মাত্র এক ক্লিকে গেমিং পারফরমেন্স বুস্ট করুন! সাথে আগে অবস্থার ছবি থাকবে কচ্ছপের আর পরের অবস্থার ছবি থাকবে খরগোশের! না এমনটা আমি আপনাদের সাথে করবো না। কারণ উল্টাপাল্টা বলে এবং উল্টাপাল্টা আকর্ষণীয় টাইটেল লিখে ভিউ কামানো আমার কাজ নয়। মাত্র ৩/৪ বছর আগের গেমিং বলতে আমরা পিসি গেমিং বা কনসোল গেমিংকেই চিনে থাকতাম। কিন্তু প্রযু্ক্তির উন্নতির সাথে এবং আমাদের দেশে সস্তায় ভালো ভালো মোবাইল ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে বিধায় এখন বলা চলে যে বাংলাদেশে পিসি / কনসোল গেমারের থেকে মোবাইল গেমার বেশ বেশি। আর আজকের পোষ্টটি করছি কিভাবে আপনি আপনার মোবাইল ডিভাইস থেকে সবোর্চ্চ স্পিডটুকু গেমিংয়ের সময় আদায় করে নিতে পারবেন। স্পিড বুষ্ট বলতে সময়ের বিবর্তনে স্লো হয়ে যাওয়া ডিভাইসকে আগের মতো পারফরমেন্স করে নেওয়াকেই বুঝায়, নতুন সেট কেনার সময় যে রকম স্পিড পেয়েছিলেন সেরকম করা।

১) নিয়মিত সিস্টেম আপডেট করুন

পিসি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মতোই অ্যান্ড্রয়েডেরও সময় মাফিক কিছু বাগ থেকে যায় যার কারণে হার্ডওয়্যারের সম্পূর্ণ পারফরমেন্স থেকে আপনি বঞ্চিত থাকেন। আর এর জন্য নিয়মিত OS আপডেট করা উচিত। প্রতি মাসে যে অ্যান্ড্রয়েড সিকুরিটি প্যাচ আপডেট দিচ্ছেন সেখানে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে প্যাচ ছাড়াও বিভিন্ন ফিক্স থেকে থাকে যা আপনার ডিভাইসের জন্য বেশ জরুরী।

২) ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিস বন্ধ করুন

আমাদের কম্পিউটারের টাস্ক ম্যানেজার চালু করলে যেমন দেখা যায় অনেকগুলো প্রোগ্রাম এবং সার্ভিস চলছে ঠিক তেমনি অ্যান্ড্রয়েডেও একই সাথে অনেকগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড প্রোগ্রাম এবং সার্ভিস চলে থাকে। আপনার ডিভাইসের র‌্যাম যদি ৪ গিগাবাইটের উপরে হয়ে থাকে তাহলে এই ধাপটি স্কিপ করে যান। কিন্তু ৪ গিগাবাইট বা এর নিচের র‌্যামের ডিভাইসে ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিস বন্ধ করে দিলে গেমিংয়ের সময় বেশ ভালোই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। যেমন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, whatsapp, Telegram এই টাইপের অ্যাপগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিস সবসময়ই চলতে থাকে এগুলোর অ্যাপ চালু না করা থাকলেও, তাই তো আপনি হঠাৎ করে অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন পেয়ে যান সেগুলোকে চালু না রাখলেও। এই সার্ভিসগুলো বন্ধ করতে প্লেস্টোর থেকে যেকোনো ক্লিনিং অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলেই হবে। শাওমির ডিভাইসে আলাদা করে অ্যাপ ইন্সটলের দরকার নেই কারণ সেখানে আগে থেকেই নিজস্ব ক্লিনিং সার্ভিস দেওয়া থাকে।

৩) Lite ভার্সন ব্যবহার করুন

এই ধাপটিও যাদের ৪ গিগাবাইট বা নিচের র‌্যামের ডিভাইস ব্যবহার করেন তাদের জন্য। আমি নিজে আমার শাওমি A2 Lite ডিভাইসে (4GB Ram) লাইট অ্যাপ ইউজ করে থাকি। কারণ আমি ছোট থেকেই ফেসবুক আর লাইট ব্যবহার করে আসছি তাই লাইট অ্যাপটি সাথে আমার বনে গিয়েছে। এখন ফেসবুকের নরমাল ভার্সনটি আমার কাছে আজিব লাগে! যেকোনো অ্যাপের লাইট ভার্সন ব্যবহার করলে যেমনটা এগুলো রমের স্পেস কম খায় ঠিক তেমনটি র‌্যামও কম ব্যবহার করে থাকে।

৪) GL Tool ব্যবহার (রুট)

এই পদ্ধতিটি যারা রুট ইউজার রয়েছেন তাদের জন্য। যারা পাবজি খেলেন তারা যেমন তাদের নিজস্ব BAGT টুল ব্যবহার করে বিভিন্ন টুইকস করে থাকেন ঠিক তেমনভাবে পুরো অ্যান্ড্রয়েডের জন্যেও আলাদা একটি টুল সেট রয়েছে যেটা প্রায় সকল গেমের সাথেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তবে এর জন্য আপনার ডিভাইসটি রুট করা হতে হবে।
প্রথমে GL Tool টি ডাউনলোড করে নিন। PCB রুলসে না থাকায় সরাসরি ডাউনলোড লিংক দিতে পারলাম না কারণ এই টুলটি প্লেস্টোরে নেই।
ইন্সটল করার পর রুট একসেস চাইলে টুলটিকে একসেস দিন।
পরের ধাপে টেক্সচার প্লাগইনে সিলেক্ট করুন TEX(DE) Coder

অ্যাপটি রিবুট হবে। এবার আপনার সিস্টেমের সকল অ্যাপসগুলোকে আপনি লিস্ট হিসেবে অ্যাপটিতে দেখতে পারবেন।

এবার অ্যাপ লিস্ট থেকে পছন্দমতো যেকোনো গেমকে সিলেক্ট করুন। এবার দেখবেন যে পিসি গেমের সেটিংস এর মতো অনেকগুলো অপশন চলে এসেছে যা স্বাভাবিকভাবে গেমে পাবেন না।

পছন্দমতো সেটিংস দিয়ে এবার গেমটি লঞ্চ করুন আর পরিবর্তন দেখে নিন!

৫) নোটিফিকেশনকে ছুটি দিন

ধরুণ পাবজি খেলছেন। শেষ ১০ লিস্টে চলে এসেছেন, তুমুল উত্তেজনাকর মূহুর্ত্বে রয়েছেন। আর ঠিক তখনই বাংলালিংক থেকে কোনো অফারের SMS বা ডাইরেক্ট কল চলে আসলো! তখন মেজাজটা কেমন লাগবে তা আমি জানি। মোবাইলে মাল্টিপ্লেয়ার জাতীয় গেম খেলার সময় এই জাতীয় নোটিফিকেশনগুলোকে বন্ধ করে নিন। তাহলে আপনার গেমিং এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালো হবে। তবে বর্তমানের অনেক ডিভাইসে আগে থেকেই Game Mode বা এই জাতীয় নামে আলাদা করে গেমিং প্রোফাইল দেওয়া থাকে যেখানে শুধুমাত্র কল ব্যাতিত সকল নোটিফিকেশনগুলোকে ঘুমিয়ে রাখা হয়।

৬) কন্ট্রোলার ব্যবহার করুন

মোবাইলের টানস্ক্রিণ আপনাকে মাউস আর কিবোর্ডের মতো কনট্রোলের স্বাদ এনে দিতে পারে না। তবে তাই বলে যে মজার কনট্রোলের থেকে বঞ্চিত থাকবেন সেটা কিন্তু নয়। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি স্মার্টফোনেই OTG সার্পোট পাবেন। আর বাজারে OTG সার্পোটেড মাউস এবং কিবোর্ড পাওয়া যায়। OTG কিবোর্ড কিনে ডিভাইসে লাগালেন এবং Bluetooth মাউস কিনে এনে কানেক্ট করলেন! ব্যাস হয়ে গেল! তবে সাবধান বিভিন্ন অনলাইন গেম যেমন পাবজিতে আলাদাভাবে মাউস কিবোর্ড লাগানো নিষেধ।

৭) Bluetooth হেডফোন ব্যবহার করুন

পাবজি বা এরকম ইনটেন্স গেম খেলার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে হেডফোন। হেডফোন দিয়ে গেম খেলা আর লাউড স্পিকারে খেলার মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। আর মোবাইলে হেডফোন লাগিয়ে খেললে তারের যেমন ঝামেলা রয়েছে ঠিক তেমনি হেডফোন জ্যাকের স্থানে হাতের চাপ লেগে থাকে যা পোর্টের জন্য ক্ষতিকর। তাই এই সকল ঝামেলা এড়াতে Bluetooth হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন।

৮) Native বুস্টার ব্যবহার করুন

পাবজি, ফ্রি ফায়ার , Asphalt 9 ইত্যাদি হেভি গেমের জন্য আলাদা করে গ্রাফিক্স টুইকার রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে গেমসগুলোর এডভান্স সেটিংস আপনি মডিফাই করতে পারবেন। যেমন পাবজিতে সেটিংয়ে আপনি রেজুলেশন পরিবর্তন করতে পারবেন না কিন্তু BAGT বা অনান্য মডিফাই টুলের সাহায্যে এই রেজুলেশন ছাড়াও আরো বেশ কিছু টুইকস করতে পারবেন।

 

এই ছিলো গেমিং পারফরমেন্স বুস্ট করার কয়েকটি পদ্ধতি। পোষ্টটি সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আর হ্যা PCB ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপে এই পোষ্টের লিংকেও কমেন্ট করুন, আমি সেখানে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেবো।

Avatar
Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.