ব্রডব্যান্ড লাইন ব্যবহার করেন কিন্তু WiFi রাউটার ব্যবহার করেন না এমন লোকের সংখ্যা ১০০ তে ৫/৬% । আর যেখানেই বন্ধু বান্ধবদের, আত্নীয়দের WiFi নেটওর্য়াক থাকে সেখানেই ইউজারদের সংখ্যা একটু বেশিই হয়ে থাকে। আবার ফ্রি ওয়াইফাই বা অফিসের ওয়াইফাই হলে তো কথাই নেই। কিন্তু একসময় দেখা যায় যে লিমিটের বেশিই ইউজার হয়ে পড়ে আর আপনি নিজেই নিজের ওয়াইফাইকে Slow এর ঠেলায় ব্যবহার করতে পারছেন না। আজকের পোষ্টে আমি দেখাবো কিভাবে আপনি নিজের ওয়াইফাই থেকে অনাকাঙ্খিত ইউজারদেরকে নক আউট কিংবা ব্লগ অথবা তাদের নেটকে স্লো করে দিতে পারবেন। কারণ বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে রুট একসেস থাকলেই যেকোনো কানেক্টেড WiFi এর পাসওর্য়াড বের করা কোনো কঠিন কিছু নয়।

১ম পদ্ধতি: পাসওর্য়াড পরিবর্তন!

আপনার ওয়াইফাই থেকে বহিরাগত ডিভাইস বা ইউজারদেরকে সব থেকে সহজে ঝেটে ফেলার উপায় হচ্ছে পাসওর্য়াড পরিবর্তন করে দেওয়া! যেটা আপনি এমনিতেই আপনার নিজের মোবাইল থেকেই করে ফেলতে পারেন। তবে মনে রাখবেন পাসওর্য়াড পরিবর্তন করা মাত্রই আপনার নিজের ডিভাইসটিও কিন্তু WiFi থেকে ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে আপনার ওয়াইফাই থেকে কোনো আত্নীয় বা বন্ধুদেরকে এভাবে কিক আউট করলে তারা মন খারাপ করতে পারে। তবে অন্য কেউ বা অপরিচিত কেউ হলে এই পদ্ধতিই আপনার জন্য বেস্ট। একই সাথে আপনার রাউটার এডমিন পেজেরও ইউজার নেম ও পাসওর্য়াড পরিবর্তন করে নিন, জাস্ট ইন কেইসের জন্য। তবে মনে রাখতে হবে যে আপনার নিজের অনেকগুলো ডিভাইস থাকলে সেগুলোর সবগুলোকেই নতুন পাসওর্য়াড দিয়ে কানেক্ট করতে হবে যেটা একটু প্যাড়াদায়ক!

২য় পদ্ধতি: ম্যাক ফিল্টার!

এটা execute করা একটু কঠিন কিন্তু এই পদ্ধতিতে আপনি ওই ব্যবহারকারীকে চিরস্থায়ীভাবে আপনার WiFi থেকে বের করে দিতে পারবেন। যতই আপনি পাসওর্য়াড পরিবর্তন বা ওয়াইফাইয়ের নাম পরিবর্তন করেন না কেন একমাত্র ম্যাক ফিল্টার তুলে দিলেই ওই ব্যবহারকারী আপনার ওয়াইফাইকে ব্যবহার করতে পারবে।
এর জন্য প্রথমে আপনার ওয়াইফাই রাউটার পেজে চলে যান। সেখানে গিয়ে দেখবেন Access Control নামের অপশন রয়েছে যেখানে গিয়ে আপনার ব্যবহারকারীর ম্যাক এড্রেসটি লিখে একশন থেকে Block সিলেক্ট করে দিন। তাহলেই হবে। আপনার ওয়াই ফাই নেটওর্য়াকে বর্তমানে কারা কারা ব্যবহার করছে সেই সেকশন থেকেই আপনি সবারই ম্যাক এড্রেস বের করে ফেলতে পারবেন।
তবে মনে রাখতে হবে, এই ফিচারটি সকল রাউটারে থাকে না। তাই আপনার রাউটারে এই ফিচারটি না থাকলে পরবর্তী পদ্ধতিতে স্কিপ করে যান।

৩য় পদ্ধতি: নাম পরিবর্তন!

আপনার বন্ধুবান্ধব বা আত্নীয়দের থেকে ওয়াইফাই সাময়িকভাবে ডিসকানেক্ট করতে আপনি আপনার ওয়াইফাইয়ের নামটি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন। এতে পাসওর্য়াড পরিবর্তন না হলেও তারা আর আপনার ওয়াইফাই নেটওর্য়াকে কানেক্ট হতে পারবে না। আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবারো আগের নামে রিস্টোর করে দিলে তারা আবারো আগের মতোই কানেক্ট হতে পারবে!
এছাড়াও আপনার ওয়াইফাইয়ের নামকে আপনি হাইড করেও রাখতে পারবেন! সেটা নিয়ে আমি একটি ডেডিকেটেড পোষ্ট করেছি সেটা দেখে নিন:

অবাঞ্ছিত WiFi ইউজারদের হাত থেকে মুক্তি পেতে হাইড করে রাখুন আপনার WiFi নাম!

৪র্থ পদ্ধতি: ম্যানুয়ালভাবে স্পিড নিয়ন্ত্রণ

একটি টুল রয়েছে যেটা ব্যবহার করে আপনি নিজে নিজেই আপনার ওয়াইফাইয়ের কানেক্টকৃত সকল ডিভাইসের (আপনার নিজেরও) স্পিড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ধরুণ আপনার বন্ধু বা আত্নীয়কে সরাসরি কিক আউট করতে পারছেন না, পারছেন না নাম পরিবর্তন বা পাসওর্য়াড পরিবর্তণ করতে। তখন আপনার এই পদ্ধতিটি কাজে আসবে। এর মাধ্যমে আপনি যেকোনো কানেক্টকৃত ডিভাইসের স্পিডকে সেট করে দিতে পারবেন। যেমন আপনি চাইলে নিদির্ষ্ট ডিভাইসটি আপনার ওয়াইফাই থেকে 10KBPS এর উপরে স্পিড পাবে না! এই পদ্ধতি নিয়েও বেশ কিছুদিন আগেই আমি একটি ডেডিকেটেড পোষ্ট করে ছিলাম। সেটাও একটু দেখে নিন:

যেভাবে কন্ট্রোল করবেন ওয়াইফাই স্পীড

শেষ পদ্ধতি: বাইফোর্স ডিসকানেক্ট (কেবল এডভান্স ইউজারদের জন্য)

এই পদ্ধতি শুধুমাত্র এডভান্স ইউজারদের জন্য যারা Kali Linux সম্পর্কে এডভান্স ধারণা রাখেন। এই পদ্ধতিতে আমরা লিনাক্স ব্যবহার করে একটি Deauthentication Attack করবো যেটার মাধ্যমে আপনার ওয়াইফাই থেকে নিদির্ষ্ট ডিভাইসগুলোকে বাই ফোর্স ডিসকানেক্ট করে দেওয়া হবে। তবে এটা তখনই কাজে আসবে যখন ব্যবহারকারী আপনার ওয়াইফাইয়ের পাসওর্য়াড জানবে না। পাসওর্য়াড জানা থাকলে সে আবারো পাসওর্য়াড দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে কানেক্ট হতে পারবে।

উল্লেখ্য যে এই এট্যাকটি Kali Linux এর মাধ্যমে এই পোষ্টে দেখানো হয়েছে, কিন্তু এটা Mac OS, Linux কিংবা উইন্ডোজে Bash এর মাধ্যমেও করা যাবে কিন্তু বেস্ট রেজাল্ট পাবার জন্য কালি লিনাক্স ব্যবহার করুন।

১) প্রথমে লিনাক্স টার্মিনাল চালু করুন এবং নিজের কমান্ডটি রান করুন
sudo apt install aircrack-ng
এবার নিচের কোডটি রান করান:
iwconfig
এর মাধ্যমে আপনি রাউটারের বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন।

২) এখানে wlan0 হচ্ছে আমার ওয়্যারলেস কার্ডের নাম। এবার পরবর্তী কমান্ডটি রান করান
airmon-ng start wlan0

বুঝতেই পারছেন এখানে wlan0 এর স্থানে আপনার কার্ডের নামটি লেখবেন। এই কমান্ডটির মাধ্যমে বর্তমানে আপনার নেটওর্য়াকটি কোন কোন ডিভাইস ব্যবহার করছে সেটার লিস্ট দেখতে পাবেন।

৩) তবে এখানে এসে সরাসরি আপনার রাউটারের ইউজার পাবেন না বরং আপনার এরিয়ার সকল রাউটারকেই আপনি দেখতে পাবেন। এখানে আপনাকে আবারো iwconfig কমান্ডটি রান করাতে হবে এতে আপনার নেটওর্য়াক কার্ড নেমটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমার টার নাম পরিবর্তিত হয়ে wlan0mon হয়ে গিয়েছে। এবার নিচের কমান্ডটি রান করুন:
airdump-ng wlan0mon

৪) এই লিস্ট থেকে আপনাকে সঠিক রাউটারটি খুঁজে বের করতে হবে যেটায় ডিভাইসটি কানেক্ট রয়েছে। এর জন্য শেষ কলাম মানে ESSID থেকে রাউটার নেমটি সিলেক্ট করে নিন। এবার সেখান থেকে রাউটারের BSSID আর Router Channel তথ্যগুলো কপি করে নিয়ে নিন।

৫) এবার নিচের কমান্ডটি রান করুন
airodump-ng wlan0mon –bssid [routers BSSID here]–channel [routers channel here]

৬) এবার নিচের মতো চিত্র দেখতে পাবেন। এখানে রাউটারটিকে বর্তমানে কানেক্টরত সকল ডিভাইসকে দেখাবে। এখান থেকে আপনার ওই ডিভাইসটিকে বেছে নিতে হবে যেটাকে আপনি বাই ফোর্স ডিসকানেক্ট করতে চান।

৭) ডিভাইসটি ম্যাক এড্রেস এবং রাউটারের ম্যাক এড্রেসটি নোট করে নিন। এবার নিচের কোডটি রান করুন:

aireplay-ng –deauth 0 -c [DEVICES MAC ADDRESS] -a [ROUTERS MAC ADDRESS] wlan0mon

বি:দ্র: এখানে 0 এর স্থানে কতগুলো deauth attacks দিতে চান সেটা দিবেন। যেমন ৩বার হলে লেখবেন 3

ব্যাস! হয়ে গেল! ডিভাইসটি এখন আপনার রাউটার থেকে ডিসকানেক্ট হয়ে গিয়েছে!

Avatar
Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.