কোয়ালকম গত বছর মার্চে লঞ্চ করেছিল  Snapdragon 730G। প্রায় একই স্পেক্স নিয়ে এই বছর এর শুরুতে লঞ্চ করে Snapdragon 720G। দুইটি চিপসেটই ফোন ম্যানুফেকচাররা তাদের মিড-বাজেটের ফোন গুলোতে দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রায় একই বাজেটের ফোনে বা একই ব্র্যান্ডের সেম বাজটের বিভিন্ন ফোনে দুই চিপসেটের দেখা মিলাতে ক্রেতা সাধারণকে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দে পড়তে হচ্ছে। এই দ্বিধাদ্বন্দের জট কিছুটা খুলার প্রয়াশ থাকবে আজকের এই আর্টিকেলে।

কেন এই আর্টিকেল?

অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে একটা এক বছরের পুরান চিপসেট অন্য দিকে আরেকটাও প্রায় খুব রিসেন্ট চিপসেট না তাহলে এতদেরি কেন এই কম্পারিজন?  প্রশ্নটা একদিক দিয়েই সঠিক। এই আর্টিকেল আরো আগেই আসা উচিত ছিল। কিন্তু আর্টিকেলের স্টিল ইরিভেলেন্ট নাহ। কারণ শাওমি, রিয়েলমি শুধু ম্যানুফেকচার এর দিকে তাকালেই দেখা যাবে তাদের মিড-বাজেটে এই চিপসেট গুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের দেশে সদ্য লঞ্চ হওয়া রেডমি নোট ৯ প্রো/এস দুইটি ফোনেই দেওয়া হয়েছে ৭২০জি প্রসেসর। মিড বাজেটের শাওমির জনপ্রিয় ফোকো ২(রেডমি কে৩০) ফোনে ব্যবহার করা হয়েছিল ৭৩০জি। অন্যদিকে রিয়েলমি ৬প্রোতে ব্যবহার হয়েছে ৭২০জি আবার এর আগের মার্কেট কাপানো এক্স২/টি সিরিজে দেওয়া হয়েছিল ৭৩০জি। ৭৩০জি এর ফোন গুলো এখনও মার্কেটে এভাইলেবল এন্ড মোটামুটি অনেকের জন্য গুড চয়েস। নামের দিকে থেকে ৭২০জি কে চিন্তা করলে আমাদের সবার মাথায় এই চিন্তা উঁকি দেয় সেটা হল এই চিপসেট কি ডাউনগ্রেডেড ? যদি ডাউনগ্রেডড হয় তাহলে ম্যানুফেকচাররা কেন নতুন ফোনে এই চিপসেট ব্যবহার করেছে? এইসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য একদম শেষ পর্যন্ত পড়ে যাওয়ার অনুরোধ রইল।

 

720G VS 730G – সিপিউ পার্ফমমেন্স

দুইটি চিপসেটই 8nm এর ফ্রেবিকেশন এর তৈরি। তাদের কোর কাউন্টও একই উভয়ে রয়েছে ৮টি করে করে কোর। কিন্ত ইন্টারনাল কোর আর্কিটেকচার ও ক্লক স্পিডে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। 

Snapdragon 730G’তে রয়েছে Kryo 470 কোর,কিন্তু  Snapdragon 720G’তে Kryo 465. এছাড়া ২টি বড় কোর+৬টি ছোট কোর এভাবে ৮টি কোরের সেটাপ করা হয়েছে। উভয় চিপসেটের ছোট ছয়টি কোর এর ক্লক স্পিড সেম তা হল ১.৮ গিগাহার্টজ এবং আর্কিটেকচার ও সেম তা হল Cortex A55। অন্যদিকে বড় কোর দুইটিও Cortex A76 আর্কিটেকচারের হলেও লেটেস্ট ওয়ান অর্থাৎ ৭২০জি’র ক্লক স্পিড ১০০ মেগাহার্টজ বেশি অর্থাৎ ২.৩ গিগাহার্টজ যেখানে ৭৩০জি’র ক্লক স্পিড হল ২.২গিগাহার্টজ

জমজ ভাইয়ের মত প্রায় সেম টু সেম সিপিউ স্পেক থাকলে একটু হলেও কে এগিয়ে কে পিছয়ে এটা বুঝার জন্য অনটুটু ও গিকবেঞ্চের বেঞ্চমার্ক স্কোর গুলো দেখে নেয়া যাক।

অনটুটু বেঞ্চমার্কের স্কোরের দিকে তাকালেই দেখা যাচ্ছে উভয়ের স্কোর প্রায় উনিশ-বিশ এমন। যদিও ৭২০জি অল্পমাত্রায় লিড নিতে পেরেছ ক্লক স্পিড বেশি থাকার কারনে।

সোর্সঃ techpp

 

গিকবেঞ্চ [720G VS730G] ক্রেডিটঃ বিবম
অন্যদিকে গিক বেঞ্চের সিংগেল কোর স্কোর এ ৭২০জি এগিয়ে রয়েছে কিন্তু মাল্টিকোর স্কোরে গিয়ে আবার খুবই ক্লোজ রেসাল্ট দিয়ে উভয় চিপসেট।

সো, ওভারঅল ৭২০জি অল্পমাত্রায় এগিয়ে থাকলেও এই সেকশানে এককভাবে কেউ লিড নিতে পারেনি। যার কারণে প্র্যাক্টিকেল ডে টু ডে ইউসেজে বলা যায় প্রায় সেম পার্ফমমেন্স রেসাল্ট পাওয়া যাবে উভয় চিপসেট থেকে।

720G VS 730G – জিপিউ পার্ফমমেন্স

চিপসেট এ সিপিউ পার্ফমমেন্সের পর একটা চিপসেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর গেমিং পার্ফমমেন্স। দুটো প্রসেসর এর শেষে আমরা ‘G’ দেখতে পাচ্ছি তার মানে এই প্রসেসর গুলো গেমিং ওরিয়েন্টেড। এতে গেমিং এর জন্য এক্সট্রা বুস্ট ও কিছু বাড়তি ফিচার পাওয়া যাবে। জিপিউ হিসেবে থাকছে Adreno 618 যা উভয়ের জন্য সেম। কোয়ালকম থেকে এর ক্লক স্পিড সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। ৭৩০জি এর এনাউন্সমেন্ট এর সময় কোয়ালকম ক্লেইম করে ছিল এতে ৭৩০(একই জিপিউ) এর তুলনায় ১৫% বেশি পার্ফমমেন্স বুস্ট পাওয়া যাবে।৭২০জি এর ক্ষেত্রেও কি কোয়ালকম সেইম জিপিউ ব্যবহার করেছে কিনা এই নিয়ে কোয়াকমের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি

সিপিউ পার্ফমমেন্সে এ দেওয়া অনটুটু বেঞ্চমার্কে জিপিউ স্কোর লক্ষ্য করলে দেখা যাবে একদম প্রায় নেক টু নেক।

3D marks [720G VS 730G] ক্রেডিটঃ বিবম
অন্যদিকে 3DMark এর বেঞ্চ মার্কেও একই দশা। কেউ সিগনিগিকেন্টলি কিছু গেইন করতে পারিনি। অর্থাৎ জিপিউ পার্ফমমেন্সেও চিপসেট দুইটি মোর ওর লেস একই পার্ফম করবে।

720G VS 730G ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসর(ক্যামেরা)

এইখানে দৃশ্যত কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ৭৩০জিতে দেওয়ার Spectra 350 অন্যদিকে ৭২০জিতে দেওয়া হয়েছে কিছুটা ডাউন গ্রেডের ভার্সন Spectra 350L। ৭৩০জি’তে ডুয়েল ক্যামেরা ২২মেগাপিক্সেল ও সিংগেল ক্যামেরায় ৩৬ মেগাপিক্সেলের , অন্যদিকে ৭২০জি’তে ১৬মেগাপিক্সেল ও সিংগেল ক্যামেরায় ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা সাপোর্ট করবে । উভয়ে জিরো শাটার ল্যাগ, ম্যাল্টি ফ্রেইম নয়েস রিডাকশন ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে। ভিডিও সেকশানে দুইটোতেই 4K30fps এ ভিডিও শূট করা যাবে।

720G VS 730G -ডিসপ্লে

দুটোতেই ৯০/১২০ হার্টজের ডিসপ্লে সাপোর্ট করে। পার্থক্য হচ্ছে ৭৩০জি’তে QHD+ রেজ্যুলেশন সাপোর্ট করে সেখানে ৭২০জি’তে রেগুলার FHD+ সাপোর্ট করে। মিড-বাজেটের ফোনগুলোতে এখনও QHD+ রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে দিতে দেখা যায়নি বলে এটা আসলে কোনো বিগ ফ্যাক্টর নাহ।

720G VS 730G -আর্টিফিশাল ইন্টিলিজেন্স(DSP)

দিন দিন এই সেকশানটা একটা চিপসেটে গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ দুনিয়া এখন আর্টিফিশাল ইন্টিলিজেন্সের। ভয়েস এসিস্ট্যান্ট, ইমেজ ইডিটিং ও ফেইস আনলক সহ যাবতীয় অনেক কিছু করে থাকে DSP(Digital Signal Processor) এর দ্বারা। ৭২০জি’তে দেওয়া DSP হয়েছে Hexagon 692(5th-gen AI Engine) অন্যদিকে ৭৩০জি’তে Hexagon 688(4th-gen AI Engine)। আপডেটেড DSP পেয়ে এই সেকশানে ৭২০জি মোটামুটি এগিয়ে রয়েছে। তা নিচের দেওয়া Ai বেঞ্চমার্ক দেখলেই বুঝাতে পারবন।

ক্রেডিটঃ বিবম

যেসব বিষয়ে ন্যুনতম পার্থক্য রয়েছে সেইসব তুলে ধরা হয়েছে। মেমোরি ও কানেক্টিভিটি অর্থাৎ ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ একই হওয়ার কারনে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।

উপসংহার

লম্বা কম্পারিজন শেষে এখানে একক ভাবে কেউ জিতানো যাচ্ছে নাহ। সিপিউ পার্ফমমেন্সে ৭২০জি’কে কিছুটা এগিয়ে রাখলে ক্যামেরা সেকশানে আবার লিড নিয়েছে ৭৩০জি। শেষ কথা হচ্ছে দুটো চিপসেটই প্রায় একই পাওয়াফুল এইখানে চিপসেটের জন্য কোনো ফোন পিছিয়ে থাকবে নাহ।

বিঃদ্রঃ বেঞ্চমার্ক স্কোরগুলোকে এবসিলিউট ট্রুথ হিসেবে না দেখলেই ভাল। বিভিন্ন ফোনের কনফিগারেশন  ও অপ্টিমাইজেশন ইত্যাদির কারণে এখানে কিঞ্চিৎ উঠানামা হতে পারে।