র‍্যাম এর দাম বাড়ন্ত! RAM Price Hike! How did it start?

২০১৭ সাল থেকেই শুরু হয় পিসি গেমার এবং প্রফেশনালদের জন্য একটি চরম দুঃসময়। একদিকে যেমন গ্রাফিক্স কার্ডের দাম মঙ্গল গ্রহ পার হয়ে ইউরেনাস যাবার পথে অপরদিকে র‍্যামের দামও বুধ পেরিয়ে সূর্যে ক্র্যাশ করার পথে। যে কোন ভাল মানের DDR4 এমনকি DDR3 র‍্যামও এখন পকেট পোড়ান ছাড়া নতুন কেনা সম্ভব নয়। কিন্তু কেন বেড়েছে র‍্যামের দাম, কি কারণেই বা ভুগছি আমরা সাধারণ পিসি ক্রেতা, এই প্রশ্ন সকল নতুন এবং আপগ্রেডইচ্ছুক কম্পিউটার ক্রেতাদের মনে। তাই র‍্যাম এর প্রাইস হাইকের প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের আজকের এই আর্টিকেল।

Ram Market Share:

মূল আর্টিকেলে যাওয়ার আগে জেনে নেয়া যাক কোন কোম্পানি একচুয়ালি র‍্যামের মার্কেট দখল করে আছে। আমরা করসেয়ার, জি স্কিল, এডাটা, টিম গ্রুপ, গেইল সহ বিভিন্ন কোম্পানির র‍্যাম কিনলেও তাদের র‍্যাম তৈরি করার জন্য যে মেমোরি মডিউলের প্রয়োজন হয় তারা তা সাপ্লাই পায় অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। র‍্যাম উৎপাদনকারী ব্র্যান্ডদের যে কোম্পানিগুলো মেমোরি মডিউল সরবরাহ তাদের মধ্যে এক নাম্বারে হচ্ছে স্যামসাং। জি সেই স্যামসাং যাদের গ্যালাক্সি এস৯+ ফোনের রিভিউ কিছুদিন আগেই আমাদের চ্যানেলে এসেছে। চাইলে ডেসক্রিপশনে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করে রিভিউটি দেখে আসতে পারেন। মেমোরি মডিউল সাপ্লাই ইন্ডাস্ট্রিতে স্যামসাঙ্গের মার্কেট শেয়ার হচ্ছে প্রায় ৫১% অর্থাৎ প্রায় সকল মেজর ব্র্যান্ডকেই তারা মেমোরি মডিউল সাপ্লাই করে থাকে। স্যামসাঙ্গের পরেই মার্কেট দখল করে রেখেছে এস কে হাইনিক্স। তাদের মার্কেট শেয়ার হচ্ছে প্রায় ২৫%। ৩ নাম্বার পজিশনে আছে মাইক্রন যাদের মার্কেট শেয়ার প্রায় ১২%। বাকি ১২% মার্কেট হচ্ছে তাইওয়ানে থাকা কিছু মাইনর কোম্পানির।

Reasons behind ram price hike:

এবার আসা যাক মূল পর্বে। র‍্যামের প্রাইস হাইককে যদি ব্যাখ্যা করতেই হয় তাহলে সেই এক্সপ্লেনেশনকে মূলত ৪ টি ভাগে ভাগ করতে হবে।

১. স্মার্টফোন মার্কেট

২. এবনরমাল হাই ডিমান্ড

৩. এস এস ডি মার্কেট

৪. রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বা R&D)

Smatphone Market

প্রথমেই আসা যাক স্মার্টফোন মার্কেটের দিকে। আপনার মনে হয়ত প্রশ্ন আসতে পারবে স্মার্টফোনের সাথে র‍্যামের দামের কি সম্পর্ক থাকতে পারে। এর উত্তর হচ্ছে খুব ভাল ধরণের সম্পর্কই রয়েছে। স্মার্টফোনও বলতে গেলে এক প্রকারের কম্পিউটার। এর সিপিউ, জিপিউ, স্টোরেজ ড্রাইভ এবং মেমোরি রয়েছে। ২০১৫ সাল পর্যন্তও ফ্ল্যাগশিপ বেতিত বেশিরভাগ ফোন LPDDR3 মেমোরি ব্যাবহার করলেও বেশ কিছু বছর যাবত প্রায় সকল ধরণের স্মার্টফোনেই LPDDR4 মেমোরি ব্যাবহার করা হচ্ছে। আর বর্তমান টেক মার্কেটে সবচেয়ে লাভের সেক্টর হচ্ছে এই স্মার্টফোন মার্কেট। কেবল ২০১৭ সালেই ১৫৩ কোটির উপর ফোন বিক্রি হয়েছে সারা বিশ্বে। স্মার্টফোনের ডিমান্ড এতটাই বেড়ে গিয়েছে কম্পিটিশনের সাথে টিকে থাকার জন্য সামান্য মিডরেঞ্জের ফোনেও কোন কোন কোম্পানি ৩ জিবি/৪ জিবি করে মেমোরি অফার করছে। এমনকি কিছু ফোনে আপনার কম্পিউটারে থাকা র‍্যাম থেকেও বেশি র‍্যাম রয়েছে। এই ইঙ্ক্রিজিং ডিমান্ড মার্কেটে মেমোরি মডিউল প্রস্তুতকারীরা নিজেদের লাভের জায়গা খুজে পেয়েছে। কম্পিউটারের জন্য নর্মাল DDR4 র‍্যামের থেকে স্মার্টফোনের জন্য LPDDR4 মেমোরি প্রস্তুত করা তাদের জন্য অধিক লাভজনক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যার কারণে তারা কম্পিউটারের জন্য DDR4 র‍্যাম উৎপাদন করা কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের মেইন কনসেন্ট্রেশন হচ্ছে স্মার্টফোনের জন্য LPDDR4 মেমোরি প্রস্তুত করা।

Abnormal Ram Demand

যেটা আমাদের দুই নাম্বার পয়েন্টে আনে আর তা হচ্ছে র‍্যামের এবনরমাল ডিমান্ড। আপনারা জানেন বেশ কয়েক বছর ধরেই ইন্টেল এবং এ এম ডির সকল সিস্টেম DDR4 র‍্যাম ব্যাবহার করছে। বিশ্বের প্রায় ৭২% কম্পিউটার সিস্টেম এখন DDR4 মেমোরি ব্যাবহার করছে। র‍্যামের দাম যখন হাতের নাগালে ছিল তখন ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনারদের মত সিস্টেম বিল্ডাররাও যত বেশি পরিমাণে সম্ভব মেমোরি কিনতে থাকে। প্লাস ইন্টেলের পুরাতন জেনারেশনের সিস্টেম ইউজাররাও বর্তমান জেনারেশনে আপগ্রেড করা শুরু করে। যার কারণে DDR4 র‍্যামের ডিমান্ড আচমকাই অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই হাই ডিমান্ডের কারণে র‍্যামের বাজারে কয়েক মাসের মধ্যেই একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় যা উচ্চমূল্যের কারণে এখন কিছুটা কমে গেলেও র‍্যামের দাম কমাতে সাহায্য করে নি।

SSD Market

এবার আসা যাক ৩ নাম্বার কারণে আর তা হল এস এস ডি মার্কেট। সলিড স্টেট ড্রাইভ বা এস এস ডি হল হার্ডডিস্কের ফাস্টার অলটারনেটিভ যা ব্যাবহার করে 3D নান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি মডিউল। এস এস ডি হার্ডডিস্ক থেকে তুলনামূলকভাবে ফাস্ট হবার কারণে গেমার এবং প্রফেশনাল সবার কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যতই দিন যাচ্ছে এস এস ডির ডিমান্ড বেড়ে চলেছে। আর স্টোরেজ কেপাসিটি অনুযায়ী এস এস ডির দাম বেশি হবার কারণে মেমোরি মডিউল প্রস্তুতকারিরা এখানেও লাভের দেখা পেয়ে গেছে এবং এস এস ডির জন্য নান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি মডিউল উৎপাদন বাড়াচ্ছে। আর ভাল কম্প্যাটিবল ফ্ল্যাশ মেমোরি প্রস্তুত করার জন্য তারা তাদের আর এন ডি ডিভিশনকে ফ্ল্যাশ মেমোরি ইমপ্রুভমেন্ট রিসার্চের দিকে বেশি কন্সেন্ট্রেটেড রাখছে।

Research & Development

যা আমাদের ৪ নাম্বার এবং ফাইনাল পয়েন্টে আনে তা হল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সদ্য তৈরি করা আর এন্ড ডি ডিপার্টমেন্ট। মেমোরি মডিউল প্রস্তুতকারীরা যখন নান্ড ফ্ল্যাশ রিসার্চ এবং স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ডদের LPDDR4 মেমোরি সাপ্লাইয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে তখন আর কোন উপায় না দেখে করসেয়ার, জি স্কিল, টিম গ্রুপের মত ব্র্যান্ডরা তাদের নিজস্ব আর এন ডি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করেছে যাতে ভবিষ্যতে মেমোরি মডিউল প্রস্তুত করার জন্য অন্য কোম্পানির কাছে যেতে না হয়। বরং তারা যেন নিজে থেকেই মেমোরি মডিউল তৈরি করতে পারে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে নিজেরাই মার্কেটে র‍্যাম সাপ্লাই করতে পারে। কিন্তু তাদের এই নব্য গঠিত আর এন ডি ডিপার্টমেন্টের পেছনে বেশ ভাল পরিমাণের খরচ হচ্ছে যা উঠানোর জন্য একেবারে অনেকটা বাধ্য হয়েই র‍্যামের দাম অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

When might the price come down?

এখন সবাই বুকে আশা নিয়ে কেবল একটি প্রশ্নই করতে পারবে তা হল ‘র‍্যামের দাম কখন কমবে?’ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এখনি দেয়া যাবে না। তবে খুব সামান্য ভাল খবর হচ্ছে Samsung গত বছর ঘোষণা দিয়েছিল তারা DDR4 মেমোরি মডিউল প্রোডাকশন বাড়াবে। এটি ছাড়া র‍্যাম মার্কেট নিয়ে আর কোন নতুন খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। জিপিউর আর্টিকেলের মত সামান্য আশার বাণীটুকু আপনাদের আজ শোনাতে পারছি না। তবে খবর পেলেই পিসিবি বিডির ওয়েবসাইটে আপনাদের সব জানানো হবে।

আমাদের ইনফরমেশনে যদি কোন ভুল থাকে এবং আমাদের নিয়ে সকল অভিযোগ, পরামর্শ অথবা মতামত জানান কমেন্ট বক্সে। আপনারা সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সঙ্গে থাকুন পিসিবি বিডির সাথেই।