ভূমিকায় কোনো এক্সট্রা কথা না বলে মূল পয়েন্টে চলে আসি। এনভিডিয়া তাদের RTX গ্রাফিক্স কার্ডের লাইনআপে আরো নতুন একটি গ্রাফিক্স কার্ড এনাউন্স করেছে যার নাম Titan RTX । আর নরমাল RTX এর মতোই এই গ্রাফিক্স কার্ডের প্রাইস নিয়েও অনেক শিরোনামের হেডলাইন হয়েছে আর আজকের পোষ্টেরও হেডলাইনে কার্ডটির প্রাইসটি দিয়ে রাখা হয়েছে।  এনভিডিয়ার রেয় ট্রেসিং ফিচারযুক্ত RTX সিরিজের GeForce RTX 2080 Ti কার্ডটি কিনতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ১৩০০ মার্কিন ডলার । আর গ্রাফিক্স কার্ডের এই উচ্চমূল্যের মাঝেই এনভিডিয়া আরেকটি বেশ উচ্চমূল্যের কার্ড এনাউন্স করেছে, আর হ্যাঁ সেটা হচ্ছে Titan RTX । এই গ্রাফিক্স কার্ডটি দাম রাখা হয়েছে 2500 মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় 2.5 লাখ টাকারও বেশি! টাইটান আরটিএক্স গ্রাফিক্স কার্ডে TU102 Turing GPU ব্যবহার করা হয়েছে যা আমরা RTX 2080 Ti এবং Quadro RTX 6000 কার্ডেও দেখে এসেছি, কিন্তু এগুলো ছাড়াও স্পেসিফিকেশনে কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। তবে এটা এনভিডিয়ার সবথেকে দামী টাইটান জিপিইউ নয়, কারণ Titan V গ্রাফিক্স কার্ডটি যখন গত বছরের ডিসেম্বরে এনাউন্স করা হয়েছিলো তখন তার রাখা হয়েছিলো ৩০০০  মার্কিন ডলার। তো চলুন দেখে নেই টাইটান আরটিএক্স এর বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন।

Quadro RTX 6000 এর সাথে টাইটান আরটিএক্স এর কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনারা ম্যাচিং দেখতে পাবেন যেমন দুটি কার্ডেই রয়েছে 24 গিগাবাইট মেমোরি, রয়েছে 4608 Cuda Cores, রয়েছে সেকেন্ডে 672GB গতির মেমোরি ব্যান্ডউইথ এবং রয়েছে ৩৮৪ বিট মেমোরি বাস যার সবই RTX 2080 Ti থেকে বেশ বেশি।

কিন্তু Quadro RTX 6000 এর থেকে দামের দিক দিয়ে Titan RTX বেশ কম রেখেছে এনভিডিয়া! বর্তমানে Quadro RTX কার্ডটির দাম রয়েছে ৬,৩০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু “মাত্র” ২৫০০ মার্কিন ডলার দিয়েই আপনি এনভিডিয়ার workstation-class এর Quadro RTX 6000 এর প্রায় সেইম স্পেসিফিকেশন পাচ্ছেন তাই এই হিসেবে Titan RTX একটি বেশ আকর্ষণীয় প্যাকেজ।

অন্যদিকে সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে RTX 2080 Ti এর থেকে সব থেকে আপগ্রেড আপনি পাবেন Titan RTX এ সেটা হলো ২৪ গিগাবাইটের মেমোরি, মানে পুরো দ্বিগুণের বেশি মেমোরি পাচ্ছেন এতে, আরটিএক্স ২০৮০ টিআই য়ে পাচ্ছেন ১১ গিগাবাইট মেমোরি। মানে দ্বিগুণ মেমোরি এবং একই সাথে দ্বিগুণ প্রাইজ।

RTX সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ডগুলো যখন মাস কয়েক মাসে এনাউন্স করা হয়েছিলো তখন নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে এই সিরিজের কার্ডের মূল আকর্ষণ “ray tracing” এবং “DLSS” ফিচারের সার্পোটযুক্ত ভিডিও গেমের সংখ্যা বেশ কম। বিশেষ করে পুরোনো গেমসগুলোতে ray-tracing ফিচারগুলো আসার কোনো উপায় নেই তাই এই ফিচারগুলো শুধুমাত্র আপকামিং নতুন গেমসগুলোতে থাকছে। তবে একটা কথা পরিস্কার যে, Titan RTX কার্ডটি গেমিংয়ের উদ্দেশ্যে বানানো হয় নি। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে Titan RTX কার্ডটি NeurIPS য়ে উন্মোচন করা হয়েছে। এটি Neural Informaiton Processing Systems এর উপর করা একটি কনফারেন্স। তাই বলা যায় যে এই দামী RTX কার্ডটি গেমিংয়ের তুলনায় রিসার্চ সেন্টারের কম্পিউটারের উদ্দেশ্যেই মূলত বানানো হয়েছে যাতে সেখানে বেশ দ্রত গতিতেই neural networks এর উপর রিসার্চ করা যায়। আর একই সাথে Titan RTX এর 100GBps NV link Bridge এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা একই সাথে দুটি Titan RTX সংযুক্ত করে পারফরমেন্স বেশ বুস্ট করতে পারবেন।

তো এই ছিলো Titan RTX । যা RTX 2080 Ti কার্ডের থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি পারফরমেন্স দিতে পারবে। আর এটা শুধুমাত্র এনাউন্স করা হয়েছে। কবে নাগাদ কার্ডটি মুক্তি পাবে এ ব্যাপারে এখনো এনভিডিয়া অফিসিয়ালভাবে কোনো কিছু বলেনি তবে এই বছর শেষ হবার আগেই মানে ডিসেম্বরের শেষের দিকে আমেরিকা এবং ইউরোপের মার্কেটে কার্ডটি রিলিজ করবে।

Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.