আপনারা জানেন এপল রিসেন্টলি রিলিজ করেছে এপল আইপ্যাড প্রো এবং এপল পেন্সিল। আজকে আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি এপলের পয়সা খসানোর আইপ্যাড প্রো এবং এপল পেন্সিল। চলুন দেখে নেয়া যাক কাদের টার্গেট করে প্রোডাক্টি বানানো এবং কি কাজে এটি বেশি ইউজেবল।

ভিডিও রিভিউ দেখতে ক্লিক করুন।

Unboxing, Overview & Specs


যেহেতু প্রডাক্টটি এপলের তাই আনবক্সিংটা সিম্পলের মধ্যে প্রিমিয়াম হবে স্বাভাবিক। ঝকঝকে সাদা বাক্সটি খুললেই চোখের সামনে পড়বে অলস্ক্রিন আইপ্যাড প্রো। এর নিচে প্যাকেটে পাবেন ইউজার ম্যানুয়াল যার সাথে সিম ইজেক্টর টুল এবং সাদা এপল লোগোর স্টিকার।
আর সবশেষে ১৮ ওয়াটের ওয়াল এডাপটার এবং ইউএসবি সি কেবল। হ্যা ভাই ইউএসবি সি।
যাইহোক অল স্ক্রিন আইপ্যাড প্রোর আমাদের ভার্শনটি হল ইঞ্চের ১১ইঞ্চের মডেলটি। এর একটি বিগার ভার্শন আছে যেটি কিনা ১২.৯ ইঞ্চের।

বাইরের আউটলুক বলতে গেলে ইন্সপায়ার্ড বাই ম্যাকবুক কিন্তু বক্সি টাইপের ডিসাইন পিছনে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দেয়া আছে যা বলতে গেলে প্রায় আইফোন ৮ এর সিমিলার ক্যামেরা। ক্যামেরার একটি বাম্প আছে যা আপনাকে ইন্সপায়ার করবে একটি কভার কিনার জন্য আর যখন আপনি এত টাকা দিয়ে একটি ট্যাব কিনেছেন তাহলে কেন স্মার্ট কীবোর্ড ফোলিও কেন কিনবেন না!
যাইহোক এপলের লোগোর নিচে আইপ্যাড লোগো আর ব্রান্ডিং এর নিচে ম্যাগনেটিক স্মার্ট কানেকটর আছে যার মেইন ইউসেজ শুধুমাত্র স্মার্ট কীবোর্ড কানেক্ট করার জন্যই।
ডানদিকে ভলিউম রকার, ম্যাগনেটিক কানেক্টর এপল পেন্সিল জেন ২ এর জন্য আর সিম ট্রে। উপরে অন অফ বাটন্স আর স্পিকারস। নিচে ইউএসবি টাইপ সি আর স্পিকারস।
চারপাশে স্পিকার্স দিয়ে স্টেরিও স্পিকারের একটা চেষ্টা করা হয়েছে দেখা যাচ্ছে।

বক্সি ডিসাইনের হলেও ফুল ডিস্প্লের আইপ্যাড প্রোতে এবার কোন হোম বাটন নেই। এপলের নো হোম বাটন দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম। যেহেতু হোম বাটন নেই তাই ফেস আনলক আই মিন ফেস আইডি একমাত্র ভরসা। তবে এর অল্টারনেটিভ হিসেবে আছে পাসওয়ার্ড সুবিধা।
এপলের ফেস আনলক নিয়ে বলার নেই কারন আইফোনের সিমিলার টেকনলজই ইউজ করা হয়েছে এখানে। যে কোন রোটেশনে ট্যাবটি আনলক হবে তাই চিন্তার কোন কারন নেই। ৪৬৮ গ্রামের ৫.৯ মিলিমিটার পাতলা ট্যাবটির ওয়েট ডিস্ট্রিবিউশন সবদিকেই একেবারেই ইকুয়াল যাতে করে যে কোন রোটেশনে ট্যাবটি হ্যান্ডেল করতে সুবিধা হবে।

ডিস্প্লে সেকশনে আসলে বলা যায় এই আইপ্যাডের স্পেক্সের সাথে অন্যতম মুল আকর্ষণ হল এর ডিস্প্লে ১১ ইঞ্চের ট্যাবটি নচছাড়া ফুল ডিস্প্লে। ১১ ইঞ্চের রাউন্ডেড কর্ণারযুক্ত লিকুইড রেটিনা ডিস্প্লেটি ProMotion টেকনলজির LED একটি ডিস্প্লে। যার রেসুলেশন ২৩৮৮ বাই ১৬৮৮ এবং ২৬৪ পিক্সেল পার ইঞ্চ। এর এসপেক্ট রেশিও ৭:৫। এপলের ভাষ্যমতে এর ডিস্প্লে টেকনলজি হল লিকুইড রেটিনা ডিস্প্লে যা সোজা ভাষায় রাউন্ডেড কর্ণারের ডিস্প্লেকেই বুঝায়। আর প্রো-মোশন টেকনলজি বলতে ১২০ হার্জের ডিস্প্লেকে বুঝায়। রকেট সাইন্স মার্কা নাম দিয়ে এপলের মার্কেটিং আসলেই প্রসংসা করার মত।
তবে প্রায় ৬০০ নিটস ব্রাইটনেসের ডিস্প্লেটি হল যে কোন ইউজারের মাইন্ড ব্লো করার জন্য এনাফ। ১২০ হার্জের ডিস্প্লেটিতে সোয়াইপ ট্রান্সিশনে অন্য ধরণের একটা সাটিস্ফ্যাকশন আছে। ডিস্প্লে কোয়ালিটির দিক থেকে হিসাব করতে এর কালার একুরেসি, ডার্ক এবং গ্রে লেভেল অলমোস্ট পার্ফক্ট ছিল। যদিও এটি ওলেড ডিস্প্লে না তারপরেও কালার যথেস্ট রিচ ছিল।
এই ডিস্প্লেতে কন্টেন্ট ভিউইং এক্সপেরিএন্সের হবে যথেস্ট ভাল। এছাড়া ফটো বা ভিডিও এডিট এবং ড্রইইং বা এনিমেশনের কাজেও যথেস্ট সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে হোম বাটন না থাকায় নতুন জেসচার এডাপট করতে হবে। যা এত আহামরি কিছু না।

এছাড়া ডিস্প্লেতে প্রটেকশন বলতে এটি স্ক্রাচ রেসিস্ট্যান্ট এবং এতে অলিফোবিক কোটিং আছে যাতে করে তেল বা গ্রিজের প্রিন্ট তেমন পড়বে না এর ডিস্প্লে সারফেসে।

যেহেতু আইপ্যাড প্রো তাই এর সেলিং ফিচারগুলো প্রফেশনালসদের জন্যই হবার কথা। আইপ্যাড প্রোকে মুলত ফোকাস করা হয়েছে এনিমেটর,ডিজিটাল আর্টিস্ট, ডিসাইনারদের কাছে। যে কোন ধরনের ডিজিটাল স্কেচিং, আর্ট বা ডিসাইনের কাজ এই ডিভাইসে সহজেই করা যাবে। এটা বলতে গেলে ডিজিটাল ড্রইং ডিভাইসের রিপ্লেস্মেন্ট। তবে ড্রইংইয়ের কাজ করার জন্য আপনার দরকার পড়বে এপল পেন্সিলের।
তবে তার জন্য আলাদা করে গুনতে হবে প্রায় ১২৯ ডলার যা এপল ইউজারদের জন্য খুব একটা বিগ ডিল হবার কথা না। যদিও এই এপল পেন্সিলকে নিয়ে মজা করলাম তার পরেও বলতে হয় এপল পেন্সিলের ইউসেজটা আর্ট বা ডিসাইন রিলেটেড কাজগুলো একদমই সহজ করে দিবে আপনার কাছে। ড্রইং বা স্কেচিং এর সময় খুব ভালভাবেই বুঝা যাবে এর প্রিসিশন, রেস্পন্সিভনেস।
এপলের আইপ্যাড প্রো-এর মুল মার্কেটিং থিমটাই ছিল প্রফেশনালস দের ঘিরে। যদিও ফটো এবং স্কেচিং বা ড্রইং এর কাজ করা ইজি হলেও ভিডিও এডিটের জন্য একটূ বেগ পেতে হবে কীবোর্ড শর্টকাটসের জন্য।


Usage, performance & Battery life

বাংলাদেশের পার্স্পেক্টিভে আইপ্যাডের ইউজেসটা সবার ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ কাজের জন্য নাও হতে পারে। যাইহোক, হাতে কলমে স্পেক্সে এটি যেমন পাওয়ারফুল রিয়াল লাইফ পার্ফামেন্সেও পাওয়ারফুল। ইভেন আইপ্যাড প্রো কিছু এপলের ল্যাপটপের তুলনায় বেটার পার্ফামেন্স দিতে সক্ষম।
কিন্তু তার মানে এই না এইটা ল্যাপটপকে রিপ্লেস করতে পারে। তার কিছু কারন আছে বাট তার আগে এর স্পেক্সের দিকে যাওয়া যাক।

পার্ফামেন্সের মুল চালিকাশক্তি হল প্রসেসর আর আইপ্যাড প্রো-তে ইউজ করা হয়েছে A12X Bionic chip যা একটি অক্টা কোর প্রসেসর যার ৪ টি কোর হাইইয়ার স্কেলে ক্লক করা এবং বাকি ৪ টি কোর লোয়ার স্কেলে ক্লক করা এনার্জি সেভিং এর জন্য।
আর জিপিউ হিসেবে আছে এপল জিপিউ যা কিনা এক্সবক্স ওয়ান গ্রেডের গ্রাফিক্স পার্ফামেন্স দিতে সক্ষম। যদিও জিপিউ এর ব্যাপারটা তেমন কিছুই মিন করে না মার্কেটিং ছাড়া। এছাড়া এর ৬৪/২৫৬/৫১২ জিবি ভার্শনে ৪ জিবি র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ ভার্শনে পাবেন ৬ জিবি র‍্যাম।
তবে বেঞ্চমার্ক পার্ফামেন্সে আমরা দেখতে পারি এটি কতটা পাওয়ারফুল। গিগবেঞ্চ ৪ এ সিংগেল কোর স্কোর প্রায় ৫ হাজার এবং মাল্টি কোর স্কোর হয় ১৭৯৯৫ যা মাইক্রোসফট সার্ফেস প্রো ৬ এবং ডেল এক্সপিএস ১৩(কোর আই সেভেন) ভার্শনের তুলনায় প্রায় ১৫% বেটার। যেখানে এদের মাল্টি কোর স্কোর প্রায় ১৪ হাজারের মত।

এছাড়া ফটো এবং ভিডিও এডিটে এবং রেন্ডারিং এ অনেক ফাস্টার আউটপুট পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া আইওএস ১২.১ যথেস্ট ফাস্ট,রেস্পন্সিভ এবং স্মুথ একটা এক্সপেরিয়েন্স ছিল।
এই চিপসেট ইভেন এপলের নিজেস্ব ম্যাকবুক প্রো ১৫ ইঞ্চের পার্ফামেন্সকেও হারাতে সক্ষম। তবে এটি একটি ল্যাপটপকে রিপ্লেস করতে পারে তা কিন্তু না।

কিছু কারন আছেই যার বেশিরভাগ সফটওয়্যার ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের দিকেই। প্রথমেই এপলের নিজেস্ব কোন ফাইল ম্যানেজার নেই। যার কারনে এইসব ক্রিয়েটিভ কাজের অনেক ক্ষেত্রেই ঝামেলায় পড়তে হয়। আর ইউএসবি সি থাকাটা সুবিধার হলেও অসুবিধার কারনও বটে।
এই ইউএসবি সি দিয়ে এপল তাদের প্রথম ইউএসবি সি ডিভাইস রিলিজ করলেও ইএসবি সিটা টিপিকাল ইউএসবি সি নয়। তাই যে কোন ইএসবি সি ডিভাইস সাপোর্ট করবে এমন না। ইভেন নরমাল এন্ড্রয়েডের ইউএসবি সি চার্জিং বা ডাটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে সাপোর্ট করবে না।
এবার আসি এক্সটার্নাল ডিভাইস সাপোর্টের ক্ষেত্রে, এতে এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ ইউএসবি টাইপ সি-তে কানেক্ট করলে সাপোর্ট করবে না কিন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট করবে সাপোর্টেড কার্ড রিডার দিয়ে। তবে ক্যামেরা এবং ডিস্প্লে কানেক্ট করতে কোন ঝামেলা হয় নি। যদিও ডিস্প্লে কানেক্ট করলে স্ক্রিন মিররিং হয় এক্সট্রা ডিস্প্লে হিসেবে ইউজ করার তেমন সুবিধা নেই যদি না এপে সেধরনের সাপোর্ট থাকে।

তাই ওভার অল বলতে গেলে এইসব কারনে দিনশেষে এটি একটি ট্যাব এবং একটি সেকেন্ডারি ডিভাইস হিসেবে কাজ করবে মেইন ডিভাইস হিসেবে নয়।

এর ক্যামেরা নিয়ে তেমন কিছু বলার দরকার নেই কারন দিনশেষে এটি একটি ট্যাব তবে ট্যাব দিয়ে ছবি তুলে এডিট করার চিন্তা যাদের মাথায় এসছে তাদের জন্য এর ক্যামেরা কোয়ালিটি বলতেই হয় যে এর রিয়ার ক্যামেরার আউটপুট আইফোন ৮ এর থেকে কিছুটা বেটার।
শার্পনেস, ডিটেইলস সবই অন পয়েন্ট ছিল। তবে কোন অপ্টিকাল স্টেবিলাইজেশন নেই। রিয়ার ক্যামেরায় ৪কে ৬০ এফপিএসে রেকর্ডের সুবিধা আছে যেটা প্লাস পয়েন্ট। আর ফন্ট ক্যামেরা অকে নরমাল ভিডিও কলের জন্য। যেহেতু এটি ট্যাব তাই ক্যামেরার এত গভীরে গেলাম না।

ডিভাইসের ৪ টি স্পিকার্স যথেস্ট ভাল এবং এনাফ ইউটিউব কন্টেন্ট বা মুভি এঞ্জয় করার জন্য। হেডফোন জ্যাক নেই তাই আর এইটা নিয়ে কমপ্লেইন করার কিছু নেই। এপল বলে কথা।

Conclusion

এর প্রাইস শুরু হয় ৭৯৯ ডলার থেকে। আইপ্যাড প্রোর ৬৪/২৫৬/৫১২ জিবি এবং ১ টেরাবাইটের সিল্ভার এবং স্পেস গ্রে ভার্সন রয়েছে। এছাড়া এর ওয়াইফাই এবং ওয়াইফাই প্লাস সেলুলার ভার্শনও আছে যাতে প্রাইসের তারতম্য আছে। তবে বাংলাদেশে ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট সেলারদের কাছে এর ওয়াইফাই ভার্শনের প্রাইস ৮২ হাজার থেকে শুরু করে এর বেশি হয়ে থাকে।
সবশেষে বলা যায় রিভিউতে আইপ্যাড প্রোএর ভাল,খারাপ সবকিছুই কভার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এটা বলতেই হয় এর ডিসাইন,ইনোভেশনের আর পার্ফামেন্সের জন্য এপলের প্রসংসা করতেই হয় কিন্তু পরিশেষে এটি একটি আইপ্যাড।