বাংলাদেশের বাজারে শাওমি ব্রান্ডের ফোন ঢোকার পর এবং একই সাথে জনপ্রিয় হবার পর Unofficial Device ব্যাপারটির সম্পর্কে এখন প্রায় সবাইকেই কমবেশি সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে আপনি যদি টেকনিক্যাল জগতে তেমন একটা এক্সপার্ট না হয়ে থাকেন এবং নতুন স্মার্টফোন কিনতে যান তখন এই অফিসিয়াল / আনঅফিসিয়ালের একটি ধাঁধার মধ্যে পড়তে পারেন আপনি। আমি নিজেই নতুন ডিভাইস কিনতে গিয়ে যে রকম দ্বিধায় পড়েছে এই অফিসিয়াল / আনঅফিসিয়ালের ব্যাপারে তা বলার মতো না। তাই আজ ভাবলাম আনঅফিসিয়াল স্মার্টফোন নিয়ে একটি পোষ্ট লেখা যাক যেখানে আনঅফিসিয়াল স্মার্টফোন সম্পর্কে সব বেসিক তথ্য, আনঅফিসিয়াল ডিভাইস কেনা বৈধ্য কিনা এবং একই সাথে আনঅফিসিয়াল ডিভাইস কেনা উচিত কিনা সে ব্যাপারে আপনাদের কিছুটা হলে যাতে ধারণা দিতে পারি, যাতে আমার মতো আপনারাও নতুন স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে কোনো প্রকার দ্বিধায় না পড়েন। তো আসুন প্রথম থেকেই বলি।

আপনি শাওমির যেকোনো অনুমোদিত শোরুমে যান এবং যেকোনো একটি স্মার্টফোনের প্রাইজ দেখে আসুন। ধরুণ আপনি Redmi S2 ডিভাইসটির দাম দেখে আসলেন। শাওমির শোরুমে ডিভাইসটির ৩/৩২ ভার্সনটির দাম ১৫ হাজার টাকা এবং ৪/৬৪ ভার্সনটির দাম রয়েছে ১৭ হাজার টাকার মতো। কিন্তু আপনি যদি অন্য কোনো দোকানে যান বা বসুন্ধরা / যমুনা ইত্যাদি শপিং কমপ্লেক্সের স্মার্টফোনের শপে যান তাহলে সেখানে দেখবেন যে একই ডিভাইস Redmi S2 বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার এবং ১৪ হাজার টাকায়। আর তখনই আপনার কনফিউশন শুরু হবে। বসুন্ধরায় শাওমির অনুমোদিত শোরুমে যে ডিভাইসটি আপনি ১৫ হাজার টাকায় কিনছেন সে একই ডিভাইসটি বসুন্ধরারই অন্য শপে আপনি ১২ হাজার টাকায় পাচ্ছেন। এখানেই আনঅফিসিয়াল ডিভাইসের মূল বৈশিষ্ট্য আপনার চোখে ধরা পড়বে। কিন্তু আপনি যখন শাওমির অনুমোদিত শোরুমে গিয়ে এই ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করবেন তখন অফিসিয়াল শোরুমের লোকজন আপনাকে বলতে পারে যে অনত্র থেকে কমদামে কিনলে সেট বা ডিভাইসটি ক্লোন হতে পারে বা নকল হতে পারে আবার অনেকসময় সেকেন্ড হ্যান্ড ডিভাইস আপনাকে রিফ্রাব্রিশ করেও সেল দিতে পারে!

আনঅফিসিয়াল ডিভাইস সম্পর্কে বলার আগে প্রথমেই বলে রাখি আনঅফিসিয়াল ফোন আর ক্লোন ফোন কিন্তু এক নয়। কেউ যদি আপনাকে বলে যে আনঅফিসিয়াল ডিভাইস মানেই হচ্ছে ক্লোন সেট বা মাস্টার কপি সেট তাহলে সেটা একদমই ভূল কথা। আর যদি দেখেন আপনাকে কেউ ক্লোন ফোন বা মাস্টার কপি ফোন আনঅফিসিয়াল বলে বিক্রি করতে চায় তাহলে আপনার উচিত তার নামে থানায় কেইস করে দেওয়া!

বাংলাদেশে আনঅফিসিয়াল সেট প্রধানত তিনভাবে আপনি পাবেন।

প্রথমটি হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত “করবিহীন” সেটগুলো। এক্ষেত্রে যে দল বা যে টিম বা যে কোম্পানি বা কোনো শপিং মলের যে স্টোরটি সেটটি বিদেশ থেকে এনেছে তারা এক প্রকার চুরি করে বা লুকিয়ে এই ডিভাইসগুলো বাংলাদেশে এনে থাকে। মানে হচ্ছে এই ফোনগুলো বাংলাদেশের কাস্টমস এর থেকে লুকিয়ে আনা হয়ে থাকে, তাই এই ডিভাইসগুলোতে কোনো কর বা ট্যাক্স দিতে হয় না। তাই এই ফোনগুলোর দাম অফিসিয়াল প্রাইজের থেকে অনেক কম হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিগুলো দামী দামী ব্রান্ডের সেট যেমন আইফোন, স্যামসং, হুয়াওয়ে বা শাওমির দামী দামী স্মার্টফোনের সাথে হয়ে থাকে। এই জাতীয় সেটগুলোকে লাগেজ পণ্য (luggage) বলা হয়ে থাকে। এই “করফাঁকি” ডিভাইসগুলোর দাম অফিসিয়াল ডিভাইসের থেকে অনেক সময় দেখা যায় ২০/৩০ হাজার টাকা কম হয়ে থাকে। যেমন উদারহরণ স্বরূপ স্যামসংয়ের গ্যালাক্সি এস ৯ বা এস ৯+ বাংলাদেশে যখন অফিসিয়াল ভাবে রিলিজ হয় তখন এর দাম রাখা হয়েছিলো ১ লাখ এবং ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার মতো। কিন্তু আনঅফিসিয়াল ভাবে যদি আপনি ডিভাইসটি কিনতে যান তখন দেখবেন যে ডিভাইসটি আপনি ৭০/৭৫ হাজার টাকায় পেয়ে যাচ্ছেন। সময়ের বিবর্তনে অফিসিয়াল সেটগুলো দেখবেন ৫/৬ মাসে ৯৫/৯০ হাজারে নেমে আসছে কিন্তু একই সাথে আনঅফিসিয়াল সেটেরও দাম অনেক কমে যাবে। কিন্তু কেন? কারণ আনঅফিসিয়াল ডিভাইসে কোনো প্রকার কাস্টমস বা কর দিতে হয় না। বাংলাদেশে কোনো স্মার্টফোন অফিসিয়ালভাবে লঞ্চ করতে গেলে সরকারকে ১৫% থেকে ২০% কর দিতে হয়। আর এখানেই দামটা অনেক কমে যায়। এছাড়াও অফিসিয়াল স্মার্টফোনগুলোর দামের সাথে ট্যাক্স ছাড়াও তাদের কর্মচারীদের বেতন, শোরুমের বিভিন্ন বিল এবং raw profit অন্তর্ভূক্ত থাকে যার কারণে অফিসিয়াল ডিভাইসগুলোর দাম বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই কাস্টমসের থেকে লুকিয়ে আনা ডিভাইসগুলোতে আপনি কোনো প্রকার অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি পাবেন না।

দেশে শাওমির Redmi 6 (3/32) এর অফিসিয়াল দাম রয়েছে ১৩ হাজার টাকা
আর আনঅফিসিয়াল ভাবে Redmi 6 আপনি বসুন্ধরার এই শপে পাবেন ১১ হাজার টাকায় (৩/৩২), আর এই ২ বছরের ওয়ারেন্টি হচ্ছে তাদের সার্ভিস ওয়ারেন্টি , কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি নয়  *শপের নাম এবং নাম্বার সংগত কারণেই blur করা হয়েছে*

আনঅফিসিয়াল সেটের আরেকটি প্রকার হচ্ছে “অফিসিয়াল ভাবে রিলিজ করা আনঅফিসিয়াল সেট!”। এটা সিম্ফোনি, ওয়ালটন এরা বেশি করে থাকে। কারণ স্যামসং, অ্যাপলের মতো সিম্ফোনি, ওয়ালটন কোনো বড় সড় কোম্পানি নয়। তাদের জন্য দেশের প্রতিটি এলাকায় আলাদা করে স্টোর বা শো-রুম বসানো সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে “অফিসিয়াল ভাবে রিলিজ করা আনঅফিসিয়াল সেট” এর মাধ্যমে ম্যানুফেকচাররা  দেশের বিভিন্ন লোকাল রিটেইলারদের কাছে ডিভাইসগুলো সেল করে থাকে যাতে পরবর্তীতে রিটেইলাররা উক্ত এলাকায় ডিভাইসগুলো বিক্রি করতে পারে। এক্ষেত্রে রিটেইলারদের কাছে ডিভাইসগুলোর দাম কম রাখা হয় যাতে রিটেইলারদের নিজস্ব কিছু মুনাফা থাকে এই ডিভাইসগুলোতে। যেমন একটি ডিভাইসের মার্কেট প্রাইজ হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা, সেখানে ম্যানুফেকচার কোম্পানি রিটেইলারদের কাছে ডিভাইসটি ১২ হাজার কিংবা সাড়ে ১২ হাজার টাকায় সেল করে থাকে এবং পরবর্তীতে রিটেইলাররা ডিভাইসটি ১৪/সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় সেল করে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোম্পানি থেকে বলা থাকে যে এই ফোনগুলো যাতে রিটেইল প্রাইজেই সেল করা হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে প্রতিযোগীতামূলক মাকের্টে টিকে থাকার জন্য অনেক সময় রিটেইলরারা রিটেইল প্রাইজের থেকে কিছুটা কমেই ডিভাইসগুলো বিক্রি করে দেয়। আর তাই বসুন্ধরাতেই আপনি একই শাওমির ডিভাইস আনঅফিসিয়াল ভাবে দোকানভেদে ৫০০/৮০০ টাকা কম-বেশি প্রাইজ দেখতে পারবেন। কারণ কোনো শপিং মলে যে স্টোরে একই ডিভাইসটি কম দামে পাওয়া যায় মানুষ সে স্টোর থেকেই কিনবে। আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন, পাশাপাশি দুটি মোবাইল স্টোরগুলোর মধ্যে যেটা একই ডিভাইস আপনি ৫০০ টাকা কমে পাচ্ছেন আপনি সাধারণত সে স্টোর থেকেই কিনবেন। আর এটার মূল সুবিধা হচ্ছে এই অফিসিয়াল ভাবে রিলিজকৃত আনঅফিসিয়াল সেটগুলো বা রিটেইল ভার্সনের সেটগুলোতেও আপনি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি পাবেন।

রিফ্রাব্রিশ আইফোন ৭ প্লাস (১২৮ জিবি) (৪৬ হাজার টাকা)। যমুনা ফিউচার পার্কের এই শপে রিফ্রাব্রিশ নামেই সেটগুলো বিক্রি করা হয়ে থাকে।

তৃতীয় এবং ফাইনাল প্রকার হচ্ছে রিফ্রাব্রিশ ফোন। এটা আইফোনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে হয়ে থাকে যে এই ফোনগুলো হয়তো কেউ কিছুদিন ব্যবহার করেছে, কিংবা ফোনগুলো বিভিন্ন কোম্পানির “রিভিউ” ভার্সন মানে ইউটিউবে বা বিভিন্ন স্থানে কোম্পানিরা নতুন ডিভাইসের রিভিউ সংস্করণ পাঠিয়ে থাকে বা উৎপাদনের সময় এই ফোনগুলোতে হয়তো কোনো সমস্যা ছিলো এই জাতীয় ফোনগুলোকে পরবর্তীতে ঠিকঠাক করে “রিফ্রাব্রিশ” ভাবে আবারো সেল করা হয়ে থাকে। যেমন আপনি বাংলাদেশ থেকেই যদি কোনো অনলাইন স্টোর থেকে ডিভাইস কিনেন তাহলে তারা আপনাকে নিদিষ্ট একটি সময়ের ওয়ারেন্টি দিবে। যেমন ৩/১০/১৫/২০ দিন। ডিভাইসটি কেনার পর এই সময়ের মধ্যে যদি ডিভাইসে কোনো মেজর সমস্যা দেখা দেয় তাহলে ডিভাইসটি আপনি তাদের কাছে ফেরত দিয়ে দিতে পারবেন এবং বিনিময়ে একই ডিভাইস নতুন করে পাবেন কিংবা ডিভাইস কেনার টাকাটি ফেরত পাবেন। এই ফেরত দেওয়া ডিভাইসগুলোই পরবর্তীতে ঠিকঠাক করে রিফ্রাব্রিশ নামে বিক্রি করা হয়ে থাকে। মানে হচ্ছে অফিসিয়াল ভাবে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন বিক্রিকেই রিফ্রাব্রিশ বলে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অনেক স্টোরই রিফ্রাব্রিশ সেটগুলোকে আনঅফিসিয়াল নতুন সেট বলে চালিয়ে দিয়ে থাকে। যদিও এটা করা বেশ কস্টের তবে এটা অসম্ভব কিছু না। একটি পরিপাটি রিফ্রাব্রিশ সেটকে IMEI ম্যাচিং বক্স দিয়ে যেকেউই আনঅফিসিয়াল নতুন সেট বলে চালিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি ঠকবেন।

বিশেষ করে আইফোনের বেলায় রিফ্রাব্রিশ দিয়ে প্রতারণা বেশি করা হয়ে থাকে। । একটি ৮০ হাজার টাকার অফিসিয়াল প্রাইজের আইফোনকে যদি আপনাকে কেউ বলে যে ৩০/৩৫ হাজার টাকায় আনঅফিসিয়াল ভাবে দিতে পারবেন তাহলে কমন সেন্সেই আপনি বুঝতে পারবেন সেখানে ঘাপলা আছে। সেটা ক্লোন না হলেও রিফ্রাব্রিশ হবার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। একটা ৮০ হাজার টাকার অফিসিয়াল প্রাইজের আইফোনকে কোনো ভাবেই ৩০/৩৫ হাজার টাকায় বাংলাদেশে আনা সম্ভব না, যতই করফাঁকি বা কাস্টমস থেকে লুকিয়ে আনা হোক। তাই এই জাতীয় লোকদের থেকে সাবধানে থাকবেন। বি:দ্র: রিফ্রাব্রিশ সেট বিক্রি করা কোনো বেআইনি কিছু না, কিন্তু আনঅফিসিয়াল নতুনের নামে রিফ্রাব্রিশ বিক্রি করা অন্যায় আর এখানে সেটাইকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলা হয়েছে।

আনঅফিসিয়াল ফোন আপনার কেনা উচিত?

আপনি যদি টাকা বাঁচাতে চান তাহলে বলবো আনঅফিসিয়াল ফোন আপনি কিনতে পারেন। কিন্তু এখানে আপনাকে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিকে বাদ দিতে হবে। শাওমির ডিভাইসগুলো আনঅফিসিয়াল হিসেবে আপনি চাইলেই কিনতে পারেন কিন্তু কেনার আগে অবশ্যই ভালো কোনো স্টোর বা শপ থেকে কিনবেন যেখানে এই আনঅফিসিয়াল সেটগুলোকে ভালো সার্ভিসিং করার সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে বসুন্ধরায় ২/৩টি শপ রয়েছে এই পোষ্টে সংগত কারণেই আমি নাম নিতে পারছি না কিন্তু তারা নিজেদের নিজস্ব সার্ভিস ওয়ারেন্টি আপনাকে এই সকল আনঅফিসিয়াল ফোনের সাথে দিয়ে থাকে। তবে শাওমি বাদে স্যামসং, অ্যাপল এবং অনান্য ডিভাইসগুলো আনঅফিসিয়াল ভাবে আমি না কেনারই সাজেস্ট করবো কারণ সেগুলোতে ক্লোন সেট হবার চান্স অনেক বেশি থাকে। একটি অফিসিয়াল শাওমির সেটে আপনি ৩/৪ হাজার বেশি দিয়ে কিনলেন অফিসিয়াল ওয়ারেন্টির জন্য। পরবর্তীতে ১ বছরের মধ্যে সেটে কোনো সমস্যা হলে আপনাকে শাওমির অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে ডিভাইসটি সারিয়ে আনতে হবে। ঠিক এই ওয়ারেটিংটিও আপনি আনঅফিসিয়াল ডিভাইসেও পাবেন যদি ওইসব ট্রাস্ট্রেট শপ থেকে কেনেন। সার্ভিস ওয়ারেটিংর সময়ের মধ্যে ডিভাইসে কোনো সমস্যা হলে তারা (স্টোর/শপ) আপনাকে ফ্রিতে ডিভাইসটি সারিয়ে দেবে। মানে কাহিনী হচ্ছে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিতে আপনি অফিসিয়াল ভাবে ডিভাইসটি সারিয়ে নেবার সুযোগ পাবেন, আর আনঅফিসিয়াল সেটগুলোতে আপনি আনঅফিসিয়াল কর্মীদের মাধ্যমে ডিভাইসটি ফ্রি তে সারানো সুযোগ পাবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে দুটি ক্ষেত্রেই ডিভাইসটির কোনো মেজর সমস্যা হলে যেমন ডিসপ্লে ভেঙ্গে যাওয়া বা কোনো পার্টস নস্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অফিসিয়াল বা আনঅফিসিয়াল দুটো জায়গাতেই নতুন পার্টসের জন্য টাকা দিতে হবে। তাই আমি মনে করি শাওমির ক্ষেত্রে আনঅফিসিয়াল সেট কেনাই উত্তম টাকা বাচাঁনোর জন্য। তবে ৩/৪ হাজার টাকা যদি আপনার জন্য কোনো ইস্যু না হয়ে থাকে তাহলে আপনি অফিসিয়াল সেট কিনতে পারেন। আর যদি মনে করেন যে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে দেশের ক্ষতি করে আনা আনঅফিসিয়াল সেটগুলো কেনা উচিত না (মানবিক কারণে) তাহলে আপনার অফিসিয়াল সেটই কেনা উচিত।

আমার মতে শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিং পাবার জন্য ৩/৪ হাজার টাকা বেশি খরচ করাটা একধরণের অপচয়। ডিভাইসে মেজর সমস্যা হলে অফিসিয়াল/আনঅফিসিয়াল দুটো ক্ষেত্রেই আপনাকে ঝামেলায় পড়তে হবে।

আর অফিসিয়াল ভাবে রিলিজকৃত আনঅফিসিয়াল সেটগুলোতে কাস্টমস বা ট্যাক্স দেওয়া হয়ে থাকে তাই সেখানে এই সমস্যাটি আপনাকে পেতে হবে না। যেমন সিম্ফোনি, ওয়ালটন এর সেটগুলো আপনি তাদের শোরুমেও পাবেন এবং অনান্য স্টোরেও পাবেন, আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনান্য স্টোরগুলোতে আপনি শোরুমের থেকে কিছুটা কমমূল্যেও পেতে পারেন আর কেন সেটাও আমি পোষ্টে বলেছি।

আনঅফিসিয়াল ফোন কেনার ক্ষেত্রে করণীয়

কিছু কিছু ডিভাইস থাকে যেগুলোকে আপনি আনঅফিসিয়াল ছাড়া বাংলাদেশে পাবেনই না। সেক্ষেত্রে আপনাকে  ডিভাইসগুলোকে বাইরের দেশ থেকে আনিয়ে নিতে হবে কিংবা আনঅফিসিয়াল ভাবেই কিনতে হবে।

আপনি যদি ঠিক করেন যে ২/৩ হাজার টাকা বেশি খরচ না করে আনঅফিসিয়াল ফোন কিনবেন বা আপনার কাছে আনঅফিসিয়াল ফোন কেনারই বাজেট রয়েছে তাহলে পোষ্টের এই অংশটি আপনারই জন্য। ধরুণ আপনার একটি ডিভাইস পছন্দ হয়েছে যার মার্কেট প্রাইজ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু আপনি স্টুডেন্ট মানুষ (আমার মতো!) এবং আপনার বাজেট ১২ হাজার টাকা আর এর থেকে বাজেট বাড়ানো আপনার পক্ষে সম্ভব নয় তাহলে আপনি ডিভাইসটি আনঅফিসিয়াল ভাবে কিনতে পারেন। আনঅফিসিয়াল ফোন কেনার ক্ষেত্রে কি কি করণীয় সেটা আমি নিচে পয়েন্ট আকারে বলে দিচ্ছি:

  • ১) আনঅফিসিয়াল সেট কেনার আগে সবার আগে চেক করে নিবেন ডিভাইসটি আসল কিনা। এটার জন্য আপনি IMEI চেক করতে পারেন। যেমন শাওমির ডিভাইস আসল বা নকল চেনার জন্য শাওমির ডিভাইসের IMEI কে শাওমির ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ভেরিফাই করে নিতে পারেন। আবার বর্তমানে এসএমএসের মাধ্যমেও বাংলাদেশে শাওমি ডিভাইস ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এছাড়াও ডিভাইসটি চালু করে নিয়ে About Phone অপশন থেকে ডিভাইসটির রমের আপডেট চেক করুন। নকল ফোন হলে ডিভাইসটি আপডেট হবে না। তবে ট্রাস্টেট এবং ভালো স্টোর বা শপ থেকে যদি আপনি আনঅফিসিয়াল ফোন কিনেন তাহলে তারাই আপনাকে ফোনটির আসলত্ব চেক করিয়ে দেবে। তারপরেও নিজ দায়িত্বে একবার IMEI মিলিয়ে দেখবেন।
  • ২) আনঅফিসিয়াল সেট কেনার পর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট দিনের ওয়ারেন্টি দেবে। যেমন ৩ থেকে ২০ দিন। এই কয়দিনের মধ্যে ডিভাইসে কোনো সমস্যা হলে আপনি ডিভাইসটি তাদের কাছ থেকে পাল্টিয়ে আনতে পারবেন। তাই আপনার কাজ হচ্ছে এই ওয়ারেটিং টাইমের দিনগুলোতে ডিভাইসটিকে হেভি ইউজ করা এবং প্রতিটি জিনিসকে চেক করা যাতে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা জানতে পারা। সমস্যা না থাকলে তো হলোই, আর সমস্যা পেলে রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নতুন সেট তো পাচ্ছেনই।
  • ৩) সেট বাসায় নিয়ে আসার পর প্রথমে ডিভাইসটির ব্যাটারিকে চেক করবেন। ডিভাইসটির ব্যাটারিকে ০% করে নিবেন এবং ১০০% পযর্ন্ত চার্জ দিয়ে দেখবেন কোনো প্রকার সমস্যা রয়েছে কিনা।
  • ৪) তারপর আপনার সেটের সিমগুলোতে ২জি, ৩জি এবং ৪জি ভালো ভাবে পাচ্ছে কিনা বা কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সেটাও এই ওয়ারেন্টিং পিরিয়ডের মধ্যে চেক করে শিউর হয়ে নিন।
  • ৫) তারপর ভিডিও, অডিও, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ইত্যাদি জিনিসগুলোকেও ভালো করে চেক করে সমস্যা খুঁজে নিবেন।

আমাদের দেশে আনঅফিসিয়াল সেট না কিনার মূল কারণ হচ্ছে এতে মানুষেরা একপ্রকার ভয়ে থাকে। যেমন আপনি poco f1 সেটটি আনঅফিসিয়াল ভাবে কিনলেন ২৭/২৬ হাজার টাকা দিয়ে যেখানে অফিসিয়াল ভাবে ৩০ হাজারের মতো লাগে। এখন ব্যাপার হচ্ছে অনেকেরই মনে ভয় থাকে যে ২৬/২৭ হাজার টাকা আনঅফিসিয়াল ফোন কিনলাম টিকবে তো?এই ভয়ের কারণেই ২ বছরের বা ১ বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টির কারণেই অনেকেই বেশি টাকা দিয়ে অফিসিয়াল ফোন কিনে থাকেন। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন যে আপনার সেটটি যদি হাত থেকে পড়ে গিয়ে ডিসপ্লে ভেঙ্গে যায় কিংবা পানিতে পড়ে গিয়ে মাদারবোর্ড নস্ট হয়ে যায় তাহলে কিন্তু আপনি ডিভাইসটি অফিসিয়াল ভাবেও ফ্রিতে ঠিক করাতে পারবেন না, ডিসপ্লে বা মাদারবোর্ডের জন্য আপনাকে টাকা কিন্তু দিতেই হবে। আশা করবো আমার পয়েন্টটি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। তবে আমি বলছি না যে অফিসিয়াল সেট না কিনতে, আপনার বাজেট থাকলে অবশ্যই কিনুন কিন্তু বাজেটে নেই কিন্তু কস্ট করে ৩/৪ হাজার টাকা বেশি দিয়ে অফিসিয়াল সেট শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়ারেন্টির জন্য কেনাটা আমার কাছে বোকামি মনে হয়। কারণ আপনার ডিভাইসটি অফিসিয়াল হোক কিংবা আনঅফিসিয়াল হোক, সেটটি যদি অরিজিনাল হয় তাহলে সেটা ম্যানুফেকচারের কাছ থেকে সার্টিফাইড হয়েই আসছে। তাই আমি বলবো বাজেট সংকোটে থাকলে আপনারা নির্ভয়ে আনঅফিসিয়াল সেটগুলো কিনতে পারেন, তবে আপনাকে ভালোভাবে চেক করে নিতে হবে তাহলেই হবে। বিশেষ করে স্যামসং, অ্যাপল, হুয়াওয়ে মানে যে সকল ডিভাইসগুলোর নকল পণ্য বের হয় বেশি সেক্ষেত্রে আপনাকে একটু বিশেষ সর্তক হতে হবে। বিশেষ করে যে সকল স্টোরগুলোতে স্মার্টফোন এক্সচেঞ্জ এর অফার বা নিয়ম থাকে সেখান থেকে আনঅফিসিয়াল সেট না কেনাই উত্তম। পোষ্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই সোশাল মিডিয়াতে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন যাতে আপনার বন্ধুরাও এ ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে পারে।