আজ একটি সত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি । আর সেটি হলো স্মার্টফোনের কেইস (Case) । এই পোষ্টটি আমার অনেকদিন ধরেই করার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু বর্তমানের টেকনোলজির উপর লক্ষ্য রেখে কিছুদিন ওয়েট করলাম (১ বছর)। এবার মনে হলো এখন সঠিক সময় এসেছে এই নিয়ে কিছু কথা বলার।
প্রথমত বলি আপনার স্মার্টফোনটি কিন্তু একটি “স্মার্ট” ফোন! একে কেইস দিয়ে কভার করার জন্য কিন্তু একে বানানো হয়নি। লক্ষ্য করে দেখুন আগের কার দিনের বাটন ফোনগুলোতে কিন্তু কোনো কভার লাগানো সিস্টেমটাই ছিলো না! Nokia N95 তখনকার দিনে ৬০/৭০ হাজার টাকা দিয়ে মানুষ কিনতো এবং কভার ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতো! কিন্তু বর্তমানে ৫/৬ হাজার টাকার নরমাল স্মার্টফোনেও মানুষ মোটামোটা কেইস ব্যবহার করছে! আজকের পোষ্টে কেন আপনার কেইস ব্যবহার করা উচিত নয়, এবং কেন করা উচিত এই দুটি বিষয়েই কথা বলতে চেষ্টা করবো। শুরুতে আমার কথাই বলি।

ভূমিকা

আমার মামা ১৯৯০ সাল থেকে আমেরিকায় স্বপরিবারে থাকেন। তিনি আমাদের পরিবারের একমাত্র লোক যিনি কিনা সকল আইফোন চালিয়েছেন। সকল বলতে সেই 2007 সালের অরিজিনাল আইফোন সহ। আমার মনে আছে তখন আমি ক্লাস ৬ এ পরি। মামা দেশে আসায় অরিজিনাল আইফোনকে আমি বাস্তবে টেপার সুযোগ পেয়ে যাই। সেটায় কোনো অ্যাপ স্টোর ছিলো না, ছিলো না কোনো পিকচার মেসেজিং করার সুযোগ । আর সেটায় শুধুমাত্র আমেরিকার AT&T সিমগুলো চলতে পারতো, তাই বাংলাদেশে আসার পর এটার সিমও কাজ করছিলো না। সেটাকে মামা তখনকার সময়ে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। আমার মামা iPhone 4 কেনার জন্য প্রায় দেড় দিন ধরে লাইনেও দাড়িয়েছেন।
তিনি তার আইফোনে কভার ব্যবহার করা ছেড়ে দেন iPhone 4S থেকে আর সেখান থেকেই প্রায় প্রতিটি আইফোনেরই স্ক্রিণকে ফাটিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটা শুরু করে iPhone 7 থেকে। মানে টেকনিক্যালি আইফোন ৭ থেকে আর মামার কোনো সমস্যা হয়নি কেইস না ব্যবহার করলেও। অর্থ্যাৎ সময়ের সাথে সাথে এই ফোনগুলোর ডিউরাবিলিটিও বৃদ্ধি পেয়েছে। মামা এখন iPhone XS Max কোনো প্রকার কভার ছাড়াই ব্যবহার করছেন।

উনার মূল কথা হচ্ছে, বর্তমানের স্মার্টফোনে গরিলা গ্লাসের বেশ ভালোই প্রটেকশন দেওয়া থাকে। সেখানে আপনাকে কোনো প্রকার ডিসপ্লে প্রটেক গ্লাস বা কভারও ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না, তাহলে কেন শুরু শুধু কেইস ব্যবহার করবেন?

বর্তমানে হাত ঘড়ি জিনিসটা প্রয়োজনের থেকে ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে ঠিক তেমনি স্মার্টফোনে কেইস ব্যবহার করাটাও এখন ফ্যাশন ছাড়া তেমন কিছু নয়।

আমি কেন কেইস ব্যবহার করি না

১) সেট গরমা গরম!

Smartphone is burning on a table on a blue background

আমার সেটে আমি কেন কেইস ব্যবহার করি না তার প্রথম কারণ হচ্ছে Device Heat ইস্যুতে আমাকে প্রতিনিয়তই পড়তে হয়। বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়া এই দেশগুলো হচ্ছে একটি গরম গরম আবহাওয়ায় দেশ। যেখানে আমেরিকায় বেশ শীতই থাকে সারা বছর।
কিন্তু এই গরমের দেশে আপনি যদি আপনার ডিভাইসের উপর কেইস ব্যবহার করেন তাহলে দেখবেন কোনো কিছু না করেই আপনার ডিভাইসে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থেকেই যায়। বিশেষ করে ডিভাইসটি যখন আপনার পকেটে থাকে তখন আপনার প্যান্টের আবরণের উপর আবার কেইসের আবরণ থাকে, তাহলে বুঝুন ডিভাইস কতটা হিটআপ হয়।
এই হিটআপের কারণেই ইন্ডিয়ায় আইফোনের মতো ব্রান্ডের ডিভাইস বিস্ফোরিত হয়ে যায়! আর সেট গরম হলে বর্তমানের স্মার্টফোনে বিশেষ AI ফিচার থাকে যেটার কারণে আপনার ডিভাইসের পারফরমেন্স অনেক কমিয়ে দেওয়া হয় ডিভাইসকে ঠান্ডা করার জন্য, আবার চার্জ দেওয়ার সময়েও ডিভাইস অতিরিক্ত হিটআপ হলে চার্জিং স্পিডও আপনাআপনি কমিয়ে দেওয়া হয়।

২) ফিচারে সমস্যা:

অনেক সময় দেখা যায় যে কভারে বা কেইসগুলোতে এমন এমন উপাদান ব্যবহার করা হয় যেটার কারণে আপনার ডিভাইসে কিছু কিছু ফিচার সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। যেমন আপনার কেইস যদি ম্যাগনেট থাকে তাহলে আপনার ডিভাইসের গাইরোমিটার এবং Accelerometer সঠিক ভাবে কাজ করবে না। আর ভারী কোনো কেইস ব্যবহার করলে তো আপনি সঠিকভাবে Google Map ও ব্যবহার করতে পারবেন না!

৩) ডিজাইন লুকানো!

অনেকেই আছেন যারা মোবাইলের পারফরমেন্স কিংবা ফিচারের কারণে ডিভাইসকে কিনে থাকেন না, এর ডিজাইন এবং ব্রান্ডের কারণেই একে কিনে থাকেন। কিন্তু কেইস কিংবা স্কিণ লাগলে আপনার ডিভাইসের ডিজাইনকেও এর নিচে নিচে আপনি ঢেকে রাখেন । আমি তাদের মধ্যেই একজন। আমার কথা হচ্ছে, ভাই আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে সুন্দর ডিজাইনের একটি ডিভাইস কিনলাম, মোটা কেইস দিয়ে ঢাকার জন্য নাহ!

৪) মোটা ও ভারী:

বর্তমান যুগের বাজেট স্মার্টফোনগুলো দিন দিন চিকন এবং হালকা হয়ে যাচ্ছে । আর ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসের কথা তো নাই বললাম। ধরুণ একটি ১৪০ গ্রামের স্মার্টফোনে আপনি নরমাল প্রটেকটিভ কেইস ব্যবহার করলেই সেটা ২০০ গ্রামের উপরে ওজন চলে যায় আর ডিভাইসটি সাইজেও মোটা হয়ে যায়। আর মোটা স্মার্টফোন হাতে রাখতে এবং পকেটে ভরে রাখতে গেলেও আপনার সমস্যা হবে।

৫) ১০০% প্রটেকটিভ?????

আমরা কেইস ব্যবহার করি কোন কারণে? এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের দামী ডিভাইসের সিকুরিটি নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার জন্য। যদি কোনো ভাবে হাত থেকে পড়ে গেলে বা একসিডেন্ট হলে যাতে আপনার ডিভাইসটি অক্ষত এবং সুরক্ষিত থাকে সেটার জন্যই আমরা কেইস ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু মনে রাখবেন কোনো কেইস ই কিন্তু ১০০% প্রটেকটিভ নয়। আর যেহেতু ১০০% প্রটেকটিভ নয় তাহলে এত ঝামেলা কেন পোহাতে যাবেন?

৬) দামী!

এমন এমনও কেইস আছে যেটার দাম হাজার ডলার পর্যন্ত উঠে থাকে। আপনি যদি ২০০/৩০০ টাকার সস্তা কেইস ব্যবহার করেন তাহলে সেটা তো কোনো প্রকার Protection তো দিতেই পারবে না বরং সেটা থেকে ফোনে গন্ধ সহ বেশ সমস্যা তৈরি হবে।

৭) কল ড্রপ?

যারা ফ্লিপ কভার ব্যবহার করেন তারা দেখবেন যে আপনি কল এর মাঝখানে কলড্রপের শিকার হচ্ছেন। কারণ ফ্লিপ কভারের মাঝে থাকা ম্যাগনেটিভ ধাতুগুলো আপনার ডিভাইসের সিম সিগন্যালকে কমিয়ে দেয়, আবার মোটা মেটাল কিংবা চামড়ার কভার ব্যবহার করলেও আপনি দেখবেন যে তুলনামূলকভাবে কম WiFi সিগন্যাল পাচ্ছে।

পরিশিষ্ট

তাহলে বুঝতেই পারছেন কেন আমি কেইস ব্যবহার করি না। কিন্তু আমার মতো সবাই আবার কেইস খুলে রেখে দেবেন না। কারণ সবার সিচুয়েশন আমার মতো হবে এটা কিন্তু গ্যারান্টিড নয়। অনেকেই রয়েছে যারা বাইরে বাইরে থাকেন যেমন হোন্ডায় থাকেন বা অলওয়েজ জার্নিতে থাকেন, এবং তাদের হাত থেকে ডিভাইস ফসকে যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাদের জন্য আমি বলবো যে আপনি অবশ্যই কেইস ব্যবহার করুন। কারণ ১০০% না হলেও কিছুটা হলেও ডেমেজ থেকে আপনার ডিভাইস বেঁচে যাবে। এছাড়াও যাদের ডিভাইস পুরোনো হয়ে গিয়েছে, রংচং উঠে গিয়েছে এবং কোনো কারণবশত আপনাকে এই ডিভাইসটিকেই আরো কিছুদিনের জন্য ব্যবহার করতে হবে তাহলেও আপনি এই পুরোনো ডিজাইনকে লুকানোর জন্যে হলেও কেইস ব্যবহার করতে পারেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন যে, যে সকল ডিভাইসের বক্সের সাথে কোম্পানি থেকে কেইস দিয়ে দেওয়া হয় আপনি সেগুলোকে কোনো চিন্তা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারেন।

Avatar
Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.