কল অফ ডিউটি সিরিজের ব্ল্যাক অপস গেমসগুলোর শুরু দুটি গেম ছিলো বেশ মজাদার এবং গেমারদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো। পরবর্তীতে ব্ল্যাক অপসের তৃতীয় গেমে সিঙ্গেল প্লেয়ার মিশনের দিকে বেশ উন্নতি করা হলেও এবারের ব্ল্যাক অপস গেমটিতে কোনো সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইনই নেই! জ্বী হ্যাঁ! Black Ops 4 গেমটি সম্পূর্ণ একটি অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেম। ব্ল্যাক অপস ৩ গেমটির কনসোল সংষ্করণগুলোতে সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন মোডটি ছিলো না কিন্তু এবারের ব্ল্যাক অপস ৪ গেমটির কোথাও আপনি সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন বা কোম্পানির ভাষায় “ট্রাডিশনাল ক্যাম্পেইন” পাবেন না। অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার, জুম্বি মোড ছাড়াও এই গেমে পাবেন ব্যাটল রয়্যাল মোড! হ্যাঁ পাবজির মতো অনলাইন ব্যাটল র‌য়্যাল মোড রয়েছে এই গেমটিতে। সব কিছু নিয়েই আজকে কথা বলবো তবে প্রথমে বলে নেই ব্ল্যাক অপস ৪ গেমটির নির্মাণের ব্যাপারে।

মাত্র ৩ দিন আগে রিলিজ পেল কল অফ ডিউটি গেমস সিরিজের লেটেস্ট গেম Black Ops 4 । পিসি সংষ্করণের জন্য আগে থেকেই কোনো প্রি-রিলিজ সিস্টেম রাখে নি এবারের কল অফ ডিউটি গেমে। গেমটির পিসি সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ৬০ মার্কিন ডলার। আর যেহেতু গেমটিতে কোনো স্টোরি লাইন ক্যাম্পেইন বা সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন নেই, তাই আজকের রিভিউটি হবে একটু ভিন্নধর্মী। আর বলা বাহুল্য যে, পুরো কল অফ ডিউটি সিরিজের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ গেম যেটায় কোনো সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন নেই।

মাল্টিপ্লেয়ার মোড!

ওয়েল! আমাদের দেশে এখনো অনেকেই পূর্ণাঙ্গ ভাবে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত নয়, মানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কথা বলছি আমি, কিন্তু বিদেশের অধিকাংশ দেশেই ৯৫% লোক এই হাই স্পিড ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। আর তাদের জন্য সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন থাকা বা না থাকা অনেকটাই একই রকম। কিন্তু তাই বলে সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিরিজ থেকে পুরো সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইনটাই তুলে নিলে কেমন দেখায়। ক্যাম্পেইন স্টোরিলাইন ছাড়া কিভাবে আপনি এটাকে ব্ল্যাক অপস গেমস বলে আখ্যায়িত করবেন? কারণ আগের ব্ল্যাক অপস গেমটির স্টোরিলাইন Cold War পটভূমির উপর তৈরি করা হয়েছিলো, দ্বিতীয় ব্ল্যাক অপস গেমটিকে Cold War এবং Near-Future Warfare উপদানের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছিলো আর তৃতীয় গেমটিকে অনেকটাই হাই ফাই টেকনোলজির ভবিষ্যৎতের শুটিং গেম হিসেবে বানানো হয়েছিলো, তবে যাই হোক সেগুলোতে একটি স্টোরিলাইন আপনি পেতেন, হলিউডের ছায়াছবির মতো; কিন্তু এটায় কোনো স্টোরিলাইনই নেই! হাহাহা!

Black Ops 4 এর মাল্টিপ্লেয়ার মোডে যেসকল ম্যাপ রয়েছে তাদের মধ্যে অনেকগুলোই সিরিজের আগের গেমসগুলো থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আর নতুন যেসকল ম্যাপ দেওয়া রয়েছে সেগুলো যদি আপনি অনান্য মাল্টিপ্লেয়ার গেমস খেলে থাকেন তাহলে আপনার মনে হবে এই ম্যাপগুলো যেন আপনি কোথায় দেখেছেন! মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাপের মধ্যে একটি রয়েছে লাক্সারি ভিলেজে, একটি রয়েছে বরফের পাহাড়ে, একটি রয়েছে পানামায়, একটি রয়েছে ভিয়েতনামের জঙ্গলে, একটি রয়েছে সমুদ্রতীরের পাশে ধংস্বপ্রাপ্ত চার্জে (যা অনেকটাই ফারক্রাই ৫ এর মতো)। মানে গেমটিতে এমন কোনো ইউনিক মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাপ নেই যেটিতে খেলে আপনি আসলেই বলতে পারেন “হ্যাঁ! এটাই তো ব্ল্যাক অপস!”।

মেকানিক্যাল দিক থেকে যদি বলি তাহলে গেমটির মাল্টিপ্লেয়ার মোডে রয়েছে কিছু Treyarch এর ছোঁয়া! গতবছরের WWII গেমটির থেকে মুভমেন্ট স্পিড একটু ফাস্ট রয়েছে, সিরিজের আগের গেমসগুলোর থেকে “Specialists” ফিচারটি এই গেমে রয়েছে। এটা অনেকটা Hero-type ক্যারেক্টার ক্ল্যাস মোড, যেখানে আপনি গ্রেণেডের পরিবর্তে গ্রাপলিং হুক পেতে পারেন কিংবা পেতে পারেন একটি শিল্ড অথবা পেতে পারেন নিজস্ব কুকুর! তবে যাই বলুন না কেন গেমটির মাল্টিপ্লেয়ার খেলে আপনার মনেই হবে না যে আপনি ব্ল্যাক অপস গেমস খেলছেন, বরং মনে হতে পারে এটা কোনো Infinite Warfare গেমের সিকুয়্যাল।

জোম্বি মোড!

সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন না থাকলেও ব্ল্যাক অপস ৪ গেমের রয়েছে জোম্বি মোড বা Zombies! সিরিজের আগের গেমসগুলোর জোম্বি স্টোরিলাইনটি আপনি এই গেমেও উপভোগ করতে পারবেন। তবে টাইটানিকে কিংবা টাইম ট্রাভেল করে রোম আমলের colosseum য়ে জোম্বি সাথে যুদ্ধ করাটা কতটুকু উপভোগ্য যেটা আপনার উপরেই নির্ভর করে। তবে এবারের ব্ল্যাক অপস গেমের জোম্বির মোডটি তুলনামূলকভাবে হালকা কঠিন করে বানানো হয়েছে। জোম্বি মোডের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বুঝতে পারবেন যে, পিস্তল এবং মিলি অস্ত্র (যেমন ছুঁড়ি) কোনো কাজেই আসবে না।

সিরিয়াস টেনশনে না থাকলে এবং ঘরে বসে বসে হলিউডের ভূত বা জুম্বিদের হত্যা করার মুড যদি আপনার থাকে তাহলে খেলে আসতে পারেন এই ক্যাজুয়্যাল টাইপের জুম্বি মোডটি। টাইটানিক ম্যাপে (Voyage of Despair) নিজেকে একটি সমুদ্রের ডুবন্ত জাহাজের উপরে পাবেন এবং জাহাজের ৬/৭টি ডেকের উপরই আপনাকে জুম্বিদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। সিরিয়ার গেমার না হলে এই মোডটি আপনার কাছে বেশ উপভোগ্যই হবে।  অন্যদিকে Colossuem ম্যাপটিতে জুম্বিদের সাথে সাথে জুম্বি বাঘও থাকবে এবং থাকবে অনান্য ঐতিহাসিক রোম সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান। মানে হবে আপনি টাইম ট্রাভেল করে অতীতের রোম আমলে চলে এলেন এবং এখানে আপনাকে ওই টাইমলাইনের জুম্বিদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। আইডিয়াটা মন্দ নয়।

ব্ল্যাকআউট মোড!

জ্বী! এবারের Black Ops 4 গেমটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে এই ব্ল্যাকআউট মোডটি। এই মোডের কারণেই অনেকেই মনে করছেন গেমটিতে এবার কোনো সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন দেওয়া হয়নি। ব্ল্যাকআউট মোডটি হচ্ছে একটি ব্যাটল র‌য়্যাল মোড। মানে এটা যে  Playerunknown’s Battlegrounds এর মতোই সেটা বললে ভূল হবে না, তবে এই ব্যাটল র‌য়্যালের ডিজাইন পাবজির থেকে অনেক “Polished”।

এই মোডের সারফেইস লেভেলগুলো ৮০% পাবজির মতোই মনে হবে আপনার। পাবজির মতোই ঘাঁসযুক্ত পাহাড় মনে হবে যদি দূর থেকে দেখেন। আর একই সাথে মাঝে মাঝে পাবেন কিছু গ্যাস স্টেশন, ছোট ছোট গ্রাম্য বিল্ডিং। কিছুক্ষণ পর পর ম্যাপে নীল রংয়ের সার্কেল নিজে নিজেই ছোট হতে থাকবে যার মাধ্যমে প্লে এরিয়াও ছোট হতে থাকবে, এই সার্কেলের বাইরে কিছুক্ষণ থাকলে প্লেয়ার মারা যাবে। আর ম্যাপে প্রায় ১০০ জন প্লেয়ার হেলিকপ্টার থেকে কোনো প্রকার অস্ত্র এবং আরমর ছাড়াই প্যারাসুট দিয়ে নামবে এবং ম্যাপ থেকে তাদের কে প্রয়োজনীয় অস্ত্র, আরমর সংগ্রহ করে বেঁচে থাকতে হবে। সর্বশেষ যে বেঁচে থাকবে সেই হবে বিজয়ী!

হ্যাঁ ভাই এটাই PUBG! এবং এইটাই Black Ops 4 গেমের Blackout!

কিন্তু এটা পাবজি তবে নির্মাণ করেছে Call of Duty । মানে মোডটির ফাস্ট পারসন কমবাট সিস্টেমটি একদমই সঠিক ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে, যেটা আপনি অরিজিনাল পাবজি গেমে পাবেন না। অন্যদিকে মুভমেন্ট স্পিড তুলনামূলক ভাবে একটু ফাস্ট এবং ম্যাচগুলোর দৈর্ঘ্যও তুলনামুলক ভাবে কম সময়ের মধ্যে সেট করা হয়েছে। মানে বলতে গেলে পাবজি গেমের যত সমস্যা ছিলো তার অধিকাংশই এই গেমরের এই মোডে আপনি পাবেন না। তবে ব্যক্তিগত ভাবে বলবো যে, সরাসরি একটি গেমের মোড হিসেবে এটাকে না ঢুকিয়ে দিয়ে এই মোডটি নিয়ে আলদা একটা গেম করলে ভালো হতো। যেমন কল অফ ডিউটির সামনের গেমসগুলোতে এই মোডটি যদি না থাকে তাহলে? তবে ব্যাটল র‌য়্যাল ধাঁচটি বর্তমানে এতটাই ট্রেন্ডিং যে এটাকে শীঘ্রই বাদ দেবার প্রয়োজন মনে করবে না কল অফ ডিউটির নির্মাতারা।

পরিশিষ্ট:

Black Ops 4 গেমটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে ব্যাটল রয়্যাল মোড Blackout । যা অবশ্যই পাবজির একটি চমৎকার Clone! তবে কল অফ ডিউটির শুটিং গেমপ্লের জন্য এই মোডটি জনপ্রিয় হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ৬০ মার্কিন ডলার (পাবজির থেকে দিগুণ) দিয়ে শুধুমাত্র ব্ল্যাকআউট এবং মাল্টিপ্লেয়ার ও ননসেন্স জুম্বি মোডের জন্য এই গেমটি কেনা কতটুকু সার্থক হবে সেটা আপনার উপরই নির্ভর করে। আমার হিসেবে গেমটির নাম Call of Duty : Blackout দিলেই আরো ভালো হতো! তাহলে সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন না থাকলেও তেমন কোনো সমস্যা হতো না কিন্তু ব্ল্যাক অপস সিরিজের গেমে সিঙ্গেল প্লেয়ার নেই এটা ভাবতেও আমার খারাপ লাগছে। গেমটির ব্যাপারে আপনার মতামত নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন, কিংবা PCB এর ফেসবুক পেজের পোষ্টেও জানাতে পারেন।

নির্মাণ করেছে:
Treyarch

প্রকাশক:
Activision

সিরিজ:
কল অফ ডিউটি

খেলা যাবে:
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ
প্লেস্টেশন ৪
এক্সবক্স ওয়ান

মুক্তি পেয়েছে:
অক্টোবর ১২, ২০১৮

খেলার ধাঁচ:
ফার্স্ট পারশন শুটার, ব্যাটল রয়্যাল

খেলার মোড:
মাল্টিপ্লেয়ার

গেমটির দাম:
৬০ মার্কিন ডলার

নুন্যতম সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টস:

প্রসেসর চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৩ (৩.৬ গিগাহার্জ)
এএমডি এফএক্স-৬৩০০
গ্রাফিক্স কার্ড এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৬৬০
এএমডি রাডিয়ন এইচডি ৭৯৫০
ভিডিও র‌্যাম ২ গিগাবাইট
র‌্যাম ৬ গিগাবাইট
অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ৭ (৬৪বিট)
ডাইরেক্ট এক্স ১১
হার্ডডিক্স স্পেস ৫৫ গিগাবাইট
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টশন

 

সময় পেলে পড়ে আসতে পারেন আমাদের Resident Evil 7 গেমটির রিভিউ।