গত মাসে ইউএস ব্যানের পর একের পর এক সম্পর্ক ছিন্ন হতে থাকে হুয়াওয়ের। সর্বপ্রথম সকল ধরণের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে গুগোল। এরপর একের পর এক গুগোলের লাইন ধরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে থাকে ARM, ফেসবুক, কোয়ালকম সহ অন্যান্য কোম্পানি। কিন্তু এই ইউ এস ব্যান প্রায় তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত তেমন কেউ সম্পর্ক পুনর্গঠনে এগিয়ে আসে নি। তবে, সর্বপ্রথমে থাকা গুগোলই আবার নতুন করে হুয়াওয়ের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। তাদের সাম্প্রতিক কিছু এক্টিভিটি এটিই প্রমাণ করছে।

হুয়াওয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলে আমেরিকার সিকুরিটি রিস্ক বেড়ে যাবে – স্যামসাং

Financial Times এর একটি আরটিকেল অনুযায়ী গুগোল ট্রাম্প সরকারের কাছে একটি কেস প্রেজেন্ট করার চেস্টা করছে। কেসের ধরণ হচ্ছে এমন গুগোল যদি হুয়াওয়ে ফোনের মধ্যে অপারেটিং সিস্টেম প্রোভাইড না করে তাহলে হুয়াওয়ে এন্ড্রয়েডের এমন একটি হাইব্রিড ভার্শন বানাতে পারে যার মধ্যে গুগোলের ওএসে থাকা কোন প্রকার গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মেজারমেন্ট থাকবে না। যার কারণে পরবর্তী জেনারেশনের হুয়াওয়ে ফোনগুলো হ্যাকড হবার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

গুগোলের ভাষ্যমতে যেহেতু হুয়াওয়ে এন্ড্রয়েডের কপি / মডিফাইড ভার্শন তৈরি করার চেস্টা করছে, তাদের পরবর্তী ফোনগুলো ব্যবহারে বেশ কিছু কম্প্রোমাইজ থেকে যাবে। তবে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট গুগোলের এই কেইস নিয়ে এক্সাক্ট কোন বর্ণনা উল্লেখ করে নি তবে এই কেইস কিভাবে যাবে তা অনুমান করে নেয়া তেমন একটা কষ্টকর নয়।

  • প্রথম ধাপঃ হুয়াওয়ে ফোনগুলোর মধ্যে থাকবে এন্ড্রয়েডের মডিফাইড ভার্শন কিন্তু তাতে থাকবে না গুগোলের কোন প্রকার সার্ভিস। বিশেষ করে Google Play Protect যা গুগোল প্লে স্টোর হতে ডাউনলোড করা সকল এপ্স ভাইরাসের জন্য স্ক্যান করে নেয়। এছাড়াও, অন্যান্য এপসের মধ্যেও ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আছে কিনা তা চেক করে নিতে পারে এটি। আরো একটি আরগুমেন্ট হচ্ছে যে, যারা সাধারণত গুগোলের সার্ভিসযুক্ত ফোন কিনে থাকে তারা প্রায় ৯৫% সময়ই কেবলমাত্র গুগোল প্লে স্টোর থেকেই এপস এবং গেমস নামিয়ে থাকেন।
  • দ্বিতীয় ধাপঃ এই মডিফাইড ভার্শনের ওএস যুক্ত ফোনগুলো আমেরিকায় বিক্রি না করা হলেও সারা বিশ্বের মানুষ তা কিনতে পারে। যার ফলে সেগুলোর নিরাপত্তা কম থাকবে এবং সহজেই হ্যাকড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
  • তৃতীয় ধাপঃ আমেরিকার কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে অথবা না জেনে সেই হ্যাকড হুয়াওয়ে ফোনে সেন্সিটিভ তথ্যাদি পাঠাতে পারে। তথ্য পাঠাতে যত ধরণের এনক্রিপশন ব্যবহার করা হোক না কেন, ফোনের মধ্যে যদি আগে থেকেই ম্যালওয়্যার থাকে তাহলে সেই তথ্য খুব সহজেই চুরি করে নেয়া যাবে। আর এখনো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রেরকের পক্ষে বলাই যায় না কোন প্ল্যাটফরমে প্রাপক তার কাছে পাঠানো তথ্যাদি দেখছেন।
  • চতুর্থ ধাপঃ ঠিক এভাবেই আমেরিকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং সরকারের অনেক সেন্সিটিভ ম্যাটার খুব সহজেই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যেতে পারে।

এখন সব কিছু নির্ভর করছে আসলেই গুগোল তাদের কেস ট্রাম্প সরকারের কাছে সফলভাবে উপস্থাপন করতে পারে কিনা। তবে হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম কি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের হবে নাকি এন্ড্রয়েড ফোনের চাইনিজ রমের মত হবে যেখানে গুগোলের সার্ভিস ডিফল্ট ব্যবহার করা যায় না তা নিয়ে এখনো কোন প্রকার কনফার্মেশন পাওয়া যায় নি। উল্লেখ্য গুগোল, ফেসবুক, এ আর এম সহ অনেক প্রতিষ্ঠানের টপ ৫ ক্লায়েন্টের মধ্যে হুয়াওয়ে ছিল অন্যতম। তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কারণে প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক লাভের দিক থেকে বেশ বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তবে হুয়াওয়ে বলেছে তারা এখনো পর্যন্ত কোন আমেরিকান কোম্পানির সাথে রি নেগোসিয়েশন করে নি, বরং তারা অপেক্ষা করছে আমেরিকান কোম্পানিগুলো আগামি তিন মাসের মধ্যে কেমন রেস্পন্স জানায় সেটা দেখার জন্য।