স্যামসং স্মার্টফোনের বর্তমান ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসগুলো হচ্ছে গ্যালাক্সি এস১০ সিরিজের সেটগুলো। তাদের মধ্যে কমন মডেল হচ্ছে স্যামসং গ্যালাক্সি এস১০। গ্যালাক্সি সিরিজের ১০তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই ডিভাইসে বেশ এডভান্স ফিচার এবং পলিশ করে স্যামসং বানিয়েছে বলে শোনা যায় তবে আসলেই স্যামসং এস১০য়ে আপনার এখনি আপগ্রেড করা উচিত কিনা সেটা আজকের এই পোষ্টটি পড়লেই বুঝতে পারবেন । যারা যারা এস৮ বা এস৯ ব্যবহার করছেন তাদের জন্য শুধুমাত্র SD855 চিপসেট আর HolePunch ডিসপ্লে ক্যামেরার জন্য এস১০ তে আপগ্রেড করা কি উচিত হবে? আসুন জেনে নেই, শুরু করছি ডিভাইসটির ভালো ৫টি বিষয়গুলো দিয়ে।

ডিসপ্লে!

একটি কথা আপনার মানতেই হবে আর সেটা হচ্ছে স্যামসং তাদের ডিসপ্লে সেকশনে চ্যাম্পিয়ন! খোদ অ্যাপল তাদের আইফোন সিরিজে সেই অতীত থেকেই স্যামসং থেকে ডিসপ্লে ব্যবহার করে আসছে। আর তাহলে ভাবুন স্যামসংয়ের নিজস্ব স্মার্টফোনগুলোর ডিসপ্লে কোয়ালিটি কি রকম হতে পারে! তবে গ্যালাক্সি এস১০ সিরিজের ডিভাইসগুলো দিয়ে ডিসপ্লের সৌখিনতার দিক থেকে আবারো স্যামসং আলোচনায় এসেছে। এস১০ সিরিজের সকল ডিভাইসেই রয়েছে উজ্জল, কালারফুল এবং শার্প ডিসপ্লে যা স্যামসংয়েল এ যাবৎকালের সবথেকে সেরা ডিসপ্লে বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এস১০ এবং এস১০ প্লাস ডিভাইসগুলোতে রয়েছে 1440p OLED প্যানেলস এবং এস১০ই ডিভাইসে রয়েছে ১০৮০ এর রেজুলেশন।

পারফর্মেন্স!

এস১০ ডিভাইসের পারফরমেন্সকে আপনার বাহবা দিতেই হবে! কারণ লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেট রয়েছে এস১০ সিরিজের সকল ডিভাইসে। আর আগের মতো শুধু চীন সংস্করণে স্ন্যাপড্রাগন আর বাকিগুলোতে Exynox চিপসেট এইবার এই ভূলটি স্যামসং করেনি। আর ৬ থেকে ১২ গিগাবাইট র‌্যামে আপনার ডিভাইস চলবে না, দৌড়াবে! আমার ব্যাক্তিগত ভাবে এস১০ ডিভাইসে Asphalt 9 গেমটি ফুল এইচডি গ্রাফিক্সে ৬০FPS গতিতে খেলে বেশ ভালোই লেগেছে!

ক্যামেরা!

বর্তমানেও মাত্র ১টি ক্যামেরা সেটআপ দিয়ে স্মার্টফোন জগতে ক্যামেরার রাজা হয়ে রয়েছে গুগলের পিক্সেল ৩ ডিভাইসটি। কিন্তু এস১০+ ডিভাইসে রয়েছে অনেকগুলো ক্যামেরা যা আপনার সাধারণ ফটোশুটের চাহিদা মেটাতে অবশ্যই পারবে। আর স্যামসংয়ের সেরা ক্যামেরা এখন আপনি পাবেন এস১০ এবং এস১০+ ডিভাইসে। আর তাই গ্যালাক্সি এস১০ সিরিজের একটি ভালো দিক হচ্ছে এর উন্নত কোয়ালিটির ক্যামেরা।

এস ১০ এ রয়েছে সামনে ১টি এবং এস১০ প্লাসে পাবেন সামনের ২টি ক্যামেরা। আর পেছনের দিকে এস১০ প্ল্যাসে পাবেন wide-angle, ultra-wide-angle এবং telephoto লেন্স। সেলফি ক্যামেরাতে এস১০ সিরিজ দিয়ে স্যামসং তাদের আপগ্রেডকে দেখানো শুরু করেছে, এস১০ সিরিজের ক্যামেরাগুলো সেলফি তুলতে আগের সিরিজের সকল ডিভাইসের থেকে ভালো ছবি তুলতে পারে। এস১০ সিরিজের সবথেকে ভালো ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে S10+ ডিভাইসে। তবে বাকি দুটি ডিভাইসেও বেশ ভালোই ছবি আপনি তুলতে পারবেন।

সফটওয়্যার!

সকল ডিভাইসে একই OS আর স্কিন দেখতে দেখতে বোর হয়ে গিয়েছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর! এস১০ সিরিজের ডিভাইসগুলোতে থাকছে স্যামসংয়ের নতুন আপগ্রেডেড One UI যা পরবর্তীতে অনান্য স্যামসং ডিভাইসে পেলেও বর্তমানে শুধুমাত্র নিদির্ষ্ট কিছু স্যামসং ডিভাইসে আপনি One UI পাবেন। মজার ব্যাপার হলো এর আগে স্যামসং এর স্কিন এতটা প্রসংশিত হয়নি। One UI কে সাজানো হয়েছে এস১০ সিরিজের হোলপাঞ্চ ডিসপ্লে ক্যামেরার দিকে খেয়াল রেখে।

অনান্য ফিচারসমূহ!

এস১০ সিরিজের ডিভাইসগুলোতে রয়েছে এগুলো ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ ফিচার। এদের মধ্যে রয়েছে Samsung Pay যেটি পৃথিবীর সর্বত্র আপনি ব্যবহার করতে পারবেন যেখানে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে স্টোরেজ বর্ধিত করার সুযোগ (যদিও সাধারণত এটার প্রয়োজন হবে না!), রয়েছে সবার পছন্দের ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক! চিন্তা করা যায়? একটি টপ স্মার্টফোন ব্রান্ডের ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসে এই যুগে ৩.৫ হেডফোন জ্যাক রয়েছে! এটা অবশ্যই একটি প্রসংশনীয় পদক্ষেপ! ওয়্যারলেস চার্জিং এবং স্যামসং ডিভাইসদের মধ্যে ওয়্যারলেস চার্জিং শেয়ার ফিচারটিও কিন্তু বেশ চমৎকার।

এস১০ এর মন্দ দিকগুলো!

“আলট্রাসনিক” ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার!

ডিভাইসের স্ক্রিনের পাশে বড় বড় বেজেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রাখার দিন বহু আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর সবথেকে জনপ্রিয় স্থান হলো ডিভাইসের পেছনে। কিন্তু বর্তমানের ডিভাইসগুলোতে “স্মার্টনেস” আনার জন্য ইন ডিসপ্লে বা ডিসপ্লে ভেতর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর স্যামসংয়ের ডিভাইসে এই ফিচারটি আনা হয় এস১০ সিরিজের ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে। আর শুধুমাত্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নয় বরং এস১০ সিরিজের ডিভাইসগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে Ultrasonic Fingerprint Scanner। এটা শব্দের সাহায্যে আপনার হাতের ছাঁপগুলোকে রিড করে তারপর আনলক করে। এই ফিচারটি ফিউচারিষ্টিক হলেও বর্তমানের জন্য বেশ ঝামেলাদায়ক। কারণ সিকুরিটির দিক থেকে এটা সাধারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরদের থেকে পিছিয়ে আর এভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আপনি কিছুই অনুভব করতে পারবেন না।

বিশালাকার সেটআপ!

বলাবহুল্য যে ২০১৯ সালের হিসেবেও এস১০ এবং এস১০+ ডিভাইসগুলো বেশ বড় এবং ওয়ের্স্টান দুনিয়ার অনেকেরই একহাতে ডিভাইসকে ব্যবহার করতে সমস্যা হয় আর আমাদের কথা তো বললামই না। বড় ডিজাইন এবং স্লিম বেজেলের কারণে একহাতে ধরে রাখা সমস্যার কারণে আর গ্লাস ডিজাইনের কারণে হাত থেকে পিচ্ছলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে এই ডিভাইসগুলোর, আর যাদের হাত ঘামে তাদের তো কোনো কথাই নেই। আর সেটার জন্যই এই ডিভাইসগুলোর UI এর আইকন আর লেখাগুলোকে বাই ডিফল্ট একটু বড় করে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে এস১০+ ডিভাইসটিকে একজন এভারেজ সাধারণ মানুষের কোনো বাবেই এক হাতে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই অবশ্যই এস১০ সিরিজের ডিভাইসগুলো ব্যবহার করতে হলে আপনার কেইস ব্যবহার করার প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড আপডেট!

স্যামসংয়ের ডিভাইসে খুব দ্রুত কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডের আপডেটগুলো আসে না। আর গ্যালাক্সি এস১০ সিরিজের বেলাতেও সেটার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গ্যালাক্সি এস৯ সিরিজগুলোতে অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই এসেছে ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে যেটা গুগল পিক্সেল সিরিজের জন্য লঞ্চ হবার প্রায় ৫ মাস পর। এস৮ সিরিজে গত কয়েক সপ্তাহ আগে Android 9 এসেছে এবং এখন পর্যন্ত এস৭ সিরিজে এটা আসেনি। একটি টপ লেভেল স্মার্টফোন কোম্পানির ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসে এত লেট করে সফটওয়্যার আপগ্রেড আসাটা এই ডিভাইসটির জন্য একটি মন্দ দিকই বটে।

ক্যামেরা!

এটা কোনো সিরিয়াস মন্দদিক নয় কিন্তু এতগুলো ক্যামেরা থাকার পরেও মাত্র ১টি লেন্সের ক্যামেরা যুক্ত পিক্সেল ৩ ডিভাইসের কোয়ালিটির কাছাকাছিও না থাকায় এটাকে মন্দের লিস্টে আনতে হয়ই! Ultra wide এবং এস১০+ এর Telephoto লেন্সগুলোও তেমন উল্লেখযোগ্য পারফরমেন্স দিচ্ছে না অনেকেরই “অভিযোগ” রয়েছে। আর লো লাইট পারফরমেন্সও গুগল এবং হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলোর থেকে এই ডিভাইসগুলো পিছিয়ে রয়েছে।

দাম!

এটা নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই! অ্যাপলের আইফোনগুলো বানাতে অ্যাপলের খরচ হয় প্রতি ডিভাইসে ২৪ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা সেই ডিভাইসগুলো কিনি ৮০ থেকে লাখ টাকার বেশি দিয়ে। আর স্যামসংয়ের ফ্ল্যাগশীপ ডিভাইসগুলোতেও এই কথাটি বলা যায়। এস১০ সিরিজের সবথেকে “সাশ্রয়ী” ডিভাইস হচ্ছে S10e যেটার দাম রয়েছে ৭৫০ মার্কিন ডলার কিন্তু এটাতে অন্য দুটি ডিভাইসের বেশ কিছু ফিচারকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে আর এটারও বাংলাদেশে অফিসিয়ালি দাম পড়বে ৭৪৫০০ টাকা।

Avatar
Fahad is a freelance games journalist who, while not spending every waking minute selling himself to websites around the world, spends his free time writing. Most of it makes no sense, but when it does, he treats each article as if it were his Magnum Opus - with varying results.