বলাকা ব্লেড দিয়ে একটি খোচা দিয়ে আমরা এস৯ প্লাস কে আনবক্স করে ফেললাম, বক্সের উপরেই থাকছে যারা ঘন ঘন সিম বদলাতে ভালবাসেন তাদের প্রিয় জিনিস সিম ইজেকশন টুল, কিছু কাগজপত্র যেগুলো পড়া বেশ পেইন এবং উৎকোচ স্রুপ একটি ব্যাক কভার। এর পরের থাকছে থে ওয়ান এন্ড ওনলি এস৯ প্লাস। মিড নাইট ব্ল্যাক কালারের ফোনটির সামনে এবং পেছনের  শাইন বেশ চোখে লাগার মত। নতুন গ্যাজেট হাতে পাওয়ার ফিলটা অন্যরকম, অনেকটা ছোট বেলায় নতুন জুতো নিয়ে ঘুমানোর মত। ফোনের ঠিক নিচে দেয়া আছে কুইক চার্জার, চার্জার টির পাশে ইউএসবি কানেক্টর, যার একপাশে ইউএসবি এ এবং অন্য পাশে ইউএসবি সি পোর্ট। উপরের দিকে দেয়া আছে ইউএসবি ক্যাবল এবং একেজি অয়ারড হেডফোন, হেডফোনটির জন্য দুটি এক্সট্রা ইয়ার টিপ ও দেয়া থাকছে ইনকেস যদি আপনার কর্ন শিক্ষকদের দোয়ায় স্বাভাবিক এর চেয়ে বড় বা ছোট হয়।

এস ৯ এবং এস ৯ প্লাস পাওয়া যাচ্ছে মোটামুটি সব স্মার্টফোন মার্কেটে, আমাদের নাম বলে ৯০০০০ টাকা দিলে যে কোন স্যামসাং শপ আপনাদের ফোনটি দিয়ে দিবে। গতবার আমাদের করা সুপার ফ্লপ এস৮ ভিডিও টি বা আইফোন টেন এর সেমি ফ্লপ ভিডিও গুলো দেখতে পারেন ডেসক্রিপশনে দেয়া লিঙ্ক থেকে। আজকে আমরা এস৯ কে নিয়ে ছিনিমিনি খেলব, স্ক্রিনে আপনারা যে সদ্য কৈশোর পেরনো ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছেন, জী ভাই আমি সেই কুখ্যাত জাহিদ হক আছি আপনাদের সাথে, আমাদের সাথে থাকছে স্মার্টফোন এলাকার কুল বয় আইফোন টেন আর আমাদের পাড়ার চিকন রাকিব।

বিশ্বের এক নম্বর স্মার্টফোন ম্যানিফ্যাকচারিং কোম্পানি স্যামসাং এবং এর গ্যালাক্সি এস সিরিজ নিয়ে শুরুতেই আপনাদের তিনটি তথ্য দিতে চাই, তথ্য গুলো মাথায় রাখুন

তথ্য এক, স্যামসাং যখন এস সিরিজ শুরু করে তখন তারা স্যামসাং এস নামে ফোনটি বাজারে ছাড়তে কনফিডেন্ট ছিল না, তাই তারা গ্যালাক্সি নামটি বেছে নেয় এবং আইফোন এর রাইভাল হওয়ার আশা নিয়ে শুরু করা এই ফোন লাইন আপটির নাম দেয় গ্যালাক্সি এস।

তথ্য দুই, ২০০৯ এর দিকে স্যামসাং প্রথমে ভেবেছিল তাদের রেভলুশনারি নতুন সুপার এমোলেড স্ক্রিন অন্যান্য ফোন কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে, যেমন তারা অনেক ফোন কোম্পানিকেই অন্যান্য পার্টস স্প্লাই করত।

তথ্য তিন, ২০১১ এর নভেম্বরে স্যামসাং এপল কে খোচা মেরে তাদের ক্যাম্পেইন শুরু করে, ঠিক যে স্ট্রাটেজি এপল তার ম্যাককে প্রোমোট করতে ব্যাবহার করেছিল মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে ২০০০ সালে।

ওকে, গ্যান বিতড়ন শেষ করে আসল কথায় আসি, ফুটবলে যেমন মেসি রোনালদো, টেনিসে যেমন ফেদেরার নাদাল, বাংলাদেশে যেমন শাকিব খান আর অনন্ত জলিল স্মার্টফোন মার্কেটে তেমন স্যামসাং আর এপল। আইফোনের দাপটে যখন ব্ল্যাকবেরি, নোকিয়া সহ আরো অনেক স্মার্টফোন ব্র্যান্ড পথে বসে যায় তখন এপলেরই অস্ত্র দিয়ে স্যামসাং আইফোনের রাইভাল একটি স্মার্টফোন লাইন আপ দাড় করায়। এখন বিশ্ব ব্যাপি আইফোন নিয়ে যেমন হাইপ তৈরি হয় , স্যামসাং ও তেমনি এটেনশন এনজয় করে।

আসুন এবার স্যামসাং এর নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ এ মনোযোগ দেয়া যাক। ফ্ল্যাগশিপ ফোন্টির দুইটি ভ্যরিয়েবল বাজারে এসেছে। এস৯ এবং এস ৯ প্লাস। এস ৮ আর এস ৮ প্লাসে শুধু দাম আর আকৃতির পার্থক্য থাকলেও এবার স্পেক এও সামান্য পার্থক্য রয়েছে। ফোনগুলো তিনটি কালারে এভেলেবল, ব্ল্যাক, কোরাল ব্লু এবং লাইলাক পার্পল। গ্যলাক্সি এস ৮ এর মত ফোনটি বলতে গেলে একদমই সেম, বাটন গুলো মোটামুটি সব একই রকম আছে, তবে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর টি এবার ক্যামেরার নিচে নিয়ে আসা হয়েছে, ফলে এবার আগের থেকে সহজে নাড়াচাড়া দিতে পারবেন। আসলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হয়ত আলাদা করে দেয়া দরকার ছিল না কারন ফোনটি আগের মতই ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাগনেট, কিছুক্ষন নেড়েচেড়ে দারুন টেকসচার তৈরি করতে পারবেন ফোনের গায়ে। স্ক্রিন আগের মতই আছে ৫.৮ ইঞ্চি এবং ৬.২ ইঞ্ছি। হেডফোন জ্যাক সরানোর কারেজ এখনো গ্যাদার করতে পারেনি স্যামসাং। স্পিকার এ সামান্য ইম্প্রুভমেন্ট আছে, সাউন্ড এখন উপর নিচের স্পিকার এবং উপরের ইয়ার পিস দু দিক থেকেই বের হয় যাতে একটা স্টেরিও সারাউন্ড ফিল পাওয়া যায়। আগের মতই আইপি ৬৮ রেটেড মানে, ধুলাবালী এবং ডাস্ট প্রুফ। এবার দক্ষ সাতারুর ওভাবে কাউকে পানিতে নামাতে পারিনি, চাইলে আপনারা এস৮ এর ভিডিও থেকে অনুভূতি টা নিতে পারেন। নতুন জেনারেশন বলে স্পেক সবই লেটেস্ট, মানে সবই আগের থেকে পাওয়ার ফুল, সবগুলো মুখস্থ বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। এস৯ আর এস৯ প্লাস এর পার্থ্ক্য যা বলছিলাম, এস৯ এ র‍্যাম ৪ জিবি আর প্লাস এ ৬ জিবি। আর একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে এস৯ এবং এস৯ প্লাস এর ক্যামেরায়। প্লাসে থাকছে একটি এক্সট্রা টেলিফটো ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরা দুটো একদমই সেম। এক্সট্রা ক্যামেরা থাকায় এস৯ প্লাসে দারুন বোকে এফেক্ট মানে পোর্টেট শটে ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ড পাবেন।

একটা বড় প্রশ্ন অনেকেই করবেন যে এস৯ নেবো নাকি এস ৯ প্লাস তো এদের মধ্যে পার্থক্য থাকছেঃ

  • দামে
  • ক্রিন সাইজে
  • এক্সট্রা র‍্যামে
  • আর সেকেন্ডারি ক্যামেরায়, সো ডিসিশন আপনার।

এস ৮ আর এস৯, যারা ভাবছেন লাউ আর কদু একই রকম, মেইন যে চেইঞ্জ টি এসেছে সেটি হচ্ছে এর নতুন ক্যামেরা সিস্টেম। মার্কাস বাউনলির মতে এস৯ এর ক্যামেরা রেভুলুশ্নারি, কারন সাধারণত স্মার্টফোন ক্যামেরা লেন্স গুলোতে ফিক্সড এপারেচার দেয়া থাকে, সব কোম্পানি তা ধীরে ধীরে কমাতে কমাতে এফ ১.৭ প্ররযন্ত নিয়ে এসেছে। আপনারা যারা ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফির সাথে জড়িত তারা ভাল জানবেন যে এপ্রাচার যত বেশি হবে লেন্স দিয়ে আলো তত বেশি ঢুকবে আবার ছবির ওভারল সার্প্নেস তত কমে আসবে। এস৯ এর ক্যামেরায় আপনি এপ্রাচার এফ ১.৫ থেকে এফ ২.৪ এ কমাতে এবং বারাতে পারবেন। সো দরকার মত বেশি ব্লারি লো লাইট ফটো বা লেস লাইট দিয়ে শার্পার ইমেজ নিতে পারবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে জিনিসটা আপনি ডিএসেলার ক্যামেরার মত বাইরে থেকে দেখতে পারবেন। এমন কোন ফোন ক্যামেরা এখন পর্যন্ত কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না, জিনিসটা খুবি ইন্টারেস্টিং, আপ[নারা যদি দেখে থাকেন কমেন্ট করে এই বান্দাকে আলোকিত করবেন। ক্যামেরা সফটঅয়ারে খুব সহজেই মোড চেঞ্জ করতে পারবেন। এর বাইরে আরেকটা মজার ক্যামেরা ফিচার হচ্ছে স্লো মো, এতে ২৪০ এফপিএস ১০৮০ পি বা ৭২০ পি তে ইন্সেন ৯৬০ এফপিএসে ভিডিও করতে পারবেন যদিও এতে কোন সাউন্ড রেক্ররড হবে না ত্বে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এড করতে পারবেন। চলুন দেখে নেই কিছু স্লো মো ক্যারিকেচাল।

এস৯ এবার যুক্ত হয়েছে, এয়ার ইমোজি ফিচারটি। যেটিকে বলতে পারেন আইফোনের এনিমোজি ফিচারটির কপি। নিজের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন দিয়ে ইমোজি তৈরি করতে পারবেন এবং দরকার মত যে কাউকে সেন্ড করতে পারবেন। এতে আরো কিছু ফিল্টার রয়েছে যেগুলো অনেকটা স্ন্যাপচ্যাট রিপ অফ বলতে পারেন। জিনিস্টি পরীক্ষা করতে গিয়ে বেশ অবাক হয়ে আবিষ্কার করি এটি বেশ ফাস্ট এবং রেস্পন্সিভ ভাবে আমাকে বিভিন্ন প্রানিতে পরিবর্তন করছে।

এস৯ নতুন ফোন এতে দেয়া আছে লেটেস্ট সব কনফিগারেশন তবে রিয়েল লাইফ পার্ফমেন্সে কে বস তা এপল দেখিয়ে দেয়। আমরা ফোনদুটি পাশাপাশি রেখে পাচটি গেম লোড করে একটা হেড টু হেড টেস্ট করি। গেমগুলোর নাম বলে, প্রায় প্রত্যেকটি গেম আইফোনে এস৯ প্লাসের থেকে ১-৩ সেকেন্ড আগে লোড হয়। মানে আইফোন স্টিল এ ট্যাড বিট এহেড হোয়েন ইট কামস টু রিয়েল লাইফ পার্ফরমেন্স।

অতএব ভাইসব এবার রেজাল্ট এর পালা চলুন দেখে নেই, কে কোথায় এগিয়ে

এস৯ প্লাস খুবি ফাস্ট , তবে রিয়েল লাইফ পার্ফরমেন্সে আইফন এক্স অনেক স্মুথ এবং কিছুটা এগিয়ে।

সিকিউরিটির ব্যাপারে গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস এলাউস মোর ফ্লেক্সিবিলিটি, যারা ফেস আইডি, আইরিশ স্ক্যানার টাইপ ঝামেলায় যেতে চান না তাদের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার রেখে দিয়েছে স্যামসাং।

এস৯ এর এক্সট্রা স্টোরেজ ক্যাপাবিলিটি আপ টু ৪০০ জিবি যেটা অবশ্যই একটা প্লাস

ক্যামেরার ছবি নিয়ে আইফোন ফ্যান এবং স্যামসাং ক্ল্যানের মধ্যে বেশ গ্যাঞ্জাম হতে পারে, তবে এক্সট্রা ডিটেইল এবং এডজাস্টেবল এপারেচার এর কারনে এস৯ প্লাস কে কিছুটা এগিয়ে রাখব আমরা।

দুটো ফোনেই রয়েছে সুপার এমোলেড ডিসপ্লে, তবে এস৯ প্লাসের ডিসপ্লেকে বিট ব্রাইটার মনে হয়েছে আমাদের কাছে, তবে এঙ্গেল থেকে আইফোনের ডিসপ্লে ছিল একটু শার্পার।

আইফোন টেন আইপি ৬৭ এবং এস৯ প্লাস আইপি ৬৮ রেটেড। তাই যখন ওয়াটার রেসিস্ট্যান্স এবং টাফনেস এর কথা আসে  তখন আমরা এস৯ প্লাস্কেই এগিয়ে রাখব।

ইনোভেশন এবং এক্সপেকটেশন এর দিক থেকে আইফোন টেন অনেক বেশি স্যাটিসফায়িং। সবফিচার খুব ভাল কাজ না করলেও এপল এতে অনেক কিছু এড করার চেষ্টা করেছে। সেই তুলনায় গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস সেভাবে এক্সপেকটেশন মিট করেছে বলতে পারছি না। তবে এতে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় যে সামনে স্যামসাং তার এস ১০ মডেলের জন্য সব এক্সাইট্মেন্ট রেখে দিয়েছে।

তো হয়ে গেল ক্মপারিজন, আসলে দুটো ফোনই জোস। তারপরও বলব একদম হার্ডকোর স্যামসাং ফ্যান এবং টাইট বাজেটের কাস্টমার বাদে সবাইই আইফোন এক্স কিনতে চাইবে অভার এস৯ প্লাস।

যাওয়ার আগে আমরা দেখে নেব আইফোন টেন আর গ্যালাক্সি এস৯ প্লাস এ তোলা ছবির হেড টু হেড ক্মপারিজন। আর এর সাথে বিদায় নিয়ে নিচ্ছি আমি জাহিদ, ভিডিও সচাইলে আপনারা বিনামুল্যে শেয়ার করতে পারবেন এবং ভিডিওটিতে কমেন্ট করে মতামত জানাতেও কোন চার্জ প্রযজ্য নয়। তবে লাইক বা ডিস্লাইক বাটনে ক্লিক নিজ দায়িত্বে দেবেন, আজকের মত খোদাহাফেয।