GTX 1650 Super আসার আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন বাজারে আধিপত্য করেছে RX 570, দাম হিসেবে অসাধারণ পারফর্ম করার কারণে বিশ্বের অন্যন্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও প্রচুর চাহিদা ছিল গ্রাফিক্স কার্ডটির। একটা সময়ে ১২/১৩ হাজারেও নেমে এসেছিল দাম। 1080p গেমিং এ ভ্যালু ফর মানি হওয়ার কারণে এখনো সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে প্রচুর গেমারের পছন্দের তালিকায় আছে এটি। আমরা আজ দেখবো ২০২০ সালে এসে এই জিপিইউটি কিরকম পারফর্ম করে এবং সাথে আমরা Ryzen 5 1600 , এএমডির রাইজেনের প্রথম প্রজন্মের প্রসেসরটিও কিরকম পারফর্মেন্স করে তা বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আলোচনাটি নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত থাকবেঃ

  • ভুমিকাঃ কেন এটি একটি অন্যরকম টেস্ট
  • টেস্ট সিস্টেমঃ সকল হার্ডওয়্যার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ননা এবং অপারেটিং সিস্টেম এর পরিবেশ সম্পর্কে বর্ণনা।
  • ১৭ টি গেমের বেঞ্চমার্ক টেস্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
  • টেম্পারেচার পারফর্মেন্স আলোচনা।
  • XFX এর হিটিং ইস্যু এর সত্যতা যাচাই, ও কাস্টম ফ্যান স্পিড, হিটিং এর সমাধান নিয়ে আলোচনা।
  • পারফর্মেন্স পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত, দাম নিয়ে ধারনা।
  • উপসংহার।

ভুমিকাঃ কেন এই রিভিউটি অন্যন্য সকল রিভিউ থেকে ব্যতিক্রমঃ

এই রিভিউটি কোনো টিপিক্যাল ল্যাব টেস্ট রিভিউ থাকছে না। একদম প্রাক্টিক্যাল লাইফের পারফর্মেন্স টেস্ট হবে এখানে । ইউটিউবে যেমন জিপিইউ টেস্টে ফ্লাগশিপ প্রসেসর ব্যবহার করে সিপিইউ বটলনেক দূর করা হয়, অনেক হাই লেভেলের মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হয়, স্টোরেজে এসএসডি ব্যবহার করা হয় , কুলিং সিস্টেম অনেক ভালো থাকে, ক্লিন সিস্টেমে বেঞ্চমার্ক করা হয় সেরকম কিছু এখানে হচ্ছে না। আমরা সাধারণ ইউজাররা যেরকম সিস্টেমে গেম খেলে থাকি, সেরকম একটি পরিবেশেই সকল টেস্টিং করা হয়েছে।এবং শেষে বিস্তারিত আলোচনা ও হবে কার্ড এবং প্রসেসরকে সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

টেস্ট সিস্টেমঃহার্ডওয়্যার-

প্রসেসরঃ

হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে Ryzen 5 1600 যা এখন বাজারে নেই বললেই চলে, সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে ৭/৮ হাজারের আশেপাশে এখনো সেরা একটি পছন্দ হতে পারে। মোট  প্রায় আড়াই বছর রানিং এই প্রসেসরটি হাত বদল হয়ে আমার কাছে রয়েছে অক্টোবর থেকে।  স্টক কুলার দিয়েই টেস্ট করা হচ্ছে। নতুন করে থার্মাল পেস্ট ও এপ্লাই করা হয়নি।

প্রসেসর এর স্পেসিফিকেশন

গ্রাফিক্স কার্ডঃ

Ryzen 5 1600 এর সাথে জুটি বেধেছে RX 570 8GB গ্রাফিক্স কার্ড। ম্যানুফেকচারার/Sub Vendor এর নাম শুনতে চান??? XFX!!!!!!! ইয়েস। আমার সেটাপে এই কার্ডটি ১৯ মাস মত ব্যবহ্বত হয়ে আসছে। এক্সএফএক্স এর কার্ড নিয়ে আমাদের দেশের কমুনিটি সহ সব জায়গায়তেই  কম বেশি কানাঘুষো বা মিথ রয়েছে  যে XFX এর কার্ডগুলোর রয়েছে হিটিং ইস্যু। দেড় বছরের এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি বিস্তারিত আলোচনা করবো এই বিষয়ে। রয়েছে অনেক অজানা তথ্য ও রহস্য। পড়তে থাকুন।

গ্রাফিক্স কার্ডের স্পেসিফিকেশন

মাদারবোর্ডঃ

Gigabyte এর B450M S2H মাদারবোর্ডটিতে আমাদের সিস্টেম চলছে। আমার সিস্টেমে মাদারবোর্ডটি ১৯ সালের অক্টোবর থেকে চলছে।  অবশ্যই মাদারবোর্ড এর VRM এর জন্য  কুলিং, প্রসেসর ইত্যাদির স্বাস্থ্যও ইউটিউবের বেঞ্চমার্কগুলোর সিস্টেমের মত হবে না বোঝাই যায়। তবে এই মাদারবোর্ডটি টেস্টটিকে করবে অনেক বেশি প্রাক্টিকাল কারণ RX 570 বা Ryzen 5 1600 এর ইউজার নিশ্চয় X570 সিরিজের মাদারবোর্ড ব্যবহার করবেন না। এবং S2H এন্ট্রি লেভেলে অন্যতম কমন একটি চয়েস আমাদের দেশে।

মাদারবোর্ড স্পেসিফিকেশন

র‍্যামঃ

সিস্টেমটিতে র‍্যাম রয়েছে ৮ জিবি Corsairs Vengeance LPX 2400Mhz । আমাদের দেখা ভিডিওগুলোতে যেমন 3200/3600 mhz এর দামী দামী র‍্যাম কিট ইউজ করা হয় এই ক্ষেত্রেও তাই রয়েছে পার্থক্য। রিয়েল লাইফে এই বাজেটের বেশিরভাগ ইউজারই এরকম র‍্যামই ব্যবহার করে থাকেন। ব্যবহারকৃত র‍্যামটির টাইমিং 16-16-16-39

পাওয়ার সাপ্লাইঃ

সিস্টেমটিতে পাওয়ার সাপ্লাই থাকছে Corsairs ব্রান্ডের CX 550W Bronze. যেটি আমার সিস্টেমে গত অক্টোবর থেকে চলছে।

স্টোরেজঃ

স্টোরেজ সেকশনে কোনো ফ্লাগশিপ এসএসডি ব্যবহার করা হয়নি বরং আমার সিস্টেমে সাড়ে তিন বছর যাবত স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহ্বত হয়ে আসা Western Digital Blue 1tb 7200RPM এর একটি হার্ডড্রাইভকেই ব্যবহার করা হয়েছে যার হেলথ ও অবশ্যই সুবিধাজনক পর্যায়ে নেই।

কেসিংঃ

২৫০০ টাকার একটি গোল্ডেনফিল্ড কেসিং এই সেটাপ করা রয়েছে পুরা সিস্টেমটি। যার সামনে রয়েছে দুটি লাল এলইডি ফ্যান এবং পেছনে একটি লাল এলইডি ফ্যান। (তিনটি ফ্যানই বিল্ট ইন)। থাকছে না কোনো লিকুইড কুলিং। এয়ারফ্লো ও থার্মাল পারফর্মেন্স ও তাই Linus লেভেলের হবে না সবাই বুঝতে পারছেন। তাই গেমিং এর সময় প্রসেসর এর টেম্পারেচার , গ্রাফিক্স কার্ড এর টেম্পারেচার নিয়ে হবে বিস্তারিত আলোচনা।

সিস্টেম ইনফরমেশনঃ

সফটওয়্যার এনভায়রনমেন্টঃ

এখানেই সবথেকে বেশি অন্যন্য এই বেঞ্চমার্ক বা পাফর্মেন্স এনালাইসিসটি । আমাদের সিস্টেমটি একদমই একজন রেগুলার ইউজারের মত সিস্টেম।  ল্যাব টেস্ট এর মত ক্লিন উইন্ডোজ না যেখানে কিনা কোনো 3rd পার্টি ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস থাকে না বা থাকলেও এক দুইটি থাকে। এবং উইন্ডোজ এর ব্যবহ্বত র‍্যাম ছাড়া বাকি র‍্যাম ফ্রি থাকে।  আমাদের সিস্টেমে ব্যাকগ্রাউন্ডে রানিং ছিল একটি এন্টিভাইরাস, IDM , XDM, Avro Keyboard, DU Meter এবং অবশ্যই MSI Afterburner । টাস্ক ম্যানেজারের ছবি দেওয়া হলো ।

উইন্ডোজ ভার্সনঃ

উইন্ডোজের লেটেস্ট ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে টেস্টটিতে।

ফ্রি র‍্যামঃ

এই সিস্টেমে ৮ জিবির র‍্যামের মধ্যে2700/2800-2900 মেগাবাইট র‍্যাম সবসময়ই ব্যবহ্বত থাকে এবং ফ্রি থাকে 5.3/5.2/5.1 জিবি মত। কিছু কিছু সময়ে ৩ জিবি পর্যন্ত ও চলে যায় ইউসেজ। অর্থাৎ 38/40 % পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহ্বত হয়।  যা আমাদের দেশের ইউজারদের ইউসেজ এর সাথে মিলে যায়। অন্যন্য টেস্ট সিস্টেমের থেকে এইটাও একটি বড় পার্থক্য কারণ বেশিরভাগ বেঞ্চমার্কে আমরা দেখি ১৬ জিবি /৩২ জিবি এরকম পরিমাণ র‍্যাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

বেঞ্চমার্ক টুলঃ

বেঞ্চমার্ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে MSI Afterburner । যার সেটিংস এর স্ক্রিনশট দেওয়া হলো নিচে এবং উল্লেখ্য যে কুলিং এর ক্ষেত্রে গ্রাফিক্স কার্ডে কাস্টম ফ্যান কার্ভ ব্যবহার করা হয়েছে (কুলিং পারফর্মেন্স নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে)

জিপিইউ ড্রাইভার ভার্সন ও গ্রাফিক্স সেটিংসঃ

জিপিইউ ড্রাইভার ও আপডেটেড ভার্সনের টি ব্যবহার করা হয়েছে এবং গ্রাফিক্স সেটিংসে কোনো চেঞ্জ করা হয়নি যা স্ক্রিনশটে ডিটেলস দেওয়া হয়েছে। জিপিইউ প্রোফাইল Standard মোডে রাখা হয়েছে।

বেঞ্চমার্কঃ

আমরা সর্বমোট ১৭টি গেম টেস্ট করেছি।বেঞ্চমার্কের শুধু এভারেজ,মিনিমাম বা 1% লো ভ্যালুই নয় সাথে আলোচনা করা হয়েছে ওভারল এক্সপেরিয়েন্স,ফ্রেমড্রপ/স্টাটার ছিল কি না, ইনটেন্স জায়গা গুলোতে,ভিন্ন ভিন্ন স্থানে কেমন ফ্রেমরেট ছিল সেসব সম্পর্কেও। শেষে শেয়ার করা হবে এগুলোর বাইরেও উল্লেখযোগ্য কিছু টাইটেলের পারফর্মেন্স এর কথা যা এই রিভিউ এর জন্য নয় বরং পুর্বে খেলা হয়েছিল এই সিস্টেমে। ১৭টি গেমের মধ্যে স্পোর্টস থাকবে ৩টি, নতুন পুরাতন AAA টাইটেল থাকবে ৯টি, অনলাইন শুটার থাকবে একটি, একশন-এডভেঞ্চার,রেসিং থাকবে ৪টি ।

A plague Tale Innocence:

গেমটি একটি মাস্টারপিস। স্টোরি ও গেমপ্লে অন্য সকল গেম থেকে আলাদা। গ্রাফিক্যালি যেমন Rich তেমনই ডিমান্ডিং।DirectX 11 API তে আমরা টেস্ট করেছিলাম 1080p রেজুলেশনে Ambient Occ,Bloom, A-Aliasing ছাড়া অন্য সবগুলো সেটিংস হাইতে রেখে। The Stranger অর্থাৎ দ্বিতীয় চ্যাপ্টারে আমরা বেঞ্চমার্ক করেছিলাম আউটডোর ইনডোর মিলিয়ে অনেকগুলো পজিশনে ২ বার। মোট 40 মিনিট এর গেমপ্লে  বেঞ্চমার্কে এভারেজ এফপিএস ছিল ৮২ এবং মিনিমাম এফপিএস ছিল ৪২ । এক্সপেরিয়েন্স Indicator 1% লো ছিল 45 । একটি রিসোর্স হাংরি AAA টাইটেল হিসেবে হাই সেটিংসে যথেষ্ট ভালো পারফর্মেন্স বলতে হবে। সেটিংস আরো বাড়িয়ে আল্ট্রা বা ভেরি হাই তেও ৬০ এফপিএস মোটামুটি মেন্টেন করা যাবে বোঝা যাচ্ছে।

এই টেস্ট ছাড়াও গেমে অন্যন্য মিশনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো বেঞ্চমার্ক করে দেখা গিয়েছে যে ইনডোরে ৮০/৮৫-৯০ এফপিএস ও অন্যন্য ক্ষেত্রে ৬৫-৭০ এর মধ্যেই ছিল এভারেজ ফ্রেমরেট।

ইউসেজঃ

সিপিইউ ইউসেজ 20-45% এর মধ্যে উঠানামা করেছে এবং জিপিইউ শতভাগই ব্যবহার হচ্ছিল অবশ্যই। প্রসেসরের ক্লক স্পিড ছিল 3.4 গিগাহার্জ।গ্রাফিক্স কার্ড এর পাওয়ার Usage ছিল ১২৫ ওয়াট মত। বিভিন্ন মোমেন্টে র‍্যাম ইউসেজ সাড়ে চার জিবি থেকে পাচ জিবি পর্যন্ত ছিল (সিস্টেম এর টোটাল র‍্যাম ইউসেজ, এর মধ্যে প্রায় ৩ জিবি আমাদের সিস্টেমে অলওয়েজ ইউজ হয়ই) এবং জিপিইউ এর ভির‍্যাম ইউসেজ ছিল ২ জিবি থেকে 2.6 জিবি এর মধ্যে।

 

Star Wars Jedi Fallen Order:

কয়েক বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রচুর হেট এবং গালি কুড়িয়ে আসা ইলেক্ট্রনিক আর্টসের ব্যানারে আসা অন্যতম সেরা একটি গেম Star Wars Jedi Fallen Order.  গেমপ্লে এর পাশাপাশি গেমটির গ্রাফিক্স ও অন্য মাত্রার। এবং অবশ্যই প্রচুর রিসোর্স Hungry ও বটে।  গেমটির অপ্টিমাইজেশন ও যথেষ্ট ভালো বলতে হবে। 1080p তে গ্রাফিক্সের সবগুলো অপশন  Epic Settings এ রেখে বা ডিফল্টে রেখে প্রায় আধা ঘন্টা খেলে তিনবারের বেঞ্চমার্কে ( যা গেমটির সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংস) আমরা ফ্রেমরেট পেয়েছি  এভারেজে ৫৭, মিনিমাম ১৩ এবং 1% লো পেয়েছি ৩২ এফপিএস। ম্যাক্সিমাম ১২০ এফপিএস।

বলে রাখা ভালো যে ফ্রেমরেট ৫০-৫৬/৫৭ এর মধ্যেই ঘুরাফেরা করে বেশিরভাগ সময়। কিছু কিছু সময়ে তা ৬০ অতিক্রম করে ৭০,৮০ ছোয়,  এবং একেবারেই কিছু এক্সক্লুসিভ জায়গায় ১০০+ কিছু সময়ের জন্য।। এক্সট্রিম মোমেন্টে এফপিএস এর বেশ ড্রপ কয়েকবার লক্ষ করা গিয়েছে কিন্ত তা ব্যাতিত ফ্রেমরেট রেগুলার ৫০+ ই পাবেন। গ্রাফিকালি বেশি intensive area তে ৪৫-৫০ এর ঘরেও নেমে আসে অনেকবার। যা অবশ্যই 2400mhz র‍্যামের জন্য ও হতে পারে (আমরা আমাদের র‍্যাম নিয়ে আর্টিকেলে বলেছিলাম যে কিছু AAA গেমে র‍্যামের স্পিড প্রভাব ফেলতে পারে)

তবে, মাথায় রাখতে হবে গেমটি গ্রাফিক্সের দিক দিয়ে অনেক rich এবং সবগুলো সেটিংস epic বা  ম্যাক্সিমাম সেটিংসেই রাখা হয়েছিল। তারমানে,  সেটিংস Tweak করে , অর্থাৎ high,medium এবং epic মিলিয়ে খেললে ফ্রেমরেট আরো অনেক বেশি পাওয়া যাবে। এক্সপেরিয়েন্স অনেক ভালো পাওয়া যাবে। ৬০-৮০ এফপিএস পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব সেটিংসে পরিবর্তন করে।

ইউসেজঃ

সাধারণত সবসময়ই এই গেমে সিস্টেমের র‍্যাম ইউসেজ সাড়ে 5 জিবি ছিল এবং ম্যাক্সিমাম ৬ জিবি ক্রস করেছিল। জিপিইউ মেমোরি ইউসেজ সবসময়ই 3200MB এর উপরে ছিল  এবং কিছুক্ষেত্রে তা 4500MB তেও পৌছেছিল। প্রসেসর ইউসেজ ৩০/৩৫-৫০ এর মধ্যে উঠানামা করেছে । প্রসেসর ক্লক স্পিড আগের মতই ছিল। জিপিইউ পাওয়ার ১২৫ ওয়াট মত ছিল।

 

GTA V:

অনেক বছর পুরাতন হলেও তুমুল জনপ্রিয় গেমটি ২০২০ সালেও বেঞ্চমার্কিং এ প্রচুর ব্যবহ্বত হতে দেখা যায়।

গেমটি আমরা খেলেছি 1080p,dx11, default settings এ। বিভিন্ন সিচুয়েশনে,বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন মিশনে এবং  দিনে রাতে গাড়ি এবং on foot  free roam এ ৮,১০টি বেঞ্চমার্ক করা হয়েছে, তাতে গড় করে এভারেজ এফপিএস পাওয়া গিয়েছে ৮০।এফপিএস 60-70-80-90 এর মধ্যে উঠানামা করেছে,ইনডোর এ ,বাইরে কিছু কিছু জায়গায় ,অলি গলিতে, মাইকেলের বাসার মধ্যে ইত্যাদি প্লেসে এফপিএস 100+ থাকে, 130,140 পর্যন্ত ও উঠে।।।গেমে কোনো ল্যাগ,স্টাটার, ফ্রেমড্রপ ছিল না।। মিনিমাম এফপিএস ছিল 53, 1% লো ছিল 60 এবং ম্যাক্সিমাম ছিল 114।।

ট্রেভর এর মরুভূমির এলাকা , প্লেন ফ্লাই, বোট চালানো বাদে মোটামুটি বাকি অংশের এফপিএস এর মোটামুটি ধারণা এই বেঞ্চ থেকেই দিতে পারছি আশা করি।। ওগুলো তেও বেশি পার্থক্য পাওয়া যাবে না এফপিএস এ বলেই মনে হয়।।

***ডিফল্ট সেটিংস এ খেলা হয়েছে ।।। উল্লেখ্য, বুদ্ধি করে ইন্টারনেট ঘেটে বেশ কিছু সেটিংস very high,high,medium মিলিয়ে খেললে ভিজুয়াল কোয়ালিটি ভালো রেখেই এফপিএস আরো বেশি পাওয়া যেতে পারে।। যেটিকে আমরা graphics settings tweak guide নামে জানি।।***

 

ইউসেজ:

মেমোরি ইউসেজ ছিল 6জিবি থেকে 6.5 জিবি পর্যন্ত এবং গ্রাফিক্স মেমোরি ইউসেজ সবসময়ই 4 জিবি মত ছিল। সিপিইউ ইউসেজ ছিল ৩৫-৫৫% এর মধ্যে।

 

ওয়াচ ডগস:

এই ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমটি খেলা হয়েছে 1080p,ultra texture কাস্টম সেটিংসে(নিচে স্ক্রিনশট দেওয়া থাকলো) , বিভিন্ন মিশনে, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময় ও scenario তে ,on foot, car driving, gunfight মিলিয়ে মোট ৮,১০টি বেঞ্চমার্ক করে এভারেজ পাওয়া গিয়েছে ৭৩ এফপিএস। ড্রাইভিং এ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫০-৬০ , অন ফুট ৬০-৮০, বিভিন্ন অলি গলিতে, ইনডোরে ৯০-১০০+ এফপিএস পাওয়া যায়। গানফাইটের ক্ষেত্রেও আশেপাশের পরিবেশের উপর নির্ভর করে ফ্রেমরেট, গেমে সেরকম কোনো ল্যাগ ,স্টাটার পাওয়া যায়নি তবে মাঝেমধ্যে ফ্রেমড্রপ ছিল সামান্য। মিনিমাম ফ্রেমরেট ছিল ৪৬, ১% লো পাওয়া গিয়েছে ৫০ এবং ম্যাক্সিমাম ১০৫।

গ্রাফিক্স টূইক করে এই গেমেও আরো বেটার এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া সম্ভব।

ইউসেজঃ

র‍্যাম ইউসেজ টোটাল ৫ জিবি মত ছিল সবসময় এবং জিপিইউ মেমোরি ইউসেজ ছিল ৩ জিবি । সিপিইউ ইউসেজ ৩৫-৫০% এর মধ্যে উঠানামা করেছে।

 

Crysis 3

ক্রাইসিস সিরিজের গেম নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার মনে হয় না দরকার আছে। Extremely Resource Demanding এই সিরিজের প্রতিটা গেমই। But can it run Crysis মিমস এর সাথেও আপনারা অনেক পরিচিত। বলতে গেলে এই টেস্টের একমাত্র এই গেমটিতেই একটু Struggle করেছে আমাদের টেস্ট সিস্টেম।প্রথম মিশনে  প্রচুর যথেষ্ট স্টাটারিং ও ফ্রেমড্রপ ছিল ভেরি হাই সেটিংসে । Environment ও অবশ্য graphically অনেক রিচ ছিল।Vsync অন থাকা সত্বেও অতিরিক্ত স্টাটার ও ফ্রেমড্রপ এর জন্য ওই মিশনটিতে আমরা টেস্ট করিনি। ড্রাইভার ইস্যু অথবা গেম ভার্সন ইস্যুকেই আমি দায়ী করব কারণ পুর্বে আমি এই গেমটি খেলেছিলাম তাতে এত ফ্রেমড্রপ স্টাটার ছিল না। (তাতে আবার অন্য ইস্যু ছিল)

দ্বিতীয় মিশনটি ৩০ মিনিট মত খেলা হয়েছে । এখানে ভালোমত playable সার্টিফিকেট দেওয়া যেতে পারে। কাঁটায় কাঁটায় ৬০ এফপিএস এভারেজ।১% ২৮, ম্যাক্সিমাম ৭৯ এবং লোয়েস্ট ২৪। ফ্রেমড্রপ স্টাটার এই মিশনেও ছিল তবে তুলনামুলক অনেক কম। ৫০ এর উপরেই ছিল ফ্রেমরেট বেশিরভাগ সময়। ৬০ পার করে সামান্য উপরেও গিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। আবার ৪০-৪৫/৫০ এই রেঞ্জেও বেশ কয়েকবার নেমে এসেছে।। যারা একদম butter smooth গেমপ্লে প্রত্যাশা করেন এবং butter smooth গেমপ্লেতেই অভ্যস্ত তাদের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হতে পারে। তবে গ্রাফিক্সের দিক দিয়ে অনেক উপরে এই গেমটি, সুতরাং graphics tweak করে অথবা সবগুলো high তে রেখে ডিটেইলস প্রায় একই রকম পাওয়া যাবে এবং ফ্রেমরেটে একটা বিশাল বুস্ট পেয়ে যাবেন বলে আশা করা যায় ।

গেমটি বেঞ্চমার্ক ছাড়াও অনেকগুলো মিশন খেলা হয়েছে এবং প্রতিটি মিশনেই কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় ৩০/২৫ এফপিএস এ নেমে আসছিল ফ্রেমরেট এবং বাকিটা সময়  কনস্ট্যান্ট ৬০/৬০+/৫৫ এরকম ফ্রেমরেট এবং স্মুদ গেমপ্লে পাওয়া গিয়েছে।

ইউসেজঃ

ইউসেজ এর ক্ষেত্রে খুবই weird নাম্বার দেখা গিয়েছে। র‍্যাম ইউসেজ চার জিবি (টোটাল) এবং VRAM ইউসেজ মাত্র 1700-1800MB এবং যে কারোরই মনে হবে যে resource যেন ব্যবহার হচ্ছে না । পাওয়ার ইউসেজ ও অনেক ক্ষেত্রেই ৭০,৮০ ওয়াট ছিল ।

 

Call of duty Advanced Warfare

কল অফ ডিউটি এডভান্স ওয়ারফেয়ার খেলা হয়েছিল অটোমেটিক টেক্সচার প্রিসেট এ, ১০৮০পি ডিফল্ট সেটিংস এ।  প্রথম চারটা মিশন কয়েক ঘন্টা যাবত খেলার সময় ১০,১২ টি ভিন্ন ভিন্ন বেঞ্চমার্ক করে তাদের গড় করে  এভারেজ পাওয়া গিয়েছে ১৫০ এফপিএস।তবে ঘরের মধ্যে, বিল্ডিং এর মধ্যে, ইনডোর সিচুয়েশনগুলোতে ২২০,২৫০ (সবসময় ২০০+) ফ্রেমরেট পাওয়া গিয়েছে,বেশি খোলামেলা জায়গায় ডিটেইলস, অবজেক্ট বেশি যেখানে সেসব জায়গাতে ১২০-১৩০ ছিল, এছাড়া  রেগুলার ১৫০-১৬০/১৭০/১৮০ এরকম ফ্রেমরেট পাওয়া গিয়েছে ।

এই কয়েক ঘন্টার গেমপ্লেতে কোনো রকমেরই ফ্রেমড্রপ, ল্যাগ,স্টাটার লক্ষ করিনি। গেম ছিল খুবই বেশি স্মুদ।এই গেমটিতে আমার মনে হয়েছে গেমটি কোনোসময়ই বটলনেকড ছিল না, গ্রাফিক্স এর ফুল ইউটিলাইজেশন হয়েছে এবং প্রসেসর এর রিকোয়ারমেন্টস এর থেকে বেশি রিসোর্স পেয়েছে এজন্যই কোনো প্রকার ল্যাগ,ফ্রেমড্রপ ,স্টাটার দেখা যায়নি।

ম্যাক্সিমাম ছিল ২৭০(গড় করে) , মিনিমাম ৬৪, ১% লো ৬৫ (এগুলো ও গড় করে) ।

ইউসেজঃ

আমার খেলা গেমগুলোর মধ্যে আমি সবথেকে বেশি বেশি গ্রাফিক্স মেমোরি ব্যবহ্বত হতে দেখেছি এই গেমটিতে। একটা ২০১৪ সালের গেম হিসেবে সবসময়ই ভির‍্যাম ইউসেজ ৭জিবি+ থাকাটা আমাকে সত্যিই অবাক করেছিল। অনেকক্ষেত্রেই তা 7.5 জিবি পর্যন্ত উঠে যেত।  র‍্যাম ইউসেজ ও ছিল অন্যন্য গেম থেকে অনেক বেশি। গেমটিতে সবসময়ই 6.5 জিবির আশেপাশে র‍্যাম ইউজ হয়েছে। যা কখনো কখনো ৭ জিবি পার হয়েছে, ৭.৫ জিবিতে গিয়েও ঠেকেছে।  সিপিইউ ইউসেজ সেরকম আহামরি বেশি ছিল না।

 

Remnant from the Ashes

এই গেমটি high settings এ খেলেছিলাম।।বিভিন্ন স্থানে প্রায় মোট ১ ঘন্টার অনেকগুলো বেঞ্চমার্কের গড় করে এভারেজ ফ্রেমরেট পেয়েছিলাম ৭০। বেশিরভাগ সময়ই ফ্রেমরেট ৬০+-৭০ এর মধ্যে উঠানামা করছিল outdoor এ এবং indoor এ তা সবসময়ই ৮০+/৯০ মত ছিল,outdoor এ graphically rich কিছু জায়গায় ৬০ এর নিচে ৫৫/৫৬ এরকম ছিল ।  ম্যাক্সিমাম ফ্রেমরেট গড় করে ১২০ পেয়েছি।

গেমপ্লে ছিল সম্পুর্ণ স্মুদ, গেমে এক মুহুর্তের জন্য ও ফ্রেমড্রপ, ল্যাগ, স্টাটারিং পাইনি।

minimum ও 1% লো ফ্রেমরেট ও ছিল খুবই ভালো, যথাক্রমে 48 ও 47 ।

ইউসেজঃ

এই গেমে সবসময়ই র‍্যাম ইউসেজ ছিল 5.5 জিবি এর আশেপাশে এবং সর্বোচ্চ তা ৬ জিবি পর্যন্ত গিয়েছিল।। VRAM Usage সবসময়ই ৪ জিবির বেশি ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা 5 জিবি ক্রস করে ৬ জিবির কাছাকাছি যেতে দেখেছি। সিপিইউ ইউসেজ লো ছিল।

 

Fast and Furious Crossroads:

সদ্য রিলিজ পাওয়া এই গেমটিকে নিয়ে ভালোই হাইপ ও জল্পনা কল্পনা ছিল, গেমটি প্রত্যাশা কতটুক পুরণ করতে পেরেছে সে আলোচনায় আমরা নাই বা গেলাম। কথা বলা যাক আমার এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে,1080p very high এ  গেমটি একদম শুরুর অংশ , এর পর বার্সেলোনার মিনি ট্রাক ড্রাইভ করে শহরে প্রবেশ, ভিয়েনার হাউজে যাওয়া, এবং রাতের স্ট্রিট রেস , এগুলো বেঞ্চমার্ক করা হয়েছে, এক্সপেরিয়েন্স তাতে যা পেয়েছি, ভয়াবহ। ফ্রেমরেট এভারেজ ছিল ৪০, ৬টি বেঞ্চমার্ক এর দুটিতে ৪৫-৫০ এর আশেপাশে এভারেজ পাওয়া গিয়েছে, বাকি প্রত্যেকটিতেই ফ্রেমরেট ছিল ৩০-৩৫ এর মধ্যে। তবে ফ্রেমরেট কম হলেও তা unstable ছিল না, উঠানামা করছিল না হঠাত, অর্থাৎ বেশ কনস্ট্যান্ট ছিল ফ্রেম। হঠাত করে ৪৫ থেকে ১৫,২০ বা ৩৫ থেকে ১৫,২০ এ ড্রপ হতে দেখিনি।

১% লো পেয়েছি গড় করে ২৮, মিনিমাম ২৯ ও ম্যাক্সিমাম ৮৬। গেমটি খুবই বাজেভাবে অপ্টিমাইজড বলতেই হবে।। Star wars, Plague Tale, WD 2 এর মত টাইটেলেও এত কম ফ্রেমরেট ছিল না।

ইউসেজঃ

গেমটিতে গ্রাফিক্স ইউসেজ ছিল সর্বনিম্ন ৪ জিবি ,র‍্যাম ইউসেজ ছিল সর্বনিম্ন ৬ জিবি । তবে  বেশিরভাগ সময়ই  র‍্যাম ইউসেজ ছিল ৭ জিবি, সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স ইউসেজ ছিল প্রায় ৫ জিবি। প্রসেসর ইউসেজ ছিল ২০-৪০% এর মধ্যে।

 

Call of Duty: Modern Warfare 2(2009)

গেমটি বেশ পুরনো কিন্ত যথেষ্ট জনপ্রিয়। যেহেতু FPS গেম, এই ক্ষেত্রে আমরা ৩টি মিশন খেলেছি যেগুলোর situations, surroundings ছিল সম্পুর্ণ ভিন্ন ভিন্ন। যাতে মোটামুটি একটি ধারণা দেওয়া যায় যে গেমটিতে কিরকম এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যেতে পারে । যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন মিশন এবং তাতে রেজাল্টগুলোতেও ছিল অনেক বেশি পার্থক্য সেজন্য সেগুলোকে আবার গড় করা হয়নি। এখানে ৩টি বেঞ্চমার্কেরই রেজাল্ট দেওয়া হলো।গেমটি ডিফল্ট  high সেটিংসে খেলা হয়েছে। গেমটি পুরাতন হওয়ায় ইউসেজ আলাদা ভাবে উল্লেখ করলাম না।

Cliffhanger:

বরফঘেরা এই মিশনটিতে এফপিএস পাওয়া গিয়েছে একেবারে মাত্রাতিরিক্ত। ১২ মিনিট মত খেলে এভারেজে ৩০০ এফপিএস ম্যাক্সিমাম ৬৪৫, মিনিমাম ১০০  এবং ১% লো পাওয়া গিয়েছে ১১২।

No Russian:

এই বিতর্কিত মিশনটি অনেকেরই মনে থাকার কথা। দুটি বেঞ্চমার্ক নিয়ে গড় করে এখানে এফপিএস পাওয়া গিয়েছে এভারেজে ১৭৭ , মিনিমাম ৮৬, ম্যাক্সিমাম ৫৩০ এবং 1% লো ফ্রেমরেট পাওয়া গিয়েছে ৭৫ ।

Takedown:

টেকডাউন মিশনটি অনেক বড় এবং প্রচুর পরিমানে একশনে পরিপুর্ণ। ওপেন দিনের বেলা আউটডোরে ব্রাজিলের রিও তে বিভিন্ন বাড়ি ঘরের বাইরের উঠান ,রাস্তা দিয়ে শুটিং। প্রায় আধা ঘন্টা খেলে এভারেজ পাওয়া গিয়েছে ২৪১ এফপিএস। মিনিমাম ছিল ৯৫, ম্যাক্সিমাম ৬৮৫ এবং 1% লো পাওয়া গিয়েছে ৯৬ ।

 

The Evil Within:

এই গেমটি পুরাতন হলেও গ্রাফিক্সের দিক দিয়ে অনেক প্রশংসার দাবি রাখে ।  পুরাতন হলেও অনেক গেমারই এরকম গেম এখনো খেলে থাকেন।  গেমটি 60FPS লকড এবং একে সাধারণভাবে আনলক না করতে পারার কারণে এই ভাবেই টেস্ট করা হয়েছে। ম্যাক্স সেটিংসে ৬০ এফপিএসই প্রায় সবসময়ই কন্সট্যান্ট পাওয়া গিয়েছে কোনো ল্যাগ ছিল না । ফ্রেমড্রপ সামান্য যা ছিল সেটাও ৪৫/৫০ মত। বাকিটা সময় ৬০ ফ্রেম রেটই পাওয়া যাচ্ছিল সবসময়। মিনিমাম ৩০ ও 1% লো পাওয়া গিয়েছে ৫৭।

 

Hitman Absolution:

stealth,detective ঘরানার গেমগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি franchise হচ্ছে Hitman. হিট্ম্যানের এই গেমটি কাস্টম সেটিংসে দুটি মিশনে প্রায় আধা ঘন্টা খেলা হয়েছে। প্রথমটিতে ২০ মিনিট খেলে একাধিক বেঞ্চমার্ক রান করে এভারেজ পাওয়া গিয়েছে ১০৫ এফপিএস। Maximum ছিল 218, মিনিমাম 20 এবং 1% লো ছিল 44 এফপিএস। গেমটির স্টার্টআপ মিশন ছিল এটি, বাগানের মধ্যে প্রচুর অবজেক্ট, ডিটেইলস এর মধ্যে ফ্রেমরেট ৪০-৬০ এর মধ্যে নেমে এসেছিল বাকিটা সময় >100 ফ্রেমরেট পাওয়া গিয়েছে। Indoor এ তুলনামুলক বেশি ফ্রেমরেট পাওয়া যাচ্ছিল। এ ছাড়াও rooftop এ ব্যাকগ্রাউন্ডে সমুদ্র,দ্বীপ এর পজিশনগুলোতেও ১০০ এর উপরে ফ্রেমরেট সবসময়ই ছিল যেজন্য এভারেজে ১০০ এর উপর রেজাল্ট এসেছে।

পরের দুটি মিশনের বেঞ্চমার্কের গড় করে এভারেজ ফ্রেমরেট পাওয়া গিয়েছে ১৪৫, মিনিমাম ৭৭ এবং ম্যাক্সিমাম ২৭৫। 1% লো পাওয়া গিয়েছে ৮৮ এফপিএস। গেমপ্লে একদমই স্মুদ ছিল এবং ফ্রেমরেট ১৩০/১৪০/১২০.১৫০ এর রেঞ্জেই বেশি উঠানামা করছিল।

ইউসেজঃ

সিস্টেম র‍্যাম ইউসেজ ছিল 3.5gb এর আশেপাশে এবং ভিডিও মেমোরি ইউসেজ ছিল ২ জিবির কম। ইন্টেন্স এরিয়া গুলোতে সিপিইউ ইউসেজ ৫০ এর কাছাকাছি উঠতে দেখা গেছে। বরাবরের মত সিপিইউ ক্লক 3.4ghz এই ছিল।

 

Yakuza Kiwami:

এই গেমটি অন্য গেমগুলো থেকে যথেষ্ট ভিন্ন এবং এর আলাদা একটি ফ্যানবেস রয়েছে সেজন্যই আমরা আমাদের টেস্টে এই গেমটিকে রেখেছি। Sega এর ডেভেলপ করা এই গেমটি টোকিয়ো এর রাতের শহরের ঝলকানি দেখা যাবে , ইনডোর আউটডোর স্ট্রিটে বিভিন্ন স্টাইলের ফাইটিং ও কম্বো এবং সিনেমার মত স্টোরি অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

চারটি বেঞ্চমার্ক করা হয়েছে। স্ট্রিটের ইন্টেন্স প্লেসে ,crowd যেখানে অনেক বেশি সেসব জায়গা তে এফপিএস ৮০-১০০ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে, অলি গলিতে ১০০+ হয়ে ১৩০/১৪০  হয়  আউটডোরে ১৭০,১৮০ এরকম এবং ইনডোরে ২৩০,২৪০ এরকম পাওয়া গিয়েছে।

চারটি বেঞ্চমার্ক করা হয়েছে সর্বমোট ৭০ মিনিট গেমপ্লে করা হয়েছে । চারটি গড় করে এভারেজে পাওয়া গিয়েছে ১৩৯ এফপিএস। মিনিমাম ৬৪, 1% লো ও ৬৪ এবং ম্যাক্সিমাম ২২২।  গেমে ল্যাগ,ফ্রেমড্রপ একদমই ছিল না।

ইউসেজ:

গেমটিতে র‍্যাম ,ভিডিও মেমোরি ইউসেজ ছিল খুবই লো। 3300MB এর আশেপাশে ছিল সিস্টেম মেমোরি ইউসেজ এবং ভিডিও মেমোরি ইউসেজ ছিল 1400 Mb এর ও কম।

 

Castlevania Lords of Shadow:

গেমটি অনেক পুরনো এবং যেকোনো সিস্টেমেই ভালোভাবেই চলবে। অনেকেই এখনো পুরাতন প্রিন্স অফ পার্সিয়া টাইপ গেম খেলতে পছন্দ করেন বা এই ধরনের গেম খুজেন ও। তাদের জন্যই এই গেমটি রাখা। ইনডোর আউটডোর এ মুভমেন্ট দেয়াল বেয়ে ওঠানামা, ব্যাকগ্রাউন্ডে বরফঘেরা পাহাড় আর একটি বসফাইট , আমরা বেছে নিয়েছিলাম এরকমই একটি মিশন বেঞ্চমার্কের জন্য। ভেরি হাই সেটিংসে ২০ মিনিট খেলে এভারেজ এফপিএস পাওয়া গিয়েছে ১৬২ মিনিমাম ১১৮, ম্যাক্সিমাম ৩৯৬ এবং 1% লো ফ্রেমরেট ছিল ১২৪।

 

ফিফা 19:

ডিরেক্টএক্স 11API, High Rendering Settings (ultra এর আগেরটা) দিয়ে ODromo Stadium এ রাতের বেলা Brazil vs Argentina ম্যাচ দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল।।(ফার্স্ট হাফ আলাদা এবং সেকেন্ড হাফ আলাদা) স্টেডিয়ামের কথা এজন্য উল্লেখ করা যে ফিফাতে ফ্রেমরেট স্টেডিয়াম থেকে স্টেডিয়াম আলাদা হয় এবং অনেক সময় 10/15/20 এফপিএস পর্যন্ত পার্থক্য হয়।।(কাটসিনগুলো স্কিপ করা হয়েছে কারণ এতে মিনিমাম ও ১% লো ৩০ এ গিয়ে ঠেকে কারণ কাটসিন ৩০ এফপিএস এ লক)

দুই হাফ মিলিয়ে দুটি আলাদা বেঞ্চমার্কের গড় করে এভারেজ এফপিএস পাওয়া গিয়েছে 163, ম্যাক্সিমাম 183 , এবং 1% low 112 এফপিএস।।।উল্লেখ্য যে ডিরেক্টএক্স ১২ এ খেললে ডিটেইলস/গ্রাফিক্সে কোনো উন্নতি হয়না কিন্ত ফ্রেমরেট থাকে ১১০/১১৫। সুতরাং শুধু শুধু ডিরেক্টএক্স ১২ এ খেলার মানে নেই বলেই মনে হয়।

ইউসেজঃ

সিস্টেম র‍্যাম ইউসেজ ছিল ৬ জিবির উপরে এবং সিপিইউ ইউসেজ ৩০-৪৫ এর মধ্যে উঠানামা করছিল। ভিডিও মেমোরি ২ জিবির উপরে ছিল। এখানেও সিপিইউ 3.4Ghz এই রান করেছে।

 

Pro Evolution Soccer 19

এটিও একটি স্পোর্টস গেম এবং ফুটবল গেম তবে গ্রাফিক্সের দিক দিয়ে এবং গেমপ্লে এর দিক দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে দুটি গেমে। বরং গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে আমার কাছে PES  বেশি rich মনে হয়।। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এই গেমটির ফ্রেমরেট 60 তে লক করা এবং বেশ ইউটিউব, গুগল ঘেটেও আনলক করার সিস্টেম না পাওয়াই লকড অবস্থাতেই খেলেছি ডিফল্ট সেটিংসে (maxed out) ।।। ফলাফল কমবেশি Evil within এর মতোই।। অর্থাৎ কোনো ফ্রেমড্রপ নেই।।  কনস্টান্ট 60 এফপিএস।। 1% 49, সর্বনিম্ন 54।

 

ইউসেজঃ

গেমটিতে সিপিইউ ইউসেজ ছিল সবসময়ই ৪০-৫০% এর মধ্যে।  মেমোরি ইউসেজ চার জিবির সামান্য বেশি দেখা গিয়েছে এবং ভিডিও মেমোরি ইউসেজ ও অনেক কম, ১.৫/১.৭ জিবি দেখা গিয়েছে। সিপিউ ক্লক স্পিড অন্যন্য গেমের মতই ছিল।

 

Cricket 19:

Big Ant Studio এর ডেভেলপ করা ক্রিকেটের প্রতিটি গেমই অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। অনেক রিয়ালিস্টিক  এবং এক্সাইটিং গেমপ্লে এর সাথে অসাধারণ গ্রাফিক্স মিলিয়ে ক্রিকেট লাভারদের কাছে অনেক প্রিয় এই ফ্রাঞ্চাইজির সবগুলো গেমই। ক্রিকেট ১৯ গেমটি আমরা খেলেছি ডিফল্ট গ্রাফিক্স সেটিংসে (very high), অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড এর ৫ ওভারের ম্যাচ 8.00PM টাইম দিয়ে লর্ডস স্টেডিয়ামে খেলা ম্যাচটিতে ১৭ মিনিট ও  ১৯মিনিটের ২টি বেঞ্চমার্কে এভারেজ এফপিএস পাওয়া গিয়েছে ৯৬, মিনিমাম ৫৮.৫ এবং ম্যাক্সিমাম ১৫০, ১% লো ও উভয় ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছে ৭৮। তবে গেমপ্লে তে কোনো ফ্রেমড্রপ একদমই লক্ষ করা যাবে না ।

ইউসেজঃ

গেমটি একটি স্পোর্টস গেম হলেও আমার কাছে যথেষ্ট গ্রাফিক্যালি রিচ এবং ডিমান্ডিং মনে হয়েছে। র‍্যাম ইউসেজ  ৪৭০০/৪৮০০ মেগাবাইট ছিল কিছু সময় তবে বেশিরভাগ সময় ৫ জিবির উপরে ছিল  এবং গ্রাফিক্স মেমোরি ইউসেজ ৩ জিবি মত। সিপিইউ ক্লক স্পিড আগের মতই 3.4 Ghz দেখা গিয়েছে। পাওয়ার ইউসেজ সর্বোচ্চ অর্থাৎ ১২৫ ওয়াট ছিল।

 

Counter Strike:Global Offensive

কাউন্টার স্ট্রাইক খেলা হয়েছে কাস্টম সেটিংসে, ডাস্ট ২ ম্যাপে ক্যাজুয়াল ম্যাচ খেলা হয়েছে। একদমই রিয়েল লাইফ গেমপ্লে এর মত করেই বেঞ্চমার্ক করা হয়েছে ,রিপ্লাই ছিল, অন্য প্লেয়ারের ক্যামেরা ভিউ ছিল সবই ছিল। এতে এভারেজ এফপিএস ছিল ১৮০, মিনিমাম ৯১, ১% ৮৪ এবং ম্যাক্সিমাম ৩১১।

 

অন্যন্যঃ

এই টেস্ট এর বাইরেও এই সিস্টেমে পুর্বে আরো অনেক গেম খেলা হয়েছে।। মাস্টারপিস Devil May Cry 5 আল্ট্রাতে ১১০/১২০/১৩০ এফপিএস উঠতো রেগুলার। অবশ্যই এই গেমটির অপ্টিমাইজেশন অতুলনীয়। ফারক্রাই নিউ ডন এও ৬০/৭০ এফপিএস সবসময়ই পাওয়া গিয়েছে কোনো ল্যাগ স্টাটার,ফ্রেমড্রপ ছাড়া। তবে Watch dogs 2 গেমটিতে ৬০ এফপিএস এর খুব বেশি পাওয়া যায়নি (কিছুক্ষেত্রে ৭০,৮০+ উঠতো, কিছুক্ষেত্রে ৪০-৫০)। ফার ক্রাই ৪ এ হাই ও মিডিয়াম মিক্স করে সবসময়ই ৭০-৮০/৯০ এফপিএস পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে। ।  Code Vein গেমটি ৬০ এফপিএস লক ছিল এবং সবসময়ই গেমটিতে স্মুদলি ৬০ এফপিএস মেন্টেন করতে দেখা গিয়েছে। আরো খেলা হয়েছে Wolfenstein New Order, NFS Payback,Batman Arkham Origins,Arkham Knight, Metro Exodus এর মত টাইটেল। হাই/আল্ট্রা/Very High সেটিংসে প্রায় সবগুলোই বেশিরভাগ সময়  ৬০+ এফপিএস দিতে সক্ষম ছিল।  অন্যন্য গেম সম্পর্কে আরো ধারনা পেতে হয়তো আপনারা ইউটিউবের সাহায্য নিতে পারেন।

টেম্পারেচার নিয়ে আলোচনাঃ

আগেই বলে নেওয়া হয়েছে যে টেস্টগুলো MSI Afterburner দিয়ে User Defined ফ্যান কার্ভে করা হয়েছে। কেসিং এ ৩ টি ফ্যান টোটাল, সামনে ২ টা এবং পিছনে ১ টা। প্রসেসরের থার্মাল পেস্ট অক্টোবরে লাগানো হয়েছে। প্রসেসর তার বিল্ট ইন ফ্যানেই চলছে। ফ্যান স্পিড সম্পর্কে জানিয়ে রাখছি যে ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস টেম্পারেচারে ফ্যান স্পিড ৮০% , ৭৫ ডিগ্রী এর জন্য ৭৫%, ৭০ ডিগ্রী এর জন্য ৭০% এভাবে কার্ভটি প্রোগ্রাম করা ।এটা এমএসআই এর ডিফল্ট বলা যায়। তবে পাওয়ার সেভিং এর জন্য 40 এর নিচের টেম্পারেচারের জন্য আমি কিছুটা পরিবর্তন করেছিলাম।

আমরা যদি ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর কম টেম্পারেচারকে সেফ বলে ধরে নি তাহলে ৯৫% সময়ই জিপিইউ টেম্পারেচার সেফ ছিল বলা যায়। AAA টাইটেলগুলোতে টেম্পারেচার সাধারণত জিপিইউ টেম্পারেচার  ৭৫-৮০ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে এবং ৮০ তে পৌছালেও তার থেকে বাড়ে না কখনোই। এবং এসব ক্ষেত্রে প্রসেসর টেম্পারেচার কখনোই 60-63/64 এর উপরে যায়নি । এর একটি কারণ হতে পারে যে প্রসেসরটি 3.4ghz এর উপরে কখনোই ক্লকড হয়নি কারণ হয়তো প্রসেসরটি আড়াই বছর মত পুরনো , আমার মনে হয় অন্যন্য ইউনিটের ryzen 5 1600 ও যে 3.4 গিগাহার্জেই থাকবে ব্যাপারটা তা নয় এবং আমাদের টেস্টের প্রসেসরটি যদি 3.8,3.9 এ নিয়ে যাওয়া যায় সেক্ষেত্রে পারফর্মেন্স এর সাথে সাথে তাপমাত্রা ও বাড়বে হয়তো ৭০ এর আশেপাশে বা ৭০ এর উপরে যেতে পারে।

মিডিয়াম লেভেলের গেমগুলোতে সর্বোচ্চ ৭৫/৭৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা লক্ষ করা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ৭০ এর নিচে, কিছু কিছু গেমে৬৫-৬৬ এরকম থাকে। Vsync চালু করে গেম খেললে AAA গেমস সহ সবগেমেই টেম্পারেচার বেশ কমে আসে ।  Far Cry New Dawn গেমটিতে vsync ছাড়াই সবসময়ই ৬০-৬৫ এর আশেপাশে টেম্পারেচার পেয়েছি আমি।এবং মিডিয়াম গেমগুলোতে প্রসেসর টেম্পারেচার অনেক সময়ই ৬০ এর নিচেও চলে যায় যা রাইজেন প্রসেসর হিসেবে যথেষ্ট প্রশংসার দাবী রাখে ।

উপরের A plague Tale,Star Wars, Hitman এই গেমগুলোতে সবসময়ই কার্ডের তাপমাত্রা 75 এর উপরে ছিল এবং সর্বোচ্চ ৮০ পর্যন্ত পৌছেছিল।এগুলো ছাড়াও কোনো গেমেই টেম্পারেচার আমি ৮০ এর উপরে যেতে দেখিনি। এই সব ক্ষেত্রে প্রসেসর এর টেম্পারেচার ছিল সবসময় ই ৬৩,৬৪ মত। call of duty এর ক্ষেত্রে টেম্পারেচার বরফ এর মিশনটিতে ৮০ ,৭৮,৭৯ এরকম দেখা গেছে (এবং ice আছে এরকম যেকোনো গেমের যেকোনো স্টেজেই আমি লক্ষ করেছি ওই মোমেন্টগুলোতে জিপিইউ টেম্পারেচার অনেক হাই থাকে ,যেমন far cry 4) । কল অফ ডিউটিতে বাকি স্টেজগুলোতে ৭৫ এর নিচে ছিল টেম্পারেচার এবং স্থান ভেদে ৭০ এর নিচেও ছিল।জিটিএ ফাইভে অসাধারণ টেম্পারেচার দেখা গিয়েছে, Vsync অন করে ৬১,৬২/৬৩ এবং Vsync অফ অবস্থায় ৬৬-৬৮/৬৯ এর মধ্যেই উঠানামা করেছে টেম্পারেচার।  তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, Castlevania গেমটি ১০ বছর পুরাতন হওয়া সত্বেও এই গেমেও AAA টাইটেলগুলোর মত ৭৫+ থেকে  ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস টেম্পারেচার দেখা গিয়েছে প্রতিটা স্টেজেই।

ফিফা, পেস ,csgo এই গেমগুলোতে সবসময় টেম্পারেচার ৭০ এর নিচেই থাকে এবং বেশিরভাগ সময় ৬৬/৬৫/৬৪ ডিগ্রী থাকে।  তবে ক্রিকেট গেমটিতে কিন্ত AAA গেমগুলোর মতই টেম্পারেচার পেয়েছি সবসময়ই ৭৫ এর বেশি এবং সর্বোচ্চ ৮০। এই ক্ষেত্রে প্রসেসর টেম্পারেচার ৬৫ পর্যন্ত উঠেছে।

ক্রাইসিস ৩ এর ক্ষেত্রে পুর্বে আমি যখন খেলেছিলাম প্রথম মিশনে বারবার টেম্পারেচার ৮০ ক্রস করে ৮৯ পর্যন্ত চলে যাচ্ছিল এবং thermal throttling হচ্ছিল যার জন্য আমাকে গেমটি বাদ দিতে হয়েছিল। এবার টেস্ট এর ক্ষেত্রে কিন্ত এরকম কিছু হয়নি । অনেক সময়ই গেমটি ৭০ এর নিচে ছিল জিপিইউ এর টেম্পারেচার এবং কিছু সময় ৭০-৭৫ এবং সর্বোচ্চ ৮০ হয়েছিল।

XFX এর হিটিং ইস্যু?

এক কথায় উত্তর দিলে, হ্যা……।

প্রথমত ফ্যাক্টরি সেটিংসে ৬০ ডিগ্রী এর নিচে ফ্যান ঘুরে না এই কার্ডে।। এবং ৬০ এর পর ফ্যান চালু হয় তবে তার স্পিড মোটেও খুব বেশি উঠে না টেম্পারেচার এর সাথে সাথে। ফলে টেম্পারেচার দ্রুত বেড়ে যায় এবং সে অনুসারে ভালোমত রেসপন্স করে না গ্রাফিক্স কার্ডটির thermal unit । অর্থাৎ টেম্পারেচার বাড়ার ফলে যতটুক ফ্যান স্পিড বাড়া উচিত ততটুক বাড়ে না। এজন্যই কাস্টম কার্ভ ইউজ করতে বাধ্য হয় ইউজার। এক্ষেত্রে অবশ্যই ফ্যান ছাড়াও কুলিং এর জন্য যে পার্টগুলো কাজ করে সেগুলো ও দায়ী। সুতরাং এখানে আপনারাই বিচার করেন যে এর কুলিং পারফর্মেন্স কতটুক ভালো।

কাস্টম ফ্যান স্পিডে XFX/RX 570 এর থার্মাল পারফর্মেন্সঃ

MSI থেকে ফ্যান স্পিড User Defined সিলেক্ট করলে উপরের সমস্যা 95% ক্ষেত্রে সল্ভ হয়ে যায়। কারণ তখন তাপমাত্রা সবসময়ই ৮০ এর নিচে বা ৮০ থাকে সর্বোচ্চ, এ নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রচুর গেম খেলা হয়েছে এই সিস্টেমে। এবং এতে টেম্পারেচার ৮০ পার হয়ে যাওয়া   খুব অল্প কয়েকবার দেখেছি আমি।  একটি হচ্ছে পাবজি, যেটিতে কাস্টম কার্ভেও ৮০ পার হয়ে গেছিল টেম্পারেচার ৮৫ ,৮৬ পর্যন্ত উঠেছিল । এবং আরেকটি গেম হচ্ছে crysis 3 যেটির সমস্যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে (আমাদের টেস্টের সময় আবার সেটি সল্ভ হয়ে গিয়েছিল)

সুতরাং কাস্টম ফ্যান স্পিডের সাথে এই গ্রাফিক্স কার্ডকে বিচার করতে গেলে অবশ্যই বলতে হয় যে পারফর্মেন্স সন্তোষজনক ।  এখানে খুব বেশি অভিযোগ করা যাবে না এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমি সন্তুষ্ট। এমনকি রুফ কুলিং ও আরো ভালো এয়ারফ্লো যুক্ত কেসিং এ এই পারফর্মেন্স আরো ভালো পাওয়া যেতে পারে।

কাস্টম ফ্যান স্পিড কতটুক সেফ??

এখানে অনেক দ্বিমত রয়েছে। কাস্টম ফ্যান স্পিড ফ্যানের লাইফটাইম কমিয়ে দেয় এটি আমি একদমই বিশ্বাস করিনা। কাস্টম স্পিড যদি হয় variable অর্থাৎ টেম্পারেচারের সাথে সাথে উঠানামা করবে সেক্ষেত্রে স্পিড কখনোই ১০০% এ যাওয়ার কথা না। যদিনা আপনি কয়েক মাস বা বছর একটানা ১০০% স্পিডে চালান তবেই আপনার জিপিইউ এর ফ্যানের লাইফ কমতে পারে বা নষ্ট হতে পারে অন্যথায় নয়। কারন variable ফ্যান স্পিডে অনেক ক্ষেত্রেই স্পিড 60,70 % এর বেশি উঠে না। আর কমনসেন্স দিয়ে চিন্তা করলেও বলা যায়, ফ্যান এর কাজই ঘোরা। এখনকার গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর ফ্যানগুলোও যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তি ও materials দিয়ে প্রস্ততকরা । ৮,১০ বছরের নিচে কোনো কার্ডের ফ্যান ডেড হওয়ার কথা না সাধারণত এবং ততদিনে ৯৫% ব্যবহারকারী অন্য একটি গ্রাফিক্স কার্ডে শিফট হয়ে যাবেন।

 হিটিং ইস্যু XFX ছাড়া অন্যন্য ব্রান্ডগুলোর rx 570 কার্ডগুলোতে নেই বললেই চলে সুতরাং সেক্ষেত্রে কোনো চিন্তা নাই যদি Sapphire,msi,gigabyte,asus এর কার্ড নিতে চান

তবে………………।। এখানে একটি কিন্ত আছে…………।।

ফ্যান স্পিড বাগ of MSI Afterburner:

সমস্যাটি হচ্ছে অনেক সময়ই দেখা যায় যে গেম চালু করলেও ফ্যান স্পিড বাড়ে না , স্টার্টআপ এ যা ছিল তাই থাকে, ফলে গেমের টেম্পারেচার স্বাভাবিক ভাবে বাড়লেও ফ্যান স্পিড না বাড়ায় টেম্পারেচার প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে এবং একসময় ৮০ ক্রস করে ৮৯ এ চলে যায়।

সমাধান?

সমাধান খুবই সহজ, পিসি রিস্টার্ট দিলেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। অর্থাৎ রিস্টার্ট দিয়ে গেম চালু করলে স্বাভাবিক ভাবেই ফ্যান স্পিড বাড়ে টেম্পারেচার এর সাথে।। শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে। আমি নিজেও xfx সহ অন্য কোনো rx 570 এর ক্ষেত্রে আমি আর কোনো ইউজারের এরকম অদ্ভুত সমস্যার কথা একবার ও শুনিনি।

***পোস্টটি লিখতে লিখতেই ,কিছুদিন যাবত সমস্যাটি আমার কাছে সমাধান হয়েছে বলে মনে হয়েছে, আপাতঃদৃষ্টিতে যা মনে হলো সেটি হচ্ছে ইস্যুটি ছিল এমএসআই এর প্রোফাইলে সেভ করা সংক্রান্ত, সমাধানঃ আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ফ্যান স্পিডের চেঞ্জটি একটা প্রোফাইলে সেভ করে দিলে এই সমস্যাটা হবে না***

হিটিং ইস্যু এর ৩টি প্রধান সমাধানঃ

  • কাস্টম ফ্যান স্পিডঃ ফ্যান স্পিড কাস্টম থাকলে ৯৫% ক্ষেত্রে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলা যায়।
  • Vsync অন করাঃ Vsync অন করে ৬০ এফপিএস এ লক করে গেম খেললে বেশিরভাগ গেমে টেম্পারেচারে বেশ অনেক খানি ড্রপ দেখতে পাওয়া যাবে।
  • রুফ কুলিংঃ হ্যা,আপনার কেসিং এ রুফ কুলিং এর অপশন থাকলে রুফে একটি বা দুইটি ফ্যান লাগালে টেম্পারেচার আরো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

***উপরের হিটিং ইস্যু এবং ফ্যান স্পিড বাগটি শুধুই এক্সএফএক্স এর জন্যই প্রযোজ্য এবং অন্যন্য Sub-vendor এর কার্ড যেমন শ্যাফায়ার,এমএসআই/গিগাবাইট/আসুসের কার্ডে এরকম কোনো ইস্যু নেই বলেই রায় দেওয়া যায় এবং উক্ত ব্রান্ডের কার্ড গুলো কেনার ক্ষেত্রে আপনার দুশ্চিন্তার একেবারেই কারণ নেই***

পারফর্মেন্স পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তঃ

প্রথমত আপনাকে ২০২০ এ RX 570 এবং Ryzen 5 1600 কে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড জিপিইউ হিসেবেই টার্গেট করতে হবে কারণ বাজারে Ryzen 5 1600 নেই অনেক মাস ধরে। এবং RX 570 সামান্য কিছু রয়েছে যার দাম হিসেবে কেনা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয় কারণ ওই দামে প্রচুর ভালো কার্ড এখন রয়েছে। সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে ২০২০ এর পরিস্থিতির জন্য ১১-১২/১৩ হাজার এ পাওয়া যাবে কার্ডগুলো।। পরিস্থিতি এরকম না হলে এগুলো ১০ এর নিচেও পাওয়া যেত। এবং এই প্রাইস বিবেচনায় আনলে অনেক অনেক ভালো একটি গ্রাফিক্স কার্ড rx 570 . AAA গেমগুলোতে Ryzen 5 1600 বা 2600/1500x/1700 এই লেভেলের প্রসেসর এর সাথে চালালে উপরের বেঞ্চমার্কগুলোর মতই রেজাল্ট পাবেন। অনেক ক্ষেত্রে 80,90 এফপিএস ও পাওয়া যাবে। একটু ভারি ,ডিমান্ডিং গেমগুলোর ক্ষেত্রে ৬০ এর সামান্য কম , অপ্তিমাইজেশন খারাপ হলে ৪০-৫০ এফপিএস ও পাওয়া যাবে হায়েস্ট সেটিংসে  যা যথেষ্ট ভালো এক্সপেরিয়েন্স ই দিবে । বেশি ল্যাগ বা স্টাটার করলে অবশ্যই সুযোগ তো আছেই ultra থেকে very high/high এ নামিয়ে আনা বা বিভিন্ন অপশন বিভিন্ন preset মিক্স করে (যেটিকে Tweak করা ও বলে) এফপিএস অনেক খানি বাড়িয়ে নেওয়া। আজকালকার গেমগুলোতে বেশিরভাগ ইউজারই ৯৫% ক্ষেত্রে ultra থেকে very high প্রিসেটে ভিজুয়ালে তেমন কোনো পার্থক্য খুজেই পাবেন না। বড় বড় টেক ইউটিউবাররাও সাজেস্ট করে থাকেন যে ভেরি হাই বা হাই তে খেলতে আল্ট্রার পরিবর্তে। আরেকটি বিষয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই Ultra থেকে very হাই এ প্রিসেট চেঞ্জ করলে বিশাল উন্নতি দেখা যায় ফ্রেমরেটে এবং স্টাটার/ফ্রেমড্রপ অনেক কমে যায়।

একসময় প্রাইস ড্রপের পর সেরা কার্ড হিসেবে বাজারে ছিল অনেকদিন কার্ডটি। এখন সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটেও দাম অনুযায়ী সেরাই রয়েছে।

এবার আসা যাক প্রসেসরটির দিকে।আমার ইউনিটের ক্লক স্পিডটি দেখলে একটু কম কমই লাগতে পারে। গেমিং এ 3.4 Ghz বেশ কমই। কিন্ত পারফর্মেন্স এর দিকে তাকালে গ্রাফিক্স কার্ডটির মত Ryzen 5 1600 অনেক value for money বলা যায়। Hardware Unboxed এর (২০১৯) রিভিউ অনুসারে কার্ডটি Core i5 7600k এর থেকে গেমিং এ বেশ এগিয়ে এবং মাল্টিটাস্কিং এ এখনো ইন্টেলের অনেক প্রসেসর থেকে এগিয়ে।

কত দামে কিনবেনঃ

প্রসেসরটি বর্তমানে 6000-7500 টাকার মধ্যে বেশ ভালো একটি ডিল হতে পারে। মোটামুটি এই দামের মধ্যেই সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে পেয়ে যাবেন।  এখনো দুই একটা শপ নিয়ে আসে Brand new Ryzen 5 1600 । তাদের কাছে ৭৫০০/৮৫০০ এরকম দামে সম্পুর্ণ ওয়ারেন্টি সহ পেয়ে যাবেন প্রসেসরটি।

গ্রাফিক্স কার্ডটি বর্তমানে 11-12 হাজারে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায় । দামটি বেশি মনে হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাভাবিক। কেননা এর উপরের লেভেলের কার্ডগুলো অর্থাৎ RX 5500XT,1650Super কিনতে আপনাকে কমপক্ষে 18.5/19 হাজার খরচ করতে হবে এবং নতুন কার্ড হওয়ায় ওগুলোর সেকেন্ড হ্যান্ড ডিল পাবেন না আপনি (পেলেও দাম অবশ্যই ১১-১২ এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি) , এমনকি RX 580 ও ১৩/১৪ এর নিচে খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না এই পরিস্থিতিতে। তাই 570 এর ১১/১২ হাজার দাম মোটামুটি ঠিক বলা যায়,  তবে সেরা দাম ১০-৯।

উপসংহারঃ

গ্রাফিক্স কার্ডটি ভ্যালু অনুসারে অসাধারণ পারফর্ম করার কারণে এখনো রয়েছে অনেকের আগ্রহের তালিকায়। কিন্ত বর্তমানের রিসোর্স ডিমান্ডিং গেমগুলোতে কেমন পারফর্ম করবে এবং আরো স্পষ্ট করে বললে সাধারণ ইউজারের দের environment এ ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস ভর্তি সিস্টেমে, একটি 7000,8000টাকার প্রসেসর এর সাথে কেমন পারফর্মেন্স পাওয়া যেতে পারে এই আইডিয়া ইউটিউব দেখে পাওয়া খুবই কষ্ট এবং ইউটিউবের ভিডিওগুলো অনেকক্ষেত্রেই Impractical হয়ে থাকে এবং বাস্তবে সেরকম পারফর্মেন্স পাওয়া যায় না । এগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতেই আমাদের এই বিশেষ টেস্টটি ছিল। আশা করা যায় সবাই উপকৃত হয়েছেন এবং সকল প্রশ্ন, দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হয়েছে। সাথে এন্ট্রি লেভেল প্রসেসর হিসেবে Ryzen 5 1600 কেমন পারফর্ম করবে তাও আপনারা আইডিয়া পেয়ে গিয়েছেন।এবং আরো একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় , কাছাকাছি লেভেলের হওয়ায় বাজেট বিল্ডে জিপিইউ,সিপিইউ গুলোর পারফর্মেন্স এর ডিফারেন্স থাকে কম, তাই এই টেস্ট থেকে RX 580, GTX 1060 বা Ryzen 5 1600AF কেমন পারফর্ম করবে সেটির ও একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।  আজ এ পর্যন্তই।। ধন্যবাদ।