যারা যারা লিনাক্স ব্যবহার করেন সেখানে হয়তো বা ইতিমধ্যেই আপনি LibreOffice ব্যবহার করছেন! এই LibreOffice কে আপনি উইন্ডোজের সকল মর্ডান সংস্করণে, লিনাক্সে,ম্যাক ওএসয়ে এবং অ্যান্ড্রয়েডেও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অ্যান্ড্রয়েডে শুধুমাত্র ডকুমেন্ট ভিউ করতে পারবেন, এডিট করতে পারবেন না।

Office Online

আপনি যদি মাইক্রোসফটের বিকল্প না চান এবং অনলাইনে থাকাটা যদি আপনার জন্য কোনো সমস্যা না হয় তাহলে অবশ্যই আপনার অফিস অনলাইন ব্যবহার করা উচিত। আর মাইক্রোসফটের পণ্য বলে এর উপর ভরসাও আপনি রাখতে পারছেন। বলতে গেলে বলা যায় যে মাইক্রোসফট অফিসের ওয়েব সংস্করণ হচ্ছে এই Office Online । মনে এটা হচ্ছে মাইক্রোসফট ওর্য়াড, পাওয়ারপয়েন্ট, এক্সেল, ওয়াননোট, Sway, Flow ইত্যাদির ক্লাউড ভিক্তিক সংষ্করণ যেগুলোকে আপনি আপনার মাইক্রোসফট একাউন্ট দিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে একে Office 365 এর সাথে মিলিয়ে নিলে ভূল করবেন না কারণ সেটায় রয়েছে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি।

WPS Office

গুটিকয়েক অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে আপনি আগে থেকেই প্রিইন্সটল করা অবস্থায় এই WPS Office স্যুটকে দেখতে পাবেন। বছরখানেক আগে এটা Kingsoft Office নামে ছিলো, পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে আপনি WPS Office 2016 সংস্করণকে পিসির জন্য ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন তবে মনে রাখবেন ইন্টারনেট অন করে এটা ব্যবহার করলে বেশ ঘন ঘনই বিজ্ঞাপনের সম্মুখিন হবেন আপনি। এই WPS Office এর মধ্যে পাবেন একটি ওর্য়াড প্রসেসর, স্প্রেডশিট এবং একটি প্রেজেন্টেশন মেকিং অ্যাপ। আর এটি দেখতেও অনেকটা এমএস অফিসের মতো।
আর অনান্য স্যুটের মতো এখানে আপনি পাবেন Cloud Sync ফিচার যেটার মাধ্যমে আপনি সকল ডিভাইসেই WPS Office দিয়ে একই ফাইল এডিট এবং ভিউ করতে পারবেন। এগুলো ছাড়াও এতে রয়েছে বিল্ট ইন Word to PDF কনভার্টার তবে এটা দিয়ে লিমিটেড কিছু কনভার্টটেশন করতে পারবেন। মূল কথা হচ্ছে এটার ফ্রি ভার্সন আমাদের আম জনতাদের জন্য যথেষ্ট হবে, তবে আপনি চাইলে পেইড সংস্করণেও যেতে পারেন।

Apple iWork

আমরা সবাই জানি যে কনজিউমার অপারেটিং সিস্টেম ক্ষেত্রে অ্যাপল সব সময়ই একজন কড়া প্রতিযোগী হিসেবে ছিলো। আবার অন্য দিকে মাইক্রোসফটের অফিসের প্রতিযোগী হিসেবে অ্যাপল তাদের নিজস্ব অফিস স্যুট Apple iWork বানিয়েছে। iWork কে আপনি শুধুমাত্র ম্যাক ওএসেই ব্যভহার করতে পারবেন এবং এটি কিন্তু সম্পূর্ণ ফ্রিতেই ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন, তবে মনে রাখতে হবে যে মাইক্রোসফট অফিসের অনেক ফিচারই এতে নেই।
তবে iWork এ রয়েছে Word Processing, Spreadsheets এবং একটি Presentation সফটওয়্যার।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই iWork কে এতটাই সহজ ভাবে বানানো হয়েছে যে যারা এমএস অফিস থেকে এটায় আসবেন তাদের কাছে উল্টে iWork ই কঠিন মনে হবে। এটা ছাড়া ম্যাকের জন্য এমএস অফিসের একটি বিকল্প হিসেবেও এটাকে ব্যবহার করতে পারেন। আমার কাছে একে Mini Office ই বলে মনে হয়।

Calligra Office

২০১০ সালে KOffice স্যুট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পরবর্তীতে ওপেন সোর্স স্বাধীন সফটওয়্যার হিসেবে Calligra Office বাজারজাত করে আসছে। এই ওপেন সোর্স সফটওয়্যারটি Qt Toolkit ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। বলতে গেলে বলা যায় যে LibreOffice এর থেকেও বেশি সফটওয়্যার রয়েছে এতে, কিন্তু সেটার মতো “ফিচার” এতে নেই। আর তাই আমাদের আজকের লিস্টের প্রায় শেষের দিকে রয়েছে Calligra Office ।
আপনি যদি ফ্রি এবং সিম্পল অফিস স্যুট চান যেখানে Extra সফট যেমন Flowcharts, database Management, image manipulation থাকবে তাহলে মাইক্রোসফট অফিসের সেরা অল্টারনেটিভ হিসেবে আমার সাজেস্ট থাকবে Calligra Office ।

DropBox Paper

প্রায় বেশ কয়েক বছর ধরেই আপনি ড্রপবক্স ব্যবহার করে আসছেন গুগল ড্রাইভ বা অনান্য অনলাইন ড্রাইভের বিকল্প হিসেবে। আর এবার ফাইল স্টোরের পাশাপাশি ড্রপবক্সের নিজস্ব মাইক্রোসফট অফিস এবং গুগল ডকসের বিকল্প অ্যাপ এনেছে। এটায় আপনি ডকুমেন্ট এডিট, ক্রিয়েট করতে পারবেন, বন্ধুদের সাথে সবসময় Sync থাকতে পারবেন। এর নাম হচ্ছে DropBox Paper।
তবে এটি হচ্ছে একটি ওয়েব ভিক্তিক ওর্য়াক প্লাটফর্ম। মানে নেট সংযোগের মাধ্যমেই আপনাকে এই অ্যাপটি উপভোগ করতে হবে। তবে মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প হিসেবে আমি একে ব্যবহার করতে বলছি না কারণ এতে পাওয়াপয়েন্ট এবং এক্সেলের মতো কোনো অ্যাপ দেওয়া নেই। যদি আপনি On-the-Go এমএস ওর্য়াড বা গুগল ডকসের বিকল্প কিছু ব্যবহার করতে চান তাহলে DropBox Paper ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

Avatar
Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.