একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন যে স্মার্টফোন কিন্তু মোবাইল নয়, যেমন টেলিফোন মোবাইল নয়। মানে প্রথমে টেলিফোন আসে, তারপর আসে মোবাইল ফোন এবং বর্তমানে আমরা যেটা ব্যবহার করছি সেটা হলো স্মার্টফোন! আর বর্তমান যুগে বাটন সেটকেও মোবাইল ফোন বলা হয় না, বলা হয় ফিচার ফোন! যাই হোক, এতগুলো ফোনের চক্করে আপনাকে ফেলতে চাই না। আজ আমি এমন কিছু স্মার্টফোনের লিস্ট নিয়ে এসেছি যেগুলোকে আপনি ২০১৯ সালে মানে বর্তমানে না কেনাই উত্তম বলে আমি মনে করি। এই ডিভাইসগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে যার কারণে এইগুলো কিনলে শুধু শুধু টাকার অপচয় হবে। বিশেষ করে পুরোনো মডেলের ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ডিভাইস বর্তমানে বিভিন্ন স্মার্টফোন শপে ঢালাও করে প্রচার সহকারে কমমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। শুধুমাত্র আইফোন নয় পুরাতন অনেক ফোনগুলোও এই তালিকায় রয়েছে। তো চলুন ভূমিকায় আর কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই কোন ফোনগুলো আপনার ২০১৯ সালে কেনা উচিত নয়।

Android Go স্মার্টফোন!

অ্যান্ড্রয়েড ৮.১ এর লাইট সংস্করণ হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড গো কে বছর দুয়েক আগে বাজারে আনে গুগল। মূলত লো এন্ড মাকের্টের উপর টার্গেট করে এটাকে রিলিজ করা হয়। কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এই তামাম Android Go স্মার্টফোনগুলোকে না কেনার জন্য আমি সাজেস্ট করবো। কারণ এই স্মার্টফোনগুলোতে ১ গিগাাবাইট র‌্যাম দেওয়া থাকে! গেমিং তো দূরের কথা আপনি ফেসবুক এবং মেসেঞ্জারের মূল সংষ্করণ চালাতে গেলেই এই স্মার্টফোনগুলোর ১২টা বাজিয়ে ফেলবেন। এছাড়াও এই স্মার্টফোনগুলোতে ইউটিউব, গুগল, ক্রোম ইত্যাদির সবকিছুই “Go” সংস্করণ মানে লাইট সংস্করণ দিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে ৩ গিগাবাইট র‌্যামের নিচের কোনো ডিভাইসকেই কেনা উচিত নয়। ২ গিগাবাইট র‌্যামের ডিভাইস ইতিমধ্যেই প্রায় ইউজলেস হয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ সবাইকে নূন্যতম ৪ গিগাবাইট র‌্যামের স্মার্টফোনে আপগ্রেড হবার জন্য আমি অনুরোধ করবো। বেশি না মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো ব্রান্ডের ৪ গিগাবাইট র‌্যামের ডিভাইস পাওয়া যায়।

Iphone 6 এবং 6 +

আইফোনের ইতিহাসে সবথেকে বির্তকিত মডেল হচ্ছে এই আইফোন ৬ এবং ৬ প্লাস। যদিও সিরিজের প্রথম “বড়” ডিসপ্লেওয়ালা ডিভাইস হলেও এই আইফোন ৬ সিরিজের ডিভাইসগুলো “বেন্ড” বা বাঁকা হয়ে যাবার জন্য বিশ্বব্যাপী বির্তকিত হয়েছিলো। মজার ব্যাপার হলো চিপ বা সস্তা মেটাল ব্যবহারের কারণে এই সমস্যাটি হয়েছিলো, কিন্তু আইফোন ৬ এর থেকে ৬ প্লাস মডেলগুলো তুলনামুলকভাবে বেশি বাঁকা হয়ে যেতো।
এই আইফোন ৬ এবং ৬+ মডেলগুলো এখনো রিফাব্রিশ হয়ে নতুন এবং সেকেন্ডহ্যান্ড নামে ঢাকার বিভিন্ন শপে এবং দেশের বিভিন্ন স্মার্টফোন শপে ১৬ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভূলেও এই মডেলগুলো কিনতে যাবেন না।

LG G4

অনেকেই বলবেন আইফোনের পুরোনো মডেল এখনো অহরহ পাওয়া গেলেও এই এলজি সিরিজের আগের ফোনগুলো কোথায় পাওয়া যায়? আমি নিজে উত্তরার একটি শপিং কমপ্লেক্সে এই ডিভাইসটি দেখে এসেছি। মাত্র ৮ হাজার টাকায় ৩/৩২ মডেলের স্মার্টফোন মানে LG G4 পাচ্ছেন আপনি। এই ডিভাইসের খারাপ দিক বলতে এর পাওয়ার এবং মেমোরি মডিউলগুলোর মধ্যে ম্যালফাংশন হবার সম্ভাবনা প্রচুর থাকে। এর ফলে এতে bootloop হবার চান্স বেশি থাকে। bootloop হচ্ছে ডিভাইসটি স্টার্ট আপ করার সময় বুট স্ক্রিণে এসে আটকে থাকার সমস্যা। এই সমস্যার কোনো সমাধাণ নেই তাই আমি বলবো LG G4 ডিভাইসটি একেবারেই না কেনার জন্য। উল্লেখ্য যে সকল LG G4 ডিভাইসেই কিন্তু এই সমস্যাটি রয়েছে তা কিন্তু নয় তবে বেশির ভাগেই এই সমস্যাটি দেখা গিয়েছে। আর এটা একটি হার্ডওয়্যার সমস্যা তাই সফটওয়্যারের কারিগরি করে এটা ফিক্স করা যাবে না।

Pixel 2XL

আমাকে বকা দিবেন না! পিক্সেল ডিভাইসগুলো হচ্ছে একটি মাস্টারপিস। আর এটা বাংলাদেশে এখনো অফিসিয়াল ভাবে লঞ্চ হয়নি আর হবে কিনা সেটাও সিউর নয়। আনঅফিসিয়াল ভাবে কিনতে গেলেও আপনি এখনো পিক্সেল ডিভাইসকে ৪০ হাজার টাকার নিচে পাবেন না।

এখানে কথা বলছি পিক্সেল ২ এক্সএল ডিভাইসকে নিয়ে। মনে রাখবেন পিক্সেল ২ এক্সএল এর দুটি মডেল রয়েছে। একটি হচ্ছে পুরোনো বা প্রথম শিফটের আর আরেকটি হচ্ছে নতুন মডেল বা ২য় শিফটের গুলো। প্রথম শিফটের মডেলে বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। এদের মধ্যে ক্যামেরার সমস্যা, কালারের সমস্যা, ব্যাটারির সমস্যা আর ডিভাইস হিটআপ হবার সমস্যা রয়েছে। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড পিক্সেল ২এক্সএল কেনা থেকে বিরত থাকুন আর রিফাব্রিশ এবং নতুন Pixel 2XL কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন এটা পরের শিফটের কিনা।

Galaxy S6 এবং S6 EDGE (not S6 EDGE+)

বিশ্বাস করুন! যারা যারা এই সিরিজের ডিভাইসগুলো ব্যবহার করেননি তারা বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছেন। পুরো গ্যালাক্সি সিরিজের সবথেকে বাজে মডেলগুলো হচ্ছে এই গ্যালাক্সি এস৬ এবং এস৬ এডজ । একে তো এটায় ডুয়েল সিম নেই (ডুয়েল সিমের মডেল আলাদা এবং দাম বেশি), নেই কোনো এক্সট্রা Micro SD কার্ড স্লট এবং এই ডিভাইসের ব্যাটারি সাইজও বেশ কম! গ্যালাক্সি এস৫ তেও আমরা বেশ কিছু ফিচার দেখেছিলাম যেটা এই এস৬ এসে স্যামসং দেয়নি! কারণ বলা বাহুল্য যে এস৬ সিরিজের ডিভাইসগুলোর প্রসেসর বেশ পাওয়ার খায় আর তার সাথে এর ছোট সাইজের ব্যাটারির জন্য আপনি ২ থেকে আড়াই ঘন্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন এই ডিভাইসগুলোতে।

Galaxy Note 5

এটারও অবস্থা গ্যালাক্সি এস৬ সিরিজের মতোই। আর আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে এই ডিভাইসকে বেশ “বোরিং” লেগেছে। আর এটাকেও বেশ কিছু স্যামসং ফিচার নেই। যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, নেই কোনো Micro SD Card স্লট, নেই কোনো IP রেটিং, নেই কোনো ডুয়াল সিম আর এই বড় ডিসপ্লেওয়ালা ডিভাইসে রয়েছে মাত্র 3000 mAh ব্যাটারি! তাই বর্তমানে কমমূল্যে এই ডিভাইসটি বাজারে পেলেও আমি না কেনার জন্য সাজেস্ট করবো।

HTC One M9 (not M9+)

বাংলাদেশে বর্তমানে সবথেকে কমমূল্যে ৩/৩২ ভেরিয়েন্টের স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে এই HTC One M9 মাত্রা ৭ হাজার টাকায়। এই ডিভাইসটির প্লাস ভার্সনটি আমার মা এখনো ব্যবহার করে। কারণ এর ক্যামেরাটি বেশ জোস! HTC One M9 এ রয়েছে ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যা ২০১৫ সালের হিসেবে বেশ চমৎকার ছিলো, রয়েছে ৩ গিগাবাইট র‌্যাম, ৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে।
এই ডিভাইসটি কেনার মূল কারণ ছিলো এর ক্যামেরা এবং এর Dolby সাউন্ড ইফেক্টের জন্য! হ্যাঁ হেডফোন দিয়ে এই ডিভাইসে গান শোনার মজাই আলাদা। তবে স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ অক্টা কোর চিপসেট আর মাত্র ২৮৪০ mAh ব্যাটারির জন্য এটাকে আমি না কেনার জন্যই সাজেক্ট করবো। কারণ ৮১০ চিপসেটটি ওভারহিটিং হবার জন্য বেশ কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

এই ছিলো আজকের লিস্টের সকল স্মার্টফোনগুলো যেগুলো আপনার ২০১৯ সালে এসে ক্রয় করাটা ঠিক হবে না বলে আমি মনে করি। আইফোনের বেলায় মনে রাখবেন যে Iphone 7 Plus এর নিচের সকল মডেলগুলো বর্তমানে কিনবেন না। কারন ২০১৯ সালের শেষ নাগাব iPhone 7Plus এরও সার্পোট শেষ করে দিবে অ্যাপল। অন্যদিকে গ্যালাক্সি সিরিজের Galaxy S8 এর নিচের মডেলগুলো আর Note 8 এর নিচের মডেলগুলো কেনা উচিত নয় কারণ Note 7 এর ইতিহাস তো জানেনই! অন্য দিকে ওয়ানপ্লাস 5T এর নিচের মডেলগুলো, পিক্সেল 2 XL এর নিচের মডেলগুলো কেনা ঠিক হবে না। আজকের পোষ্টের ২য় সংষ্করণ সামনের দিকে আসছে। তো সেটার জন্য অপেক্ষায় থাকুন।

Avatar
Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.