30000 Taka Budget Gaming PC Build Guide
প্রায় সবাই একটা কমন বিষয়ে কমপ্লেইন করে থাকেন। বাংলাদেশে মাদারবোর্ড, গ্রাফিক্স কার্ড, প্রসেসর এসবের দাম বেশি হয়ে থাকে কেন? ২০০ ডলারের জিনিস ২০/২১ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে কেন? সত্যি কথা বলতে ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও ডিজিটাল আইটেমের দামই বাংলাদেশে অনেক বেশি। কিন্তু সেগুলোর দাম সত্যিই কি বেশি? আজ চেস্টা করব এই প্রশ্নের আংশিক হলেও স্পষ্ট উত্তর দেবার।

USA Market

বাংলাদেশের অবস্থা দেখা আগে চলুন দেখে নেই আমেরিকা, ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের মার্কেট। শুরুতে আসি আমেরিকান মার্কেটে। যখন কোন ব্র্যান্ড তাদের প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করে তখন আমেরিকান মার্কেটকে মুখ্য রেখেই করে। এ কারণে আমরা কোথাও নতুন প্রোডাক্ট বের হলে আমেরিকান ডলারের প্রাইসিং দেখি। এখন আপনি যখন আমেরিকান মার্কেট থেকে কম্পিউটার কিনবেন তখন ক্রেতাকে ৮% ট্যাক্স দিতে হবে। অর্থাৎ ২০০ + (২০০*৮%) = ২১৬ ডলার। এটিতো গেল সরাসরি দোকানে গিয়ে আইটেম কেনার ট্যাক্স। এখন আপনি যদি এমাজন বা নিউএগ থেকে অর্ডার করে থাকেন আর আপনার কাছে যদি তাদের প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ না থাকে তাহলে শিপিং অর্থাৎ আপনার বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আরো খরচ আছে। এভারেজে এই শিপিং খরচ ৫ থেকে ২০ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। তাহলে ২১৬ ডলারের সাথে আরো ৫ থেকে ২০ ডলার যোগ করুন। তাহলে সেই প্রোডাক্টের মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে গড়ে প্রায় ২৩০ ডলার। বর্তমানে ১ ডলার কিনতে আপনাকে গুণতে হবে প্রায় ৮৬ টাকা। ২৩০ ডলারকে কারেন্ট রেট দিয়ে গুণ করলে প্রায় ১৯ হাজার ৯০০ টাকার মত।

Europe & UK Market

এবার দেখা যাক ইউরোপ এবং ইউকে অর্থাৎ ইংল্যান্ডের মার্কেট। ইউরোপের সাধারণ কারেন্সি হচ্ছে ইউরো। কম্পিউটার পার্টের দাম আমেরিকান ডলার এবং ইউরোতে প্রায় একই রাখা হয়। এখন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী যে কোন পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাকে মিনিমাম ১৫% ট্যাক্স দিতে হবে। অর্থাৎ, ২০০ ডলারের মাদারবোর্ড ইউরোপে ২০০ ইউরোতে বিক্রি করা হলে ট্যাক্স সহ আপনাকে ২৩০ ইউরো দিয়ে কিনতে হবে। তবে দেশ ভেদে সেই ট্যাক্স ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে দেখেছি। আর অনলাইনে অর্ডার করলে আপনাকে আলাদা শিপিং তো গুণতে হবে। অর্থাৎ এটি সহ ২০০ ইউরোর প্রোডাক্টের মোট খরচ ২৪০ থেকে ২৫০ ইউরোর কাছাকাছি চলে যায়। ধরা যাক, অফলাইনেই কেনা হল প্রোডাক্টটি। তাহলে, ২৩০ ডলার আপনি যদি বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করেন তাহলে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ১০০ টাকার মত।

এখন দেখা যাক ইউনাইটেড কিংডম অর্থাৎ গ্রেট ব্রিটেনের কম্পিউটার মার্কেট। সাধারণত, আমেরিকান ডলারের থেকে প্রতি ১০০ ডলারে ৫ থেকে ১০ কমিয়ে বিক্রি করা হয় প্রোডাক্ট। অর্থাৎ, ২০০ ডলারের জিনিস ইউকেতে পাবেন ১৮০ পাউন্ডে। এখন, ইউকেতে সর্বনিম্ন ট্যাক্স হচ্ছে ২০%। অর্থাৎ ১৮০ পাউন্ডের জিনিস অফলাইনে কিনলে আপনাকে গুণতে হবে ২১৬ পাউন্ড যা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে হবে ২২,৯০০ টাকার কাছাকাছি।

Bangladesh Market

এখন কথা বলা যাক বাংলাদেশ মার্কেট নিয়ে। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ডিস্ট্রিবিউটররা কোম্পানি এক্সক্লুসিভ। অর্থাৎ, বৈধভাবে একই ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট অন্য কেউ ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য আমদানি করতে পারবে না। সেটা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে আমদানিকৃত সকল কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক্সের উপর বসানো ট্যাক্স ও চার্জ। আমদানি করার সময় আমদানিকারককে বিভিন্ন ধরণের ট্যাক্স ও চার্জ দিতে হয়। যেমনঃ ওজন ট্যাক্স, বিল ট্যাক্স, কাস্টম ক্লিয়ারেন্স ট্যাক্স সহ আরো অনেক কিছুই। যার কারণে দেখা যায়, কোন জিনিস আমদানি করলে সেটি আমদানির খরচ বিদেশের ডিস্ট্রিবিউশন দামের সমান চলে যায়।

ব্যবসা কখনোই লাভ ছাড়া করা যায় না। লাভ না থাকলে ব্যবসা হবে না, এটাই কমন সেন্স। তাই ডিস্ট্রিবিউটররা যথাযথ লাভ রেখে খুচরা দোকানদারদের প্রোডাক্ট সেল করে। সেল করার আগে তারা এমন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেয় যাতে যে সকল দোকানিরা ডিলার থেকে কিনছেন তাদেরও যেন যথেস্ট লাভ থাকে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে থাকা ২০০ ডলারের জিনিস আমাদের ২০/২১ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

এখন মেইন যে প্রশ্নঃ আমাদের দেশে কি কম্পিউটার পণ্যের দাম সত্যিই বেশি? এখন আপনি যদি ডলারের দাম আর বাংলাদেশের দাম দেখে সরাসরি যদি নিন্দা করা শুরু করেন তাহলে আমি বলব আপনি বাংলাদেশের সার্বিক আমদানি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন না। এই প্রশ্নের সোজা সাপ্টা উত্তর হচ্ছে বেশি কিন্তু খুব একটা বেশি নয়। বিভিন্ন স্তরে আমদানি করের কারণে এবং ডিলার ও দোকানদারদের লাভ দিয়ে দিন শেষে আমাদেরকে সামান্য বেশি টাকা দিয়েই কম্পিউটারের প্রোডাক্ট কিনতে হয়। তবে আমাদের দক্ষিণ এশিয়া সহ বেশ কিছু দেশের সাথে যদি তুলনা করে দেখি তাহলে সেই দেশের দাম অনুযায়ি বাংলাদেশে কম্পিউটারের দাম অনেকাংশেই কম রয়েছে। তারপরেও আমার পার্সোনাল মতামত হচ্ছে, এখন যে এম আর পি অর্থাৎ লাভ রেখে সরবচ্চ খুচরা মূল্য দেয়া হচ্ছে তা যদি আরো একটু কমিয়ে আনা যেত তাহলে বাংলাদেশের মানুষরা আরো একটু এপ্রেসিয়েট করতে পারত।