মহামারীতে মিটিং , ক্লাস যেমন হয়ে পড়েছে অনলাইন ভিত্তিক এবং একই সাথে ফ্যামিলি ও ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডার প্রবণতাও অনেক বেড়েছে। এজন্য বহুল ব্যবহ্বত হচ্ছে Zoom নামের এপ্লিকেশনটি। অনেকেই জানেন এটির রয়েছে ব্যক্তিগত ডেটা চুরির স্বভাব। কিন্ত বিকল্প এপ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন এটিই ব্যবহার করতে। আজ আলোচনা করবো আমরা জুমের মতই কিছু এপ্লিকেশন নিয়ে যেগুলো কনফারেন্স,ক্লাস/ ফ্যামিলি,ফ্রেন্ডস এর সাথে আড্ডার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।

 

দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করবো আমরা, অর্থাৎ মিটিং/ক্লাসের জন্য এপ্লিকেশনস যেখানে বেশি পরিমাণ মানুষ একই সাথে জয়েন করার প্রয়োজন হয়।  এবং অন্যটি আত্মীয়/বন্ধুদের সাথে আড্ডার ক্ষেত্রে যেখানে অপেক্ষাকৃত কম মানুষ জয়েন করে।

 

ক্লাস/মিটিং/কনফারেন্স এর জন্যঃ

  1. Google Meet
  2. Skype
  3. Microsoft Team
  4. Discord

 

Google Meet:

অনেক এডভান্স ফিচার এবং ভালো কোয়ালিটির জন্য প্রথমেই বলতে হয় গুগল এর মিট এপ্লিকেশনটির কথা। নিচে কিছু হাইলাইটস তুলে ধরা হলো এর ফিচার সম্পর্কেঃ

participants:

একই সাথে সর্বোচ্চ ১০০ জন পর্যন্ত একসাথে কনফারেন্সে জয়েন করতে পারবেন গুগল মিট এ। সুতরাং ক্লাস,মিটিং কিংবা অন্য কোনো কনফারেন্সের ক্ষেত্রে পার্টিসিপেন্ট এর সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে।

C.C সাপোর্টঃ

গুগলের speech recognition technology এর বদৌলতে লাইভ ক্যাপশন/সাবটাইটেল এর মত গুরুত্বপুর্ণ ফিচার থাকছে গুগল মিটে। (যদিও তা ইংরেজিতেই শুধু এভেলেবল বর্তমানে)

Cross Platform engagement:

বিভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে একই সাথে জয়েন করতে পারবেন কনফারেন্সে। জরুরি নয় যে সবাইকে মোবাইলে অথবা পিসিতে থাকা লাগবে। windows, Android এবং IOS এ ব্যবহার করা যাবে গুগল মিট।

স্ক্রিন শেয়ারিংঃ

সম্পুর্ণ স্ক্রিন, এমনকি অন্যন্য এপ্লিকেশন এর উইন্ডো ও শেয়ার করা যাবে গুগল মিটে। যার ফলে ক্লাস, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক বড় সুবিধা পাওয়া যাবে।। কারণ ক্লাসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষকের প্রয়োজন হয় স্লাইড দেখানোর, ডকুমেন্ট দেখানোর। এই ক্ষেত্রে গুগল মিট একটি সহজ সমাধান বলা যায়। মাইক্রোসফট-গুগলের বিভিন্ন এপ্লিকেশন এর সাথে ইন্টিগ্রেশন করার ও ফিচার রয়েছে।

সহজ লগিন এবং হোস্ট এর মিটিং কন্ট্রোলঃ

যেহেতু এটি একটি গুগল এর এপ্লিকেশন। ৯০% ইউজারের ক্ষেত্রেই সেটাপ করতে এক মিনিট লাগবে কেননা এন্ড্রয়েড চালান যারা তাদের সবারই জিমেইল বা গুগল একাউন্ট রয়েছে। আর এমনিতেও যারা এন্ড্রয়েড চালান না তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই রয়েছে জিমেইল। যেহেতু জিমেইল রয়েছেই, আলাদা করে একাউন্ট খোলা লাগবে না।

হোস্ট যেকোনো সময় পার্টিসিপেন্ট কে রিমুভ করতে পারেন, মিউট করতে পারেন ,পিন করতে পারেন এটিও একটি গুরুত্বপুর্ণ অপশন।

 

Skype:

 

তুলনামুলকভাবে বেশ পুরাতন একটি এপ্লিকেশন হলো skype. প্রাইভেসি/ডেটা চুরি নিয়ে কোনো চিন্তার কারণই থাকছে না সেজন্য। দেখে নেওয়া যাক উল্লেখযোগ্য ফিচারগুলো-

পার্টিসিপেন্টঃ

৫০ জন পর্যন্ত মানুষ একসাথে কনফারেন্স করতে পারবেন। সুতরাং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যা হোস্ট এর চাহিদা পুরণ করে দিবে।

রেকর্ডিং এবং সাবটাইটেলঃ

কল রেকর্ড করার সুবিধা রয়েছে এবং আরো গুরুত্বপুর্ণ সাবটাইটেল এর ফিচার ও রয়েছে। অর্থাৎ আপনি চাইলে সাবটাইটেল বা close caption এর মাধ্যমে ভয়েসে যেটা বলা হচ্ছে সেটি রিয়েল টাইমে টেক্সট আকারে দেখতে পারবেন। ট্রান্সলেশনও করা যাবে।

স্ক্রিন শেয়ারিংঃ

গুগল মিটের মত skype তেও স্ক্রিন শেয়ারিং এর ফিচার থাকছে যা কলেজ/স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ। এতে করে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, প্রেজেন্টেশন, ওয়ার্ড ডকুমেন্ট সহজেই শেয়ার করা যাবে Skype দিয়ে।

ব্যাকগ্রাউন্ড ইফেক্টঃ

ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার অপশন ও থাকছে । অর্থাৎ পার্সোনাল সমস্যা বা প্রাইভেসি ইস্যু থাকলে যে কেও ভিডিও কলে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করতে পারবেন।

Cross-Platform:

একই লিংক দিয়ে যেকোনো প্লাটফর্মের স্কাইপ ইউজার জয়েন করতে পারবেন কলে।

 

Cisco Webex:

মেনশন করতে হয় এই এপ্লিকেশনটির কথা।। বলতে গেলে সম্পুর্ণ বিজনেস পারপাসের মিটিং কনফারেন্সের জন্যই বানানো এটি। এর ফিচারের সংখ্যা অগনিত ।

  • ক্লাউড রেকর্ডিং, স্টোরেজ সুবিধা: স্টোরেজ থাকার কারণে আপনি ক্লাউডেই রেকর্ডিং সেভ করে রাখতে পারবেন।
  • মাল্টিপল প্লাটফর্মঃ এন্ড্রয়েড, পিসি, IOS থেকে জয়েন করা যাবে।
  •   স্ক্রিন শেয়ারিংঃ স্ক্রিন শেয়ারিং এর মত must-have ফিচার
  • ,ইভেন্ট হোস্ট করা, বড় বড় সেমিনার আয়োজন,
  • ১০০ জন পর্যন্ত একসাথে কনভার্সেশনের সুবিধা থাকছে।
  • সিকিউরিটির দিক থেকেও সিসকো এর ডেটা এনক্রিপশন থাকছে সেজন্য সিকিউরিটির ও চিন্তা নেই।

উল্লেখযোগ্য বাকি ফিচারগুলো দেখে নিন এই লিংক থেকেঃ

Discord:

গেমারদের মধ্যে অনেক বেশি জনপ্রিয় এই প্লাটফর্মটি। তবে অন্যরাও ব্যবহার করতে পারেন।। কোয়ালিটির দিক থেকে উপরের দিকেই রাখতে হবে এই প্লাটফর্মটিকে।। (-) মাইনাস পয়েন্ট হচ্ছে এখানে ২৫ জন সর্বোচ্চ জয়েন করতে পারেন। সুতরাং মিটিং করা গেলেও, ক্লাস এর ক্ষেত্রে সুইটেবল নাও হতে পারে এই প্লাটফর্মটি।

Microsoft Team:

আড়াইশো জন পর্যন্ত মিটিং এ জয়েন করতে পারবেন মাইক্রোসফট টিম এর মাধ্যমে।

উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে মিটিং রেকর্ডিং, ফাইল শেয়ারিং, ক্লাউড স্পেস ইত্যাদি। সম্প্রতি লকডাউনের জন্য সম্পুর্ণ ফ্রি করে দিয়েছে কিছুদিনের জন্য মাইক্রোসফট এটিকে।

 

ফ্যামিলি/ ফ্রেন্ডস চ্যাটিং এর জন্যঃ

Hangout:

গুগলের হ্যাংআউট প্রকৃতপক্ষে মেসেঞ্জারের প্রায় সব ফিচার নিয়েই অনেক বছর ধরেই রয়েছে।। ইমোজি স্টিকার, মেসেজের মত বেসিক ফিচার থাকায় আপনি মেসেজিং এপ হিসেবে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন… অডিও কল ভিডিও কল এর ফিচার রয়েছে এবং যার কোয়ালিটি অনেক ভালো। ২৫ জন পর্যন্ত একসাথে জয়েন করতে পারবে সুতরাং ফ্যামিলি মেম্বারদের নিয়ে আড্ডা বা ফ্রেন্ডদের নিয়ে আড্ডার জন্য ভালো একটি প্লাটফর্ম হতে পারে গুগল হ্যাংআউট।

Google Duo:

গুগল তার এই এপ্লিকেশনকে খুব বেশিদিন হয়নি এনেছে।। তবে এতে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ফিচার-

  • নাম্বার ছাড়াই ভিডিও কল করার সুবিধা। আগে এটি ছিল না। এখন শুধুমাত্র মেইল দিয়েই কল করা সম্ভব।
  • ভিডিও মেসেজ এর মত ৩০ সেকেন্ড এর ভিডিও এর মাধ্যমে আপনি মেসেজ পাঠাতে পারবেন গুগল ডুও থেকে।
  • রিসিভারের এপ্লিকেশন না থাকা!!! জ্বি, যার সাথে কন্ট্যাক্ট করতে চাচ্ছেন তার ডুও ইন্সটল না করা থাকলেও সম্ভব তাকে কল দেওয়া।
  • ডুওর ক্ষেত্রে বলা যায় এটি এমন একটি এপ যা গুগলের প্রোডাক্ট হওয়া সত্বেও জিমেইল ছাড়াই চালানো যাবে। ফোন নাম্বার ও কান্ট্রি কোড থাকলে সেক্ষেত্রে আপনি তাতেই কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।
  • end-to-end encryption and WebRTC এর মাধ্যমে কনভার্সেশন গুলো কোনো আলাদা প্লাগিন,সফটওয়্যার ছাড়াই ডেলিভারি হয় সুতরাং সিকিউরিটি নিয়েও ইস্যু থাকছে না।
  • কল প্রিভিউ ফিচারঃ আপনি কল ধরার আগেই অপর পাঁশে কে আছে তার প্রিভিউ দেখতে পারবেন যেটা সিকিউরিটির দিক থেকে অনেক বড় একটি এডভান্টেজ।
  • ৩২ জন পর্যন্ত ভিডিও কল করার সুযোগ থাকছে তাই ফ্রেন্ডস/ আত্মীয় স্বজনদের সাথে সহজেই ভালো কোয়ালিটির কল করা যাবে।

 

Whatsapp:

WhatsApp ক্যাজুয়াল মেসেজিং এর কিছু ফিচার যেমন ইমোজি, স্টিকার এগুলোর পাশাপাশি ভিডিও কল, অডিও কল, গ্রুপ কনফারেন্স এর ও সুবিধা অফার করে। ৮ জন পর্যন্ত গ্রুপে ভিডিও কল করা যায় whatsapp দিয়ে।।

Messenger:

ফেসবুকের মেসেঞ্জার কমবেশি প্রায় সবাই ই চালিয়ে থাকি আমরা। মুলত মেসেজিং এপ্লিকেশন হলেও গ্রুপ ভিডিও কলের জন্য বহু আগে থেকেই জনপ্রিয় মাধ্যম এটি। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের বাইরে ফ্রেন্ডস/আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে আসছে এটি।। বর্তমানে ৫০ জন পর্যন্ত ভিডিও কলে একসাথে জয়েন করতে। মেসেঞ্জার রুমের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। মেসেঞ্জার ভিডিও চ্যাটে স্টিকার দেওয়ার মত মজার কিছু ফিচার রয়েছে যাকে Augmented Reality বা AR বলা হয়ে থাকে।

অন্যন্যঃ

আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সাথে ভিডিও চ্যাটের জন্য আরো উল্লেখযোগ্য দুটি এপ্লিকেশন হলো IMO,Viber । দুটিতেই ২০জন করে একসাথে ভিডিও চ্যাট করার সুবিধা রয়েছে।

 

মোস্তফা/কন্ট্রার মত ক্লাসিক গেমের মত গেম খুজছেন ? তাহলে এরকম গেম সম্পর্কে জেনে নিন এখান থেকেঃ

সেরা সাইড স্ক্রলিং গেমস

রাইজেনের নতুন 3000XT সিরিজ সম্পর্কে জেনে নিনঃ

Ryzen 3000 সিরিজ? হতাশা নাকি সেরা

উইন্ডোজ ১০ এর নতুন আপডেটের যত বাগ রয়েছে জেনে নিনঃ

উইন্ডোজ ১০ এর মে ২০২০ আপডেট এবং এক বস্তা বাগ

সাথে আরো দেখে নিন উইন্ডোজ ১০ এর মে আপডেটের ফিচারসঃ

উইন্ডোজ ১০ ২০২০ঃযত নতুন ফিচারস

হাই স্পিডের র‍্যাম লাগাবেন কি না কনফিউশনে আছেন? পড়ে নিতে পারেন এই লেখাটিঃ

হায়ার বাস স্পিডের র‍্যামঃসত্যিই জরুরি?