25 C
Dhaka
Saturday, February 24, 2024

লিকড Windows 11 ও আমাদের অভিজ্ঞতা

- Advertisement -

লিক হওয়া Windows 11 এর Dev Build (Build 21996.1) টেস্ট করার সুযোগ হয়েছিল আমাদের।প্রকৃতপক্ষে মাইক্রোসফট অফিশিয়ালি ২৪ তারিখে বিস্তারিত Reveal করবে। তার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক এই বিল্ডের উল্লেখযোগ্য ফিচার,পরিবর্তন,  আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্ন/সংশয় এর উত্তর ও সব মিলিয়ে এই বিল্ডের আদ্যপান্ত।

 

- Advertisement -

পার্ট ১- কিছু প্রশ্ন-উত্তর, কিছু সংশয়ের অবসানঃ 

(পোস্টটি দুটি ভাগে ভাগ করেছি, প্রথম পর্বে কিছু প্রশ্নোত্তর, দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে ফিচারস, কেও প্রথম অংশ না পড়তে চাইলে নিচে স্কিপ করতে পারেন)

Windows 11 এর বর্তমান  Existence ,status, এই লিক এর ফাইলটির Safety, Legitimacy: 

উত্তরঃ অফিশিয়ালি মাইক্রোসফট এর ওয়েবসাইট,domain,subdomain এর মধ্যে অন্তত textually (যা আমরা ব্রাউজ করে পাব) Windows 11 এর নাম, বিল্ড, এ সম্পর্কে কোনো তথ্য Exist করে না। অর্থাৎ অনেকে যা বলছেন তাই যে অফিশিয়ালি এখনো তাদের ওয়েবসাইটে,পাবলিক ডাটাবেজে Window 11 এর এন্ট্রি করা হয়নি। accessibility বা প্রবেশাধিকার এর বিভিন্ন লেভেল থাকে, beta tester, developers ,internal workers সহ নানান পদের অফিশিয়াল কর্মীদের জন্য সাইট ও কাজের জায়গা থাকে যার বেশিরভাগটাই সার্চ ইঞ্জিন ও মাইক্রোসফট এর পাবলিক সাইট/সাবডোমেইন এর বাইরের অংশ এবং আমাদের ধরাছোয়ার বাইরে মোটামুটি। এমনকি Windows Insider program এর ওয়েবসাইটের Dev,Beta,Release ৩ চ্যানেলের কোনো চ্যানেলেই কিন্ত এটির উল্লেখ নেই। Dev Channel  সর্বশেষ উল্লেখিত বিল্ড হলো 21390, সেখানে এই লিকড ISO এর বিল্ড হচ্ছে 21996.1 .

তবে এর মানে এই নয় Windows 11 নামে আসলেই কিছু নেই বা ডেভেলপমেন্ট এর কোনো স্টেজেই Window 11 নেই। অবশ্যই রয়েছে। বরং তা ইন্টারনাল অবস্থায় রয়েছে, ইন্টারনাল ডেভেলপমেন্ট,Dev test,experiments নতুন নতুন ফিচার টেস্টিং  ইত্যাদি অবশ্যই চলছে, উইন্ডোজ ১০ এর সাপোর্ট ২০২৫ এ বন্ধ করে দেওয়া হবে তা মাইক্রোসফট জানিয়েছে ইতিমধ্যেই। বলা যায় পাবলিক এনাউন্সমেন্ট এর আগে এই সম্পর্কে তাদের পাবলিক সাইটে কোনো রকমের এন্ট্রি করেনি মাইক্রোসফট। অর্থাৎ অফিশিয়াল এনাউন্সমেন্ট হয়নি বিধায় ও খুব সম্ভবত অন্যন্য অফিশিয়াল বিভিন্ন procedures যেমন কমপ্লিট হয়নি তার সাথে সাথে Beta Testing বা Insider এর পাবলিক স্টেজেও Windows 11 পৌছেনি বলেই আরকি এটির এন্ট্রি হয়নি। তবে মুল কারণটা এনাউন্সমেন্ট ই।

- Advertisement -

ISO টি সম্পর্কে বিস্তারিত 

এবার সরাসরি এই লিক হওয়া ISO ফাইলটির ব্যাপারে আসা যাক, এ নিয়ে আপনাদের মনে রয়েছে অনেক রকমের প্রশ্ন, অনেক রকমের ধারণা,সংশয়। আমি এখানে খুবই পরিষ্কার করে বোঝানোর চেষ্টা করবো যেহেতু এটি আমার সরাসরি চালানোর সুযোগ হয়েছেঃ

এটি উইন্ডোজ ১১ ।4.53 GB সাইজের Windows 11 এর ডেভ বিল্ড এটি, এর বিল্ড নাম্বার 21996.1 যেটি মাইক্রোসফটে আপাতত দৃশ্যমান নয় যা নিয়ে উপরে লম্বা সময় আলোচনা করলাম। Dev বিল্ড হওয়ায় এটির এক্সেস আমাদের হাতে,পাবলিকলি আসার কথা ও ছিল না।

- Advertisement -

আরো কিছু তথ্য জেনে রাখা ভালো, এই ISOটিতে একদম শুরুতে Date modified কলামে তারিখ দেওয়া ৩১শে জুন। অর্থাৎ একদম সম্প্রতি last modified হয়েছে এই ফাইলগুলো ও Privacy,terms condition ইত্যাদি।

আর আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়ে রাখি, এটির মুল ভিত্তি কিন্ত Windows 10 ই। এমনকি আমার মাইক্রোসফট একাউন্টে ব্রাউজার দিয়ে লগিন করে ডেস্কটপ স্টাটাসে গেলে সেখানে Windows 10 21996.1 দেখাচ্ছে। তাছাড়া এই OS এর ইন্টারফেস, সেটিংস এর বিভিন্ন অংশ একেবারেই Windows 10 এর identical বা অপরিবর্তিত রয়েছে, ওই সমস্ত স্থানের স্ক্রিনশট দেখলে Windows 10 বলেই ধারণা করবেন সবাই।

তবে Start menu থেকে winver কমান্ড দিয়ে উইন্ডোজের ভার্সন দেখলে সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে Windows 11, Dev build। অর্থাৎ Windows 10 based নতুন একটি অপারেটিং সিস্টেম যেটি এখনো তার সম্পুর্ণ নিজের পরিচয় পাওয়ার মত স্টেজে যায়নি। এই পর্যায়ে আপনাদের আশা করছি এটা বুঝাতে পারলাম যে Dev Build এর এই Windows 11 এর মুল্ভিত্তি হলো Windows 10। নিচের স্ক্রিনশট গুলো থেকে বিস্তারিত দেখে নিন। এখানে আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয়, Windows 11 Pro এর ট্রেডমার্ক সম্পর্কে কিন্ত আলোচনা করা হয়েছে এই About সেকশনে।

ইন্সটলেশন এক্টিভেশন ও আপডেট/আপগ্রেডঃ 

এবার আলোচনা করা যাক ইন্সটলেশন,আপগ্রেড/আপডেট, এই বিল্ড বা ISO ফাইলের খুঁটিনাটি বিষয়ে ছোট ছোট সব প্রশ্ন,সংশয়,প্রচলিত ধারণা সম্পর্কে। ISO টি যেভাবে সবাই বুটেবল ডিস্ক/পেন্ড্রাইভে উইন্ডোজ ইন্সটল করেন, সেভাবেই Rufos দিয়ে Bootable করে নিয়ে ইন্সটল করা যাবে, তবে Bios থেকে অবশ্যই TPM(Trusted Package Module 2.0) চালু থাকতে হবে, সাথে Secure Boot ও চালু থাকতে হবে। এখনো অফিশিয়ালি কোনো ডাটাবেজ না থাকায় উইন্ডোজ ১১ এর কোনো Minimum System Requirements ,Recommended System Requirements সম্পর্কে তথ্য আমাদের কাছে নেই, এরর মেসেজ থেকে যে লিংক পাওয়া যায় তা ফলো করলেও সেই পেজে শুধুই Windows 10 এর রিকোয়ারমেন্টই পাওয়া যায়;প্রকৃতপক্ষে পেজটি Windows 10 এরই,  (এখান থেকে আরেকবার ইঙ্গিত পাওয়া গেলো যে এই বিল্ডটি Windows 10 ভিত্তিক ও একই সাথে Windows 11 সম্পর্কে অফিশিয়াল পাবলিক এন্ট্রি মাইক্রোসফট করেনি)। যাই হোক, যাদের Windows 10 চলে, তাদের Windows 11 চলার কথা।

এক্টিভেশনঃ 

আর অবশ্যই ইন্সটলেশনের প্রথমে ও শেষে আপনার কাছে Product Key চাইবে, Activation এর Prompt আসবে। আমার Retail Key দিয়ে এক্টিভ করা ছিল আগের উইন্ডোজটি, সাথে মাইক্রোসফট একাউন্ট এক্টিভ ছিল, আমার ক্ষেত্রে এই উইন্ডোজের ইন্সটলের শেষে একাউন্ট লগিন করার পর আর কোনো এক্টিভেশন সম্পর্কিত prompt,warning কিছুই আসেনি।

ইন্সটলেশন নরমালি শেষ হয়ে পিসি চালু হয়ে যাবে। এবার আসা যাক Windows 10 যারা পাইরেসি করে চালান  অথবা যারা OEM/Retail Key কিনে চালান, তাদের ক্ষেত্রে কি হবে,কোনো রকমের update tools, update সেকশন থেকে আপডেট/আপগ্রেড এর অপশন আসবে কি না??

উইন্ডোজ ১০ থেকে আপগ্রেড আপডেট সম্পর্কিত প্রশ্নঃ 

আমরা আগেই বলেছি এটি একটি অনাকাঙ্খিতভাবে লিক হওয়া Dev Build। মাইক্রোসফট যত রকমের ইউজার লেভেল/ব্যাচ রয়েছে তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থ্ক্য রাখে, সাধারণ ইউজার, ডেভেলপারস বা Insider Program এ ৩ ধরনের চ্যানেল রয়েছে সেসব ক্ষেত্রেও আপডেট পুশ করার ক্ষেত্রে distinction রয়েছে, Insiders এর যেকোনো প্রিভিউ,এক্সপেরিমেন্টাল ফিচার শুধু Insiders এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বরং চ্যানেল অনুসারে আলাদা থাকে Insider এর মধ্যেও, Internal Development গুলো ও তাই, এগুলো যেমন একটার সাথে আরেকটি মিশে না অর্থাৎ এক ব্যাচ বা এক স্টেজের আপডেট অন্য লেভেলের ইউজারের কাছে যায় না, তেমনি পাবলিক বা একদম সাধারণ ইউজারের কাছেও যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। একদম Common আপডেটগুলো ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই Dev,Insiders,normal ইউজারের বিভিন্ন বিল্ড, Cumulative update,preview update,quality আপডেট একই সাথে পাওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।।

Leaked internal

আর এটি তো ডেভ বিল্ড যার কোনো অস্তিত্ব পাবলিক ওয়েবসাইটে নেই, তাই Media Creation tool,Update assistant এর জন্য বের হওয়া,পাবলিক সাইটে আপাতত আসার কোনো প্রশ্নই উঠে না, ডেভ বিল্ড এর তো অবশ্যই না। যেখানে এনাউন্সমেন্টই হয়নি, কোনো পেজ,এন্ট্রি লিস্টেড হয়নি সেক্ষেত্রে এগুলো এই Windows 11 ডেভ বিল্ডের ক্ষেত্রে হওয়ার সুযোগ ই নেই।আপাতত উইন্ডোজ ১১ এর কোনো পেজ ই নেই, পাবলিক স্টোরেজে এই ISO নেই সেটাও বলা যায় মোটামুটি ,সুতরাং ম্যানুয়াল বা অটোমেটিক Roll-out দুই ক্ষেত্রেই অফিশিয়ালি  সাধারণ User দের কাছে এই ISO যাওয়ার সুযোগ জিরো।

ভবিষ্যতে আপগ্রেডের সুযোগ দিবে Microsoft? 

এবার আসা যাক ভবিষ্যতে আসবে কি না সেই কথায়, এটা মুলত নির্ভর করছে মাইক্রোসফট এর পরিকল্পনার উপর,তারা ভবিষ্যতে সরাসরি Windows 10 থেকে 11 এ শিফট হওয়ার সুযোগ রাখবে কি না। নাকি সম্পুর্ণ নতুনভাবে ইন্সটল করা লাগবে সবাইকে, অর্থাৎ নতুনভাবে Purchase করেই চালানো লাগবে, Windows 10 owner রা তাদের Windows 10 থেকে Jump করে 11 এ যেতে পারবেন কি না, এগুলো সবই নির্ভর করছে মাইক্রোসফট এর সিদ্ধান্ত, স্ট্রাটেজি,পরিকল্পনার উপরে।

এটি কি নিরাপদ?

আমাকে প্রশ্ন করলে এক কথায় আমি উত্তর দেব হ্যাঁ। তবে কাওকে ইন্সটল করতে উৎসাহ দেওয়া, প্ররোচিত করবো না অবশ্যই। সাধারণত আজকালকার যুগে টেক ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে যারা খোজ খবর রাখেন তারা জানেন যে কোনো প্রোডাক্ট/সার্ভিস অফিশিয়াল এনাউন্সমেন্ট/রিভিল/রিলিজের আগ দিয়ে সর্বোচ্চ আগ্রহ পাওয়ার জন্য সেরা উপায় হচ্ছে কোনো একটি স্ক্রিনশট/ছবি বা অন্য কিছু লিক করে দেওয়া। কখনো কোনো ব্রান্ড স্বীকার করে না তবে দিনশেষে সবথেকে বড় লাভ তাদের ই হয়, কোনো একটি রিলিজ ডেট/কনফারেন্স/লঞ্চ ইভেন্ট সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ,ইচ্ছা,উত্তেজনা সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠাতে ভুমিকা রাখে লিক; টুইটার,ফেসবুকে আলোচনার শীর্ষে যেতেও এর জুড়ি নেই।

ভাইরাস,ম্যালওয়্যার?

যেহেতু এটি লিক, অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে এর মধ্যে কি না কি ভাইরাস/ম্যালওয়্যার/র‍্যানসামওয়্যার কেও দিয়েছে বা দিতে পারে বা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  সাধারণত ডিজিটাল ফাইল এভাবে লিক হয়না, ছবি/ভিডিওর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেফটির প্রসংগে বলতে পারি যে এখন পর্যন্ত যে তথ্য এসেছে তাতে এর মধ্যে কোনো Malicious কিছু পাওয়ার ঘটনা শোনা যায়নি, এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি যে এটির মধ্যে কেও harmful,potentially deadly,milicious কিছু Inject করেছে।। আর বর্তমানে টেক ব্লগ সাইটগুলো, ইউটিউব চ্যানেলগুলোর সাথে সিকিউরিটি এজেন্সি,সিকিউরিটি সম্পর্কিত সাইটগুলোও অতিরিক্ত তদারকি করে সবকিছু, এজন্য এরকম কিছু বিপদজনক element এর মধ্যে থাকলে এরই মধ্যে তা ভাইরাল হতো।।

আরেকটি পয়েন্ট ও আমি উল্লেখ করতে চাই, এটি ইন্সটলের পর আমি ঠিকই ভালোভাবেই windows update পেয়েছি, AMD এর driver ও windows update থেকেই আপডেট হয়েছে। কোনো সমস্যা ছাড়াই এটি কানেক্টেড হচ্ছিল সার্ভারে।

widely tested:

তাছাড়া এটি শত শত ব্লগ সাইট এর এক্সপার্ট, শত শত ইউটিউবার টেস্ট করেছেন, যদিও তারা টেস্ট বেঞ্চ ইউজ করেন সবাই কিন্ত কেও কোনো unsafe কিছুর রিপোর্ট করেন নি, বরং দুই ঘন্টা চালিয়ে initial impression নয়, অনেকে লং টার্ম ও ইউজ করছেন বা করবেন ও প্রতিনিয়ত এর উপর কন্টেন্ট দিতে থাকবেন। সবথেকে বড় কথা সিকিউরিটি এজেন্সি গুলো যেমন আমাদেরকে কোনো বিপদের কথা জানায়নি তেমনি মাইক্রোসফট ও বলেনি, বরং মজার ছলে indirectly windows এর টুইটার একাউন্ট থেকে এই লিককে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।।

একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করবো, সম্প্রতি MSI Afterburner এর ফেক সাইট বানিয়ে ম্যালওয়্যার ছড়ানো হচ্ছিল, এটা শনাক্ত হতে, MSI দ্বারা acknowledged হতে ও অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট এর মাধ্যমে সতর্কবার্তা আসতে খুব একটা সময় লাগেনি, এবং সেই স্টেটমেন্ট কিছুক্ষণের মধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেও সময় লাগেনি।

এর মানে কি রেকমেন্ডেড??? কোনোই ঝুকি নেই?

উপরের ব্যাখাগুলোর মাধ্যমে আমি কিন্ত একেবারেই একে ডাউনলোড করুন,কিছু হবে না, 100% সেফ এরকম বলিনি,ইউটিউবাররা কিছু বলেনি, সাইট কিছু বলে নি তার মানে এই না যে কিছুই হবে না হতে পারে না।  ঝুকি রয়েছে, যথেষ্ট, প্রচুর ফেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা শুধু এইটা নয়, বিভিন্ন রকমের সফটওয়্যার, কিছু apps যা বাস্তবে exist ই করে না, কিছু গেম যা এখনো রিলিজ ই হয়নি, ক্রাক হয়নি, এগুলোর বিজ্ঞাপন,ক্রাক/ডাউনলোড লিংক এর নামে ভাইরাস/Malware/spyware/adware/Ransomware ছড়িয়ে থাকে, উইন্ডোজ ডাউনলোড করতে গিয়ে বা সার্চ করতে  অসতর্কতা বশত  আপনি এসব সাইটে ঢুকে কিছু একটা ডাউনলোড করে execute করলে বিপদ হতে পারে। ফেইক ISO কেও দিলে আপনি আক্রমণের শিকার হতে পারে,আরেকটি কমন সমস্যা যেটি হতে পারে তা হলো এক্টিভেট করার জন্য activator এর মধ্যে virus/ransomware/malware/spyware ঢুকিয়ে দেওয়া।

নতুন কি কিঃ নতুন ফিচার ও পরিবর্তনসমূহঃ   

এবার সংক্ষেপে এক নজরে আমরা এই Unfinished/incomplete windows 10 based windows 11 এর ফিচারস,পরিবর্তন সমূহ সব দেখে নেওয়ার চেষ্টা করবো।

*ইন্সটলেশন শেষে Language selection,Country ,account setup এখানকার নতুন ইন্টারফেস থেকেই চোখে পড়া শুরু হবে নতুনত্ব।স্বাগত জানাবে কালোর উপর নীল নতুন Windows এর একদম চারকোণা লোগো।

* LockScreen এ নেই কোনো পরিবর্তন।

ডেস্কটপঃ 

*নিচের টাস্কবারটা মোটা রাখা হয়েছে, start button কে ও Alongside যে এক্সপ্লোরার সহ অন্যন্য Apps থাকে সেগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে একদম মাঝামাঝি।স্টার্ট এর পাশে পেয়ে যাবেন Search,Task view,Widget,edge,store। এই মাঝখানের App গুলোর পাশেই আপনার চালু করা process/app গুলো আসতে থাকবে। টাস্কবারের আইকন সাইজগুলো বড় তুলনামুলক।

*একদম ডানদিকে যে আইকন গুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে security ছাড়া অন্যগুলোর আইকন ও চেঞ্জ করা হয়নি,তবে টাস্কবার বড় হওয়ায় সময় তারিখের সাথে বার ও লেখা রয়েছে।সিকিউরিটি সেকশনেও একফোটাও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

* টাস্কবারে আগে Right mouse এ ক্লিক করলে অনেকগুলো অপশন পাওয়া যেত, এই সবগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাইট ক্লিকে এখন একটাই অপশন সেটি হচ্ছে Taskbar Settings, সেখানে ক্লিক  বিস্তারিত একটি fullscreen window চলে আসবে ও টাস্কবার সংক্রান্ত অপশন পাওয়া যাবে, use small taskbar icons এটি থাকছে না। (এটি মুল সেটিংস এর অংশের পেজ)। নোটিফিকেশন প্যানেলে নেই কোনো পরিবর্তন।

*টাস্কবারের বদলে Windows icon/start Icon এ যোগ করা হয়েছে অনেক অনেক অপশন। টাস্ক ম্যানেজার,স্লিপ,শাট ডাউন সহ গুরুত্বপুর্ণ অনেকগুলো অপশন এইখানকার মেনুতে এড করা হয়েছে।

Start Menu: 

এবার মাঝখানের স্টার্ট মেনুতে আসা যাক। Pinned ও Recommended নামের দুটি সেকশন রয়েছে,বিভিন্ন application Pinned সেকশনে Tiles সাইজের আইকন দিয়ে সাজানো। তার নিচে recommended section এ রয়েছে বিভিন্ন apps ও files। উভয়ক্ষেত্রে More এ ক্লিক করলে সম্পুর্ণ স্টার্ট মেনু জুড়েই স্ব স্ব সেকশনের আরো apps/files আসবে। সেখান থেকে পিন ও করা যাবে ইচ্ছামত। এখানে কিবোর্ড থেকে টাইপ করেই সার্চ করা যাবে, নেই কোনো সার্চ আইকন। আলাদাভাবে সার্চ বাটন রয়েছে স্টার্ট আইকনের পাশেই।

Explorer: 

এক্সপ্লোরারে এখন পর্যন্ত এই বিল্ডে কোনো রকমের পার্থক্য,নতুনত্ব দেখা যায়নি ,বরং শুধুমাত্র আইকনগুলোকেই refine করেছে Microsoft। সুন্দর সুন্দর আইকন দিয়ে পুরাতন আইকন সবগুলোকেই রিপ্লেস করা হয়েছে, এমনকি New folder আইকন ও।

 

এক্সপ্লোরার দেখে আইকন ছাড়া বুঝার উপায় নেই যে এটা অন্য কোনো OS, সবকিছুই আগের মত রয়েছে। তবে কোনো উইন্ডো রিসাইজ /align এর জন্য ডেডিকেটেড কিছু অপশন দিয়ে দেওয়া হয়েছে এক্সপ্ল্রোরার এ। সেখানে ক্লিক করলে বেশ কিছু সাইজ দেওয়া থাকবে সেখানে ক্লিক করলে সেই কর্নার বা সেই সাইজে উইন্ডোটা অটো রিসাইজ হয়ে যাবে/align হয়ে যাবে। মাল্টিটাস্কিং এর জন্য যা অসাধারণ। কপি পেস্ট এর progress bar এ নেই কোনো পরিবর্তন।

Widget*(নতুন)

এই ফিচারটি নতুন এড করা হয়েছে, ক্লিক করলে স্ক্রিনের বামে Weather ,news, interest etc আসবে। সেখানে ইচ্ছামত কাস্টোমাইজ করে নেওয়া যাবে।

 

Task view:

স্মার্টফোনের রিসেন্টের মত টাস্ক ভিউ অপশন রয়েছে। এখান থেকে new desktop ও তৈরী করা যাবে।

এনিমেশন,ডিজাইনঃ 

এবার আরো একটি নতুনত্ব চোখে পড়বে সেটি হচ্ছে সবক্ষেত্রেই অর্থাৎ মোবাইলের মত app opening,closing, minimizing, maximizing resizing এর সময় এনিমেশন দেখা যাবে। এপটি টাস্কবারে মিনিমাইজ হওয়া,রিস্টোর হওয়ার সময় এনিমেশন বা ট্রাঞ্জিশন ইফেক্ট দেখা যাবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আমি ল্যাগ দেখতে পেয়েছি, অনেকটা স্লো স্লো ফিল হয়েছে এই এনিমেশনের জন্য।পরবর্তীতে হয়তো আরো refined করা হবে এই বিষয়গুলো।

ডিজাইনের কথা বলতে গেলে উল্লেখযোগ্য যেটি চোখে পড়েছে তা হলো উইন্ডোগুলোর কর্ণারে রাউন্ড এজ। যেটি নিয়ে বিস্তর কথা হচ্ছে,মিমস হচ্ছে। রাইট ক্লিক মেনুতে সেরকম কোনো চেঞ্জ দেখিনি।

Powershell কে নিয়ে আসা হয়েছে Windows Terminal নামে।তবে ভিজিবিলিটি নিয়ে ডিফল্ট থিমে আমার অসুবিধা হয়েছে, কোন টাস্ক ওপেন, কোনটা অফ বা ডিজেবল অর্থাৎ টাস্কবারে কি কি চলছে তা বুঝার উপায় নেই।

Gestures:

ট্যাবলেট,টাচ সাপোর্টেড ডিভাইসের টাচ এক্সপেরিয়েন্স বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে Gestures এড করা হয়েছে। এগুলোর সাথে বিভিন্ন Smartphone UI এর Gestures এর মিল পাবেন অনেকেই।

(নিচের ৩টি gif মুলত Windows Central এর ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও থেকে নিয়ে Gif এ কনভার্ট করা হয়েছে)

Settings:

সেটিংসের কথা বলতে গেলে সেটিংস এর Interface,UI এ একেবারেই পরিবর্তন আনা হয়নি বললেই চলে। কিন্ত প্রচুর পরিমাণ কাস্টোমাইজেশন,Changes,options এড করা হয়েছে, অর্থাৎ ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু গোছানো হয়েছে, ঢেলে সাজানো হয়েছে, অনেকগুলো Dedicated section করা হয়েছে , মোটামুটি Windows 10 এর সেটিংস থেকে অনেক কিছুই আলাদা।

তবে সেটিংস টা দেখতে কেমন,অর্থাৎ ইন্টারফেস এর কথা যদি বলি তাতে কিন্ত একেবারেই কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি, দুটি কমন সেটিংস এর স্ক্রিনশট নিলে Windows 10,11 এর পার্থক্য বোঝা যাবে না। অর্থাৎ UI এর দিক দিয়ে সেটিংসে কোনো পরিবর্তন আসেনি বললেই চলে।

কোনো app বা prosess পিসির স্টাটআপ এর সময় চালু হওয়ার permission নিলে সেটার নোটিফিকেশন আসে।

অসম্পুর্ণ?

মোটামুটি সবাই একমত যে এই Dev build টি খুবই early stage বা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সেটি আমার ও মনে হয়েছে। এখনো Windows 10 এর ছায়া কাটিয়ে উঠতে পারেনি এটি, Windows 10 স্কিন বেজড বিল্ড মুলত Windows 11 এর এই বিল্ডটি। প্রচুর পরিমাণে ফিচার এড হবে, বিশেষ করে Explorer এ নতুনত্ব আসা উচিত বলে আমার মনে হয়। কারণ Basically Windows 8,8.1,10 এর Explorer একই, এখন পর্যন্ত 11 এর টাও তাই।

সেটিংসেও একই ভাবে ইন্টাফেস একদমই আগেরমতই রাখা হয়েছে, সেটিংস এর UI/Interface নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হতে পারে।হওয়া উচিত ও। App গুলোকেও নতুন UI,features দিয়ে সাজানো হবে বলেই মনে হয়।Get Started নামক App টি যেমন বর্তমানে কোনো কাজেই আসছে না, তার মধ্যে কিছুই নেই, কিন্ত প্রকৃতপক্ষে এই App টি Windows 11 এর সবগুলো ফিচার, কিভাবে চালাতে হয়, সব কিছু গাইডলাইন দেওয়ার জন্য ডেভেলপ করা।

Bugs,issues:

বাগস আমি সেভাবে পাইনি, তবে এই নতুন টাস্কবার এর সাথে internet speed দেখায় এরকম কোনো apps ই optimize করতে পারেনি বা মানিয়ে নিতে পারেনি। অর্থাৎ স্পিড শো করার কোনো অপশন ই ছিল না।

অবশ্যই এই বিল্ডটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাগ পাওয়া যাবে, মুলত ইউজার থেকে ইউজার কে কি ধরনের Apps ইউজ করছেন , কি ধরনের কাজ করছেন, তার উপর ভিত্তি করে বাগস, পারফর্মেন্স এর পার্থক্য কমবেশি পাওয়া যাবে, বিভিন্ন সমস্যা পাওয়া যেতে পারে কারণ এই বিল্ড নিয়ে কোনো developers তাদের সফটওয়্যার কে অপ্টিমাইজ করেনি কারণ এটি একটি লিকড বিল্ড।

আমি বেশ অনেকগুলো সফটওয়্যার ই ইন্সটল দিয়েছি, সেগুলো কোনো ইস্যু ছাড়াই চলেছে বলা যায়। ইন্সটলেশনেও সমস্যা হয়নি, কেননা কারণটা খুবই সাধারণ, এটি Windows 10 based।

তবে গ্রাফিক্স ড্রাইভার,অডিও ড্রাইভার, Radeon software ইন্সটল হয়েছে ঠিকই,কেননা এটি window 10 বেজড ও ড্রাইভারগুলোও একে windows 10 হিসেবে  ধরে নিয়ে windows 10 এর ড্রাইভার ইন্সটল দিচ্ছে ও তা কাজ ও করছে। সবক্ষেত্রে তাই বলে করবে, সমস্যা করবে না তা না।

গেম ট্রাই করেছি Days gone,Cricket 19(steam),Metal gear phantom pain। এর মধ্যে প্রথম দুটি ঠিকঠাক মত ,আগের মতই চলেছে, Phantom pain রান করেনি। এরকম আরো অনেক টাইটেলেই সমস্যা হতে পারে।

কারা ইন্সটল দিবেন? 

যাদের বাজিয়ে দেখার অনেক ইচ্ছা এই ডেভ বিল্ড। যাদের খুব গুরুত্বপুর্ণ কাজ করতে হয়না রেগুলার সারাদিন পিসি নিয়ে,যাদের এক্সপেরিমেন্ট করার পর্যাপ্ত সময় রয়েছে, বাগস,বিভিন্ন সমস্যা,issues ফেস করার পর্যাপ্ত সময় রয়েছে তারা নিজ ইচ্ছায় নিজ দায়িত্বে ISO খুজে নিয়ে চালাতে পারেন। এক্টিভেশন ফাইল থেকে ভাইরাস/র‍্যানসামওয়্যার আক্রান্ত হলেও দায়িত্ব নিজেরই।

যারা অনেক গুরুত্বপুর্ণ কাজ করেন, একই সাথে এই Windows 11 নিয়ে খুব বেশি উত্তেজিত নন, নিয়মিত পিসিতে অফিসের কাজ বা ব্যবসার কাজ করেন ,অনেক application নিয়ে কাজ করতে হয়, যারা নিয়মতি গেম খেলেন তাদের ক্ষেত্রে এটি রেকমেন্ড করবো না কারণ নানান রকমের বাগস, ড্রাইভার ইস্যু, অন্যন্য ইস্যু ফেস করতে হতে পারে, এগুলো আপনার সময় নষ্ট করে দিতে পারে কাজ আটকে দিতে পারে।

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here