২০১৬ সাল থেকে শুরু হয় ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং এর গোল্ডেন আওয়ার। বিটকয়েন, ইথিরিয়াম, লাইট কয়েন, টেদার সহ বিভিন্ন ধরণের ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং শুরু করতে থাকে একেবারে প্রফেশনাল থেকে ক্যাজুয়াল ব্যাক্তিরা পর্যন্ত। তাদের এই ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইন করার কারণে মাইনারদের কাছে বেড়ে যায় জিপিউর চাহিদা। বিশেষ করে এ এম ডির RX 400 এবং 500 সিরিজের জিপিউ এবং এনভিডিয়ার GTX 1060 এবং 1070 এর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লাই কম থাকার কারণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় সকল জিপিউর দাম। ২৫ হাজার টাকা দামের জিপিউর মার্কেট প্রাইস হয়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি।

তবে সৌভাগ্যবশত ২০১৮ সালের মাঝখান থেকে কমে যেতে থাকে বিটকয়েন সহ সকল প্রকার ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম। যার কারণে অনেকেই মাইনিং ছেড়ে দেয় এবং বাজারে নতুন গ্রাফিক্স কার্ডের চাহিদা অনেকাংশেই কমে যায়। জিপিউ এআইবি পার্টনাররা মাইনিং এবং মাইনারদের উদ্দেশ্য করে মার্কেটে জিপিউ ওভারফ্লো করলেও চাহিদা না থাকার কারণে গ্রাফিক্স কার্ডের দাম অনেকাংশেই কমে যায়। এতে করে বাজেট গেমাররা তাদের পছন্দমত জিপিউ নিজেদের বাজেটের মধ্যে কিনে নিতে সক্ষম হয়।

তবে মার্কেট ওভারফ্লো ছাড়াও রিলিজ হয় এনভিডিয়ার নতুন জেনারেশনের RTX 20 সিরিজ এবং GTX 16 সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড। প্রায় সকল প্রাইস রেঞ্জেই এনভিডিয়ার নেক্সট জেনারেশন গ্রাফিক্স কার্ডের অফারিং আছে। অপরদিকে নেক্সট জেনারেশনের সাথে পাল্লা দিতে এবং পুরোন স্টক খালি করার জন্য এ এম ডি তাদের RX 570, 580 এবং 590 জিপিউগুলো অনেক কম দামেই বিক্রি করছে। অর্থাৎ, যারা এখন নিজেদের পুরোন সিস্টেম আপগ্রেড করতে ইচ্ছুক বা নতুন গেমিং পিসি কিনবেন তাদের জন্য গ্রাফিক্স কার্ড কেনার বেশ সুসময় যাচ্ছে এখন।

তবে এই সুসময় আর বেশি দিন টিকে নাও থাকতে পারে। কারণ, গত এক সপ্তাহে ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট আবার মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছে। এক সপ্তাহ আগেও এক বিটকয়েন এর মূল্য চার লাখ টাকার আশেপাশে থাকলেও সর্বশেষ ১৬ই মে এর দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৭ লাখ টাকায়। বিটকয়েন এর পাশাপাশি এক ইথারের দাম সাড়ে ২০ হাজার টাকা, এক লাইটকয়েন ৮৪৫০ টাকা এবং এক বাইনেন্স ২২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়াও অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম গত এক সপ্তাহে ১৫ থেকে ৩৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির এমন দাম বৃদ্ধি পেতে দেখে আমাদের মনে শুধুমাত্র একটিই প্রশ্ন। আবারো কি ফিরে আসবে ২০১৭/২০১৮ সালের সেই দুঃসহ যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্ত? তা শুধুমাত্র সময়ই বলতে পারে। তবে আশা করা যাচ্ছে এই বছরে যেহেতু এ এম ডির নতুন জেনারেশনের জিপিউ রিলিজ হচ্ছে এবং কারেন্ট মার্কেটে এনভিডিয়ার RTX ও GTX জিপিউর যথেষ্ট সাপ্লাই রয়েছে তাই এই বছরে গ্রাফিক্স কার্ডের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

বিদ্রঃ বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুসারে সকলপ্রকার ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং এবং লেনদেন সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।