ওয়াইফাই রাউটার অপ্টিমাইজেশন

আসসালামু আলাইকুম,একটা সময় ছিল যখন ইন্টারনেট মানুষের হাতের নাগালে ছিল না, তবে সময়ের সাথে সাথে সে অবস্থা পরিবর্তন হয়ে তা আমাদের ঘরে এসে গেছে। যোগাযোগ এবং বিনোদন ইন্টারনেট ছাড়া কল্পনা করা যায় না। শহর বা গ্রাম এখন প্রায় সব যায়গায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ পাওয়া যায়। তবে অনেক সময়ই তা থেকে মনের মত স্পিড পাওয়া যায় না। তাই আজ কথা হবে সে সব বিষয় নিয়ে যার কারণে ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই ব্যবহারে আশানুরূপ স্পিড পাওয়া হয়ে ওঠে না এবং সেগুলোর সমাধান নিয়ে।

১. নেট প্যাকেজঃ সংযোগ নেবার সময় আপনার যা প্রয়োজন তার থেকে কিছুটা বেশি স্পিডের নেট প্যাকেজ নিতে হবে। কারণ ISP স্পিড চুরি, ডিভাইজ সমস্যা ইত্যাদি কারণে আপনি যে স্পিড চাচ্ছেন তা অনেক সময় না ও পেতে পারেন। আপনি যতই ইউটিউবে স্পিড বেশি করার ভিডিও দেখে চেষ্টা করে থাকেন না, আপনি নিজে নিজে স্পিড বাড়াতে পারবেন না। তাই একটু বেশি স্পিড নেওয়া ভাল।

২. সংযোগ ক্যাবলঃ ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিতে সাধারণত ২ ধরনের ক্যাবল ব্যবহার হয়, ইথারনেট ক্যাবল ও অপটিক্যাল ফাইবার।

সহজ সংযোগ এবং স্বল্প দূরত্বের ক্ষেত্রে সাধারণত ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার হয়। তবে খরচ কমাতে অনেক সময় সংযোগ দানকারী প্রতিষ্ঠান কমদামী Cat5 ক্যাবল ব্যবহার করে ফলে কিছুদিন পর ই লাইনে সমস্যা দেখা দেয় যেমন লাইন ড্রপ, স্পিড কম । তাই ভাল মানের Cat6 কপার ক্যাবল ব্যবহার করা উচিত। কারণ কম দামী ক্যাবল এ ফুল কপার ব্যবহার না করে এলুমিনিয়াম এর উপর কপার প্রলেপ দেওয়া থাকে, যার ফলে কিছুদিন পরেই সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে। অধিক দূত্বের ক্ষেত্রে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করা ভাল এতে স্পিড ঠিক থাকে ডাটা লস বলতে গেলে হয় ই না।

৩. স্পিড টেস্টঃ নতুন সংযোগ নেবার পর প্রথম কাজ হচ্ছে স্পিড টেস্ট করে নেওয়া, সে ক্ষেত্রে পিসিতে সরাসরি কানেক্ট করে,
speedtest, fast, xfinity, spectrum এ গুলো ব্যবহার করে স্পিড টেস্ট করে নেওয়া উচিত এবং মাঝে মাঝে টেস্ট করা ভাল, যদি দেখা যায় স্পিড টেস্ট করে আপনার নেট প্যাকেজের সাথে মিলছে না তবে সংযোগ দানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে ঠিক করে নিতে হবে।

৪. রাউটার টাইপঃ ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজন হয় একটি রাউটারের, খরচ কমাতে বেনামী কম দামী রাউটার ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক স্পিড পাওয়া যায় না। কাজের ধরণ হিসাবে রাউটার বাছাই করতে হয়। ঘরে ব্যবহারের জন্য Indoor, ঘরের বাইরে বা বড় ফাঁকা এলাকায় ব্যবহারে জন্য Outdoor এবং Office এ ব্যবহারের জন্য mikrotik রাউটার ব্যবহার করা উত্তম।

৫. ফার্মওয়্যার আপডেটঃ রাউটারের সিকিউরিটি আপডেট, বাগ ফিক্স, ওয়াইফাই রেন্জ উন্নতির জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ফার্মওয়্যার রিলিজ দিয়ে থাকে, তাই তা নিয়মিত আপডেট করে নিতে হবে।

৬. রাউটারের অবস্থানঃ ভাল ওয়াইফাই রেন্জ পেতে রাউটারকে একটি উপযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। বাড়ির মোটামুটি মাঝখানে একটু উচু স্থানে লাগতে হবে। মোটা দেয়াল, ধাতব যন্ত্রপাতি, গাছপালা, অন্যান্য ইলেক্ট্রিকাল যন্ত্রপাতির জন্য ওয়াইফাই রেন্জ কমে যেতে পারে তাই রাউটার লাগানোর সময় যতটা সম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

৭. পাসওয়ার্ডঃ ওয়াইফাই এবং রাউটার সেটিং সবসময় ভালভাবে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখতে হবে এতে অন্যকেউ ওয়াইফাই চুরি করে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকবে না। ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় security mode: WPA2-PSK , Encryption: (AES) দিলে ভাল সিকিউরিটি পাওয়া যাবে।

৮. ওয়াইফাই চ্যানেলঃ একটি রাউটারে অনেকগুলো ওয়াইফাই চ্যানেল থাকে। সাধারণত এটি অটো মুডে থাকে। যদি আপনার বাড়ির আশে পাশে অনেক রাউটার থাকে যে ক্ষেত্রে মোবাইলে wifi analyzer app টি ব্যবহার করে ফাঁকা চ্যানেল খুজে তা রাউটারে সেট করে দিতে হবে। অন্য রাউটারের চ্যানেলের সাথে আপনার চ্যানেল মিলে গেলে অনেক সময় ওয়াইফাই সংযোগ সমস্যা বা স্পিড কম হতে পারে।

৯. এন্টেনাঃ ভাল ওয়াইফাই রেঞ্জ পেতে অধিক সংখ্যক এন্টেনা যুক্ত রাউটার বাছাই করতে হবে। কমপক্ষে 5dB নিতে হবে, সম্ভব হলে 9dB যুক্ত রাউটার নেওয়া ভাল এতে রেঞ্জ অনেক ভাল পাওয়া যাবে। অনেক রাউটারে ডিজাইন করে এন্টেনা বানাই, দেখতে সুন্দর হলেও এদের ওয়াইফাই রেঞ্জ খুব খারাপ হয়ে থাকে। তাই সঠিক এন্টেনা যুক্ত ওয়াইফাই রাউটার ব্যবাহর করা উচিত।

 

১০. ওয়াইফাই রিপিটারঃ অনেক সময় সাধারণের চেয়ে বড় এলাকাতে ওয়াইফাই সংযোগের দরকার হয়, কিন্ত ওয়াইফাই রেঞ্জ কমথাকায় সমস্যা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্র ওয়াইফাই রিপিটার ব্যবহার করে রেঞ্জ বাড়াতে হবে, রিপিটার ওয়াইফাই সিগন্যাল রিসিভ করে তা আবার সেন্ড করে এতে বাড়তি এলাকায় ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি পাওয়া সম্ভব হয়।

 

১১. DNS:  অনেক সময় ব্রাউজিং ও ডাউনলোড সমস্যা করে DNS (Domain Name System) সেটিং না ঠিক থাকার কারণে। সাধারণত ISP থেকেই DNS দেওয়া হয়ে থাকে। তবে যদি ISP DNS না দেয় বা DNS না জানা থাকে তবে google public DNS ব্যবহার করা যেতে পারে।
8.8.8.8
8.8.4.4

১২. ক্লায়েন্টঃ অনেকে কম স্পিড নিয়ে অনেকে মিলে নেট ব্যবহার করে, একই সাথে সাবাই ব্যবহার করার সময় নেটের গতি কমে যায়। অনেকের ব্যবহারের কারণে যে স্পিড ভাগ হয়ে গিয়ে গতি কম যায়, এটি না বুঝতে পেড়ে অনেক সময় ISP কে দোষ দিয়ে থাকে। তাই কাউকে পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় হিসাব করে দেওয়া ভাল।

১৩. স্পিড কন্ট্রোল: দরকার বা ঠ্যালায় পরে অনেক সময় অনেক কে পাসওয়ার্ড দিতে হয়, একবার পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলে সেই সব মানুষ ইচ্ছামত ব্যবহার সুরু করে ফলে নিজের ই কাজ করতে সমস্যা হয়ে যায়, তাই সেই সব মানুষ কে স্পিড কন্ট্রোলের আওতায় আনতে হবে।

১৪. পেরেন্টাল কন্ট্রোলঃ আমাদের সবার বাসাতেই ছোট বাচ্চা কাচ্চ আছে, তাদের কেও এখন ঠ্যালায় পরে নেট ব্যবহার করতে দিতে হয়। নেট পেয়ে যাতে দিন রাত তা ব্যবহার না করতে পারে তাই নেট ব্যবহারের একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে পেরেন্টাল কন্ট্রোলের মাধ্যমে।

১৫. রাউটার কন্ট্রোল এ্যাপঃ এখন অনেক রাউটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাদের রাউটার সহজে নিয়ন্ত্রনের জন্য মোবাইল এ্যাপ দিয়ে থাকে, যা ব্যবহার করে সহজে রাউটারের ইউজার  অ্যাক্টিভিটি সনাক্ত করা যায় এবং সন্দেহ জনক ব্যবহারকারীদের সহজেই ব্লক করে দেওয়া যায়।

 

 

 

 

 

 

১৬. অফ করে রাখাঃ প্রতিটি ডিভাইজের ই একটি জীবনকাল থাকে, অনেকই রাউটার লাগানোর পর আর অফ করে না, দিন রাত চলতেই থাকে। অপ্রয়োজনে রাউটার অন না রাখাই ভাল, আর যদি আপনার সবসময় দরকার হয়েই থাকে তবে একটি সময় করে রাউটার অফ করে আবার অন করা ভাল এতে রাউটার হ্যাং কম হবে আথবা রাউটার অটো রিস্টার্ট হবার একটি সময় রাউটারে সেট করে দেয়া যেতে পারে।