কম্পিউটার কিন্তু একটি পার্টের ডিভাইস নয়। বিভিন্ন পার্টস একত্রিত হয়েই একটি কম্পিউটার গঠিত হয়। এটা ল্যাপটপ, ডেক্সটপ সকল ক্ষেত্রেই বলা যায়। ডেক্সটপের ক্ষেত্রে আমরা মনিটর আর সিপিইউ বক্সকে চোখের সামনে দেখতে পাই। তবে সিপিইউ বক্সের ভেতরেই রয়েছে একটি কম্পিউটারের মূল পার্টসগুলো। আর আমাদের অনেকেই সিপিইউ বক্সের এই ভেতরের যন্ত্রাংশগুলোর সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। আজ আমি একটি কম্পিউটার CPU বক্সের ভেতরের সকল যন্ত্রাংশের ভিজুয়্যাল বর্ণনা বা ছবি সহ বর্ণনা দিতে চেষ্টা করবো। তবে উল্লেখ্য যে এই পোষ্টটি তৈরি করতে আমাকে  PCGAMER ওয়েবসাইটের সাহায্য নিতে হয়েছে। মূল ইংরেজি ওয়েবসাইটের লিংক পোষ্টের শেষে দেওয়া রয়েছে। আমার আজকের এই পোষ্টটি লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে অনেকেই কম্পিউটার সিপিইউ বক্সের ভেতরের অংশ বা যন্ত্রাংশের ব্যাপারে সাধারণ জ্ঞান নেই। কিন্তু অন্তত এই সিপিইউ বক্সের ভেতরের যন্ত্রাংশের উপর সাধারণ জ্ঞান আমাদের সবারই থাকা উচিত বিশেষ করে যারা বাসায় পিসি বা পারসোনাল কম্পিউটার চালাই। এতে করে কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দিলে বা কম্পিউটার নস্ট হয়ে গেলে সার্ভিস সেন্টারে যাবার আগে যাতে নিজে নিজেই বুঝতে পারবো কোথায় সমস্যাটা হয়েছে। তো চলুন দেখে নেই একটি কম্পিউটারের সিপিইউ বক্সের ভিতরে কি কি যন্ত্রাংশ থাকে, তবে উল্লেখ্য যে এগুলোর সব যন্ত্রাংশই আপনার কম্পিউটারে নাও থাকতে পারে, যেমন আপনি যদি এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ড না ব্যবহার করে থাকে তাহলে সেটা আপনার পিসিতে থাকবে না কিন্তু এই গাইডে থাকবে।

AHCI

এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Advanced Host Controller Interface । এটা একটি পুরোনো স্টোরেজ প্রোটোকল যা মেকানিক্যাল হার্ডডিক্সের জন্য বানানো হয়েছিলো। বর্তমানের অধিকাংশ (৯০%) পিসিতে এটা আপনি পাবেন না।

Air cooling

সিপিইউ, মাদারবোর্ড এবং গ্রাফিক্স কার্ডের নিজস্ব heat sinks যখন CPU, Motherboard, GPU কে হেভি ইউজের সময় ঠান্ডা রাখতে পারে না তখন এদের কে ঠান্ডা রাখার জন্য Air Cooling ব্যবহৃত হয়। প্রায় প্রতিটি সিপিইউ বক্সের ভেতর নুন্যতম একটি থেকে একাধিক এয়ার কুলার ফ্যান সিস্টেম করা যায়। ভালো ডিজাইন এবং উচ্চমূল্যের এয়ার কুলার ফ্যানগুলো চলার সময় কোনো প্রকার শব্দের সৃষ্টি করে না। তবে বর্তমানের প্রিমিয়াম লেভেলের কম্পিউটারগুলোতে লিকুইড কুলিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

Anti-static bag

এটা এক ধরণের বিশেষ ফয়েল ব্যাগ যা ইলেক্ট্রিক যন্ত্রাংশের Static Discharge জাতীয় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে থাকে। দামি কম্পিউটার যন্ত্রাংশগুলো সবসময়ই এই Anti-static ব্যাগে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবেন।

APU

APU এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Accelerated Processing Unit । এটা AMD এর CPU/GPU একত্রকরণ প্রজেক্টের নাম। এগুলো বাজেট এবং মিডরেঞ্জ গেমিং পিসির জন্য লক্ষ্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। APU যুক্ত একটি পিসি তুলনামূলক ভাবে ইন্টারনাল গ্রাফিক্স যুক্ত একটি পিসির থেকে ভালো পারফরমেন্স উপহার দিতে পারবে।

ATX power connector

নামেই বুঝতে পারছেন এটা একটি কানেক্টর। এটার মাধ্যমে মাদারবোর্ডের সাথে অনবোর্ড কনট্রোলারদেরকে সংযুক্ত করা হয়। এটা সাধারণত ২০টি বা ২৪টি পিনযুক্ত Molex Connector এর মাধ্যমে গঠিত হয়ে থাকে।

Audio connector panel

মাদারবোর্ডের এই I/O প্যানেলে আপনি পাবেন বিভিন্ন অডিও সিস্টেম কানেক্ট করার সিস্টেম। একে Audio connector panel বলা হয়। এতে এনালগ হেডফোন জ্যাক, লাইন আউট, unamplified লাইন ইন, মাইক কানেক্টর এবং ডিজিটাল S/PDIF কানেক্টশন থাকে। উল্লেখ্য যে ডিজিটাল হেডফোনগুলো এখন USB কানেক্টটর ব্যবহার করে থাকে।

BIOS

Basic Input and Output System বা BIOS হচ্ছে মাদারবোর্ড বা গ্রাফিক্স কার্ডের অপারেটিং সিস্টেম। এখান থেকে আপনি মাদারবোর্ড / গ্রাফিক্স কার্ডের বিভিন্ন ফাংশনকে ম্যানেজ, কনট্রোল করতে পারবেন। তবে উল্লেখ্য যে অপেক্ষাকৃত পুরোনো পিসিতে BIOS ব্যবহৃত হয় এবং নতুন পিসি/ল্যাপটপে UEFI স্ট্যান্ডার্ডের নতুন স্পেসিফিকেশন ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে UEFI স্ট্যার্ন্ডাডের ফার্মওয়ারগুলোতে UEFI এবং BIOS দুটোই ব্যবহার করার সিস্টেম রয়েছে।

BGA socket

আগের যুগের কম্পিউটারের প্রসেসরগুলোতে পিনযুক্ত PGA ডিজাইন ব্যবহার করা হতো, কিন্তু বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটার প্রসেসরগুলোতে বিশেষ করে ইন্টেলের কোর আই ৫ / কোর আই ৭ প্রসেসরগুলোতে BGA socket ব্যবহার করা হয়।

Case

যে চেসিসে একটি কম্পিউটারের সকল ইন্টারনাল যন্ত্রাংশগুলো স্টোর করা থাকে থাকে কেইস বলে। এটাকে অনেকেই CPU বলে থাকেন সহজে বোঝার জন্য কিন্তু এটা ভূল তথ্য। কেইস বিভিন্ন ধরণের বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে কেইসের দাম বা সাইজের উপর কম্পিউটারের পারফরমেন্স নির্ভর করবে না। তবে বর্তমানে “ফ্যাশনের” তাগিদে অনেকেই লাইটিংযুক্ত দামি কেইস ব্যবহার করে থাকেন।

Chipset

CPU, Chipset এবং Motherboard কিন্তু এক জিনিস নয়। কিন্তু এইসবগুলোকে একই জিনিস ভেবে অনেকেই ভূল করে থাকি।  একটি মাদারবোর্ড সঠিক ভাবে ফাংশন করার মাদারবোর্ডের বিভিন্ন integrated circuits এর উপর নির্ভর করে থাকে। এই integrated circuits গুলোকেই বলা হয় চিপসেট। একটি চিপসেটের উপর কম্পিউটারের বিভিন্ন পারফরমেন্স ইস্যু নির্ভর করে থাকে। যেমন সিস্টেম পারফরমেন্স, মেমোরি সার্পোট, ওভারক্লকিং, বিভিন্ন এক্সপেনশন সার্পোট এবং সিপিইউ কম্পাবিলিটি। প্রিমিয়াম  প্রসেসর কাজ করার জন্য বর্তমানে প্রিমিয়াম চিপসেটের দরকার পড়ে।

CMOS

CMOS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Complimentary Metal-Oxide Semiconductor । পারসোনাল কম্পিউটারের বিভিন্ন চিপস, ইমেজ সেন্সর এবং এনালগ সার্কিট তৈরি করতে CMOS টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। CMOS টেকনোলজির যন্ত্রাংশগুলো সাধরণত heat এবং electronic static efficient হয়ে থাকে। CMOS টেকনোলজির সবথেকে কমন যন্ত্র হচ্ছে CMOS ব্যাটারি। অপেক্ষাকৃত পুরোনো মডেলের মাদারবোর্ডে CMOS ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, এই ব্যাটারিতে মাদারবোর্ডের সকল সেটিংসগুলোকে সংরক্ষণ করা হয়। CMOS ব্যাটারি খুলে নিলে মাদারবোর্ডের সকল “ডিফল্ট” সেটিংস রিসেট হয়ে যায়।

Core

একটি প্রসেসরের Computational Center কে কোর বলা হয়। একটি প্রসেসরে যত বেশি কোর থাকে প্রসেসরটি ততবেশি পারফরমেন্স দিতে পারবে। বর্তমানে কনজিউমার লেভেলে সিঙ্গেল কোর থেকে ১৮ কোরের প্রসেসর পাওয়া যায়।

CPU

একটি প্রসেসরের মূল ইঞ্জিনকে সিপিইউ বা Central Processing Unit বলা হয়।

CPU mounting plate

বর্তমান যুগের Heat Sinks এবং Cooling Systems এর সাইজ বাড়তে থাকায় মাদারবোর্ডে সিপিইউ লাগানোর সময় ডেমেজ এড়াতে CPU mounting plate ব্যবহৃত হচ্ছে।

CPU power header

CPU power header হচ্ছে একটি সকেট যেটায় ৮ পিন বিশিষ্ট EPS পাওয়ার ক্যাবল লাগানো যায় যেটা সিপিইউকে দরকারের সময় প্রয়োজনে Wattage সরবরাহ করে থাকে।

CPU socket

মাদারবোর্ডের যে অংশে সিপিইউকে শক্ত ও মজবুতভাবে লাগানো যায় সেটাকে CPU socket বলা হয়। এটা সাধারণত লেভেল আর্ম এবং ক্লিপ বা স্ক্রুয়ের মাধ্যমে বানানো হয়ে থাকে। কোম্পানি ভেদে CPU socket ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন ইন্টেল LGA1151 বা LGA2066 সকেট ব্যবহার করে থাকে আবার AMD ব্যবহার করে থাকে AM4 সকেট (Ryzen এর জন্য)

Crossfire

একটি পিসিতে একাধিক AMD গ্রাফিক্স কার্ড একত্রে কাজ করার সিস্টেম কে Crossfire বলা হয়। ক্রসফায়ার কাজ করার জন্য সার্পোটেড মাদারবোর্ড, একই ধাঁচের গ্রাফিক্স কার্ড এবং Crossfire ক্যাবলের প্রয়োজন হয়। তবে ক্রসফায়ারের অনেকগুলো অসুবিধা থাকে, যেমন বেশ উচ্চমাপে পাওয়ার ইউসেজ, কিছু কিছু গেমস ক্রসফায়ার সেটআপ সার্পোট করে না, গ্রাফিক্স ড্রাইভারের গ্লিচ সহ বিভিন্ন অসুবিধা রয়েছে এতে।

DisplayPort connector

কম্পিউটার ডিসপ্লে কানেক্টটর হিসেবে HDMI এর কিছু সমস্যার সমাধাণ হিসেবে DisplayPort connector ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটা একটি হাই পারফরমেন্সযুক্ত ডিজিটাল ভিডিও কানেক্টটর। এটা কয়েকবছরের পুরোনো সিস্টেম হলেও 3840×2160 রেজুলেশনের 60Hz এর ডিসপ্লে সরবরাহ করতে পারতো।

Ram

Random Access Memory বা র‌্যামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। কম্পিউটারের যাবতীয় কাজগুলোকে দ্রুত এবং একই সাথে একাধিক টাস্ক করার বিষয়টি র‌্যামের সাথে সংযুক্ত থাকে। একটি পিসিতে যত বেশি র‌্যাম থাকবে পিসিতে আপনি যত বেশি পরিমাণের মাল্টিটাস্কিং করতে পারবেন। বর্তমান যুগের ভিডিও গেমস এবং মাল্টিমিডিয়া কাজের জন্য আলাদা করে নুন্যতম র‌্যাম রিকোয়ারমেন্টস দিয়ে দেওয়া থাকে।

Drive bay

সিপিইউ কেইসে যে অংশে বিভিন্ন প্রকার ডাটা ড্রাইভ বা অনান্য ডিভাইস রাখার ব্যবস্থা করা হয় সেটাকে Drive bay বলে। যেমন কেইসে ডিভিডি ড্রাইভ রাখার স্থান, হার্ডডিক্স রাখার স্থান ইত্যাদিকে Drive bay বলা হয়।

DVI connector

DVI connector বা Digital Video Interface কানেক্টর দিয়ে অপেক্ষাকৃত পুরোনো আমলের মনিটরকে সিপিইউয়ের সাথে কানেক্ট করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এটা অতি পুরোনো VGA কানেক্টরের আপগ্রেড হিসেবে বাজারে এসেছিলো, পুরোনো হলেও (২০০৮ এর মডেল) এখনো অনেক মনিটরেই আপনি এই DVI ডিজাইনটি দেখতে পাবেন। তবে উল্লেখ্য যেHDMI এবং DisplayPort অডিও সিগন্যাল বহন করলেও DVI connector কোনো প্রকার অডিও সিগন্যাল বহন করে না।

Ethernet

সহজ ভাষায় আপনার পিসিতে ব্রডব্যান্ড লাইনের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে যে সিস্টেমটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তাকে Ethernet বলা হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে পিসি সেক্টরে Ethernet ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

GDDR

Graphics Random Access Memory । বর্তমানের মর্ডান গ্রাফিক্স কার্ডে ব্যবহৃত RAM কে GDDR বলা হয়। এর সবথেকে লেটেস্ট স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে GDDR6 যা এনভিডিয়ার জিফোর্স ২০০০ সিরিজের সাথে কিছুদিন আগে লঞ্চ হয়েছে।

GPU

প্রসেসর আর সিপিইউ এর মধ্যে নাম নিয়ে আমরা যেমন অধিকাংশ সময়ে গুলিয়ে ফেলি ঠিক সেভাবেই জিপিইউ আর গ্রাফিক্স কার্ড নিয়েও গুলিয়ে ফেলি। GPU আর Graphic Card এক নয়। বরং একটি গ্রাফিক্স কার্ডের সাবসিস্টেমকে যে চিপ কনট্রোল করে থাকে তাকে GPU বা Graphics Processing Unit বলা হয়।

Graphics card

কম্পিউটারে হাই লেভেলে 3D গেমস এবং মাল্টিমিডিয়া কাজ করার জন্য গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মর্ডান কম্পিউটারগুলোর সিপিইউতেই Integrated গ্রাফিক্স থাকলেও এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ডের মতো পাওয়ার এবং পারফরমেন্স তারা দিতে পারে না। মাদারবোর্ডের আলাদা PCI-E স্লটে গ্রাফিক্স কার্ড বসানো হয়ে থাকে। একটি পুরো মাদারবোর্ডের সকল যন্ত্রাংশের থেকেও বেশি বিদ্যুৎ একটি সিঙ্গেল গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করে থাকে, তাই অনেক সময় গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহারের উন্নত মানের PSU ব্যবহার করতে হয়।

Heat spreader

একটি প্রসেসরের ইন্টারনালের উপর যে মেটাল ক্যাপ দেওয়া তাকে তাকে Heat spreader বলা হয়। অনেকেই এই Heat spreader কে সরিয়ে নিয়ে আলাদাভাবে ইন্টেল বা অনান্য কোম্পানির থার্মাল ইন্টারফেস মেটারিয়াল ব্যবহার করে থাকেন, এতে উক্ত প্রসেসরের ওভারক্লকিং আরো বৃদ্ধি করা যায় এবং পারফরমেন্স বাড়িয়ে নেওয়া যায়। এই জাতীয় প্রসেসরগুলোকে বলা হয় Delidded CPU আর এতে কোনো প্রকার ওয়ারেন্টিং থাকে না। (এটাকে অনেকটা মডিফাইড প্রসেসর বলা চলে)

Hot swap

কম্পিউটার বন্ধ না করেই যে সকল যন্ত্রাংশগুলো মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত বা বিচ্ছিন্ন করা যায় তাদেরকে “Hot Swappable Components” বলা হয়। যেমন ডিভিডি ড্রাইভ।

Header

একটি লজিক বোর্ডের উপর বসানো পিনসেটকে Header বলা হয়। এগুলো জাম্পার বা রিবন ক্যাবলের সাহায্যে চালু এবং বন্ধ করা যায়।

Heat sink/Radiator

একটি প্লেটের উপর মেটাল Fins সিরিজকে Heat sink/Radiator বলা হয়। এটা পিসি কম্পোনেন্টের উপর বসানো হয়ে থাকে যাতে কম্পোনেন্টটি যথাযথ তাপমাত্রার ভেতর থাকতে পারে। Heat sink/Radiator এর সাথে ব্যবহার করার হয় থার্মাল পেস্ট (অনেকটা টুথপেস্টের মতো)। চাঁদ যেমন নিজে নিজেই সুর্য ছাড়া আলোকিত হতে পারে না ঠিক তেমনটি Heat sink/Radiator কে সঠিক ভাবে কুলিং কাজ করার জন্য কুলিং ফ্যান বা লিকুইড কুলিংস সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

iGPU

Integrated GPU এর শর্টফর্ম হচ্ছে iGPU। বর্তমানের মর্ডান ল্যাপটপগুলোতে iGPU ব্যবহার করা হয়ে থাকে যাতে সেখানে মিডরেঞ্চের পারফরমেন্স দেওয়া যায়। iGPU টি সিস্টেম র‌্যামের উপর নির্ভর করে থাকে এবং সিপিইউ থেকেও রিসোর্স ব্যবহার করে।  তাই iGPU যুক্ত কোনো ল্যাপটপ কেনার আগে সাধ্যমত বেশি র‌্যামযুক্ত মডেলটিই কেনা উচিত।

I/O plate

মাদারবোর্ডের যাবতীয় I/O যন্ত্রাংশগুলোর আউটপুট বহন করার জন্য যে প্যানেল ব্যবহৃত হয় তাকে I/O plate বলে। সাধারণ কম্পিউটার সিপিইউ কেইসের পেছনের দিকে এই I/O plate টি কাটআউট করা হয়ে থাকে।

LAN/Ethernet RJ45 jack

LAN/Ethernet ক্যাবলগুলো যে পোর্টে লাগানো হয় তাকে LAN/Ethernet RJ45 jack বলে।

LED case illumination

কেইস, ফ্যান এবং অনান্য কম্পোনেন্টেসে যখন LED লাইটিং ব্যবহার করা হয় তখন সেটাকে অফিসিয়াল ভাবে LED case illumination বলা হয়। অধিকাংশ সময় ডিজাইন ও ফ্যাশনের জন্যে ব্যবহৃত হলেও রাতের বেলায় সিস্টেম ইন্টারনালস গুলো সঠিক ভাবে কাজ করছে কিনা সেটা দেখার জন্য এই LED case illumination সিস্টেমটি মূলত ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

M.2

ছোট পরিসরে হার্ডডিক্স ও সলিড ডিক্স ড্রাইভের থেকেও দ্রুতগতির পারফরমেন্স দেবার জন্য প্রিমিয়াম গেমিং পিসিতে আজকাল M.2 Drives ব্যবহৃত হয়ে থাকে। M.2 ড্রাইভগুলো দেখতে অনেকটা র‌্যাম কার্ডের মতো কিন্তু চলার সময় এগুলো বেশ গরম হয়ে থাকে তাই এদেরকে ঠান্ডা রাখার জন্য আলাদা কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Hard Drive

হার্ডডিক্স বা হার্ডড্রাইভ হচ্ছে একটি ম্যাগনেটিক মোটরযুক্ত একটি যন্ত্র যেখানে কম খরচে অধিক পরিমাণে ডাটা রাখা যায়। তবে এখানে স্পিডের লিমিট রয়েছে। এর জন্য বর্তমানে পিসিতে হার্ডডিক্সের পাশাপাশি হাই স্পিডের SSD বা সলিড স্টেট ড্রাইভ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Molex power connector

ডেক্সটপ কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের বিভিন্ন অংশকে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সাথে সংযুক্ত করার জন্য যে কানেক্টর ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তাকে Molex power connector বলে। এটা ১৯৫০ দশক থেকে পিসিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Motherboard

কম্পিউটারের যে যন্ত্রাংশের উপর সকল ইন্টারনাল কম্পোনেন্টসগুলো বসানো থাকে তাকে মাদারবোর্ড বলা হয়। এতে সিপিইউ, র‌্যাম, ডাটা ড্রাইভ এবং বিভিন্ন এড ইন কার্ড বসানো যায়। বর্তমানে ফ্যাশনের কারণে বিভিন্ন রংয়ের বিভিন্ন সাইজের বিভিন্ন ডিজাইনের মাদারবোর্ড বাজারে পাওয়া যায়।

mSATA

ছোট আকারের কেইস, মোবাইল পিসি আর উন্নত মানের ল্যাপটপে mSATA ব্যবহৃত হয়। এটা এক ধরণের SSD যেটা সাইজে অনেক ছোট।

Optical drive

৫.২৫ ইঞ্চির সিডি, ডিভিডি, ব্লুরেয় ড্রাইভকে জেনারেল ভাষায় বলা হয় অপটিক্যাল ড্রাইভ।

PCIe

PCIe বা Peripheral Connect Interface Express Bus হচ্ছে একটি হাই স্পিড এক্সপেনশন স্লট যেখানে আপনি গ্রাফিক্স কার্ড এবং অনান্য কম্পোনেন্টস পিসির মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন। লো এবং মিডরেঞ্জ মাদারবোর্ডে একটি PCIe স্লট দেওয়া থাকে আর প্রিমিয়াম রেঞ্জের মাদারবোর্ডে আপনি একাধিক PCIe স্লট পাবেন।

PGA socket

যে প্রসেসরগুলোতে contact pads এর বদলে পিন ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে মাদারবোর্ডে বসানোর জন্য যে সকেট সিস্টেমটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তাকে PGA socket বলে।

PSU

PSU বা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট হচ্ছে একটি যন্ত্র যেটা কম্পিউটারের মাদারবোর্ড এবং এর সহযোগী কম্পোনেন্টগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হয়।

SATA cable

লাম্বাটে ক্যাবলকে SATA cable বলা হয় যেটা SATA স্টোরেজ ডিভাইসগুলোকে হোস্ট কনট্রোলারের সাথে যুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

SLI

একটি পিসিতে একাধিক “এনভিডিয়া” কোম্পানির গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করার সিস্টেম কে SLI বলা হয়। আর এএমডির ক্রসফায়ারের মতোই এখানেও কিছু ড্রব্যাক বা সমস্যা রয়েছে।

SSD

মেকানিক্যাল হার্ডডিক্সের ঘুর্ণায়মান প্লেট এখানে ব্যবহার না হয়ে হাই কোয়ালিটির nonvolatitle RAM ব্যবহার করায় হার্ডডিক্সের তুলনায় খুব বেশি পারফরমেন্স দিতে পারে এবং হার্ডডিক্সের থেকে সাইজেও তুলনামূলক ভাবে SSDগুলো আকারে ছোট হয়ে থাকে। তবে হার্ডডিক্সের থেকে SSD এর দাম অপেক্ষাকৃত বেশি হয়ে থাকে।

Thumbscrews

কম্পিউটার কেইসে Thumbscrews ব্যবহৃত হয়। Screwdriver ছাড়াই যাতে কেইসের পার্টস খোলা/বন্ধ করা যায় সেটার জন্য Thumbscrews ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে কমদামি কেইসে এখনো রেগুলার স্ক্রু ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

USB connectors

মাদারবোর্ডে যে স্থানে USB ডিভাইসগুলো ব্যবহারের পোর্টসগুলো সাজানো থাকে সেটাকে USB connectors বলা হয়। সাধারণত USB 2.0 প্রযুক্তির কানেক্টটরগুলোর রং কালো হয়ে থাকে এবং USB 3.0 প্রযুক্তির কানেক্টরগুলো নীল রংয়ের হয়ে থাকে।

VGA connector

পুরোনো আমলের ফ্ল্যাট মনিটর (মোট মনিটর) এবং বর্তমানে সস্তা এলসিডি মনিটরকে মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত করতে এনালগ D-Sub VGA পোর্ট ব্যবহৃত হয়ে থাকে, আর পোর্টের সাথে কম্পোনেন্টটি কানেক্ট করার কাজে ব্যবহৃত হয় VGA connector।

VRM

VRM বা Voltage Regulation Module এর কাজ হচ্ছে PSU থেকে মাদারবোর্ডের উপর বসানো সকল কম্পোনেন্টদের কাছে “সঠিক পরিমাণের” বিদ্যুৎ পৌঁছিয়ে দেওয়া এবং এদেরকে মনিটর করা। কম্পিউটারের ওভারক্লক পারফরমেন্স এবং স্ট্যাবিলিটির উপর VRM এর প্রচুর ভূমিকা থাকে।

 

এই ছিলো একটি কম্পিউটার সিপিইউ কেইস বা কেইসের ভেতরকার যন্ত্রাংশের ছবি সহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ। আশা করবো এই পোষ্টটি পড়ে কম্পিউটারের ইন্টারনাল যন্ত্রাংশ সম্পর্কে আপনি বেসিক ধারণা পেয়েছেন। তবে আগেও বলেছি যে এই পোষ্টের উল্লেখিত সকল যন্ত্রাংশ আপনার পিসিতে থাকবে না এবং অনেক যন্ত্রাংশ রয়েছে যেগুলো এই পোষ্টে উল্লেখ নেই, এই পোষ্টে সকল বেসিক কম্পিউটার যন্ত্রাংশ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। পোষ্ট সম্পর্কে কোনো মতামত জানাতে পারেন নিচের কমেন্ট বক্সে।

 

Image Credit: https://www.pcgamer.com/the-visual-pc-parts-guide/