আপনি কি জানেন? গুগল তাদের অ্যান্ড্রয়েড ইউজারদের জন্য সম্পূর্ণ বৈধ ভাবে ফ্রিতে গুগল প্লে ক্রেডিট অর্জন করার সুবিধা অনেক আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে? যার মাধ্যমে আপনি প্লেস্টোরের বিভিন্ন পেইড অ্যাপস এবং পেইড ইন-অ্যাপ সার্ভিস কিনতে পারবেন? জ্বী! এর নাম হচ্ছে Google Opinion Rewards ! আপনাকে কিছুই করতে হবে না জাস্ট এই অ্যাপটি চালু করবেন, ২/৩ টা প্রশ্ন থাকবে সেটার উত্তর দিবেন ব্যাস! সাথে সাথেই আপনার গুগল প্লে স্টোরে নিদির্ষ্ট পরিমানের প্লে-ক্রেডিট জমা হয়ে যাবে! কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে পাশের দেশ ভারতেও এই সার্ভিসটি চলে আসলেও এখন পর্যন্ত ২০২০ সালেও বাংলাদেশে Google এই সার্ভিসটি আনে নি!

Google Opinion Rewards কি?

আপনি এর নামের মধ্যেই এর অর্থ খুঁজে পাবেন! Google Opinion Rewards বা গুগলের মতামতের পুরস্কার হচ্ছে একটি সার্ভে অ্যাপ যেটা গুগল থেকেই নিয়ে আসা হয়েছে। তাই এর অথেনটিসিটি নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। মূলত এটি হচ্ছে একটি মার্কেট রিসার্চ টুল। অ্যাপের মধ্যে যে সার্ভেগুলো আসে সেগুলো একাডেমিক এবং কমার্শিয়াল উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়; আর সেখানে আপনি হচ্ছেন একজন পেইড ইউজার। সার্ভেগুলো আসে আপনার লোকেশনের উপর ভিক্তি করে, আর তাই অনান্য দেশে এই সার্ভিসটি আসলেও বাংলাদেশে আসেনি কারণ গুগলের কোনো সার্ভিস বাংলাদেশে অফিসিয়াল ভাবে এখনো লঞ্চ হয়নি। প্রতিটি সার্ভে তে আপনি সর্বোচ্চ ১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত Google Play Credit পেতে পারেন।
এই আর্টিকেলটি মার্চ ১৮, ২০২০ সালে লেখা হচ্ছে; আর এখন পর্যন্ত Google Opinion Rewards সার্ভিসটি নিম্নলিখিত দেশসমূহে চলে এসেছে:

  • Australia
  • Austria
  • Belgium
  • Brazil
  • Chile
  • Canada
  • Denmark
  • France
  • Germany
  • India
  • Italy
  • Japan
  • Mexico
  • Netherlands
  • New Zealand
  • Norway
  • Poland
  • Singapore
  • Spain
  • Sweden
  • Switzerland
  • Taiwan
  • Turkey
  • United Arab Emirates
  • United Kingdom
  • United States

অর্থাৎ বাংলাদেশে সার্ভিসটি এখনো আসেনি আর নিকট ভবিষ্যতেও আসবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। তবে একটু বুদ্ধি খাটালেই কিন্তু আপনি এই সার্ভিসটি ব্যবহার করতে পারেন। আর সেটা হলো গুগল প্লে স্টোরের Country লোকেশন পরিবর্তন করে!

গুগল প্লে স্টোরের Country পরিবর্তন

গুগল Opinion সার্ভিসটি বাংলাদেশে আসেনি, তাই আপনাকে এটা বাংলাদেশে ব্যবহার করতে হলে উপরের সার্পোটেড যেকোনো একটি দেশের সাথে আপনার গুগল প্লে স্টোরের Country বদলিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশে যে সকল গুগল প্লে স্টোরের গিফট কার্ড অনলাইন শপগুলোতে কিনতে পাওয়া যায় সেগুলো সবই USA Regional কোড। মানে সেগুলো ব্যবহার করতে হলে আপনার প্লে স্টোর কান্ট্রি লোকেশন অবশ্যই USA হতে হবে। আর তাই আমরা এখন প্রথমে প্লে স্টোর কান্ট্রিকে বাংলাদেশ থেকে USA তে নিয়ে আসবো।

বি:দ্র:
১) প্লে স্টোর কান্ট্রি বছরে ১ বার পরিবর্তন করা যায়
২) কান্ট্রি পরিবর্তন করে নিলে সকল অ্যাপস এবং গেমসের In-app কারেন্সি নতনু দেশের কারেন্সির সাথে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যেমন বাংলাদেশের হিসেবে একটি পাবজি গেমের আইটেম দাম ৩০০ টাকা হলে USA তে কান্ট্রি পরিবর্তন করিয়ে নিয়ে তখন সেটাও ডলারে পরিবর্তিত হয়ে যাবে।
৩) কান্ট্রি পরিবর্তন করার পর লোকেশন ভিক্তিক অ্যাপ সার্ভিস (যেমন বিকাশ) ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হবে না।

US কান্ট্রিতে পরিবর্তন করে নিলে মাঝে মাঝে এরকম অনেক ডিসকাউন্ট আপনি পেয়ে যাবেন। যেমন এখানে পাবজি মোবাইলে ৯ ডলারের উপরের আইটেডে ৪ ডলারের ডিসকাউন্ট পেয়ে গেলম! 😀

সরাসরি VPN দিয়ে কানেক্ট করার পর যদি প্লে স্টোরের কান্ট্রি US তে পরিবর্তন করতে চান তাহলে আপনার কাছে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাইবে গুগল; ভেরিফাই করার জন্য। তাই আমাদেরকে প্রথমেই Google Opinion Rewards অ্যাপে একাউন্ট খুলে নিতে হবে তারপর প্লে স্টোরের কান্ট্রি US তে পরিবর্তন করে নিতে হবে, তাহলে তখন আর কোনো প্রকার ক্রেডিট কার্ড চাইবে না।

ধাপসমূহ:

১) প্রথমে আপনাকে Google Opinion Rewards অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। অ্যাপটি আপনার বাংলাদেশ প্লে স্টোরে পাবেন না। তাই ওয়েব থেকে ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

২) এবার প্লে স্টোর থেকে Turbo VPN এবং Fake GPS এই দুটি অ্যাপ ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।

৩) আপনার ফোনের ডেভেলপার অপশন থেকে Mock Location সেকশনে এই Fake GPS কে সিলেক্ট করে নিতে হবে।

৪) এবার প্রথমে Fake GPS অ্যাপটি চালু করুন, তারপর ম্যাপে আমেরিকার যেকোনো একটি স্থানে লোকেশন সেট করে সার্ভিস ON করে দিন, উল্লেখ্য যে আমি ওয়াশিংটন ডিসি এরিয়াতে দিয়েছি কারণ পরবর্তীতে সে লোকেশনের একটি এড্রেস Opinion Rewards এর ফর্মে আমাকে দিতে হবে।

৫) এবার আপনাকে Turbo VPN চালু করে US সার্ভারে কানেক্ট হতে হবে।

৬) এবার Google Opinion Rewards অ্যাপটি চালু করুন। প্রথমবার চালু করার পর আপনাকে একটি জিমেইল একাউন্ট সিলেক্ট করতে হবে যেখানে এই সার্ভিসটি দিতে চান। একাউন্ট সিলেক্ট করে OK করুন।

৭) এবার আপনাকে নাম ঠিকানা দিতে হবে। এখানে নামের অংশে আপনার নাম লিখুন, পোস্টাল কোডে আপনি Fake GPS দিয়ে যে স্থানে কানেক্ট করেছেন সেখানকার যেকোনো এরিয়ার পোস্টাল কোড গুগলে সার্চ দিয়ে বের করে বসিয়ে দিন। দেশ সিলেক্ট ঘরে যেন US থাকে তা নিশ্চিত করুন। তারপর Continue বাটনে প্রেস করুন।

৮) Continue করে আমেরিকান লোকেশনে গুগল ওয়ালেট একাউন্ট তৈরি করে নিন।

৯) এবার আপনার বয়স জানতে চাইবে, এর উপর ভিক্তি করেও সার্ভে আসবে তাই সঠিকটি এখানে দিন। Continue করুন।

১০) Gender এর ক্ষেত্রে Female দিলে বেশি সার্ভে পাওয়া যায়, তবে জিমেইল একাউন্টে যা দিয়েছেন সেটাই দেওয়া উত্তম।

১১) আপনি যদি Spanish ভাষা বুঝে থাকেন তাহলে English এর পাশাপাশি সেটাও সিলেক্ট করতে পারেন, তবে না বুঝলে শুধু English দিন । নাহলে Spanish ভাষায়ও সার্ভে চলে আসবে।

১২) ব্যাস আপনার গুগল Opinion একাউন্ট খোলা হয়ে গেছে।

কান্ট্রি পরিবর্তন

Opinion একাউন্ট খোলা হয়ে গেলে VPN এবং লোকেশন ডিসকানেক্ট না করেই প্লে স্টোরে ঢুকুন। সেটিংস থেকে একাউন্টে গিয়ে Country and Profiles য়ে অটোমেটিক্যালি US লোকেশন দেওয়া থাকবে। যদি দেওয়া না থাকে তাহলে US কান্ট্রি সুইচের আলাদা অপশন পাবেন।

পরিশিষ্ট

এবার আপনার কাজ হচ্ছে সার্ভের জন্য অপেক্ষা করা। প্রথম সার্ভে পেতে ১ সপ্তাহের মতো সময় লেগেছিলো আমার। আর সার্ভে কখন পাবেন সেটা নির্ভর করবে গুগলের উপর তাই ফ্রিকোয়েন্টলিও পেতে পারেন কিংবা মাসে একটি করে সার্ভেও পেতে পারেন। আর মনে রাখবেন, প্রতি ২ দিন অন্তর অন্তর শুধুমাত্র US লোকেশনে VPN কানেক্ট করে একবার Google Opinion অ্যাপটি চালু করে ৩/৫ সেকেন্ড রেখে বন্ধ করে দিবেন। উল্লেখ্য যে, সার্ভে পেলে নিচের মতো নোটিফিকেশন আসবে:

সার্ভে পূরণ করে সাবমিট দেবার জন্য VPN কানেক্ট থাকার প্রয়োজন নেই।

সার্ভের উত্তরগুলো অবশ্যই সঠিক এবং সৎভাবে দিবেন তাহলে ঘন ঘন সার্ভে পাওয়ার চান্স বেশি থাকবে।

সার্ভের উপর নির্ভর করে আপনি গুগল প্লে ক্রেডিট পাবেন, যেটা পাওয়ার পর পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে।

ভাগ্য ভালো থাকলে প্রতি রয়্যাল পাস কেনার জন্য এটাই আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে!

Avatar
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.