অনেকটা অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথেই অফিসিয়ালি এনাউন্স করা হল Samsung গ্যালাক্সি লাইন আপের নেক্সট জেনারেশনের ফোন এবং এক্সেসরিজ। Samsung Galaxy Fold এবং Samsung Galaxy S10 এর চারটি ভ্যারিয়েন্টের অফিসিয়াল এনাউন্সমেন্ট দেয়া হয়েছে আমেরিকান প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড টাইমে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টায় স্যান ফ্রান্সিস্কোতে Samsung এর নিজস্ব ইভেন্টে। এছাড়াও, ফোনগুলোর পাশাপাশি লঞ্চ করা হয়ে Samsung এর নতুন ইয়ার বাড এবং স্মার্ট ওয়াচ। অবশ্য এখন কথা বলা হবে শুধুমাত্র Galaxy Fold কে নিয়েই। শুরুতেই বলে রাখা ভালো, ১৯৮০ ডলারের এই Galaxy Fold সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নয়।

Galaxy Fold Brings The Future To Present

স্যামসাং কনফার্ম করেছে এই Galaxy Fold ফোনে থাকছে ৭.৩” সুপার এমোলেড ইনফিনিটি ফ্লেক্স ডিসপ্লে যার রেজোল্যুশন হবে 2152 x 1536। ফোনটিকে ফোল্ড করলে আপনি পাবেন ৪.৬” এর ছোট একটি ডিসপ্লের এক্সেস যার রেজোল্যুশন থাকবে 1960 x 840। এটা বলা লাগবে না যে, যখন ওপেন করে রাখবেন তখন এটি হয়ে যাবে একটি ট্যাবলেট আর যখন ফোল্ড করবেন তখন এটি কাজ করবে নর্মাল একটি ফোনের মতই।

স্যামসাং সব সময়ই চায় যাতে তাদের কনসুমাররা যেন Galaxy ফোনগুলিকে একটি ইউটিলিটি ডিভাইস হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। আর এই ফোল্ড ফোনের ডিজাইন করা হয়েছে ঠিক সেই কথা চিন্তা করে। নতুন ‘App Continuity System’ এর কারণে এখন আপনি ফোল্ড করা অবস্থায় যে এপটি রান করবেন ডিসপ্লে খুললে সেই এপটির ফুল স্ক্রিন ভার্শন সাথে সাথেই আপনার সামনে এসে পরবে।

এছাড়া আরো একটি নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে। আপনি Galaxy Fold ফোনে একই সাথে তিনটি এপ্স চালাতে পারবেন। আপাতত এই নতুন ফিচারগুলোর কম্প্যাটিবিলিটি শুধুমাত্র মাইক্রোসফট, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ও শেয়ারিং এবং গুগোলের নিজস্ব এপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বলা হয়েছে এই ফোল্ডিং ফোনের জন্য স্যামসাং গুগোলের সাথে বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছে।

এখন আসা যাক ফোনের মেইন স্পেসিফিকেশনের দিকে, বিশেষ করে এর স্পেশাল হিঞ্জ সিস্টেম। হিঞ্জ সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হিডেন ইন্টারলকিং গিয়ারের মাধ্যমে যা আপনার ফোনকে কোন সমস্যা ছাড়াই ট্যাবলেট টু ফোন এবং ভাইস ভারসা করতে সাহায্য করবে।

আর যদি মেইন স্পেসিফিকেশন নিয়ে কথা বলতেই হয়, তাহলে এতে আপনারা পাচ্ছেন স্যামসাং এর নিজস্ব ৭ ন্যানোমিটারের সিপিউ ও জিপিউ। স্যামসাং বলছে এই সিপিউ ও জিপিউ Note 9 হতে যথাক্রমে ২১% এবং ৩৫% বেশি পারফর্মেন্স দেবে। এছাড়াও, ফোনটির মধ্যে পাচ্ছেন ১২ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি স্যামসাং এর নিজস্ব সুপার ফাস্ট eUFS স্টোরেজ। এছাড়া ফোনের মধ্যে ডুয়াল ডিসপ্লে থাকার কারণে বডির মধ্যে পাচ্ছেন ডুয়াল ব্যাটারি যা চার্জ করা যাবে একটি ইউএসবি টাইপ সি পোর্টের মাধ্যমেই।

ফোনের রিয়ারে রয়েছে ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম যা ট্যাবলেট এবং ফোন উভয় মোদেই ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ট্যাবলেট ডিসপ্লের মধ্যে পাচ্ছেন দুটি সেলফি ক্যামেরা এবং ফোন ডিসপ্লের মধ্যে পাচ্ছেন একটি সেলফি ক্যামেরা।

দাম এবং রিলিজ ডেট

যদি আপনারা ভেবে থাকেন iPhone XS Max এর দাম বেশি ছিল তাহলে আপনাদেরকে অনেকটাই হতাশ হতে হবে এর দাম শুনলে। Samsung Galaxy Fold এর অফিসিয়াল দাম রাখা হয়েছে ১৯৮০ আমেরিকান ডলার। তবে এটি হচ্ছে 4G ভার্শনের দাম। সামনে 5G ভার্শনও আসতে পারে যার দাম হতে পারে ২২০০ থেকে ২৩০০ ডলারের মধ্যে। Samsung Galaxy Fold ওয়ার্ল্ড ওয়াইড পাওয়া যাবে এপ্রিলের ২৬ তারিখ থেকে। তবে বাংলাদেশে কবে নাগাদ আসবে এবং দাম কত হতে পারে সেটা এখনো স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না। তবে, এতটুকু বলা যায় এটির দাম এক লাখ ৮০ হাজার টাকার উপরেই হবে।