30 C
Dhaka
Tuesday, May 28, 2024

স্মার্টফোনে Fast Charging! Pros এবং Cons!

- Advertisement -

বর্তমানের স্মার্টফোন জগতের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ফিচার হচ্ছে ফাস্ট চার্জিং। গত ১০ বছরের স্মার্টফোনের জগতে অনেক পরিবর্তনের মাঝে অন্যতম পরিবর্তন হচ্ছে স্মার্টফোনে ফাস্ট চার্জিং । ব্যাটারীতে কোন পরিবর্তন না আসলেও চার্জিং এ পরিবর্তন এনে স্মার্টফোনকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে । এই ফাস্ট চার্জিং চলে আসাতে আমরা আমাদের স্মার্টফোন গুলো খুব দ্রুত চার্জ দিতে পারছি, এখন যে স্মার্টফোনে ফাস্ট চার্জিং বেশি থাকে যে স্মার্টফোনটিতে ক্রেতার আগ্রহ বেশি থাকে । অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে, স্মার্টফোনের মতো ছোটখাট ডিভাইসে এ ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি হবে কিনা ? এই ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করলে অবশ্যই আপনার স্মার্টফোনের ক্ষতি হবে । কারণ অনান্য বিষয়ের মতো এই ফাস্ট চার্জিয়ের কিছু উপকারিতা রয়েছে আবার অনেক অপকারিতাও রয়েছে । তো চলুন দেখে নেই Fast Charging এর সুবিধা এবং অসুবিধাসমূহকে। বর্তমান সময়ের নরমাল চার্জারের চার্জ আউটপুট ক্ষমতা রয়েছে ৫ থেকে ১০ ওয়াটের। আর অন্যদিকে ফাস্ট চার্জারের মাধ্যমে আপনি এই পাওয়ারের কয়েকগুণ বেশি পেয়ে থাকেন। যেমন গত বছরের আইফোন ১১ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স ডিভাইসে ১৮ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং ফিচার দেওয়া ছিলো, গ্যালাক্সি নোট ১০ এবং নোট ১০ প্লাস ডিভাইসে দেওয়া ছিলো ২৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সিস্টেম। এছাড়াও তখন স্যামসং আলাদাভাবে ৫০ ডলার দিয়ে ৪৫ ওয়াটের চার্জারের ব্যবস্থা রেখেছিলো।

স্মার্টফোনে ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধাসমূহ:

- Advertisement -
© realme

ক) সময় বাঁচেঃ সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে কোয়ালকমের পক্ষ থেকে এই ফাস্ট চার্জিং এর একটি সিস্টেম আবিষ্কার হয়েছিল ,যার ফলে খুব দ্রুত ফোনকে চার্জ দেয়া যায় । এই প্রসেসটি সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে। বর্তমানে মাত্র ৫ মিনিটে ০ থেকে ৪০% চার্জ করা সম্ভব হচ্ছে এই চমৎকার ফিচারটির কারণে। যারা অনেক ব্যস্ত থাকেন ,সময় পান না ,কম সময়ের মধ্যে ফোন চার্জ করতে চান তাদের জন্য এই ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম খুবই গুরুত্বপুর্ণ একটি ফিচার। এর কারণে কম সময়ে ফোন ফুল চার্জ করে নিতে পারা যাচ্ছে; কম সময় ব্যয় হচ্ছে , ফোন ব্যবহার করতে পারছেন বেশী সময়।

খ) বড় ব্যাটারির জন্য দরকারি ফিচারঃ আমাদের স্মার্টফোনে অনেক নতুন নতুন এ্যাপস এসেছে, এখন সাধারণ কাজ করতেও একসাথে একাধিক অ্যাপস চালু করে রাখা লাগে তাই অনেক বড় ব্যাটারী দরকার হয় । অর্থাৎ বেশী ধারণ ক্ষমতার দরকার হয় । এই বেশী ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারীকে যদি স্লো চার্জার দিয়ে চার্জ করেন তাহলে অনেক সময় লেগে যাবে । যেহেতু ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম চলে এসেছে তাই কম সময়ের মধ্যেও এই বড় ব্যাটারীকেও চার্জ করে নেয়ার সুবিধা পাচ্ছেন ।

গ) ফাস্ট চার্জিংয়ের ফলে ব্যাটারির কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না: শুধুমাত্র আপনার চার্জারে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা মোবাইলের ব্যাটারিতে কোনো রকমের টেকনিক্যাল সমস্যা না থাকলে ফাস্ট চার্জার দিয়ে চার্জ করলে আপনার ডিভাইসের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না। কারণ বর্তমানের স্মার্টফোনের ফাস্ট চার্জিংগুলো ব্যাটারিতে দুই ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপে ব্যাটারির সকল খালি এবং খালিপ্রায় অংশে ভোল্টেজ ব্ল্যাস্ট করে দেয়। এই কারণে চার্জিংয়ের সময় প্রথম দিকে ৫০ থেকে ৭০% পর্যন্ত খুব দ্রুতগতিকে চার্জ হয়ে থাকে। আর বাকি অংশ চার্জ হতে একটু বেশি সময় নেয়। কারণ বাকি সময় চার্জের গতি একটু কমিয়ে দেওয়া হয় যাতে ব্যাটারিতে কোনো খারাপ ইম্পেক্ট না পড়ে।

- Advertisement -

স্মার্টফোনে ফার্স্ট চাজিংয়ের অসুবিধাসমূহ:

© CNET

ক) ব্যাটারি লাইফ কম হয়: ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম ব্যবহার করার ফলে আপনার ফোনে এবং ব্যাটারীতেও সমস্যা হতে পারে । এ ধরনের ব্যাটারীগুলোতে লিথিয়াম আয়ন / লিথিয়াম পলিমার যেকোন ধরনের ব্যাটারী ব্যবহার করা হয়। এসকল ব্যাটারি টাইপের ১টি সাইকেল সিস্টেম রয়েছে অর্থাৎ আপনি ডি-চার্জ / রিচার্জ যেটাই করেন এই সিস্টেম ১টি Cycle-wise ভিক্তিতে চলে । আমাদের ফোনে যেহেতু ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম রয়েছে তাই আমরা এমনভাবে এটি ব্যবহার করি যে ফোনটির উপর বেশী প্রেসার দিয়ে খুব দ্রুত ব্যবহার করতে থাকি । যার কারনে ব্যাটারীর চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে ,আমরা এদিকে খেয়াল দেই না, ফোন তো চার্জ হয়ে গিয়েছে ,তাহলে ব্যাটারীর চার্জ সারা দিন রাখার দরকার কি? আপনি অনেক সময় ধরে ব্যবহার করার ফলে ফোনটি দিনে দুইবার চার্জ করছেন ,কারন চার্জ করতে কম সময় লাগছে। আপনি চিন্তাই করছেন না যে, বার বার চার্জ করার ফলে রি -সাইকিলিং যে সিস্টেম সেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে । আপনি বাইরে থেকে এসেছেন কিছু সময়ের জন্য আবার আপনি বের হয়ে যাচ্ছেন আপনার ফোনে এখন ৭০% চার্জ আছে ,আপনি যাবেন আবার চলে আসবেন আধা ঘন্টার জন্য ,আপনি এই আধা ঘন্টার জন্য এসেছিলেন সেই সময়ে আপনার মোবাইলে ৭০% চার্জ থাকা সত্ত্বেও আবার চার্জ করলেন ,এতে ব্যাটারী কিন্তু কাউন্ট করে নিল সে কতবার চার্জ করছে ,তাতে ব্যাটারীর লাইফ কমে আসছে, ব্যাটারীটা যতদিন চলার কথা তার আগেই কিন্তু ব্যাটারীর লাইফ কমে যাবে এবং তাড়াতাড়ি চার্জ হারাতে শুরু করবে। ফার্স্ট চার্জিংয়ে এটি একটি কমন সমস্যা ।

খ) গরম!: আর এর থেকেও বড় সমস্যা হচ্ছে , হিটিং ইস্যু । মোবাইলের ব্যাটারীর জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হিট বা গরম। হিট যে কারনেই হোক না কেন ব্যাটারী যদি বেশী গরম হয় তাহলে এর নষ্ট হবার সম্ভাবনা বেশী বেড়ে যায় আর সরাসরি ব্যাটারীর লাইফের উপর গিয়ে হ্যাম্পার করে । নরমাল যে চার্জারগুলো রয়েছে এগুলোর তুলনায় এই ফাস্ট চার্জার অনেক বেশী ভোল্ট বা বেশী হ্যাম্পার দিয়ে থাকে ,যার কারণে আপনার ফোনের ব্যাটারীর উপর অতিরিক্ত প্রেসার তৈরি করে আর এই প্রেসারটি নেয়ার ফলে স্মার্টফোনের ব্যাটারী বেশী উত্তপ্ত হয়, কারন ব্যাটারীর মধ্যে যে রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে তার উপর অতিরিক্ত চাপ পরার ফলে সেখানে একটা উত্তাপের সৃস্টি হয় এবং তাতে ব্যাটারী স্বাভাবিকের তুলনায় বেশী গরম হয়ে যায় । আর এই হিট যত বেশী হবে ততো আপনার ব্যাটারী নষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়েছে । ব্যাটারী যখন গরম হয়ে যায় ,একই সাথে প্রসেসরের উপরও প্রেসার পরে আর এটিও গরম হয়ে যায় তাই এর পারফরমেন্সও ডাউন হয়ে যায় । আর তাই এ কারনেই আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারীর সাথে সাথে পুরো ফোনটিরও নষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়েছে ।

- Advertisement -

গ) চার্জিংয়ে সর্তক থাকতে হয়:   অনেক স্মার্ট ফোনেই ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও কোম্পানী থেকে কোন (সর্বোচ্চ পাওয়ারের) ফাস্ট চার্জার দেয়া হয়না। তখন নিজে থেকে ফাস্ট চার্জার কিনলেন , এটি কোন ভালো ব্রান্ডের না ,যে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন সেই কোম্পানীরও না ,আর তখন হয় কি; আপনার ফোনের সাথে ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম ম্যাচিং হতে সমস্যা হয় । এখানে মিস-ম্যাচ হয়ে যেতে পারে । আর তাই আপনার ফোনে সমস্যা হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী । ব্যাটারীর সাথে মোবাইলের যে সার্কিট বোর্ড থাকে সেখানেও সমস্যা তৈরী হতে পারে । এছাড়াও অনেক সময় আমরা রাতে ফোন চার্জে লাগিয়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছি ,ফোনটি ১-২ ঘন্টায় ফুল চার্জ হয়ে গেল ,তখন কিন্তু ফোনটি চার্জারের সাথে কানেক্ট করা থাকে ,কিছু চার্জার আছে অটোমেটিক চার্জ হবার পরে নিজে নিজে অফ করে দেয় না ,যেমন – ফুল চার্জ হয়ে গিয়েছে সে আর আউট-পুট দিবে না কিন্তু এখানে আউট-পুট দিয়ে যাচ্ছে তাই তখন মোবাইলের ব্যাটারীর উপর প্রেসার পরে, সার্কিটবোডের উপরও প্রেসার পরে । এ ধরনের সমস্যার কারনে ব্যাটারীতো নষ্ট হতে পারে আবার বিস্ফোরিত হতে পারে । তাই অবশ্যই ফাস্ট চার্জার ভালো মানের / ভালো ব্রান্ডের চার্জার ব্যবহার করা উচিত ।

পরিশিষ্ট
এখন অনেকেরই প্রশ্ন – কোম্পানী থেকে যে চার্জারগুলো দেয়া হয় ফাস্ট চার্জার হিসেবে সেগুলো কি ব্যবহার করা উচিত? এগুলো ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি হবে কিনা ? এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন; এগুলো ফোনের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরী করা হয়েছে । তাই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন । আরেকটি কথা, যাদের ফোনে ফাস্ট চার্জিং সার্পোট করছে না কিন্তু আপনি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করছেন যেকোন কারনেই হোক এ কাজটি মোটেও করবেন না । কারন, এই চার্জারগুলো অনেক পরিমান ভোল্ট দেয় কিন্তু আপনার ফোন সেটি নিতে পারছে না । অবশ্যই এই কাজে ফোনের উপর প্রেসার পড়বে। সহজ ভাষায় , আপনার ফোনে যদি ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম সার্পোট না করে সেটার সাথে যে চার্জার দেয়া থাকে সেটাই ব্যবহার করুন । অথবা ডিভাইসটি যে পরিমাণের ফাস্ট চার্জ সার্পোট করে সেটুকুর বেশি পাওয়ারের চার্জার ব্যবহার করবেন না। ব্যাটারী চার্জ করার ক্ষেত্রে কিছু বেসিক জিনিস খেয়াল রাখবেন – ব্যাটারী ওভার চার্জ করবেন না, আপনার ফোনের চার্জার বাদ দিয়ে অন্য ফোনের চার্জার দিয়ে চার্জ দিবেন না , ফাস্ট চার্জার দিয়ে চার্জ করতে থাকার সময় অবশ্যই ১০০% চার্জের পূর্বেই (৯০%) হয়ে গেলে সাথে সাথে চার্জার খুলে ফেলবেন ।
ফাস্ট চার্জারের বর্তমানের নরমাল রেট হচ্ছে 15 থেকে 25 ওয়াটের। তাই 20 ওয়াট পর্যন্ত ফাস্ট চার্জারগুলোকে টেক গবেষকরা সেইফ বলে থাকে। এখনো আমাদের দেশ সুপার ফাস্ট চার্জারের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠে নি।

মূল কথা হচ্ছে, আপনি যদি প্রতি ১ কিংবা দেড় বছর পর পর স্মার্টফোন বদলান তাহলে ফাস্ট চার্জিংয়ের অসুবিধা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। শুধুমাত্র চার্জিংয়ের সময় আলাদাভাবে যাতে ডিভাইস গরম না হয় সেটা খেয়াল রাখবেন। আর যারা ২/৩ বছর কিংবা তার বেশি সময়ের জন্য স্মার্টফোন চালানোর কথা ভাবছেন তাদের জন্য ফাস্ট চার্জিং একটু অসুবিধার কারণ হতে পারে। কারণ নরমাল চার্জারের ফোনের ব্যাটারির লাইফ স্প্যান ৫ থেকে ৬/৭ বছর হয়ে থাকে অন্যদিকে ফাস্ট চার্জিং ফিচারযুক্ত ফোনের ব্যাটারির লাইফ স্প্যান ২/৩ বছর হয়ে থাকে।

 

সোর্স লিংকসমূহ:
১) চার্জএসাপ

২) সিনেট

> কভার ইমেজ: ফোনএরিনা

 

 

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here