দিন দিন প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে, আর সেটা সকল সেকশনেই হচ্ছে। অপারেটিং সিস্টেমও এর মধ্যেই পড়ে! আর পিসির ক্ষেত্রে সবথেকে বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ আর অ্যাপলের ম্যাক! অন্য দিকে লিনাক্সের ব্যবহারকারীও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম মর্ডান এবং আকর্ষণীয় হবার সাথে সাথে ভারীও হয়ে যাচ্ছে। যেমন আপনি ২০১৫ সালে একটি 4GB র‌্যামের সুন্দর ল্যাপটপ কিনলেন। সেখানে উইন্ডোজ ১০ ছিলো (ভার্সন ১৫০৫)। আর বর্তমানে সকল আপডেটের পর দেখলেন যে উইন্ডোজ ১০ 2004 ভার্সনে এসে অপারেটিং সিস্টেমের র‌্যামের ব্যবহার খুবই বেড়ে গিয়েছে। এর কারণ কি?প্রতিনিয়ত উইন্ডোজ আপডেট হচ্ছে, নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে আর যার কারণে ব্যাকগ্রাউন্ড টাস্কের পরিমাণ বাড়ছে আর যার কারণে আল্টিমেইটলি উইন্ডোজ ১০ ভারী হয়ে যাচ্ছে। আর সাথে তো উইন্ডোজ ডিফেন্ডারের ঠেলা তো রয়েছেই।

অপারেটিং সিস্টেম মর্ডান হচ্ছে, আপনি প্রতিনিয়ত যে সকল অ্যাপ / সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন সেগুলোও মর্ডান হচ্ছে। কিন্তু আপনার হার্ডওয়্যার বা ল্যাপটপটি কিন্তু সেই ২০১৫ সালে যা ছিলো এখনো সেটাই রয়েছে। অর্থ্যাৎ সেই ২০১৫ সালের উপযোগী হার্ডওয়্যারে আপনি ২০২০ সালের সফটওয়্যার আর অপারেটিং সিস্টেম চালাতে গেলে একটু আকটু ল্যাগ বা খোঁটের দেখা পাবেনই এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের অনেকেরই কিছু কিছু পুরোনো ডেক্সটপ / ল্যাপটপ রয়েছে যেগুলোতে উইন্ডোজ ৭ ছাড়া আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম দিলে ল্যাগের ঠেলায় চালানোই যেতো না। আর বর্তমানে উইন্ডোজ ৭ এর অফিসিয়াল সার্পোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একমাত্র উইন্ডোজ ৮ আর উইন্ডোজ ১০ ছাড়া আমাদের কাছে অন্য কোনো অপশন খোলা রাখেনি মাইক্রোসফট। আর সেখানেই অন্য বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করতেই আমার আজকের এই পোষ্ট।
বর্তমানে ২ গিগাবাইট বা এর নিচের র‌্যামের সিস্টেমগুলোতে উইন্ডোজ ১০ দিলে আর অন্য কিছু চালানোর প্রয়োজন হবে না। তবে এজন্যই আপনাকে মূলত লিনাক্সের দিকে চলে আসতে হবে। লিনাক্স এখন অনেকটাই পরিপূর্ণ একটি ওএস। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেখানে বিজয় দিয়ে বাংলা লিখতে পারবেন না! অভ্র এর সার্পোট রয়েছে যদিও।

তো আজকের কম ওজনের সেরা অপারেটিং সিস্টেমগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে এদের অধিকাংশই লিনাক্সের। তো চলুন শুরু করি।

  1. Lubuntu

লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেমের লিস্টের শুরুতেই চলে আসে একটি লিনাক্স ভিক্তিক অপারেটিং সিস্টেম যার নাম Lubuntu । যারা এক্সট্রিম সুপার লাইটওয়েট OS খুঁজছেন তাদের জন্য সেরা হচ্ছে এই লুবুন্টু। Lubuntu হচ্ছে একটি লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেম যেটা লিনাক্স এবং উবুন্টুর উপর ভিক্তি করে বানানো হয়েছে। লুবুন্টুর কোর হচ্ছে জনপ্রিয় ইউজার ফ্রেন্ডলি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন “Ubuntu” এর উপর ভিক্তি করে বানানো। আর পুরোনো জেনারেশনের সিপিইউ এবং লো র‌্যাম সিস্টেমমের জন্য Lubuntu ব্যবহার করে Minmal Desktop LXDE আর তাই এখানে সকল অ্যাপসগুলোও Lightweight.

Lubuntu কে আপনি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ইন্সটলেশন প্যাকেজে পেয়ে যাবেন। মিনিমাল ইন্সটলেশনের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১২৮ মেগাবাইট র‌্যাম তবে সেটাকে ৬৪ মেগাবাইট র‌্যামেও চালানো যাবে। রেগুলোর ডেক্সটপ ৩২/৬৪ বিট প্যাকেজগুলো চালানো জন্য চাই ৭০০ মেগাবাইটের বেশি র‌্যাম।

2. Linux Lite

লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেমের লিস্টে ২য় স্থানেও রয়েছে লিনাক্স ফ্যামিলির একটি অপারেটিং সিস্টেম যার নাম লিনাক্স লাইট। আর নামের মাধ্যমেই বুঝা যাচ্ছে যে এটা লিনাক্সে লাইট ভার্সন। আর এটাও Ubutun LTS এর উপর ভিক্তি করে বানানো হয়েছে তাই এখানে আপনি Longtime Support পেয়ে যাবেন।

Out of the box লিনাক্স লাইট Plug & Play হিসেবে চলে আসে। তাই একে সরাসরি পেনড্রাইভ থেকেই লাইভ সিডি হিসেবে আপনি ইউজ করতে পারবেন। লিনাক্স লাইটে বিল্ট ইন হিসেবে রয়েছে LibreOffice , ফায়ারফক্স ওয়েব ব্রাউজার, Thunderbird ইমেইল ক্লায়েন্ট, VLC মিডিয়া প্লেয়ার সহ ইত্যাদি। অপারেটিং সিস্টেমটি চালাতে হলে নুন্যতম ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যাম প্রয়োজন।

3. Puppy Linux

নামেই বুঝতে পারছেন যে এটা একটি লাইটওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন। এটাকে আপনি চাইলেই ২ গিগাবাইটের পেনড্রাইভে ইন্সটল করে নিয়ে লাইভ ব্যবহার করতে পারবেন। আর এটা সরাসরি আপনার র‌্যাম থেকে রান হয় তাই এটা খুবই ফাস্ট!

এছাড়াও একে পেনড্রাইভে বুটেবল করে Rescue ডিক্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন আপনার উইন্ডোজ পিসি করাপ্টেড হয়ে হার্ডড্রাইভ লস্ট হয়ে গেলো। তখন বুটেবল হিসেবে পেনড্রাইভ ঢুকিয়ে পাপি লিনাক্স বুটেবল করলেন, আপনার হার্ডডিক্সে একসেস করে ডিক্সের ডাটাগুলোকে ব্যাকআপ করতে পারলেন এবং নতুন করে ডিক্স ফরম্যাট দিয়ে উইন্ডোজ ও সেটআপ করতে পারবেন!
এই পোর্টেবল লিনাক্স ডিস্ট্রোর Core OS সাইজ হচ্ছে ১০০ মেগাবাইটের নিচে আর এটা পুরোনোতম সিস্টেমেও মিনিটের মধ্যেই বুট আপ করতে সক্ষম!আর এখানে কোনো প্রকার অতিরিক্ত ড্রাইভার ছাড়াই আপনি দৈনন্দিন কাজ যেমন অফিস অ্যাপস, ওয়েব ব্রাউজিং, হালকা গেমিং, গান শোনা, মুভি দেখা ইত্যাদি নিমিষেই করে নিতে পারবেন। Puppy লিনাক্স চালানোর জন্য নুনত্যম ৬৪ মেগাবাইট র‌্যামের প্রয়োজন।

4. Manjaro XFCE Edition

আরেকটি বহুল জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রো হচ্ছে Manjaro । এর অনেক ধরণের নিজস্ব ভিন্নতা রয়েছে, প্রায় ১৫ ধরণের Manajaro ভার্সনের মধ্যে একটি হচ্ছে Manjaro XFCE Edition । এখানে তারা লাইটওয়েট XFCE ডেক্সটপ কোর ব্যবহার করেছে। তবে এটা সবথেকে বেশি লাইটওয়েট OS এর মধ্যে পড়ে না কিন্তু ৫১২ মেগাাবইট র‌্যামের পিসিতেও এটাকে আপনি চালাতে পারেন।

5. Damn Small Linux

একে বারেই লাইটওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রো হচ্ছে Damn Small Linux । এটা মিনি ডেক্সটপগুলোকে টার্গেট করে বানানো হয়েছে। এর ইন্সটলেশন সাইজ হচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাবাইট আর একে আপনি ৬৪ মেগাবাইটের র‌্যামের সিস্টেমেও সহজেই চালাতে পারবেন। এখানে প্রায় কমপ্লিট ডেক্সটপ অ্যাপ প্যাকেজ এবং বেশ কিছু কমান্ড লাইন টুলস রয়েছে।

6. xubuntu

পুরোনো ল্যাপটপের জন্য যারা প্লাগ-এন্ড-প্লে অপারেটিং সিস্টেম খুঁজছেন তাদের জন্য xubuntu । এটি ডিজাইন এবং পারফরমেন্স অনেকটাই মর্ডান অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মতোই আর একে বিল্ট করা হয়েছে XFCE ডেক্সটপ Environment এ আর এটা Ubuntu হার্ডওয়্যার ডিভাইসের উপর সার্পোট করে।

Low End কম্পিউটারে বেসিক ইউজারদের বেসিক কাজকর্ম সম্পাদনের জন্য এতে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রি-বিল্ড প্যাকেজ যার মাধ্যমে আপনি অনলাইন ব্রাউজিং, ইমেইল ক্ল্যায়েন্ট, অফিস অ্যাপ্লিকেশন এবং মিডিয়া অ্যাপ রয়েছে। এছাড়াও এডভান্স ইউজারদের জন্য তো Ubuntu Software Center তো রয়েছেই! Xubuntu চালাতে হলে নুন্যতম ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যাম প্রয়োজন।

7. Tiny Core

আমাদের আজকের লিস্টের সবথেকে লাইটওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রো হচ্ছে এই Tiny Core । মাত্র ১৬ মেগাবাইটের ইন্সটেলশন সাইজ নিয়ে এটি রয়েছে আমাদের আজকের লিস্টের সপ্তম স্থানে। এটা এতটাই ছোটখাট সাইজের যে এর থেকে অ্যাডোবি ফটোশপ, গুগল ক্রোম, MS Paint এগুলোর সাইজও বেশি!

আর বুঝতেই পারছেন এত ছোট সাইজে আনার জন্য এখানে বেশ কিছু কাট-সাট করা হয়েছে। Tiny Core এ রয়েছে একদমই মিনিমালিস্টিক ইন্টারফেস এবং খুবই কম প্রি-ইন্সটল অ্যাপস। এই অপারেটিং সিস্টেমটি যেকোনো আধ্যাত্বিক মানের পুরোনো পিসিতে চলতে সক্ষম। একমাত্র MS DOS জাতীয় পিসি ছাড়া আরকি! আর এই লিস্টের সকল OS এর থেকে Tiny Core এর বুট স্পিড সবথেকে বেশি।
Tiny Core এর তিনটি ভার্সন রয়েছে। Core, Tiny Core এবং CorePlus । Core হচ্ছে সবথেকে বেসিক ভার্সন; এখানে কোনো প্রকারের গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস নেই। আপনাকে কমান্ড লাইনের মাধ্যমেই সকল কাজ করতে হবে। Core ভার্সনের ইন্সটলেশন সাইজ মাত্র ১১ মেগাবাইট। আর অন্যদিকে CorePlus ভার্সনে আপনি এক্সট্রা অপশন আর আলাদা ইন্সটলেশন টুলস পাবেন।

8. LXLE

লিনাক্সে বেশ কিছু লাইটওয়েট ডিস্ট্রো রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে LXLE । এটা মূলত Lubuntu LTS এর মিনিমাল ভার্সন যার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে পুরোনো সিস্টেমে চলা! পুরোনো সিস্টেমে আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে একে বানানো হয়েছে। আর এখানে আধুনিক ইন্টারফেস আর প্রি-বিল্ড বেশ কিছু অ্যাপস থাকলেও এটা চালাতে গেলে মনেই হবে না যে আপনি ল্যাগের সম্মুক্ষিন হচ্ছেন। LXLE চালানোর জন্য নুন্যতম ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যামের প্রয়োজন।

9. Debian + PIXEL

লিস্টে এই প্রথম লিনাক্স ব্যাতিত অন্য অপারেটি সিস্টেম নিয়ে লেখা হচ্ছে। Debian + PIXEL হচ্ছে Raspberry Pi ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে একটি নতুন লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেম। এটা x86 ভিক্তিক ম্যাক এবং উইন্ডোজ মেশিনে চলতে সক্ষম। পিক্সেল হচ্ছে একটি ক্লিন ও মর্ডান ইউজার ফেস সমৃদ্ধ অপারেটিং সিস্টেম যেটায় প্রি-বিল্ড হিসেবে রয়েছে কিছু প্রোগ্রামিং টুলস এবং প্রডাক্টিভিটি সফটওয়্যার।

এটা আপনাকে Raspherry Pi জাতীয় OS এর স্বাদ উপহার দিতে পারবেন। আর লিনাক্সের মতো ব্রাউজার হিসেবে ফায়ারফক্স না ব্যবহার করে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে গুগল ক্রোমকে! তাই আপনার সকল ডিভাইসের Sync কৃত বুকমার্কস, হিস্টোর, পাসওর্য়াড সবই এখানে পেয়ে যাবেন। অপারেটিং সিস্টেমটি চালাতে হলে আপনার থাকা চাই নুন্যতম 512MB র‌্যাম।

10. antiX Linux

আরেকটি লাইটওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রো হচ্ছে antiX Linux । তবে এটা সরাসরি জনপ্রিয় ডিস্ট্রো Debian এর উপর ভিক্তি করে বানানো হয়েছে। আর এখানে রয়েছে Systemd-free এর সুবিধা। Systemd হচ্ছে লিনাক্স বেইসড OS এর অন্যতম রানিং টুলস। তবে antiX Linux এ ব্যবহার করা হয়েছে Icewm উইন্ডোজ ম্যানেজার যার মাধ্যমে একে লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেম রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। এখানে নুন্যতম প্রি-বিল্ড অ্যাপস দিয়ে রাখা হয়েছে। antiX Linux ব্যবহার করতে হলে আপনার চাই ২৫৬ মেগাবাইটের র‌্যাম এবং ২.৭ গিগাবাইটের ফ্রি হার্ডডিক্স স্পেস।

11. SparkyLinux

SparkyLinux লাইটওয়েট হলেও এর ভিন্ন ভিন্ন সংষ্করণ রয়েছে। যাদের মধ্যে বেস ভার্সনটি সবথেকে লাইটেস্ট। বেস ভার্সনে তেমন কোনো প্রি-ইন্সটলড অ্যাপস নেই তাই এটা ব্যবহার করলে আপনাকে নিজে থেকে ম্যানুয়াল ভাবে মিডিয়া প্লেয়ার অ্যঅপ, ব্রাউজার অ্যাপ ইত্যাদি সবকিছুই ডাউনলোড ও ইন্সটল করে নিতে হবে। ফুল ভার্সনে প্রি-ইন্সটল ভাবে সবকিছুই পাবেন তবে তখন আর সেটাকে লাইটওয়েট ওএস বলা যায় না।

SparkyLinux সরাসরি Debian এর ভিক্তিতে তৈরি করা কিন্তু এটা Debian এর টেস্টিং ভার্সনের উপর বিল্ড করা হয়েছে। তারমানে আপনি Debian এর Testing Distribution এর লেটেস্ট সকল ফিচারগুলো সবার আগে পরখ করতে পারবেন। এখানে আগে থেকেই রয়েছে অনেক অপশন যেমমন LXDE, OpenBox/JWM, e17, MATE, LXQt, Cli ইত্যাদি। আর SparkyLinux চালাতে হলে আপনার দরকার নুন্যতম ২৫৬ মেগাবাইটের র‌্যাম আর ৫ গিগাবাইটের ফ্রি হার্ডডিক্স স্পেস।

12. Bodhi Linux

Bodhi Linux হচ্ছে লাইটওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রোর একটি জনপ্রিয় নাম। গুগলে লাইটওয়েট বা LessRam লিনাক্স লিখে সার্চ দিলেই টপ লিস্টে আপনি এই Bodhi Linux কে দেখতে পাবেন। আর Bodhi Linux নিয়মিত আপডেট এবং আপগ্রেড করা হয়ে থাকে, একে Ubuntu এর উপর ভিক্তি করে বিল্ড করা হয়েছে। Bodhi Linux এ রয়েছে তিন ধরণের ISO ।

এই লিনাক্স ডিস্ট্রোকে কোনো ধরণের প্রি-ইন্সটলড অ্যাপ আপনি পাবেন না তবে ePad টেক্স এডিটর, ফাইল ম্যানেজার, ইমেজ ভিউয়ার, ওয়েব ব্রাউজার, সিস্টেম আপডেটার আর মেন্টাডরি হিসেবে Terminal Emulator কে পেয়ে যাবেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে 3.2 Linux Kernel যার মাধ্যমে এই Bodhi কে আপনি ১৫ বছরের পুরোনো সিস্টেমেও সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। এটা চালাতে চলে আপনার চাই নুন্যতম ১২৮ মেগাবাইটের র‌্যাম এবং ১ গিগাহার্জের CPU ।

13. Peppermint Linux

Bodhi লিনাক্সের ছোটভাই হিসেবে বলতে পারেন এই Peppermint Linux কে। এটিও একটি লাইটওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রো যেখানে প্রি-লোডেড অ্যাপস হিসেবে খুবই কম টুলসকে রাখা হয়েছে। একে বিল্ড করা হয়েছে Ubuntu এর LTS বা Long-Term Support এর উপর, আর এটা মূলত হচ্ছে Lightweight X Desktop Environment (LXDE) ।
এখানে বিল্ট ইন ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে মজিলা কিংবা ক্রোমকে না দিয়ে বরং Ice কে রাখা হয়েছে।
পেপারমিন্টকে চালাতে হলে আপনার চাই ইন্টেল x86 সিরিজের প্রসেসর আর ৫১২ মেগাবাইটের নুন্যতম র‌্যাম।

14. Arch Linux

Arch Linux হচ্ছে একটি Independent ভাবে নির্মিত লিনাক্স ডিস্ট্রো, অর্থ্যাৎ এতে উবুন্টু বা ডেবিয়ানের উপর বেস করে নির্মাণ করা হয়নি। এটা মূলত একটি লাইটওয়েট i686 / x86-65 general-purpose GNU / Linux Distro যা প্রায় যেকোনো লো স্পেস পিসিতে ব্যবহার করা যাবে। আর এটা ব্যবহার করতে পারবেন ১২৮ মেগাবাইটের র‌্যামের সিস্টেমেও!

15. Slax

Slax হচ্ছে একটি ”লাইভ” অপারেটিং সিস্টেম যা লিনাক্সের উপর ভিক্তি করে বানানো হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সিস্টেমের কোনো ডেমেজ হলে যাতে আপনি এক্সটারনাল মিডিয়াতে এই Slax কে চালিয়ে সিস্টেমকে ট্রাবলশ্যুট করতে পারেন। এটা কোনো প্রকার স্থায়ী ইন্সটলেশন ছাড়াই সম্পূর্ণ ফাংশনযুক্ত একটি অপারেটিং সিস্টেম, এবং এটি বেশ লাইটওয়েটও বটে! আর ৩২ বিট ও ৬৪ বিট প্রসেসর সার্পোট তো থাকছেই।
৩২ বিট সংষ্করণটি স্পেশাল ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে পুরোনো কম্পিউটার (যেমন ইন্টেল ৪৮৬ যেটা ১৯৮৯ সালের প্রসেসর) সিস্টেমে চলার জন্য। তবে মর্ডান পুরোনো সিস্টেমে আপনি ৬৪ বিট ভার্সনটি চালাতে পারবেন। উল্লেখ্য যে ৩২ বিট ভার্সনটিতে র‌্যাম লিমিট হচ্ছে ৩ গিগাবাইট। অর্থ্যাৎ আপনার সিস্টেমে ৩ জিবির উপরে র‌্যাম থাকলেও ৩২ বিট ভার্সনে আপনি ৩ জিবি পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। আর নুন্যতম ২৫৬ মেগাবাইটের র‌্যাম লাগবে।

16. ZorinOS

ZorinOS হচ্ছে একটি মাল্টিফাংশনাল অপারেটিং সিস্টেম যা মূলত লিনাক্সে নতুন ইউজারদের জন্য বানানো হয়েছে। এটি লাইটওয়েটও বটে। এটা উবুন্টুর উপর ভিক্তি করে বিল্ড করা হয়েছে তাই এখানে রক-সলিড পারফরমেন্স পাবেন সেটা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আর একে বিল্ড করা হয়েছে উইন্ডোজের সাথে ডুয়াল বুট হিসেবে ব্যবহার করার জন্য, তবে Sole সিস্টেম হিসেবেও আপনি ZorinOS কে ইন্সটল করতে পারবেন। একে চালানোর জন্য নুন্যতম ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যাম থাকা লাগবে।

17. Phoenix OS

আমাদের লিস্টে একমাত্র অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রাখা হয়েছে Phoenix OS কে। কারণ এটা ব্যবহার করা বেশ সহজ, আর ইন্সটলেশনে কোনো সিরিয়াস ঝামেলা নেই। ডুয়াল বুট হিসেবে মূলত ডিজাইন করা হলেও USB ডিক্স থেকে আপনি Sole সিস্টেম হিসেবে একে বুট করতে পারেন। তবে এখানে লিমিটেশন হচ্ছে শুধুমাত্র ইন্টেলের X86 সিরিজের প্রসেসরে এটা সার্পোট করবে। আর এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ড থাকলে সেটার ড্রাইভার (Mesa Driver) খুঁজে পাওয়া একটু দুরহ ব্যাপার। তবে এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে এই ফনিক্স কে চালাতে চাইলে এর মডিফাইড ভার্সন যেমন Phoenix OS ROG কিংবা Phoenix OS Dark Matter Exo এগুলো ব্যবহার করতে পারেন কারণ সেখানে এক্সটারনাল GPU এর ড্রাইভার সহজেই পেয়ে যাবেন। পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েডের সার্পোট সহ ডিজাইন হিসেবে উইন্ডোজ এর স্বাদ আপনি এখানে পেয়ে যাচ্ছেন। নুন্যতম ৫১২ মেগাবাইট র‌্যাম লাগবে এটা চালাতে হলে।

18. CrunchBang++

CrunchBang++ কে অনেকেই CBPP বা #!++ নামে চিনে থাকবেন। এটা মূলত Cruchbang Linux এর একটি ক্লোন অপারেটিং সিস্টেম যা এখন Discontinued । CrunchBang++ যেকোনো পুরোনো সিস্টেমে কোনো প্রকার ইস্যু ছাড়াই চলতে পারে। তবে সেটা শুধুমাত্র ৩২ বিট সংষ্করণের জন্য প্রযোজ্য। আর এটা Debian 10 এর উপর বেস করে বিল্ড করা হয়েছে তাই হার্ডওয়্যার কম্পাবিলিটি নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। এটা চালাতে হলে নুন্যতম ৫১২ মেগাবাইট র‌্যামের প্রয়োজন।

19. SliTaz

পুরোনো পিসিতে আপডেটেড কিন্তু লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেম খুঁজছেন এবং লিনাক্স ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই? তাহলে SliTaz হচ্ছে আপনার জন্যই! লাইটওয়েট এই লিনাক্স ডিস্ট্রোটি একই সাথে হাই পারফরমেন্স এবং নিয়মিত আপডেট হয়ে থাকে। পুরোনো পিসি, সার্ভার এবং এমনটি ছোটখাট ARM ডিভাইস যেমন Raspherry Pi তেও আপনি একে ইন্সটল করতে পারবেন। এর ISO ইন্সটলেশন সাইজ মাত্র ৪০ মেগাবাইটের থেকেও কম আর ইন্সটলেশনের পর মাত্র ১০০ মেগাবাইটের ডিক্স স্পেস ব্যবহার করে!

20. Windows Embedded Industry

আজকের পোষ্টটি শেষ করছি উইন্ডোজ দিয়ে! কখনো কি চিন্তা করেছেন যে লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেমের লিস্টে উইন্ডোজ কে থাকতে? তাও আবার উইন্ডোজ ৭ বাদে! হ্যাঁ! উইন্ডোজ ৭ চালাতে গেলে নুন্যতম ১ গিগাবাইট র‌্যামের সিস্টেম লাগতো কিন্তু উপরের স্ক্রিণশটে দেখুন উইন্ডোজ চলছে তাও আবার মাত্র ২৫৭ মেগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করে!
কারণ এটা হচ্ছে Windows Embedded Industry ভার্সন যা নরমাল ভার্সনের থেকে একদমই আলাদা আর তাই এ কারণে এটা অনেক দিন ধরে চলে আসলো আপনাদের অনেকেই শুনেননি।
উইন্ডোজের Embedded Industry কে বানানো হয়েছে শুধুমাত্র কমার্শিয়াল ডিভাইসের জন্য। যেমন রিটেইল, হেলথকেয়ার, ম্যানুফ্যাক্টারিং কোম্পানিতে বিভিন্ন ডিভাইস রয়েছে যেখানে OS হিসেবে একে ব্যবহার করা হয়। আর তার মানে হচ্ছে নরমাল উইন্ডোজের থেকে Windows Embedded Industry ডিস্ট্রোতে কোনো প্রকার Windows – tracking এবং নুন্যতম bloatware থাকে। আর তার কারণেই উইন্ডোজ এখানে ৩০০ মেগাবাইটের থেকেও কম র‌্যাম ব্যবহার করে।
তবে এটা ইন্সটলের আগে কিছু কথা জেনে নিন। এটা এক্সট্রিমলি লাইটওয়েট, এটা কে Windows 8.1 এর উপর ভিক্তি করে বানানো হয়েছে তাই Windows 7 এর স্টার্ট মেন্যুর ডিজাইন পাবার জন্য আলাদা অ্যাপ আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। আরেকটি কথা হচ্ছে এটাকে অনান্য উইন্ডোজ ভার্সনের মতোই Key দিয়ে এক্টিভেট করা লাগবে তাই অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড না দিয়ে টরেন্ট থেকে ডাউনলোড দিতে পারেন।

 

Avatar
Fahad is a freelance writer and editor with nearly 10 years' experience in Bangla Technology Blogging who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.