এই ফোনের লিক আমরা বহুদিন ধরেই শুনে আসছিলাম। কিন্তু এরই সাথে শুনে আসছিলাম বেশ কিছু গুজবও। Galaxy S10e পেতে পারে iPhone XR এর মত ট্রিটমেন্ট, এটি স্পেক্সের দিক থেকেও ভালো থাকবে না সহ অনেক কিছুই। কিন্তু প্রায় সব ধরণের গুজবকে মিথ্যা প্রমাণ করে স্যামসাং তাদের Unpacked 2019 ইভেন্টে অফিসিয়ালি লঞ্চ করল নেক্সট জেনারেশন Galaxy লাইন আপের সবচেয়ে এফরডেবল ফোন Samsung Galaxy S10e। আর স্পেসিফিকেশন দেখে যা অনুমান করা যাচ্ছে এটি হতে পারে এপলের iPhone XR কিলার।

Samsung Galaxy S10e তে থাকছে না উপরের প্রিমিয়াম লেভেলের অনেকগুলো ফিচারই কিন্তু বেসিক স্পেসিফিকেশন রাখা হয়েছে প্রিমিয়াম মডেলগুলোর মতই। এই ফোনটি স্যামসাং লঞ্চ করছে তাদেরই জন্য যারা বেশি খরচ না করেই Galaxy লাইন আপের ফোনের অভিজ্ঞতা নিতে চান।

Body Design & Display

বড় সাইজের Galaxy S10, S10+ ও S10 5G এর মত এতে তেমন একটা বড় ধরণের ডিসপ্লে থাকছে না। বরং এতে আপনারা পাবেন ৫.৮” সুপার এমোলেড স্ক্রিন যার রেজোল্যুশন হবে FHD+ এবং এস্পেক্ট রেশিও থাকবে ১৯ঃ৯। এছাড়া, এই ফোনের মধ্যে নেই কার্ভড ডিসপ্লে, বরং আপনারা পাবেন একটি নর্মাল ফ্ল্যাট ডিসপ্লে যা দেয়া হয়েছে ফোন উৎপাদন করার খরচ কমানোর জন্য। আপনারা এই ফোনে অন ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও পাচ্ছেন না। তা নিয়ে যাওয়া হয়েছে পাওয়ার বাটনের মধ্যে। তবে আগের জেনারেশনের মত পেছনে রাখা হয় নি কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

Hardware Specs

আউটলুক এবং বাহ্যিক ফিচার কম রাখলেও পারফর্মেন্সে কোন প্রকারের কম্প্রোমাইজ করে নি স্যামসাং। রিজিওনের উপর ভিত্তি করে এই ফোনের মধ্যে থাকবে SD855 অথবা Exynos 9820 প্রসেসর। ডিসপ্লে রেজোল্যুশন কম হবার কারণে এটির প্রসেসিং পাওয়ার অনেকটাই বেশি হবে যা আপনাকে ওভারঅল বেশি পারফর্মেন্স দিতে সক্ষম হবে। র‍্যাম হিসেবে আপনারা পাবেন ৬ জিবি LPDDR4 মেমোরি এবং রম হিসেবে পাবেন ১২৮ জিবি স্টোরেজ। কিন্তু, ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো পাচ্ছে মিনিমাম ৮ জিবি র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ।

যদি আপনার ১২৮ জিবি স্টোরেজ যথেষ্ট মনে না হয় তাহলে জেনে খুশি হবেন ফোনের মধ্যে থাকছে মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট যাতে সাপোর্ট করবে আরো আপ টু ৫১২ জিবি মেমোরি। এছাড়া ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটির সাপোর্ট হিসেবে আছে Wi-Fi 6, Bluetooth 5.0 এবং Cat. 20 LTE ফিচার। ফোনকে চার্জ দেয়ার জন্য আছে একটি USB Type-C পোর্ট যা সাপোর্ট করবে ফাস্ট চারজিং। আরো একটি খুশির সংবাদ হচ্ছে এই ফোন থেকে এখনো সরে যায় নি ৩.৫ মিমি. হেডফোন জ্যাক।

Camera & Battery

Galaxy S10e মডেলে দেয়া হয়েছে মোট তিনটি ক্যামেরা। পেছনে দেয়া হয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা কনফিগারেশন এবং সামনে রয়েছে একটি সেলফি ক্যামেরা। রিয়ারে নেই কোন টেলিফটো ক্যামেরা, রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের নর্মাল মেইন ক্যামেরা এবং ১৬ মেগাপিক্সেলের আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। এছাড়া সেলফি ক্যামেরায় পাচ্ছেন ১০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর।

ব্যাটারি প্রসঙ্গে আসলে, এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩১০০ mAh সেল যা কিনা Galaxy S9 থেকে বেশি। এছাড়াও, ৭ ন্যানোমিটার সিপিউর কারণে ফোনের ব্যাটারি এফিসিয়েন্সি আগের জেনারেশন থেকে অনেকটাই বেশি হবে। তবে ওভারঅল কেমন ব্যাটারি পারফর্মেন্স পাবেন তা দিন শেষে নির্ভর করছে আপনি কতটুকু ফোনটিকে ব্যবহার করবেন।

Price & Availability

স্যামসাং Galaxy S10e কে কালো, সবুজ, সাদা, নীল এবং হলুদ এই পাঁচটি কালারে রিলিজ করবে। তবে ভবিষ্যতে লাল কালারের ফোনও আসতে পারে। বেইজ মডেলের দাম রাখা হয়েছে ৭৫০ ডলার যা কিনা Galaxy S10 থেকে মাত্র ১৫০ ডলার কম। তবে আমার মতে দাম আরো কিছুটা কমিয়ে ৭০০ বা ৭২০ ডলার রাখতে পারা যেত। আজ থেকেই ফোনটি ইন্টারন্যাশনালি প্রি অর্ডার করতে পারবেন। কিন্তু অফিসিয়ালি এটি এভেল্যাবল হবে মার্চের ৭ তারিখ। বাংলাদেশে কবে নাগাদ এই ফোন আসবে এবং দাম কত হতে পারে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আসলে অবশ্যই আপনাদের জানানো হবে। তবে প্রাইস টু পারফর্মেন্স যদি হিসেব করা হয় তাহলে অতীব নিকটতম ভবিষ্যতে এই ফোন হতে পারে iPhone XR কিলার।

Samsung Galaxy Fold