28 C
Dhaka
Saturday, July 13, 2024

কম্পিউটার কী, কেন এবং কিভাবে?

- Advertisement -

কম্পিউটার বা পিসি’কে(পারসোনাল কম্পিউটার) আজ আমরা যেমন হিসেবে দেখি শুরুর দিকে তা কিন্তু “পারসোনাল” হিসেবে ছিলো না। একটি বা দুটি রুম জুড়ে তার CPU স্ট্রাকচার হত ।
আর বিশাল যন্ত্র খানা কিন্তু এন্টারটেইমেন্ট কিংবা ব্যক্তিগত চিত্তবিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়নি; বরং বিভিন্ন ধরণের জটিল জ্যামিতিক ক্যালকুলেশন সলভ করার জন্যই ইহার জন্ম।

১৮৮০ সালের দিকে আমেরিকার জনসংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছিলো যে, সরকারের পক্ষে নিয়মিত আদমশুমারি করা বেশ কস্টকর হয়ে উঠেছিলো, আর তাই এই জটিল ক্যালকুলেশনকে সহজ করার জন্য পাঞ্চকার্ড জাতীয় কম্পিউটার যেগুলো বড় বড় রুমের সবটুকু খেয়ে ফেলতো তার প্রচলন শুরু হয়।

- Advertisement -

বর্তমানের মর্ডান কম্পিউটারের সাথে আগের এই শুরুর দিকের কম্পিউটারের সাথে তেমন কোনো মিল আপনি খুঁজে পাবেন না। আজ pcbuilderbd.com এ আমরা কম্পিউটার এর একটা সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জানার চেস্টা করব। পোষ্টটি লেখার জন্য উইকিপেডিয়া এবং বিভিন্ন আন্তজার্তিক ওয়েবসাইটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। পোষ্টের শেষে রেফারেন্স অংশে আপনি মূল ইংরেজি সাইটের লিংক পেয়ে যাবেন।

তো কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হলে একদম শুরু থেকেই শুরু করা যাক।

কম্পিউটার কী

মর্ডান কম্পিউটার কয়েকটি বিষয় নিয়ে গড়ে উঠেছে। এগুলো হচ্ছে হার্ডওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রয়োজনীয় পেরিফেরাল যন্ত্রপাতি। এগুলো একত্র হয়েই বর্তমানের মর্ডান কম্পিউটার সিস্টেম আমরা ব্যবহার করছি। আর বর্তমানে কম্পিউটারের দৌড় শুধু চেয়ার টেবিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আমরা যে সকল স্মার্ট ডিভাইসগুলো ব্যবহার করি সেগুলো সবগুলোর ভেতরেই এক এক ধরণের কম্পিউটিং সিস্টেম বসানো রয়েছে। যেমন স্মার্টফোন, মাইক্রোওয়েভ, এসি, রাউটার, রিমোট কনট্রোল, ইন্ড্রাট্রিয়াল রোবটস ইত্যাদি সবকিছুতেই রয়েছে তাদের নিজস্ব কম্পিউটিং সিস্টেম। বিশ্বের খ্যাতিমান অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী কম্পিউটার (Computer) শব্দটির সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয় ১৬১৩ সালের The Yong Mans Gleanings নামের একটি বইতে। বইতে কম্পিউটারকে Human Computer হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যারা ক্যালকুলেশন বা কম্পুটেশনের কাজ করতেন তাদেরকে Human Computer বলা হতো। এভাবেই ২০ শতাব্দির মাঝামাঝি পর্যন্ত কম্পিউটারকে হিউম্যান হিসেবেই দেখা হতো।

- Advertisement -

কম্পিউটার ইতিহাসের টাইমলাইন

এখন আমরা কম্পিউটার হিস্টোরিকে জানবো বেশ মজা সহকারে। কারণ নিচে আমি বছরের হিসেবে কম্পিউটারের ইতিহাসকে টাইমলাইন হিসেবে সাজিয়েছি যাতে কম্পিউটার হিস্টোরি পড়তে পড়তে আপনি Bore না হয়ে যান!

Joseph Marie Jacquard

১৮০১ সাল: ফ্রান্সে Joseph Marie Jacquard একধরণের প্রোগ্রামেবল Loom আবিস্কার করেন যেটা অটোমেটিক্যালি কাঠে কার্ডে পাঞ্চ করে ফেব্রিক ডিজাইন বানাতে পারতো। তার এই ডিজাইন মেনেই আদিকালের কম্পিউটারগুলো গঠন করা হতো।

- Advertisement -
Charles Babbage

১৮২২ সাল: ইংলিশ ম্যাথমেথেশিয়ান Charles Babbage একধরণের Steam-driven ক্যালুলেশন মেশিন বানাতে সক্ষম হন যেটি নাম্বার টেবিল খুব কম সময়ে সলভ করতে পারতো। এভাবেই বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার ১৮২২ সালে নিমির্ত হতে পারতো। তবে মজার ব্যাপার ছিলো ইংরেজ সরকারের ফান্ডিংয়ে নির্মিত এই প্রজেক্টটি সফলকাম হতে পারে নি তাই এটা বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার খ্যাতি অর্জন করতে পারেনি।

১৮৯০ সাল: Herman Hollerith এমন একধরণের পাঞ্চকার্ড সিস্টেম ডিজাইন করেন যেটার মাধ্যমে আমেরিকার ১৮৮০ সালের আদমশুমারি গণনা করা হয়। তার এই পাঞ্চকার্ড সিস্টেম পুরো আমেরিকার আদমশুমারি কে ৩ বছরের মধ্যে করতে সক্ষম হন। এতে সরকারের প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার বেঁচে যায়। উনার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটিই বর্তমানে আমরা IBM নামে চিনে থাকি।

Alan Turing

১৯৩৬ সাল: একটি ইউনিভার্সাল মেশিনের কথা Alan Turing উপস্থাপন করেন পরবর্তীতে যেটার নাম হয় Turing Machine। টিউরিং মেশিনটি কম্পিউটেবল যেকোনো কিছু কম্পিউট করতে পারে। মর্ডান কম্পিউটারের কনসেপ্টগুলো তার আইডিয়া থেকেই এসেছে।

১৯৩৭ সাল: Lowa State বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স এবং ম্যাথমেথেটিক্স প্রফেসর JV Atanasoff বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার তৈরির প্রচেষ্টা করেন কোনো প্রকার গিয়ার, ক্যামস, বেল্টস ছাড়াই!

১৯৩৯ সাল: কম্পিউটার হিস্টোরি মিউজিয়ামের অনুসারে এই সালে Davi Packard এবং Bill Hewlett তাদের Hewlett-Packard (HP) কোম্পানিটি Palo Alto, California এর একটি গ্যারেজে প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৪১ সাল: Atanasoff এবং তার গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট Clifford Berry মিলে একটি কম্পিউটার ডিজাইন করেন যেটা একই সাথে ২৯টি ইকোয়েশন সমাধান করতে পারতো। আর এর মাধ্যমেই বিশ্বে সর্বপ্রথম কম্পিউটার তার মেইন মেমোরিতে তথ্য স্টোর করেছিলো।

ENIAC

১৯৪৩-১৯৪৪ সাল: প্রায় ১৮ হাজার ভ্যাকিউম টিউবস এবং ২০ ফুট বাই ৪০ ফুটের রুম নিয়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর John Mauchly এবং J. Presper Eckert দুজনে মিলে ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Calculator নির্মাণ করেন। এই ডিভাইসকে ডিজিটাল কম্পিউটারের গ্রান্ডফাদার বলা হয়।

১৯৪৬: Mauchly এবং Presper সরকারি অনুদান পান যেটির ব্যবহার করে ১৯৪৬ সালে তারা UNIVAC নির্মাণ করেন যেটা বিশ্বের প্রথম কমার্শিয়াল কম্পিউটার যেটা বিজনেস এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত হবে হিসেবে খ্যাতি পায়।

১৯৪৭: Bell Laboratories এর William Shockley, John Bardeen এবং Walter Brattain একত্রে মিলে সর্বপ্রথম Transistor আবিস্কার করেন। এটার মাধ্যমে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারে ভ্যাকিউম এর ব্যবহারের আর দরকার পড়ে নি।

১৯৫৩: Grace Hopper বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলপ করেন যেটা পরবর্তীতে COBOL নামে খ্যাতি পায়।

১৯৫৪: IBM এর প্রোগ্রামারা The FORTRAN প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আবিস্কার করেন।

১৯৫৮: Jack Kilby এবং Robert Noyce মিলে Integrated Circuit আবিস্কার করেন, যেটাকে আমরা এখন কম্পিউটার চিপ বলে জানি। ২০০০ সালে Jack Kilby কে তার এই অসামান্য অবদানের জন্য ফিজিক্সে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়।

১৯৬৪: Douglas Engelbart একটি মর্ডান কম্পিউটারের প্রটোটাইপ প্রদশর্ন করেন। যেখানে মাউস এবং GUI (Graphical User Interface) ছিলো। এটার মাধ্যমে কম্পিউটারকে সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

১৯৬৯: Bell Labs এর কয়েকজন নির্মাতারা UNIX অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেন। যেটা তখনকার সময়ে মেইনফ্রেম হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। অপারেটিং সিস্টেমটি বড় বড় কোম্পানি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহৃত হত। কিন্তু স্লো সিস্টেমের কারণে হোম পিসি ইউজারদের কাছে সিস্টেমটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।

১৯৭০: সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কোম্পানি Intel তাদের Intel 1103 উন্মোচিত করে। এটা বিশ্বের সর্বপ্রথম Dynamic Access Memory (DRAM) Chip

১৯৭১: IBM ইঞ্জিনিয়ারদেরকে সাথে নিয়ে Alan Shugart ফ্লপি ডিক্স আবিস্কার করেন। এর মাধ্যমে কম্পিউটারদের মধ্যে ডাটা শেয়ারিং প্রথা চালু হয়।

১৯৭৩: Xerox এর রিসার্চ স্টাফ Rober Metcalfe একাই Ethernet আবিস্কার করেন। Ethernet এর মাধ্যমে একাধিক কম্পিউটার এবং অনান্য হার্ডওয়্যারকে কানেক্ট করা যায়।

১৯৭৪-১৯৭৭: বাজারে পারসোনাল কম্পিউটার জনপ্রিয় হতে থাকে। Scelbi, Mark-9 Altair, IBM 5100, TRS 80 ।

Bill Gates

১৯৭৫: সালের জানুয়ারী মাসে জনপ্রিয় Popular Electronics ম্যাগাজিনে Altair 8080 কে বিশ্বের সর্বপ্রথম মিনিকম্পিউটার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই ডিভাইসটির জন্য Paul Allen এবং Bill Gates কে সফটওয়্যার লেখার জন্য অফার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এপ্রিল ৪ তারিখে তারা দুজনে মিলে নিজেদের সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭৬: Steve Jobs এবং Steve Wozniak এপ্রিল ফুল তারিখে অ্যাপল কম্পিউটারস চালু করেন এবং সিঙ্গেল সার্কিট বোর্ডযুক্ত Apple I বাজারে ছাড়েন।

১৯৭৭: TRS 80 মডেলের কম্পিউটারটি মাত্র ৩ হাজারের মতো বানানো হয়েছিলো আর স্বাভাবিক ভাবেই খুব দ্রুত মডেলটি মার্কেট আউট হয়ে যায়। বিশ্বে প্রথমবারের মতো non-geeks মানে একদমই সাধারণ জনগণ কম্পিউটারের জন্য প্রোগ্রাম লেখা শুরু করেন।

১৯৭৭: Steve Jobs এবং Wozniak তৎকালিন West Coast Computer মেলায় তাদের Apple II কম্পিউটারটি প্রদর্শন করেন। এটায় ছিলো কালার গ্রাফিক্স এবং স্টোরেজের জন্য ছিলো অডিও ক্যাসেট ড্রাইভ।

১৯৭৮: বিশ্বের সর্বপ্রথম স্প্রেডশীট প্রোগ্রাম VisiCalc বাজারে আসে।

Wordstar

১৯৭৯: একই সাথে বিশ্বের সর্বপ্রথম ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রাম WordStar বাজারে আসে।

১৯৮১: প্রথম IBM পারসোনাল কম্পিউটার Acorn বাজারে আসে। এটায় ব্যবহার করা হয়েছে মাইক্রোসফটের MS DOS অপারেটিং সিস্টেম। রয়েছে একটি ইন্টেল চিপ, দুটি ফ্লপি ডিক্স এবং একটি অপশনাল কালার মনিটর। এর মাধ্যমেই PC বা Personal Computer শব্দটি জনপ্রিয় হতে থাকে।

১৯৮৩: GUI সমৃদ্ধ বিশ্বের প্রথম পিসি বলে খ্যাতি পায় Apple Lisa । এতে রয়েছে ড্রপ ডাউন মেন্যু সিস্টেম এবং আইকনস। এটা যদিও মার্কেটে ফ্লপ খায় কিন্তু এখান থেকেই অ্যাপল তাদের Macintosh এর পথে যেতে থাকে। অন্যদিকে The Gavilan SC বিশ্বের প্রথম পোর্টেবল কম্পিউটার হিসেবে খ্যাতি পায়, ফ্লিপ ফর্ম ছোটখান ফ্যাক্টর থাকায় একে বিশ্বের প্রথম ল্যাপটপ হিসেবেও মানা হয়।

১৯৮৫: অ্যাপলের GUI এর প্রতিযোগী হিসেবে মাইক্রোসফট উইন্ডোজকে এনাউন্স করে ফেলে। অন্যদিকে বছরের ১৫ মার্চে বিশ্বের প্রথম .com ডোমেইন রেজিস্টার হয়। Massuchusetts অঞ্চলের ছোটখাট কম্পিউটার ম্যানুফেকচার Symbolics Computer তাদের symbolics.com সাইটটি রেজিস্টার করে ফেলে। বলা বাহুল্য যে তখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের তেমন কোনো প্রচলনই ছিলো না। এর দুই বছর পরেও মাত্র ১০০টি অন্য dot com রেজিস্টার্ড হয়ে ছিলো।

১৯৮৬: Deskpro 386 পিসি নিয়ে বাজারে আসে Compaq । এটা রয়েছে ৩২বিট আর্কিটেকচার সেটা মেইনফ্রেম কম্পিউটারের মতো স্পিড দিতে পারতো।

১৯৯০: CERN এর গবেষক Tim Berners-Lee তখন HyperText Markup Language (HTML) ডেভেলপ করেন। আর এই ভাষার মাধ্যমে World Wide Web এর ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

১৯৯৩: পেন্টিয়ার মাইক্রোপ্রসেসর বাজারে আসতে থাকে। এর মাধ্যমে পিসিতে গ্রাফিক্স এবং মিউজিক এর ব্যবহার ব্যাপক ভাবে বাড়তে থাকে।

১৯৯৪: পারসোনাল কম্পিউটারগুলো গেমিং মেশিন হয়ে জনপ্রিয় হতে থাকে। যখন Command & Conquer, Alone in the Dark 2, Theme Park, Magic Carpet, Descent, Little Big Adventure, DOOM এই গেমস গুলো বাজারে আসতে থাকে।

১৯৯৬: স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট Sergey Brin এবং Larry Page গুগল সার্চ ইঞ্চিণ ডেভেলপ করে ফেলেন।

১৯৯৯: WiFi জনপ্রিয় হতে থাকে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তারবিহীন ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে থাকে।

২০০১: Mac OS X অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আনে অ্যাপল। আর প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে না থাকলে অন্যদিকে মাইক্রোসফট নিয়ে আসে ম্যাকের থেকে একদমই আলাদা ডিজাইনের Windows XP অপারেটিং সিস্টেম।

২০০৩: বিশ্বের সর্বপ্রথম 64bit প্রসেসর, AMD Athlon 64 কনজিউমার মার্কেটে চলে আসে

২০০৪: মাইক্রোসফটের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারকে প্রতিযোগীতায় ফেলতে লঞ্চ হয় Mozilla Firefox 1.0 । অন্যদিকে সোশিয়াল নেটওর্য়াকিং সাইট ফেসবুকও লঞ্চ হয়।

২০০৫: ভিডিও শেয়ারিং সার্ভিস ইউটিউব এর যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে গুগল কিনে নেয় অ্যান্ড্রয়েডকে, এটি একটি লিনাক্স ভিক্তিক মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম।

২০০৬: অ্যাপল সর্বপ্রথম তাদের ম্যাকবুকে ইন্টেলের চিপ ব্যবহার করে MacBook Pro বাজারে আনে, অন্যদিকে ইন্টেল ভিক্তিক iMac ও আনা হয়। এছাড়াও Nintendo Wii গেম কনসোল বাজারে আসে।

২০০৭: অনেকগুলো কম্পিউটার ফাংশন স্মার্টফোনে নিয়ে আসে iPhone

২০০৯: ইতিহাসের সবথেকে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম Windows 7 লঞ্চ করে মাইক্রোসফট। এতে থাকে টাস্কবারে অ্যাপ পিন করার সুবিধা, টাচ এবং হ্যান্ডরাইটিং Recognition এর সুবিধা সহ বেশ কিছু।

২০১০: ব্যক্তিগত বিনোদনকে কম্পিউটার টেবিল থেকে গ্রাহকের কোলে নিয়ে আসার জন্য অ্যাপল লঞ্চ করে iPad । যার মাধ্যতে বিশ্বে ট্যাবলেট কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হয়।

২০১১: গুগলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম Google Chrome OS দিয়ে চলনশীল ল্যাপটপ Chromebook বাজারে আসে।

২০১২: বছরের ৪ অক্টোবরে ফেসবুকের ইউজার সংখ্যা ১ বিলিয়নে গিয়ে পৌছে।

২০১২: বাচ্চাদের কোডিং শেখাতে সেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে তৈরি হয় Rasberry Pi । এটি একটি অত্যন্ত ছোট সাইজের কমদামী ক্রেডিট কার্ড সাইজের Bare Bones কম্পিউটার।

২০১৩: আমেরিকায় PlayStation 4 চলে আসে।

২০১৪: বিশ্বের সর্বপ্রথম ৮ টেরাবাইট হার্ড ড্রাইভ বাজারে আনে Seagate

২০১৫: অ্যাপল তাদের অ্যাপল ওয়াচ এবং মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ ১০ রিলিজ করে।

২০১৬: বিশ্বের সর্বপ্রথম রিপ্রোগ্রামেবল কোয়ানটাম কম্পিউটার তৈরি করা হয়।

২০১৭: DARPA নতুন ধরণের একটি Molecular Informatics তৈরি করছে যেখানে কম্পিউটারে অণু প্রোগ্রামেবল করা যাবে।

২০১৯: Lexar এনাউন্স করে যে এখন SD Card সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট ডাটা বহন করতে পারবে!

২০২০: অস্ট্রেলিয়ান কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সর্বোচ্চ স্পিডের ইন্টারনেট অর্জন করতে সক্ষম হন। একটি সিঙ্গেল অপটিক্যাল চিপ এবং স্ট্যান্ডার্ড অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে তারা 44.2 Terabits প্রতি সেকেন্ড স্পিড অর্জন করতে সক্ষম হন। এই গতিতে তারা ১ হাজারটি BluRay ছায়ছবি ৫ সেকেন্ডের মধ্যে ডাউনলোড করতে পারেন।

২০২০: Elon Musk একটি ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস চিপ এর প্রটোটাইপ প্রদর্শন করে যা বর্তমানে Pigs এর উপর পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

প্রথম কম্পিউটিং ডিভাইস

কম্পিউটারের জনক হিসেবে আমরা Charles Babbage কে চিনে থাকি। তিনি একজন ইংলিশ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং Polymath , তার মাথাতেই সর্বপ্রথম প্রোগ্রামেবল কম্পিউটার এর আইডিয়া আসে। তিনিই সর্বপ্রথম কনসেপ্ট আকারে এবং পরবর্তীতে বাস্তবরূপে বিশ্বের প্রথম মেকানিক্যাল কম্পিউটার ১৯ শতকের প্রথম দিকে নিয়ে আসেন। তিনি তার আবিস্কৃত Difference Engine দিয়ে নেভিগেশন ক্যালকুলেশনে অনেক সহায়তা করেন। ওই মেশিনটি নিয়ে কাজ করতে করতে ১৮৩৩ সালে তিনি বুঝতে পারেন এর থেকেই জেনারেল ডিজাইন দিয়ে ANalytica Engine বানানো সম্ভব।
তার বানানো সেই মেশিনটি তখনকার সময়ে অনেক এডভান্স ছিলো। তাই তার মেশিনের সকল পার্টসকে হাতে তৈরি করতে হতো। আর তাই হাজারো পার্টের কোনো পার্ট নস্ট হয়ে গেলে সেট রিপ্লেস করা খুবই দূরহ হয়ে পড়ে। আর তাই ব্রিটিস সরকারের অনুদানের পরেও তার এই প্রজেক্টটি ব্যার্থ হয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তার ছেলে Henry Babbage ১৮৮৮ সালে এই মেশিনের একটি সিম্পল ভার্সন ( The Mill) তৈরি করতে সক্ষম হন। এবং তিনি ১৯০৬ সালে এর একটি সফল প্রদর্শন ডেমো দেখানো পারেন।

মর্ডান কম্পিউটার

মর্ডান কম্পিউটারের আইডিয়া সবার আগে আসে Alan Turing এর মাথায় এবং তিনি তার ১৯৩৬ সালের On Computable Numbers বইতে একটি সিম্পল কম্পিউটিং ডিভাইসের কথা বলে যেটাকে তিনি “ Universal Computing Machine” নামে ব্যাখ্যা দেন এবং এটি বর্তমানে Universal Turing Machine নামে পরিচিত। বইতে তিনি প্রমাণ করেন যে এই ধরণের মেশিন টেপের স্টোরকৃত সকল ইন্সট্রাকশনকে ফলো করে যেকোনো কিছু কম্পিউটিং করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে মেশিনটি প্রোগ্রামেবল করা যাবে!

কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ

কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ একটি জটিল বিষয়। কম্পিউটারকে বেশ কয়েকভাবে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে শ্রেণীবিভাগ করা যায়। যেমন:

ক) আর্কিটেকচার হিসেবে:
১) এনালগ কম্পিউটার
২) ডিজিটাল কম্পিউটার
৩) হাইব্রিড কম্পিউটার
৪) হার্ভাড আর্কিটেকচার
৫) Von Neumann আর্কিটেকচার
৬) Complex Instruction Set Computer এবং
৭) Reduced Instruction Set Computer

খ) সাইজ, ফর্ম ফ্যাক্টার এবং উদ্দেশ্য হিসেবে
১) সুপার কম্পিউটার
২) মেইনফ্রেম কম্পিউটার
৩) মিনি কম্পিউটার (বর্তমানে বিলুপ্ত)
৪) সার্ভার কম্পিটউটার = i) Rackmount, ii) Blade, iii) Tower
৫) পার্সোনাল কম্পিউটার = i) Workstation, ii) Microcomputer (বিলুপ্ত), iii) Home Computer,
৬) ডেক্সটপ কম্পিউটার = i) All in one PC, ii) Nettop, iii) Home Theater PC, iv) Keyboard Computer, v) Portable Computer (PDA), vi) Thin Client, vii) Internet Appliance
৬) ল্যাপটপ = i) Desktop Replacement Computer, ii) Gaming Laptop, iii) Rugged Laptop, iv) 2-in-1 PC, v) Ultrabook, vi) Chromebook, vii) Subnotebook, viii) Netbook

৭) মোবাইল কম্পিউটার = i) Tablet, ii) Smartphone, iii) Ultra mobile pc, iv) Pocket PC, v) Palmtop PC, vi) Handhelp pc
৮) পরিধানযোগ্য কম্পিউটার , i) Smartwatch, ii) Smartglasses
৯) সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার
১০) প্লাগ কম্পিউটার
১১) স্টিক পিসি
১২) প্রোগ্রামেবল লগিক কনট্রোলার
১৩) কম্পিউটার অন মডিউল
১৪) সিস্টেম ইন এ প্যাকেজ
১৫) সিস্টেম – অন – চিপ
১৬) মাইক্রোকন্ট্রোলার

গ) জেনারেশন হিসেবে:

ক) প্রথম জেনারেশন কম্পিউটারস (১৯৪০ – ১৯৫৫)
খ) সেকেন্ড জেনারেশন কম্পিউটারস (১৯৫৬ – ১৯৬৩)
গ) থার্ড জেনারেশন কম্পিউটারস (১৯৬৪ – ১৯৭০)
ঘ) ফোর্থ জেনারেশন কম্পিউটারস (১৯৭১ – বর্তমান)

হার্ডওয়্যার

একটি কম্পিউটারের যাবতীয় সকল ফিজিক্যাল অংশগুলোকে হার্ডওয়্যার বলা হয়। যেমন কেইস, সিপিইউ, মনিটর, মাউস, কিবোর্ড, ডাটা স্টোরেজ, গ্রাফিক্স কার্ড, স্পিকার ইত্যাদি। কম্পিউটারের নিয়ম অনুসারে সফটওয়্যার হচ্ছে প্রোগ্রামের ভেতর স্পেশাল ল্যাঙ্গুয়েজে লিখিত কতগুলো নির্দেশনাবলী যা হার্ডওয়্যারে স্টোর এবং রান করা যায়। হার্ডওয়্যার এর Hard কথাটি এর শক্তপোক্ত যন্ত্রপাতি আর হার্ডওয়্যারকে সহজে পরিবর্তন করা যায় না থেকে রাখা হয়েছে। আর Software এর সফট অংশটিকে সহজেই পরিবর্তন করা যায় দেখে রাখা হয়েছে।

হার্ডওয়্যারের ইতিহাস:

প্রথম জেনারেশন

(mechanical/electromechanical)

ক্যালকুলেটরস Pascal’s calculatorArithmometerDifference engineQuevedo’s analytical machines
প্রোগ্রামেবল ডিভাইস Jacquard loomAnalytical engineIBM ASCC/Harvard Mark IHarvard Mark IIIBM SSECZ1Z2Z3
সেকেন্ড জেনারেশন (vacuum tubes) ক্যালকুলেটরস Atanasoff–Berry ComputerIBM 604UNIVAC 60UNIVAC 120
প্রোগ্রামেবল ডিভাইস ColossusENIACManchester BabyEDSACManchester Mark 1Ferranti PegasusFerranti MercuryCSIRACEDVACUNIVAC IIBM 701IBM 702IBM 650Z22
থার্ড জেনারেশন

(discrete transistors and SSI, MSI, LSI integrated circuits)

মেইনফ্রেমস IBM 7090IBM 7080IBM System/360BUNCH
মিনিকম্পিউটার HP 2116AIBM System/32IBM System/36LINCPDP-8PDP-11
ডেক্সটপ কম্পিউটার HP 9100
ফের্থ জেনারেশন

(VLSI integrated circuits)

মিনিকম্পিউটার VAXIBM System i
4 Bit মিনিকম্পিউটার Intel 4004Intel 4040
৮ বিট মিনিকম্পিউটার 6800Motorola 6809MOS Technology 6502Zilog Z80
১৬ বিট মিনিকম্পিউটার Intel 8088Zilog Z8000WDC 65816/65802
৩২ বিট মিনিকম্পিউটার Intel 80386PentiumMotorola 68000ARM
৬৪ বিট মিনিকম্পিউটার AlphaMIPSPA-RISCPowerPCSPARCx86-64ARMv8-A
Embedded কম্পিউটার Intel 8048Intel 8051
পারসোনাল কম্পিউটার Desktop computerHome computerLaptop computer, Personal digital assistant (PDA), Portable computerTablet PCWearable computer
Theoretical/experimental Quantum computerChemical computerDNA computingOptical computerSpintronics-based computer, Wetware/Organic computer

একটি সাধারণ কাজের জন্য কম্পিউটারে মূলত চারটি প্রধান হার্ডওয়্যার কম্পোটেন্ট থাকে। যেগুলো হচ্ছে ALU (Arithmetic Logic Unit), Control Unit, Memory এবং Input / Output ডিভাইস। এই সকল পার্টসগুলো নিজেদের সাথে wire দিয়ে buses এর সাথে সংযুক্ত থাকে।

ইনপুট ডিভাইস এর মাধ্যমে কম্পিউটারে আমরা তথ্য প্রবেশ করিয়ে থাকি। ডাটাকে প্রসেস করে কম্পিউটার আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসে পৌছে।

ইনপুট ডিভাইস

কম্পিউটারে কাজ করার জন্য যে সকল তথ্য প্রদান করা হয় তাদের বলা হয় ইনপুট। কম্পিউটারে ইনপুট প্রদানের জন্য বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এসকল যন্ত্রকে বলা হয় ইনপুট ডিভাইস। যেমনঃ কিবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, জয়স্টিক, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা, MICR-রিডার, ওএমআর, ওসিআর, বারকোড রিডার ইত্যাদি।

কিবোর্ড

কিবোর্ড ইংরেজি শব্দ key board থেকে এসেছে, বাংলা করলে দাঁড়াবে চাবির পাটাতন। তবে কীবোর্ড নামেই দেশে পরিচিত এই বহুল ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইসটি।  কতগুলো কি একত্রে একটি বক্সের মধ্যে থাকায় এইরূপ নাম দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটারের কিবোর্ড হল একটি টাইপরাইটার জাতীয় যন্ত্র বিশেষ যার মধ্যে কতগুলো বাটন বা চাবির সমষ্টি থাকে এবং এগুলো ইলেক্ট্রনিক সুইচ এর কাজ করে। বর্তমানে প্রচলিত কিবোর্ডগুলোতে সর্বোচ্চ ১০৫ টি কি থাকে। কিবোর্ডে বিভিন্ন ধরণের কি থাকে-

ফাংশন কিঃ তথ্য সংযোজন, বিয়োজন বা নির্দেশ প্রদানের জন্য ফাংশন কি ব্যবহার করা হয়। F1-F12 পর্যন্ত মোট ১২ টি ফাংশন কি রয়েছে।

আলফানিউমেরিক কিঃ কিবোর্ডে অ্যালফাবেট (a-z) এবং নম্বর (0-9) দিয়ে সাজানো কি গুলোকে বলা হয় আলফানিউমেরিক কি।

নিউমেরিক কি-প্যাডঃ কিবোর্ডের ডান অংশে ক্যালকুলেটরের মতো অর্থাৎ 0-9 এবং যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি চিহ্নিত কিগুলোকে নিউমেরিক কি-প্যাড বলা হয়। ১৭ টি নিউমেরিক কি রয়েছে।

মডিফাইয়ার কিঃ কিবোর্ডের যে সকল বোতামে কোন অক্ষর বা বর্ণ টাইপ করা থাকেনা কিন্তু অক্ষর বা বর্ণ বিন্যাসের কাজ এবং অন্যান্য ধরণের কাজ করা হয় সেগুলোকে বলা হয় মডিফাইয়ার কি। যেমনঃ Shift, Option, Command, Ctrl, Alt ইত্যাদি।

কার্সর মুভমেন্ট কিঃ কিবোর্ডের ডান দিকে চারটি Arrow Key আছে। এগুলোকে কার্সর মুভমেন্ট কি বলা হয়। যাদের মাউস নেই তাদের এইগুলো বেশ কাজে দেয়।

কিবোর্ড বিন্যাসঃ বিভিন্ন ধরণের কিবোর্ড লে-আউট আছে। কিবোর্ডের বাম দিকের উপরের ছয়টি বর্ণের ক্রম দিয়ে এই লে-আউটের নামকরণ করা হয়। যেমনঃ QWERTY layout, QWERTZ layout, AZERTY layout.

মাউস
কম্পিউটার পরিচালনা করতে ব্যবহৃত একটি হার্ডওয়্যার হচ্ছে মাউস । ১৯৬০ এর দশকের শেষ ভাগে স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ডুগ এঙ্গেলবার্ট সর্বপ্রথম মাউস আবিষ্কার করেন। কিন্তু সত্তরের দশকে এটি কেবল জেরক্সের কম্পিউটার ছাড়া অন্যত্র জনপ্রিয়তা পায় নি। ১৯৮০ এর দশকে আ্যাপল কম্পিউটার তাদের ম্যাকিন্টশ সিরিজে প্রথম এটি উপস্থাপন এবং সংযোগ করে, এর আকৃতি ইঁদুরের মত তাই এর নাম mouse দেয়া হয়েছিল। এটি একটি ইনপুট ডিভাইস, এর মাধ্যমে মনিটরের বা প্রোগ্রামের যে কোন স্থানে ইউজারের একসেস দেওয়া সম্ভব। এর কল্যাণে গ্রাফিক্স ইউজার ইন্টারফেস বা GUI সম্বলিত আপারেটিং সিসটেম এত দ্রুত প্রসার পায়।

মাইক্রোফোন

মাইক্রোফোন একটি ইনপুট ডিভাইস যা শব্দ রেকর্ডিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়। মাইক্রোফোনের মাধ্যমে শব্দ রেকর্ড হয় এবং ডিজিটাল ফরমেটে রুপান্তরের পর সাউন্ড ফাইল হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।

জয়স্টিক

জয়স্টিক হল একটি ইনপুট ডিভাইস যতে আয়তাকার বেসের উপর একটি দন্ড বসানো থাকে। বেসের সাথে কম্পিউটারের সংযোগ থাকে। সাধারণত কম্পিউটারে গেম খেলতে জয়স্টিক ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও বিভিন্ন ধরণের সিমুলেশনের কাজেও জয়স্টিক ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফিক্স ট্যাবলেট

গ্রাফিক্স ট্যাবলেট কার্যত মাউসের বিকল্প যন্ত্র। গ্রাফিক্স ট্যাবলেট দেখতে অনেকটা পেন্সিলের স্লেটের মতো। বিশেষ কলম দিয়ে স্লেট বা প্যাডের উপরে ছবি বা কোন অলঙ্করণের কাজ করা যায়।

ওয়েবক্যাম

ওয়েবক্যাম হল একটি ভিডিও ক্যামেরা যা কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে রিয়েল টাইম ইমেজ বা ভিডিও আদানপ্রদান করে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে ভিডিও চ্যাটিং করা যায়, কম্পিউটার থেকে ভিডিও দেখে নিরাপত্তার কাজ করা যায় এবং ভিডিও রেকর্ডিং করা যায়।

ডিজিটাল ক্যামেরা

চলন্ত এবং স্থির ছবি তুলে তা কম্পিউটারে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়। ডিজিটাল ক্যামেরাতে ফিল্ম থাকেনা। এতে CCD(Charge Coupled Device) নামক একটি চিপ থাকে।

MICR-রিডার

MICR এর পূর্ণরূপ হল Magnetic Ink Character Recognition. যে মেশিন MICR লেখা পড়তে পারে তাকে MICR-রিডার বলে। চৌম্বক কালির সাহায্যে MICR লেখা হয়। এই পদ্ধতিতে ব্যাংকের চেক নাম্বার লেখা ও পড়া হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল ব্যাংকে MICR যুক্ত চেক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ওএমআর

OMR বা Optical Mark Reader এমন এক যন্ত্র যা পেন্সিল বা কালির দাগ বুঝতে পারে। পেন্সিলের দাগ বোঝা যায় পেন্সিলের সীসার উপাদান গ্রাফাইটের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা যাচাই করে। কালির দাগ বোঝা যায় কালির দাগের আলোর প্রতিফলন বিচার করে। অবজেকটিভ প্রশ্নের উত্তরপত্র পরীক্ষা, বাজার সমীক্ষা, জনগণনা ইত্যাদি কাজে OMR ব্যবহৃত হয়।

ওসিআর

OCR বা Optical Character Reader শুধু দাগই বোঝেনা, বিভিন্ন বর্ণের পার্থক্যও বুঝতে পারে। চিঠির পিন কোড, ইলেকট্রিক বিল, ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম, নোটিস ইত্যাদি পড়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

বারকোড রিডার

বারকোড রিডার একটি অপটিক্যাল ইনপুট ডিভাইস। বারকোড বলতে কমবেশি চওড়াবিশিষ্ট পর্যায়ক্রমে কতগুলো বার বা রেখার সমন্নয়কে বোঝায়। একে ইউনিভার্সাল প্রোডাক্ট কোডও বলা হয়। দোকান থেকে বিক্রিত জিনিসের প্যাকেটের উপর বারকোডের সাহায্যে জিনিসের নাম, মূল্য ইত্যাদি লেখা থাকে। অতঃপর একটি কম্পিউটার বারকোড রিডারের সাহায্যে কোডটি পড়ে তা কোন সংখ্যা বোঝায়, তা জেনে নিতে পারে। কম্পিউটারের স্মৃতিতে প্রতিটি জিনিসের বারকোড নাম্বার ও দাম রক্ষিত থাকে। এ থেকে কম্পিউটার বিক্রিত জিনিসের নাম ও দাম রক্ষিত থাকে। এ থেকে কম্পিউটার বিক্রিত জিনিসের নাম ও দাম লিখে বিল তৈরি করে এবং সাথে সাথে বিক্রিত জিনিসের স্টক আপডেট করে।

আউটপুট ডিভাইস

ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে আমরা ডাটা এবং বিভিন্ন তথ্যকে কম্পিউটারে পাঠাতে পারি। আর কম্পিউটার সেটাকে প্রক্রিয়াকরণ বা মডিফাই করে আমাদের সামনে আনার জন্য যে মাধ্যম ব্যবহার করে সেটাই আউটপুট ডিভাইস। যেমনঃ মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্রোজেক্টর, প্লটার হেডফোন ইত্যাদি।

মনিটর
মনিটর এক ধরণের আউটপুট ডিভাইস যার মাধ্যমে টেলিভিশনের মতো লেখা বা ছবি দেখা যায়। মনিটর সাধারণত তিন ধরণের হয়ে থাকে-

১. সিআরটি মনিটর

২. এলসিডি মনিটর

৩. এলইডি মনিটর

সিআরটি মনিটরঃ CRT এর পূর্ণরূপ হলো Cathode Ray Tube. ক্যাথোড রে টিউবযুক্ত মনিটরকে সিআরটি মনিটর বলা হয়। টিউবের ভেতর দিকে ফসফর নামক এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থের প্রলেপ থাকে। সাদাকালো সিআরটি মনিটরে একটি ইলেকট্রন গান থাকে এবং রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ (লাল, সবুজ, আসমানি) প্রদর্শনের জন্য তিন ধরণের ইলেকট্রন গান থাকে। আকারে অপেক্ষকৃত বড় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেশী হওয়ায় মনিটরগুলোর ব্যবহার দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে।

এলসিডি মনিটরঃ LCD এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Liquid Crystal Display. কম্পিউটারে ব্যবহৃত এক ধরণের ডিসপ্লে ইউনিট। একে ফ্ল্যাট প্যানেল মনিটরও বলা হয়। ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল ঘড়ি, ল্যাপটপ কিংবা নোটবুকে এ ধরণের মনিটর ব্যবহৃত হয়।

এলইডি মনিটরঃ LED এর পূর্ণ রূপ হলো Light Emitting Diode. এটি LCD মনিটরের মতোই কাজ করে কিন্তু এর ব্যাকলাইট ভিন্ন ধরণের। LCD মনিটর অপেক্ষা ডিসপ্লে কোয়ালিটি ভালো মানের এবং বিদ্যুৎ খরচ ৪০% কম। তৈরি করার সময় LCD মনিটরের মতো মারকারি ব্যবহার করা হয় না বলে এটি বেশী পরিবেশবান্ধব।

ভিডিও কন্ট্রোলারঃ মনিটরের পর্দায় কোন ছবি, লেখা বা টেক্সট প্রদর্শনের জন্য কম্পিউটার একটি ইন্টারফেস ব্যবহার করে, যাকে ভিডিও কন্ট্রোলার বলা হয়। এটি প্রসেসর থেকে প্রাপ্ত সিগন্যাল যথাযথভাবে রুপান্তর করে প্রদর্শনের জন্য মনিটরে পাঠায়। নিচে কিছু জনপ্রিয় ভিডিও কন্ট্রোলারের নাম- VGA (Video Graphics Array), SVGA (Super Video Graphics Array), XGA (Extended Graphics Array) ইত্যাদি।

পিক্সেলঃ কম্পিউটারে তথ্য প্রদর্শনের ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে পিক্সেল। এই শব্দটি ইংরেজি Picture Element এর সংক্ষিপ্ত রূপ। পিক্সেল হচ্ছে ডেটা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মাধ্যমের ক্ষুদ্রতম এলাকা যার বর্ণ এবং উজ্জ্বলতা স্বতন্ত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

রেজুলেশনঃ ডিসপ্লে পর্দা বা স্ক্রিনে প্রদর্শিত ছবির সূক্ষ্মতাকে রেজুলেশন বলে। স্ক্রিনের প্রতি ইঞ্চিতে যত বেশী পিক্সেল থাকবে তত বেশী সূক্ষ্ম হবে।

রিফ্রেস রেটঃ রিফ্রেস রেট হল পিক্সেলের উজ্জ্বলতা ঠিক রাখার জন্য প্রতি সেকেন্ডে পিক্সেলগুলো কতবার রিচার্জ হয় তার সংখ্যা। Refresh Rate যত বেশী হবে ইমেজ স্ক্রিনে তত বেশী দৃঢ় দেখাবে। Refresh Rate কে হার্টজ এককে প্রকাশ করা হয়।

প্রিন্টার


যে যন্ত্রের সাহায্যে কম্পিউটারে প্রাপ্ত ফলাফল কাগজে ছাপানো যায়, তাকে প্রিন্টার বলা হয়। প্রিন্টারের মান কি রকম হবে তা নির্ভর করে প্রিন্টারের রেজুলেশনের উপর। প্রিন্টারের রেজুলেশন পরিমাপের একক DPI. DPI এর পূর্ণরূপ হল Dots Per Inch. কার্যপ্রণালী অনুসারে প্রিন্টারকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়-

১. ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার

২. নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার

১. ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারঃ যে প্রিন্টারে প্রিন্টহেড যে কাগজে ছাপা হয় তাকে স্পর্শ করে, তাকে ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার বলা হয়। ধীরগতি সম্পন্ন এ সকল প্রিন্টারের ছাপা সাধারণ মানের এবং প্রিন্ট এর সময় বিরক্তিকর শব্দ হয়। একে দু’ভাগে ভাগ করা হয়-

ক) লাইন প্রিন্টারঃ লাইন প্রিন্টারে প্রতিবারে একটি সম্পূর্ণ লাইন ছাপা হয়। এগুলো ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতির। লাইন প্রিন্টার প্রতি মিনিটে ২০০ থেকে ৩০০০ লাইন ছাপাতে পারে। লাইন প্রিন্টারকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়- চেইন প্রিন্টার ও ড্রাম প্রিন্টার।

খ) সিরিয়াল প্রিন্টারঃ সিরিয়াল প্রিন্টার টাইপ রাইটারের মতো একবারে মাত্র একটি বর্ণ ছাপা হয়। এগুলো ধীরগতি সম্পন্ন। সিরিয়াল প্রিন্টারকে দুইভাগে ভাগ করা হয়-

i) ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারঃ আয়তাকারে সাজানো কতকগুলো বিন্দুকে ডট ম্যাট্রিক্স বলে। যেমনঃ বিন্দুগুলো ৮টি সারি ও এবং ১২টি স্তম্ভে সাজানো থাকলে তাকে বলে ৮X১২ ডট ম্যাট্রিক্স। এই বিন্দুগুলোর মধ্যে কিছু বিন্দু নির্বাচন করে যে কোন বর্ণ ফুটিয়ে তোলা যায়। ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারে লেখার জন্য ছোট পিনে গ্রিড ব্যবহার করা হয়। অনেকগুলো পিনের মাথা রিবনের উপর আঘাত করে কাগজের উপর বিন্দু বসিয়ে অক্ষর তৈরি করা হয়। সাধারণত এই প্রিন্টারে ৭, ৯অথবা ২৪ পিন থাকে, যেগুলো লাইন বরাবর চলাচল করে বিন্দুর মাধ্যমে অক্ষর তৈরি করে। এ প্রিন্টারে ছাপা অক্ষর বা প্রতীক সূক্ষ্ম হয় না। এর গতি পরিমাপ একক cps (characters per second).

ii) ডেইজি হুইল প্রিন্টারঃ ডেইজি হুইল প্রিন্টারে একটি চ্যাপ্টা চাকার সঙ্গে সাইকেলের স্পোকের মতো অনেকগুলো স্পোক লাগানো থাকে। প্রতিটি স্পোকের মাথায় একটি বর্ণ এমবস করা থাকে। স্পোকগুলোসহ চাকাকে একটি ডেইজি ফুলের মতো দেখতে বলে এর এই নাম।

২. নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারঃ যে প্রিন্টারে প্রিন্টহেড যে কাগজে ছাপা হয় তাকে স্পর্শ করেনা তাকে নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্তার বলা হয়। উচ্চগতিসম্পন্ন এ সকল প্রিন্টারের ছাপা উচ্চমানের এবং প্রিন্ট এর সময় কোন বিরক্তিকর শব্দ হয় না। যেমনঃ ইংকজেট প্রিন্টার, লেজার প্রিন্টার ইত্যাদি

ইঙ্কজেট প্রিন্টারঃ ইঙ্কজেট প্রিন্টারে কতগুলো নোজল দিয়ে বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত তরল কালি কাগজের দিকে স্প্রে করা হয়। একটি তড়িৎক্ষেত্র এ চার্জযুক্ত কালির সূক্ষ্মকণাগুলোকে ঠিকমতো সাজিয়ে দিয়ে কাগজের উপর কোন বর্ণ ফুটিয়ে তোলে। যেমনঃ Cannon Bubble jet, HP Deskjet, Epson Stylus ইত্যাদি।

লেজার প্রিন্টারঃ লেজার প্রিন্টারে লেজার রশ্মির সাহায্যে কাগজে লেখা ফুটিয়ে তোলা হয়। লেজার প্রিন্টার মুদ্রণের জন্য লেজার রশ্মি একটি আলোক সংবেদনশীল ড্রামের উপর মুদ্রণযোগ্য বিষয়ের ছাপা তৈরি করে। তখন লেজার রশ্মির প্রক্ষেপিত অংশ টোনার আকর্ষণ করে। কাগজের উপর পতিত টোনার উচ্চতাপে গলে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসে যায়।এভাবে লেজার প্রিন্টারে মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন হয়। একে পেজ প্রিন্টারও বলা হয়। যেমনঃ HP Laserjet, Samsung ML-2010, Canon LBP 3500 ইত্যাদি।

মেমোরির ধারণক্ষমতা এবং প্রধান মেমোরি

মেমোরির ধারণক্ষমতাঃ কম্পিউটার মেমোরিতে ডেটা সংরক্ষণের পরিমাণকে মেমোরির ধারণক্ষমতা বলে। একে প্রকাশ করা হয় বাইট, কিলোবাইট, মেগাবাইট, গিগাবাইট ইত্যাদি দ্বারা।

১ বাইট = ৮ বিট

১ কিলোবাইট = ২১০ বাইট বা ১০২৪ বাইট

১ মেগাবাইট = ২২০ বাইট বা ১০২৪ কিলোবাইট

১ গিগাবাইট = ২৩০ বাইট বা ১০২৪ মেগাবাইট

১ টেরাবাইট = ২৪০ বাইট বা ১০২৪ গিগাবাইট

১ পিটাবাইট = ২৫০  বাইট বা ১০২৪ টেরাবাইট

প্রধান মেমোরি এবং তার প্রকারভেদঃ  যে মেমোরি সিপিইউ এর গাণিতিক ও যুক্তি অংশের সাথে সংযুক্ত তাকে প্রধান মেমোরি (Main Memory) বলা হয়। প্রধান মেমোরিকে প্রাথমিক মেমোরি (Primary Memory হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারে অর্ধপরিবাহী মেমোরি (Semiconductor Memory) ব্যবহার করা হয়। অর্ধপরিবাহী পদার্থ দিয়ে তৈরি বলেই একে অর্ধপরিবাহী মেমোরি বলা হয়। বহুল ব্যবহৃত এ অর্ধপরিবাহী মেমোরি দুইপ্রকার- র‍্যাম (Random Access Memory) এবং রম (Read Only Memory).

র‍্যাম
মাদারবোর্ডের সাথে সরাসরি সংযুক্ত যে মেমরিতে Read এবং Write দুটি কাজই সম্পন্ন করা যায়, সে মেমোরিকে RAM (Random Access Memory) বলা হয়। এটি একটি অস্থায়ী মেমোরি। কম্পিউটারে যতক্ষণ বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু থাকে , ততক্ষণ র‍্যামে তথ্যসমূহ সংরক্ষিত থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে র‍্যাম তার সমস্ত তথ্য মুছে ফেলে। এজন্য র‍্যামকে কম্পিউটারের অস্থায়ী (Volatile) মেমোরিও বলা হয়। এছাড়া র‍্যামকে মেইন স্টোরেজ (Main Sotrage) এবং কোর স্টোরেজ (Core Storage) হিসেবেও অভিহিত করা হয়। র‍্যাম হচ্ছে কম্পিউটারের কর্ম এলাকা। মাইক্রোপ্রসেসর প্রাথমিকভাবে র‍্যাম এলাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য জমা করে। মাইক্রোপ্রসেসর সরাসরি র‍্যামের জন্য জানা অবস্থান বা ঠিকানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বা তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। এখানে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের জন্য যাওয়া যায় বলে একে Random Access Memory বলা হয়।

রম
ROM (Read Only Memory) স্থায়ী প্রকৃতির প্রধান মেমোরি। রমের স্মৃতিতে রক্ষিত তথ্যসমূহ কেবল ব্যবহার করা যায় কিন্তু সংযোজন, সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায় না। তাই একে Read Only Memory বলা হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে রমে রক্ষিত তথ্য মুছে যায় না।

রমের প্রকারভেদঃ

ক) এমরম (MROM= Mask Read Only Memory)

খ) পিরম বা প্রম (PROM= Progammable Read Only Memory)

গ) ইপ্রম (EPROM= Eraseable Programmable Read Only Memory)

ঘ) ইইপ্রম (EEPROM= Electrically Eraseable PROM)

ঙ) ইএপ্রম (EAPROM= Electrically Alterable PROM)

সফটওয়্যার

কম্পিউটারের যেসকল অংশের কোনো ধরণের Material ফর্ম ফ্যাক্টর নেই তাদেরকে সফটওয়্যার বলা হয়। যেমন প্রোগ্রাম, ডাটা, প্রটোকল ইত্যাদি। সফটওয়্যারের ভেতর Encoded তথ্য বা Computer Instructions দেওয়া থাকে। কম্পিউটার সফটওয়্যারের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার প্রোগ্রাম, লাইব্রেরি এবং non-executable ডাটা যেমন অনলাইন ডকুমেন্টেশন / ডিজিটাল মিডিয়া।
আমরা সফটওয়্যারকে সাধারণত দুই প্রকারে চিনে থাকি। একটি হচ্ছে সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অপর টি হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

তবে সিস্টেম সফটওয়্যার আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দুটোরই দরকার রয়েছে, শুধুমাত্র একটি নিয়ে আপনি কম্পিউটারে কিছুই করতে পারবেন না। সফটওয়্যারের আরেকটি ভাগ রয়েছে যার নাম Firmware । যখন হার্ডওয়ারের মধ্যে সফটওয়্যার স্টোর করা থাকে এবং সহজভাবে একে মডিফাই করা যায় না সেটাকে Firmware বলে। যেমন BIOS ROM ।

সফটওয়্যার প্রধানতঃ ৩ প্রকারঃ-

১. সিস্টেম সফটওয়্যার

কম্পিউটারের কোর (Core) অংশকে পরিচালনা এবং ম্যানেজ করার জন্য সে সকল জটিল সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয় সেগুলো সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। সাধারণত সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটর ছাড়া এগুলোতে এডিটিং করা সম্ভব হয় না।

২. প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার

প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার হল একধরণের কম্পিউটার প্রোগ্রাম অথবা এ্যাপ্লিকেশন যা সফটওয়্যার নিমার্তারা  ব্যবহার করে থাকেন কোনো সফটওয়্যার তৈরি, ডিবাগ, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ অথবা অন্য প্রোগ্রাম বা এপ্লিকেশনগুলোকে সহযোগিতা করতে।

৩. এপ্লিকেশন সফটওয়্যার

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরী করা হয় ব্যবহারকরীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য। এপ্লিকেশন সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেম, ইউটিলিটি সফটওয়্যার, এবং একটি প্রোগ্রামিং ভাষা সফটওয়্যার থেকে ভিন্ন। এটি যে কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে এটা লেখা, সংখ্যা, ছবি অথবা এই সবগুলোর সমন্বয়ে হতে পারে। কিছু কিছু এপ্লিকেশন প্যাকেজ কম্পিউটারের একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য হতে পারে যা সবাই ব্যবহার করে একই উদ্দেশ্য এবং এটি শুধু একটি সুবিধা বা উদ্দেশ্যের উপর জোর দেয় যেমন ওয়ার্ড প্রসেসিং |

কম্পিউটার প্রোগ্রামিংঃ

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (ইংরেজি: Computer programming) হলো কিছু লিখিত নির্দেশ যা অনুযায়ী একটি কম্পিউটার কাজ করে। প্রোগ্রামের লিখিত রূপটিকে সোর্স কোড বলা হয়। যিনি সোর্স কোড লিখেন তাকে প্রোগ্রামার, কোডার বা ডেভেলপার বলা হয়। যেকোন বই যেমন একটি ভাষাতে যেমন ইংরেজি, রুশ, জাপানি, বাংলা, ইত্যাদিতে লেখা হয়, তেমনি প্রতিটি প্রোগ্রাম কোন একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষাতে লেখা হয়,যেমন সি++,জাভা ইত্যাদি। প্রোগ্রাম রচনা করার সময় প্রোগ্রামারকে ঐ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষার সিনট্যাক্স বা ব্যাকরণ মেনে চলতে হয়।

প্রোগ্রামিং এর ধাপগুলো যেকোন সমস্যা সমাধানের ধাপগুলোর মতোই। প্রধান ধাপগুলো হলোঃ

  • সমস্যাকে সংজ্ঞায়িত করা
  • সমাধান তৈরি করা
  • সমাধানকে প্রোগ্রামিং ভাষায় সোর্সকোড হিসাবে লেখা
  • প্রোগ্রামকে পরীক্ষা করে দেখা
  • ডকুমেন্টেশন তৈরি করা

প্রোগ্রামিং ভাষা (ইংরেজি ভাষায়: programming language) হচ্ছে এক ধরনের কৃত্রিম ভাষা (artificial language) যা কোন যন্ত্রের, বিশেষ করে কম্পিউটারের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। মানুষের মুখের স্বাভাবিক ভাষাগুলোর মত প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোও বাক্যতাত্ত্বিক (syntactic বা বাক্যস্থিত বিভিন্ন পদের মধ্যে সম্পর্ক কী হবে সে-সংক্রান্ত) ও আর্থ (semantic বা শব্দের অর্থসংক্রান্ত) নিয়ম মেনে চলে।

পিসিতে তথ্য সুবিন্যস্তকরণ ও প্রক্রিয়াকরণে এবং অ্যালগোরিদমসমূহ নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতে প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো সরল ধরনের কৃত্রিম ভাষাগুলোকে প্রোগ্রামিং ভাষা না বলে ‘কম্পিউটার ভাষা (computer language) বলা হয়।

এ পর্যন্ত বহু হাজার প্রোগ্রামিং ভাষা সৃষ্টি করা হয়েছে, এবং প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করা হচ্ছে। যেমন,

১) ১ম প্রজন্মের ভাষা (১৯৪৫) ঃ যান্ত্রিক ভাষা (নিম্নস্তরের ভাষা)

২) ২য় প্রজন্মের ভাষা (১৯৫০) ঃ এসেম্বলি ভাষা (নিম্নস্তরের ভাষা)

৩) ৩য় প্রজন্মের ভাষা (১৯৬০) ঃ উচ্চতর ভাষা

৪) ৪র্থ প্রজন্মের ভাষা (১৯৭০) ঃ অতি উচ্চতর ভাষা

৫) ৫ম প্রজন্মের ভাষা (১৯৮০) ঃ স্বাভাবিক ভাষা

ফায়ারওয়াল

বাইরের আক্রমণ থেকে এক বা একাধিক কম্পিউটার কে রক্ষা করার জন্য হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার এর সমন্নিত একটি সিস্টেম হচ্ছে FIREWALL। ফায়ারওয়াল এর সবচেয়ে বহুল ব্যবহার লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর ক্ষেত্রে। তথ্য নিরাপত্তা রক্ষাও এর কাজের অংশ। ফায়ার ওয়াল হল এক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডাটা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দুই নেটওয়ার্কের মাঝে এই ফায়ারওয়াল থাকে। যাতে এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে কোন ডাটা পরিবাহিত হলে সেটিকে অবশ্যই ফায়ারওয়াল অতিক্রম করতে হয়। ফায়ারওয়াল তার নিয়ম অনুসারে সেই ডাটা নিরীক্ষা করে দেখে এবং যদি দেখে যে সে ডাটা ওই গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি আছে তাহলে সেটিকে যেতে দেয়। আর তা না হলে সেটিকে ওখানেই আটকে রাখে বা মুছে দেয়।

ইন্টারনেট

ইন্টারনেট সম্পর্কে বর্তমানে জানেন না এমন কোনো লোকই পাওয়া যাবে না! ইন্টারনেট হচ্ছে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নেটওর্য়াকের একটি Interconnected সিস্টেম ব্যবস্থা যেটা Internet Protocol Suite ব্যবহার করে একে অপরের সাথে নেটওর্য়াক এবং ডিভাইসের সাথে কানেক্টশন আদান প্রদান করতে পারে। ১৯৬০ দশকে US Department of Defense কম্পিউটারদের মধ্যে Time Sharing এনেবল করার জন্য Packet Switching পদ্ধতিটি আবিস্কার করে। পরে ১৯৭০ এর দশকে আঞ্চলিক একাডেমিক এবং মিলিটারি নেটওর্য়াকস দের কে ইন্টারকানেক্ট করার জন্য ARPANET বেশ ভূমিকা রেখে ছিলো। মর্ডান ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয় ৯০ এর দশকে।

তখনকার সময়ের অনেক ট্রাডিশনাল কমিউনিকেশন মিডিয়া যেমন টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, পেপার মেইল, নিউজপেপার এগুলোর অধিকাংশই ইন্টারনেটের কারণে তাদের আদি পরিচালনা পন্থা পরিবর্তন করতে হয়েছে। পরিবর্তনের ছোঁয়ায় এখন ইমেইল, ইন্টারনেট ফোন, ইন্টারনেট টেলিভিশন, অনলাইন মিউজিক, ডিজিটাল নিউজপেপার, ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট, ই বুক ইত্যাদিতে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংঃ

ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম করা হয় তাকেই ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং বলে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট-এ যুক্ত হয়ে ব্যাংকের নির্দিষ্ট সুরক্ষিত ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার ব্যাংক একাউন্টে প্রবেশ করে। একাউন্টে প্রবেশের জন্য ব্যাংক গ্রাহককে প্রয়োজনীয় তথ্য (সাধারণত: একটি আইডি ও পাসওয়ার্ড) সরবরাহ করে। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল ব্যাংকি কার্যক্রম করা যায় না। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা দিন দিন কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুবিধাঃ

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারের ফলে একজন গ্রাহক নিম্মোক্ত সুবিধাগুলো পেতে পারেন:

  • ২৪ ঘন্টা, ৩৬৫ দিন একাউন্টে প্রবেশের সুবিধা
  • হিসাবের ব্যালেন্স অনুসন্ধান
  • এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর

(বাংলাদেশে এখনও অন্য ব্যাংকের হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা নেই। অথ্যাৎ এটি শুধু একই ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে, ভারতে এই সুযোগ সুবিধা NEFT এবং RTGS-এর মাধ্যমে পাওয়া যায়।)

  • নিজের একাধিক হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর
  • ইউটিলিটি বিল পরিশোধ (যেমন: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট ইত্যাদি)
  • সুদের হার অনুসন্ধান, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনুসন্ধান
  • হিসাবের রিপোর্ট অনুসন্ধান
  • চেক বই এর জন্য অণুরোধ
  • চেক এর পেমেন্ট বাতিল করা
  • বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিম খোলা ইত্যাদি।

বি:দ্র: ব্যাংক ভেদে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধার কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিংঃ

বাংলাদেশে যে সমস্ত ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা দেয় এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

  • ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
  • ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড
  • ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড
  • ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
  • প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড
  • ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড

মাইক্রোসফট

কম্পিউটারের ইতিহাস নিয়ে কথা বললে এমনিতেই মাইক্রোসফটের নাম চলে আসে। মাইক্রোসফট না থাকলে বর্তমানে আমরা এত সহজ পদ্ধতিতে কম্পিউটার অপারেট করতে পারতাম না। মাইক্রোসফট করপোরেশন হচ্ছে একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানি যেটা কম্পিউটার সফটওয়্যার, কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্স, পারসোনাল কম্পিউটার ইত্যাদিকে ডেভেলপ, মেন্যুফেকচার, লাইসেন্স , সার্পোটস এবং বিক্রি করে থাকে। মাইক্রোসফটের হেডকোয়াটার আমেরিকার ওয়াশিংটনের Redmond অঞ্চলে অবস্থিত। মূলত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, মাইক্রোসফট অফিস স্যুট এগুলোর জন্য মাইক্রোসফট বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয়। ২০১৬ সালে বিশ্বের সবথেকে বেশি মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এই মাইক্রোসফট।
মাইক্রোসফট কথাটি মাইক্রোকম্পিউটার সফটওয়্যার থেকে এসেছে। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল Bill Gates এবং Paul Allen মাইক্রেসফটকে প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত Altair 8800 কম্পিউটারের জন্য BASIC Interpreters বিক্রির জন্য এই কোম্পানিটি গঠিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে ৮০ দশকে তাদের MS-DOS অপারেটিং সিস্টেমের কারণে কোম্পানিটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। আর মাইক্রোসফট উইন্ডোজের কথা তো আমরা জানিই!

বর্তমানে মাইক্রোসফট করপোরেশনে ৩ জন Billionaires এবং প্রায় ১২ হাজারের মতো Millionaires কর্মী রয়েছেন। কোম্পানির সবথেকে বড় Acquisiton হচ্ছে ২০১৬ সালে ২.৬২ বিলিয়ন ডলার দিয়ে Linkedin এবং ২০১১ সালে ৮.৬ বিলিয়ন দিয়ে Skype Technologies কে কিনে নেওয়া।

মাইক্রোসফটের সবথেকে বড় ব্যবসাক্ষেত্র হচ্ছে পিসি অপারেটিং সিস্টেম মার্কেট এবং অফিস সফটওয়্যার স্যুট মার্কেট। তবে যদিও ওভারঅল অপারেটিং সিস্টেম র‌্যাংকিংয়ে অ্যান্ড্রয়েডের কাছে হেরে গিয়েছে মাইক্রোসফট। ২০০০ সালে Devices and Service স্ট্রাটেজি হিসেবে Bill Gates কোম্পানির CEO পদ থেকে সরে আসেন এবং তার স্থানে Steve Ballmer সিইও হন। উনার হাত ধরেই কোম্পানিটি ২০০৮ সালে Danger Inc কে কিনে নেই এবং তাদের রিসোর্সের কারণেই মাইক্রোসফট ২০১২ সালে Microsoft Surface ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে বাজারের পারসোনাল কম্পিউটার প্রডাক্টশনের প্রতিযোগীতায় নামতে পারে। পরবর্তীতে নকিয়াকে কিনে নিয়ে কোম্পানিটি মোবাইল বিজনেসেও নেমেছিল। তবে ২০১৪ সালে Satna Nadella কে সিইও তে বসানোর পর কোম্পানিটি আবারো তাদের হার্ডওয়্যার বিজনেসে চলে আসে এবং পুরোপুরি ক্লাউড কম্পিউটিং ক্ষেত্রে ফোকাস দেয়।

অ্যাপল

মাইক্রোসফটের কথা বলার পর অ্যাপলের সম্পর্কে কিছু না বললে যেকোনো পোষ্টই অধুরা রয়ে যাবে। আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়া অঞ্চলে অবস্থিত Apple Inc হচ্ছে একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানি যারা কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্স, কম্পিউটার সফটওয়ার এবং অনলাইন সার্ভিস ডিজাইন, ডেভেলপ এবং বিক্রি করে থাকে। বিশ্বের সবথেকে বড় ৫টি টেক কোম্পানির অন্যতম একটি হচ্ছে এই অ্যাপল, লিস্টে বাকিরা হচ্ছেন আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং ফেসবুক।
অ্যাপল মূলত তাদের আইফোন স্মার্টফোনের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত। এছাড়াও তারা আইপ্যাড ট্যাবলেট কম্পিউটার, ম্যাক পিসি, আইপড পোর্টেবল মিডিয়া প্লেয়ার, অ্যাপল ওয়াচ স্মার্টওয়াচ, আ্যাপল টিভি ডিজিটাল মিডিয়া প্লেয়ার, এয়ারপডস ওয়্যারলেস Earbuds এবং হোমপড স্মার্ট স্পিকারেরও ব্যবসা করে থাকে।
সফটওয়্যারের সাইডে কোম্পানির রয়েছে ম্যাকওএস, আইওএস, আইপ্যাড ওএস, ওয়াচ ওএস এবং টিভি ওএস অপারেটিং সিস্টেম। আইটিউনস মিডিয়া প্লেয়ার, সাফারি ওয়েব ব্রাউজার, সাজাম মিউজিক আইডেন্টিফায়ার সহ আইলাইফ, আইওয়ার্ক ইত্যাদি রয়েছে। অনলাইন সার্ভিসের মধ্যে কোম্পানিটি আইটিউনস স্টোর, আইওএস অ্যাপ স্টোর, ম্যাক অ্যাপ স্টোর, অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি+ , আইম্যাসেজ এবং আইক্লাউড রয়েছে।

1976 সালে Steve Jobs, Steve Wozniak এবং Ronald Wayne তিনজন মিলে অ্যাপলকে প্রতিষ্ঠা করে। তখন তারা Apple I পিসিকে বিক্রি করার চেষ্টা করছিলো। মজার ব্যাপার হলো প্রতিষ্ঠা হবার মাত্র ১২ দিন পরেই Ronald Wayne কোম্পানি ছেড়ে চলে যান। অবশ্য এ ব্যাপারে Steve Wozniak বলেছেন যে তিনি কয়েক মাস পর চলে যান। Ronald Wayne অ্যাপলের প্রথম লোগোটি ডিজাইন করেছিলেন এবং Apple I এর ম্যানুয়াল তিনিই লিখেছিলেন। ১৯৭৭ সালে Apple নিজেকে Apple Computer Inc হিসেবে প্রকাশিত করে এবং Apple II পিসিটি বেশ জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৯৮০ সালে এটি একটি পাবলিক কোম্পানিটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৯০ দশক পর্যন্ত জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার পর ইন্টেল হার্ডওয়্যার দিয়ে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের কমমূলের পিসির কাছে অ্যাপল প্রতিযোগীতায় মার খেতে থাকে।
পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে স্টিভ জবস iMac রিলিজ করে ২০০১ সালের মধ্যে কোম্পানি আগের মতো মুনাফাজনক অবস্থানে নিয়ে আসতে পারেন। ২০০৭ সালে স্টিভ জবস কোম্পানিকে Apple Inc নামকরণ করেন। তারপর তাদের কোম্পানির সবথেকে বড় পণ্য আইফোনকে রিলিজ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের আগষ্ট মাসে শারীরিক অসুস্থতার কারণে জবস কোম্পানির CEO পদ থেকে সরে আসেন এবং তার স্থানে Tim Cook সিইও হন। এর দুই মাস পর স্টিভ জবস মৃত্যুবরণ করে কোম্পানির একটি Era বন্ধ করে দিয়ে যান।
বর্তমানে বিশ্বের ৩য় নাম্বার মোবাইল ম্যানুফেক্চার কোম্পানি হিসেবে অ্যাপলের র‌্যাঙ্কিং রয়েছে, স্যামসং এবং Huawei এর পর। অ্যাপলের ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি ফুল টাইম কর্মী রয়েছে, ২৫ টি দেশের ৫১০টি রিটেইল স্টোর এর মেইনটেইন করে থাকে।

কম্পিউটার ভাইরাস

আজকের পোষ্টটি শেষ করছি কম্পিউটার ভাইরাস দিয়ে। প্রায় সবাই ভাইরাস, ট্রোজান হর্স, ওর্ম, রুটকিট, ম্যালওয়ার, স্পাইওয়ার ইত্যাদির কথা শুনে থাকবেন, এগুলোকে এক কথায় ভাইরাস বলে সবাই বুঝে থাকেন।  আপনার কম্পিউটার যখন অন্য রকম আচরণ করতে থাকে তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনি ভাববেন যে আপনার সখের পিসিটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন ভাইরাস তো অনেক রকমের আছে, যদি আপনি ভাইরাসের প্রকারভেদ জানতে পারেন তাহলে এদের থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন এবং আরো দ্রুত পিসিকে সাড়িয়ে তুলতে পারবেন।

ভাইরাস এক ধরণের প্রোগ্রাম যা অন্য কোনো প্রোগ্রামে (Executable File) ঢুকে তাকে আক্রান্ত করে এবং এক পিসি থেকে অন্য পিসিতে নিজেকে প্রসারিত করে। তবে এক পিসি থেকে অন্য পিসিতে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য ৯৮% ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই দায়ী। ভাইরাস পিসি প্রোগ্রাম থেকে ডাটা ফাইল এমনকি হার্ডডিক্সের বুট সেক্টরেও লুকিয়ে থাকতে সক্ষম। ভাইরাস সাধারণত হার্ডডিক্সের জায়গা দখল করে হার্ডডিক্সের জায়গা ভরে দেয়, সিপিইউ টাইমে ওলট-পালট করে, প্রাইভেট তথ্য চুরি, ডাটা করাপ্ট করা সহ পিসির পর্দায় হাস্যকর কিংবা অদ্ভুত বার্তা প্রদর্শন করতে পারে। তবে সব ভাইরাসই পিসির ক্ষতি করে না এবং সব ভাইরাস নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে না। দুনিয়ার ৯৯% ভাইরাস মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে রয়েছে, মানে উইন্ডোজেই ভাইরাস আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি। কেন হয় তা নিয়ে আরেকটি পোষ্ট দিবো। ভাইরাসের কারণে সিস্টেম ফেইলিয়ার, পিসি রির্সোস নষ্ট, ডাটা নষ্ট, পিসি নিয়ন্ত্রণ খরচাবলি বৃদ্ধি ইত্যাদি জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ভাইরাসকে দমন করতে বহু ফ্রি এবং ওপেন সোর্সের এন্টিভাইরাস যেমন তৈরি হচ্ছে তেমনি লাখ লাখ টাকার এন্টিভাইরাস কোম্পানিও তৈরি হচ্ছে। তবে দুঃখের কথা এই যে, আজ পর্যন্ত একটিও এন্টিভাইরাস তৈরি হয়নি যা আপনাকে সর্ম্পূণভাবে ভাইরাস থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে।

এক ধরণের ভাইরাস রয়েছে যার নাম রেসিডেন্ট ভাইরাস। এটি একবার আপনার পিসিতে ঢুকে গেলে সর্বনাশ! এটি আপনার অপারেটিং সিস্টেমে প্রথমে প্রবেশ করে এবং অপারেটিং সিস্টেম মুছে দিলেও এটি র‌্যামের মধ্যে থেকে যায়! জনপ্রিয় ভাইরাসের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ম্যাক্রো ভাইরাস। এটি ওর্য়াড ফাইল, পিডিএফ ফাইল ইত্যাদির মধ্যে ম্যাক্রো ভাষায় লেখা থাকে। আর তাই, ম্যাক্রো ভাইরাস আক্রান্ত ফাইলটি ওপেন করলেই . . .  .! একে অনেকেই ডকুমেন্ট ভাইরাস বলে থাকেন।

কম্পিউটারের পরিভাষায় ভাইরাস (Virus) শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় ’’ভাইটাল ইনফরমেশন রিসোর্স আন্ডার সিজ’’ বা Vital Information Resources UnderSeize = VIRUS. অথ্যার্ৎ গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রখ্যাত গবেষক প্রেড কোহেন ভাইরাস এর নামকরণ করেন। আবার অনেকেই VIRUS কে Very Important Resource under Seize নামেও অভিহিত করে থাকেন।

কম্পিউটার ভাইরাসের শ্রেণীবিভাগ

ভাইরাসের শ্রেণীবিভাগ করা খুবই কঠিন। কারণ প্রায় প্রতিদিনই কিছু অসাধূ প্রোগ্রামারদের দ্বারা নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে। তারপর ও আমি ভাইরাস কে ১৫টি শ্রেণীবিভাগ করতে পেরেছিঃ

১। ট্রোজান হর্স ভাইরাস

২। প্রোগ্রাম ভাইরাস

৩। কমান্ড পারপাস ভাইরাস

৪। জেনারেল পারপাস ভাইরাস

৫। ম্যাক্রো ভাইরাস

৬। কমপেনিয়ন ভাইরাস

৭। ওভার রাইটিং ভাইরাস

৮। মাল্টিপারশিয়েট ভাইরাস

৯। ফাইল ভাইরাস

১০। বুট সেক্টর ভাইরাস

১১। পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস

১২। মেমোরি রেসিডেন্ট ভাইরাস

১৩। স্টিলথ ভাইরাস

১৪। ফ্ল্যাশ ভাইরাস

১৫। কাস্টম ভাইরাস (দুনিয়ায় যত নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে)

ম্যাক্রো ভাইরাসঃ এটি একটি সাধারণ শ্রেণীর ভাইরাস যা ডাটা ফাইলকে আক্রমণ করে। এই ভাইরাস তৈরি করা খুবই সহজ। এই ভাইরাস মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ফাইল সমূহে আক্রমণ করে বেশি। বর্তমান সময়ে এই ধরণের ভাইরাস প্রায়ই দেখা যায়। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ওর্য়াড ফাইলটি চালু করলে কিছু আজেবাজে লেখা দেখা যায় মূল ফাইলের সংরক্ষিত লেখা সমূহের বদলে।

বুট সেক্টর ভাইরাসঃ এটির নাম দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে এটি কি ধরণের ভাইরাস এবং এটির কাজ কি। এক জাতীয় ভাইরাস সরসরী কম্পিউটারের বুট সেক্টর নিজেদের কোড দ্বারা পরিবর্তন করে এবং অপারেটিং সিষ্টেমের একটি অংশ হয়ে যায়!। এগুলো মেমোরীতে নিজেদের স্থাপন করে। এরপর বুট সেক্টরকে ডিস্কের অন্য স্থানে সরিয়ে রেখে নিজের কোড দিয়ে বুট সেক্টরকে প্রতিস্থাপন করে। এ জাতীয় ভাইরাস কম্পিউটারের বুটিং সিস্টেম ধ্বংস করে দেয়।

ফাইল ভাইরাসঃ এই ভাইরাসটি অতি “জনপ্রিয়!”। মানে প্রায় সব পিসিতে এই ভাইরাস প্রায়ই দেখা যায়। এই ভাইরাস এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম ফাইলসমুহকে আক্রমণ এবং এক্সটেনশন যুক্ত ফাইলসমুহকে আক্রান্ত করে । আক্রান্ত প্রোগ্রাম রান করলে প্রথমে ভাইরাস রান করে অরিজিনাল প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরে প্রতিলিপি তৈরি করার জন্য এর কোডকে অন্য ফাইল এ কপি করে।

প্রোগ্রাম ভাইরাসঃ এইসব ভাইরাস তাদের ভাইরাস কোড এক্সিকিউটেবল ফাইলের প্রথমে বা শেষে যুক্ত করে এবং মূল প্রোগ্রামের কোন বিশেষ অংশকে নিজস্ব কোড দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে।

ওভার রাইটিং ভাইরাসঃ এই ভাইরাসটি আক্রান্ত ফাইলগুলোকে তার নিজস্ব কোড দ্বারা ওভার রাইট করে এতে ওই প্রোগ্রামের আর কোন কাজ থাকে না । মানে আক্রান্ত প্রোগ্রামটি নষ্ট হয়ে যায়।

কম্প্যানিয়ন ভাইরাসঃ এই ভাইরাসটি কম্পিউটারের .exe এক্সটানশান যুক্ত ফাইলকে .com এক্সটানশান এ রুপান্তর করে ফাইলটি কে নষ্ট করে ফেলে।

ট্রোজান হর্স ভাইরাসঃ গ্রীক এর পুরান ট্রোজান ঘোড়ার নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়। এটি আসলে খুবই মারাক্তক ভাইরাস যদিও উপকারের মত ভান করে । এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোন প্রোগ্রাম চালু করলে কম্পিউটারে ডিস্ক বা ফাইল নষ্ট হতে পারে। এই ভাইরাস প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আক্রান্ত পিসিকে একটি ফলাফলের দিকে ধাবিত করা। যেমন : হঠাৎ কোনো ফাইল বা ড্রাইভ ডিলেট হয়ে যায়। আবার কখনও সমস্ত হার্ডডিস্ক নিজে নিজে ফরমেট হয়ে যায়। ট্রোজান হর্স ভাইরাস বর্তমানে যেকোন গেমের ট্রেইনার ফাইল সমুহে বেশি দেখা যাচ্ছে।

পার্টিশন সেক্টর ভাইরাসঃ এই ভাইরাস এর কাজ হল আক্রান্ত পিসির পার্টিশন গুলো ভেঙ্গে দেওয়া । মনে করুন আপনার পিসিতে অডিও এবং ভিডিও নামের দুটি পার্টিশন আছে। এখন আপনার পিসিতে যদি পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস আক্রমণ করে তবে সেই অডিও এবং ভিডিও পার্টিশনগুলো ভেঙে একটি পার্টিশনে রুপ নেবে। ছেঁড়াভেড়া অবস্থা!

কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানোর কারণ

কম্পিউটারে ভাইরাস সাধারণ বাইরের এক্সটারনাল ডিস্ক ব্যবহারের কারণে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়ায়। তাছাড়াও আরো অনেক উৎস আছে। যেমনঃ

১। বাইরের হার্ডডিস্ক, সিডি, ডিভিডি, ফ্ল্যাশ ডিক্স, পেনড্রাইভ বা অন্য কোন ডিস্কের মাধ্যমে প্রোগ্রাম ডাটা আদান-প্রদানের সময়।

২। ইন্টারনেট ও ই-মেইল ব্যবহারের অসতর্কতায়।

৩। নেটওয়ার্ক সিস্টেমের এক কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের অথবা সার্ভারের প্রোগ্রাম / ডাটা আদান-প্রদান এর মাধ্যমে।

৪। পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত পিসির লক্ষ্যণসমূহ

অন্যান্য রোগ বালাইয়ের মতো পিসিতে ভাইরাস সংক্রমণেরও নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ রয়েছে। পিসির সাথে ঘনিষ্ট একজন ব্যবহারকারী অনুভব করতে পারে কখন পিসিটি সুস্থ ভাবে কাজ করছে না। সাধারণ একটি ভাইরাস আক্রান্ত পিসিতে যেসব লক্ষণ অনুভব করা যায় তা হলঃ

১। কম্পিউটার চালু হতে আগের চেয়ে বেশি সময় নেওয়া।

২। exe ফাইলের আকার অনেক বেড়ে যাওয়া।

৩। হঠাৎ করে ফাইল উধাও হয়ে যাওয়া অথবা নাম পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া।

৪। ড্রাইভের নাম পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া।

৫। ফাইলের কিছু অংশে অবাঞ্চিত চিহ্ন বা বার্তা দেখা।

৬। পর্দায় অদ্ভুত বা হাস্যকর বার্তা বা চিত্র পরিলক্ষিত হওয়া।

৭। অস্বাভাবিক এরর সংকেত প্রদর্শিত হওয়া।

৮। পর্দায় অপ্রত্যাশিত শব্দ শোনা বা ছবি দেখতে পাওয়া।

৯। সিস্টেমের সময় ও তারিখ পরিবর্তিত হওয়া।

১০। ডিস্কে ব্যাড সেক্টর বেড়ে যাওয়া। কারণ কিছু কিছু ভাইরাস নিজেদেরকে লুকানোর জন্য তাদের অবস্থানকে ব্যাড সেক্টর হিসেবে মার্ক করে দেয় যাতে অপারেটিং সিষ্টেম অথবা অন্য কোন প্রোগ্রাম সেখানে ঢুকতে না পারে।

১১। সাধারণ কাজেও ডিস্ক একসেস সময় বেড়ে যাওয়া। (যেমন কোন ফাইল কপি-পেষ্ট করতে সময় বেশি লাগা)

১২। ফাইল সেভ এবং প্রিন্ট করতে অনেক সময় নেওয়া

১৩। মেমোরির সাইজ কমিয়ে কোন প্রোগ্রাম চালনা ব্যাহত করা। যেমনঃ Out of Memory / Insufficient Memory বার্তা প্রদর্শিত হওয়া।

১৪। কম্পিউটার এর কার্যকম ক্রমশ ধীর / স্লো হয়ে যাওয়া।

১৫। প্রোগ্রামের বিভিন্ন মেনু, অপশন, লিস্ট ইত্যাদি অংশগুলো স্বাভাবিক অবস্থার মতো আর খুঁজে না পাওয়া।

১৬। কাজের মাঝখানে হঠাৎ করে কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যাওয়া বা রিষ্টার্ট নেওয়া।

১৭। কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন ফোল্ডারের নামে উক্ত ফোল্ডারের মধ্যে ফোল্ডারের নাম সহ শেষে একটি .exe এক্সটেশনযুক্ত ফোল্ডার পাওয়া।

১৮। ইমেজ ফাইলসমূহের সাইজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একেবারে কমে গিয়ে কয়েক কিলোবাইটে এসে ঠেকা এবং ফলশ্রুতিতে ফাইলটি আর ওপেন না হওয়া।

এছাড়াও আরো অনেক লক্ষণ রয়েছে ভাইরাস আক্রান্ত পিসির।

কম্পিউটারে ভাইরাসদের যেসব জায়গায় টার্গেট থাকে সেগুলো হলঃ

১। কম্পিউটারের বুট সেক্টরে,

২। ফ্যাট বা ফাইল অ্যালোকেশন টেবলে

৩। হার্ডডিস্ক এবং ফ্ল্যাশ ডিস্ক এ

৪। ডকুমেন্ট ফাইলে

৫। ইমেজ ফাইলে

৬।.exe ফাইলসমূহে।

কম্পিউটার ওর্ম – Computer Worm

ওর্ম হচ্ছে ভাইরাসের মতোই একটি ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, তবে এটি পিসি নেটওর্য়াকে ছড়িয়ে থাকে এবং এটির কাজই হলো নেটওর্য়াকে। যেমন নেটের স্পিড স্লো করে দেওয়া, শুধু শুধু ডাউনলোড করা ইত্যাদি।

ওর্ম এর কথা প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৭৫ সালের একটি উপন্যাসে!! হাহাহাহা! পরে ১৯৮৮ সালের ২ নভেম্বরে, করনেল ভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্সের গ্রাজুয়েটেড স্টুডেন্ট “রর্বাট ট্যাপ্পান মরিস” একটি ওর্ম বের করেন যা পড়ে মরিস ওর্ম নামে জনপ্রিয় হয়ে যায়!

Fake Antivirus!!

এন্টিভাইরাসে ভাইরাস!! বলে কি! জ্বি! অনেকেই টাকার বিনিময়ে ভাইরাস কিনছেন নিজের অজান্তেই! একে Rogue Security Sofware বলা হয় অফিসিয়াল ভাষায়। ২০০৮ সাল থেকে এই ব্যবসার (!!!) প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে! ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি ফেইক এন্টিভাইরাস মাত্র ১০ দিনে আড়াই লক্ষ মার্কিন ডলার আয় করে ফেলে!

যারা নেট নিয়মিত ব্যবহার করেন এবং বহু সাইট ভিজিট করেন তারা দেখে থাকবেন যে অনেক সাইটে অনেক ধরণের এন্টিভাইসারে বিজ্ঞাপন, দুঃখের কথা এই যে এদের ৮০% ই ফেইক এন্টিভাইরাস। ২০১০ সালে গুগলের একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে ১১ হাজার সাইট রয়েছে যারা এই ফেইক এন্টিভাইরাসের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সরাসরি এদের বিস্তারে জড়িত।

ভাইরাস নির্মুল এবং প্রতিরোধের উপায়ঃ

১। একান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরের কোন ফ্ল্যাশ অথবা পেনড্রাইভ ব্যবহার না করা। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরের ফ্ল্যাশ অথবা পেনড্রাইভ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই আপডেটেড কোন এন্টিভাইরাসের স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে নেয়া। ভাইরাস পেলে তা রিমুভ, কিল, হিল বা ডিলেট করে নেয়া।

২। সিডি বা ডিভিডি ব্যবহারের পূর্বে এন্টিভাইরাসের স্ক্যানের মাধ্যামে স্ক্যানের পর তাতে ভাইরাস ধরা পড়লে ওই সিডি/ডিভিডি ব্যবহার না করা। কারণ সিডি/ডিভিডিতে ডাটা রাইট করার সময় ভাইরাস ঢুকে যায় এবং পরে ভাইরাস পাওয়া গেলেও তা মুছা অসম্ভব।

৩। আজকাল মোবাইল ফোনে মেমোরি স্টিক জাতীয় এক্সাটার্নাল মেমোরি যুক্ত করার সুবিধা থাকায় এবং গান, রিংটোন, ইমেজ বা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টসমূহ কম্পিউটার হতে মোবাইল ফোনে ডাউনলোড এবং মোবাইল ফোন হতে কম্পিউটারে আপলোড করার বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে কম্পিউটারের সাথে মোবাইলে সংযোগ দেওয়ার সাথে সাথে সেটিকে স্ক্যান করে নেওয়া উচিত।

৪। ডিজিটাল ক্যামেরা থেকে ছবি পিসিতে আপলোড করার সময় ক্যামেরার মেমোরিকে স্ক্যান করিয়ে নেওয়া।

৫। ডিস্ক রাইট প্রটেক্ট না করে অন্য কোন কম্পিউটারে ব্যবহার না করা।

৬। সব সময় এন্টিভাইরাসের আপডেটেড ভার্সন ব্যবহার করা।

৭। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে অবশ্যই প্রতিদিন এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামটি আপডেড করিয়ে নেওয়া।

৮। প্রতিদিন কাজের শেষে প্রয়োজনীয় ডাটার ব্যাকআপ রাখা। ব্যাকআপ রাখার পূর্বে যে স্থানে ব্যাকআপটি নেয়া হচ্ছে সেটি ভাইরাসমুক্ত কিনা তা দেখে নেওয়া।

৯। পিসিতে কোন পেনড্রাইভ / সিডি-ডিভিডি রেখে কম্পিউটার চালু না করা।

১০। অধিকাংশ ভাইরাস সাধারণ .exe ফাইলসমুহে আক্রমণ করে বেশি। তাই .exe ফাইলসমুহ Read Only করে রাখা।

১১। মাঝে মাঝে এন্টিভাইরাস দিয়ে পুরো পিসিকে স্ক্যান করিয়ে নেওয়া।

১২। ইন্টারনেট এবং ল্যান ব্যবহারে সতর্ক হওয়া। ইন্টারনেট এবং ল্যান ব্যবহারের পূর্বে এন্টিভাইরাস এবং ফায়ারওয়াল চালু রাখা।

১৩। ভাইরাস স্ক্যানিং করে ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোড করা।

১৪। ই-মেইল এ অপরিচিত এটাচমেন্ট ফাইল খোলার ব্যাপারে সর্তক হওয়া।

১৫। ওয়েবে ”টরেন্ট” জাতীয় সাইট হতে ফাইল নামানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা। এ ধরণের সাইটে নানা ধরণের ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে।

১৬। অযথা অপ্রয়োজনীয় ফ্রি সফটওয়্যার বা ডেমো সফটওয়্যার ব্যবহার না করা।

১৭। কম্পিউটার র্স্টাটআপে ভাইরাস প্রতিরক্ষক গার্ড একটিভ রাখা।

১৮। পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করা। কারণ এজাতীয় সফটওয়্যারগুলোকে একটিভ করার জন্য এদের সাথে কী-জেন (Keygen) জাতীয় প্রোগ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

১৯। সম্ভব হলে বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ হার্ডডিস্কটি ফরম্যাট করে নতুন করে সব প্রোগ্রাম ইন্সটল করা।

২০। পিসিতে অতিরিক্ত গেমস ইনষ্টল না করা। (পাইরেটেড / Cracked)

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার

১. ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখা-লেখির কাজে (আমাদের দেশেই মুলত) টাইপ রাইটারের বিকল্প হিসেবে অফিস আদালতে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

২. অফিসের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার কাজে আজকাল কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে

৩. বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজে।

৪. চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে।

৫. একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রে।

৬. বিনোদনের ক্ষেত্রে যেমন টিভি দেখা, ভিডিও দেখা ও গান বাজানো, উপস্থাপনা, ভিডিও গেমস খেলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

৭. যোগাযোগ ব্যবস্থার টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ট্রন্সপোর্টের ডিরেকশন ওগতি নির্ণয়ের কাজে।

৮. শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজেও কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।

৯. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনামূলক যে কোন কাজে।

১০. আধুনিক সামরিক বাহিনীতে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে ইত্যাদি

মূল কথা হলো আমাদের জীবনের প্রতিক্ষেত্রে আমরা এই প্রযুক্তির সাথে জড়িয়ে পড়েছি।

১.   অফিসের কাজ : অফিসের যাবতীয় কাজ দ্রুত ও নির্ভূলভাবে কম্পিউটার দ্বারা করা যায়।অফিসের কাজ বন্টন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, চিঠিপত্র লেখা, রেকর্ড সংরক্ষণ, ফাইল রক্ষণাবেক্ষণ,দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ ইত্যাদি কাজ কম্পিউটার দ্বারা করা যায়।

২. ব্যাংকিংয়ের কাজে : আধুনিক উন্নত বিশ্বে প্রতিটি ব্যাংক কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, চেকেরহিসাব , ক্রেডিট ও ডেবিটের হিসাব কম্পিউটার দ্বারা করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের চেক জমাদিয়ে অপেক্ষায় থাকার বিরক্তি দূর হচ্ছে। ব্যাংকে কম্পিউটার ব্যবহরের ফলে একদিকে যেমনগ্রাহকগণ দ্রুত সেবা পাচ্ছেন তেমনি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজের চাপ থেকেমুক্তি পাচ্ছে। বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের হিসাব কেন্দ্রীয়ব্যাংকে দ্রুত জানানো সম্ভব হচ্ছে।

৩. ব্যবসায়-বাণিজ্যের কাজে : ফান্ড ট্রান্সফার, ব্যালেন্স সীট, হিসাবরক্ষণ, পে-রোল, আয়-ব্যয়হিসাব, ইত্যাদি কম্পিউটার দ্বারা দ্রুত সম্ভব।

৪. কল-কারখানার কাজে : কল-কারখানার যাবতীয় কাঁচামাল আমদানির হিসাব, রপ্তানি দ্রব্যেরহিসাব, কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংখ্যার হিসাব, শ্রমিক কর্মচারীদের মাসিক বেতনের হিসাব,বার্ষিক রিপোর্ট তৈরি ও বার্ষিক বাজেট তৈরি প্রভৃতি কাজ কম্পিউটার দিয়ে করা যায়।

৫. প্রকাশনার কাজে : কম্পিউটার দিয়ে দ্রুত গ্রফিক্স ডিজাইন, মুদ্রণ, গবেষণা রিপোর্ট, বই,চিঠিপত্র ইত্যাদি প্রকাশিত হচ্ছে। যখন কম্পিউটারের ব্যবহার ছিল না, তখন বই প্রকাশ করাছিল কঠিন, এতে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হতো।

৬. সংবাদপত্র : কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব দ্রুত সংবাদপত্র প্রকাশের বিভিন্ন কাজ করা যায়। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে একটি দেশের প্রতিটি শহর থেকে একই সময় সংবাদপত্রবের করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন গ্রাহক সংবাদপত্রকম্পিউটারের পর্দায় পড়ে নিচ্ছে অথবা প্রিন্টারের মাধ্যমে প্রিন্ট করে নিচ্ছে।

৭. টেলি কমিউনিকেশনের কাজে : টেলিফোন এবং কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ করে অতি দ্রুতসংবাদ পৃথিবীর একস্থান হতে অন্যস্থানে পাঠানো যাচ্ছে।

৮. চিকিৎসাবিজ্ঞানে : প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, ক্যান্সার রোগ নির্ণয়, টিউমারেরগঠন ইত্যাদি কাজে কম্পিউটার দ্রুত ফলাফল দিচ্ছে। বিভিন্ন রোগের ঔষধ নির্ধারণ এবংঔষধের মান নিয়ন্ত্রন কম্পিউটার দিয়ে করা হচ্ছে।

৯. মহাকাশ গবেষণার কাজে : মহাকাশযানের সূক্ষ্ম হিসাব নিকাশ, ডিজাইন, এবং পরিচালনারকাজে কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও দূর আকাশে নভোচারীর গতিপথনির্দেশে সহায়তা করে কম্পিউটার।

১০. প্রতিরক্ষার কাজে : বোমারু  বিমান বা যুদ্ধ জাহাজ নিয়ন্ত্রণ, মিসাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণইত্যাদি কাজে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।

১১. বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বিমান যোগাযোগ কম্পিউটার ছাড়া অচল।অনলাইনে সিট রিজার্ভেশন, বিমানের চলাচলের রুট নির্ধারণসহ বিভিন্ন কাজে কম্পিউটারব্যবহার করা হচ্ছে।

১২. শিক্ষার কাজে : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের হিসাব নিকাশ, দ্রুত পরীক্ষারফলাফল প্রকাশ, প্রতি বর্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যার হিসাব ইত্যাদি কম্পিউটার দ্বারা করাসম্ভব। এছাড়া বছর অনুযায়ী পাশ ও ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা কম্পিউটার দ্বারা করাযায়।

১৩. বিনোদনের কাজে : কম্পিউটারে গেম খেলা, গান শোনা, ছবি দেখা ইত্যাদি বিভিন্ন বিনোদনেরজন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। টিভি কার্ড লাগিয়ে কম্পিউটারকে টিভি হিসাবেও ব্যবহারকরা হচ্ছে।

১৪. আবহাওয়ার কাজে : কম্পিউটারের মাধ্যমে আবহাওয়ার বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেপূর্বাভাস দেওয়া যায়, যার দ্বারা আমরা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বাংলাদেশে কম্পিউটার

বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহারের সূচনা হয় ষাটের দশকে এবং নববই-এর দশকে তা ব্যাপকতা লাভ করে। দশকের মধ্যভাগ থেকে এ দেশে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করতে শুরু হয়। বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) প্রথম কম্পিউটার আনা হয় পাকিস্তান পরমাণু শক্তি কমিশনের পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা কেন্দ্রে। এটি ছিল আইবিএম (International Business Machines – IBM) কোম্পানির 1620 সিরিজের  দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer) যার প্রোগ্রামার ছিলেন মুহাম্মদ হানিফ উদ্দিন মিয়া।  এই কম্পিউটারের র‍্যাম ছিল মাত্র ২০ কিলোবাইট । যন্ত্রটির প্রধান ব্যবহার ছিল জটিল গবেষণা কাজে গাণিতিক হিসাব সাড়ার জন্য।

ষাটের দশকে দেশে ও বিদেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ ব্যাংক-বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্রুত প্রসার ঘটতে শুরু করে; এবং এজন্য রুটিন হিসাবের পরিমাণ যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি প্রয়োজন হয়ে পড়ে হিসাবে দ্রুততা আনার। বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের হাজার হাজার হিসেব হাতে-কলমে হিসাব পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এসময় দেশের কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ব্যয়বহুল মেইনফ্রেম কম্পিউটার স্থাপন করা শুরু করে। ষাটের দশকের শেষ দিকে তদানীন্তন হাবিব ব্যাংক IBM 1401 কম্পিউটার এবং ইউনাইটেড ব্যাংক IBM 1901 কম্পিউটার স্থাপন করে। প্রধানত ব্যাংকের যাবতীয় হিসাব-নিকাশের জন্য ব্যবহৃত এসব কম্পিউটার ছিল তৃতীয় প্রজন্মের মেইনফ্রেম ধরনের।

স্বাধীনতার পূর্বে, ১৯৬৯ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোতে স্থাপিত হয় একটি IBM 360 কম্পিউটার। আদমজী জুট মিলেও এ সময় একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার স্থাপিত হয়েছিল। সীমিত পরিসরে হলেও স্বাধীনতা পূর্বকালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স কৌশল প্রভৃতি বিষয়ের পাঠ্যক্রমে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার-এর অন্তর্ভুক্তি শুরু হয়। ১৯৭২-এর পর থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নামক প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত হয় IBM 370, IBM 9100 এবং IBM 4341 প্রভৃতি বৃহৎ কম্পিউটার। বাংলাদেশের সুপার কম্পিউটারটি হলো- IBM-RS/6000।

বাংলাদেশে প্রথম ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ চালু হয় । প্রথম ইন্টারনেট চালু হয় ১৯৯৬ সালে এবং বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার পত্রিকাটি হল কম্পিউটার জগত । বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট ভিত্তিক নিউজ এজেন্সি হল BD News । ২০১০ সালের দিকে বাংলাদেশের টেশিস কম্পানি প্রথম বাংলাদেশে প্রস্তুত দোয়েল ল্যাপটপ বাজারে আনে ।

বর্তমানে ইন্টারনেট এবং তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে দেশের মানুষের জ্ঞান এবং আগ্রহ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবার কারণে বাংলাদেশেও লেটেস্ট তথ্য প্রযুক্তি খুব দ্রুতই চলে আসতে শুরু করেছে। যেমন পাড়া মহল্লার পিসি শপেও আমি লেটেস্ট জেনারেশনের কোর আই ৯ প্রসেসরকে দেখেছি। তবে এখন গ্রাহকেরা কম্পিউটার ব্যবহার , ক্রয় বিক্রয় এবং মেইনটেইন্স এর বেলা বেশ সচেতন। গ্রাহক সচেতনা এবং গ্রাহকদের নতুন পিসি কেনার ঝামেলা সহজ করে দিতেই পিসি বিল্ডার বিডি নিয়মিত ইউটিউবে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও বানিয়ে আসছে।

রেফারেন্স

Computer Wikipedia

History of Computers

Internet Wikipedia

Microsoft Wikipedia

কম্পিউটার ভাইরাস – প্রথম আলো

কম্পিউটার ভাইরাস নিয়ে ২০১৩ সালে লেখা আমার একটি ব্লগ পোষ্ট,

কম্পিউটার নিয়ে বিভিন্ন BCS বই এবং

একাদশ শ্রেণীর কম্পিউটার এবং তথ্যপ্রযুক্তি পাঠ্যবই

 

- Advertisement -

1 COMMENT

  1. Multiplan er kichu dukan e dekhlam xeon er 2010 2011 sal er diker prossesor gula 2k 3k er modde sell korche. 8core 16 thred 6 core 12 thred Amon. passmark e dekhlam aigula er score o 6th 7th gen er i7 i5 er chaite onek valo perform kore. Ami 10k er bitore xeon dia akta pc build er chinta korteci plz ai bisoy e jodi kichu bolen.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here