23 C
Dhaka
Wednesday, February 21, 2024

Snapdragon 888: ইমেজ প্রসেসিং, 5G মডেম ও AI নিয়ে বিস্তারিত(২য় পর্ব)

- Advertisement -

গত পর্বে Snapdragon 888 চিপসেটের সিপিউ , জিপিউ ও র‍্যামের স্পেসিফিকেশন ও ক্যাপাবিলিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। আজ দ্বিতীয় পর্বে এই ফ্ল্যাগশিপ চিপসেটের বাদবাকি বিষয় বিশেষ করে নতুন ইমেজ প্রসেসিং ক্যাপাবিলিট, সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করা হেক্সাগন ডিএসপি, ইন্ট্রিগেডেট মডেম এর খুটিনাটি এবং সর্বশেষে ডিপ-ফেইক ডেটিক্ট করার জন্য সিকিউরিটি সিস্টেম নিয়ে আলোচনা থাকবে।

এখনও প্রথম পর্ব পড়ে না থাকলে পড়তে পারবে এইখান থেকে

- Advertisement -

 

Hexgon 780 DSP 

Snapdragon 888 চিপসেটে দেওয়া হয়েছে 6th gen Ai engine যা চলবে Hexagon 780 DSP দিয়ে। আগেই বলা হয়েছে এটা সম্পূর্ন নতুনভাবে ডিজাইন করা। কোয়ালকম দাবি করছে ‘Biggest leap’ হয়েছে আর্টিচেকচার ও পারফর্মমেন্স বিচারে। মডার্ণ ফোনগুলো দিন দিন মেশিন লার্নিং নির্ভর হয়ে পড়ছে প্রতিটা ক্ষেত্রে। সেটা হার্ড ওয়্যার হোক আর সফটওয়্যার দিয়ে হোক। যেমনঃ স্ন্যাপচ্যাটের ফেইস ডেটিকশন থেকে শুরু করে গুগল লেন্স এর যাবতীয় কাজ সব করা হয়েছে থাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স এর ব্যবহার করে। এছাড়াও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সের ক্ষেত্র আরো বড়। এইবার ক্যামেরাতে কিছু ফিচার টিউনিং করা হয়েছে সম্পূর্ণ মেশিং লার্নিং দিয়ে যার বিস্তারিত ক্যামেরা সেকশনে থাকবে। এছাড়া আপকামিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা জন্য চিপসেট নির্মাতারা দিন দিন মেইনস্ট্রিম AI ক্যাপাবিলিটি গুলো তাঁদের চিপসেটে ইন্টিগ্রেড করে যাচ্ছে।

- Advertisement -

 

 

- Advertisement -

অনেকই জানেন যে, Snapdragon 855 এ প্রথম Tensor Acceletor দিয়েছিল। এছাড়া Scalar ও Vector  Acceletor তো রয়েছেই। কিন্তু আগের জেনারেশনের চিপসেটগুলোতে এই Acceletor আলাদা আলাদাভাবে কাজ করত। কিন্তু নতুন চিপসেট তাঁদের মধ্যকার ফিজিক্যাল দূরত্ব কমিয়ে দিয়ে এক করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা চাইলে একসাথে কাজ করতে পারবে যখন দরকার হয়। তাছাড়া শেয়ার্ড মেমোরি দিয়ে দেওয়াতে নিজেদের মধ্যে ইন্টারেকশনও আগের চেয়ে দ্রুত হবে। এর ফলে  scalar accelerator এ আগের চেয়ে 50% বেশি স্পিড পাওয়া যাবে অন্যদিকে Tensor Acceletor এ দ্বিগুন ফাস্ট। আগের ফ্ল্যাগশিপ চিপসেটের DSP যেখানে 15TOPS(trillion operation per second) করতে সক্ষম ছিল সেইখানে নতুন Hexagon 780 DSP তে সেটা বাড়িয়ে 26TOPS করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি জেনারেশন হিসেব করলে এটি বড় একটি আপডেট। এছাড়াও ডেভেলোপারদের জন্য অনেকগুলো মেশিং লার্নিং টুলস যেমনঃ Android NN, TensorFlow Lite, and Qualcomm SDKs ইত্যাদি দেওয়া হয়েছে।

Spectra 580 ISP

ফ্ল্যাগশিপ ফোন গুলোর অন্যতম আর্কষন হচ্ছে এর ক্যামেরা সেকশন। প্রতিবছর আমরা ফ্ল্যাগশিপ ফোন গুলোতে এমেজিং এমেজিং ফিচার দেখে থাকি। যা মূলত ক্যামেরা লেন্স ও ফোন নির্মাতার ব্যবহৃত টেকনোলজিকে সব টুকু ক্রেডিট দিয়ে থাকে।কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে অনেক গুলো ফিচার সাপোর্ট করার জন্য আগে থেকে প্ল্যাটফর্ম রেডি করে দিতে হয় চিপসেট ম্যানুফেকচারকে। কোয়ালকম চিপসেট গুলোতে এই কাজ যে ইউনিটটি করে থাকে তার নাম হচ্ছে Spectra ISP aka image signal processing। ত্বাত্তিক ভাবে, কোয়ালকম দাবি করছে নতুন Spectra 580 ISP দিয়ে আগের জেনারেশনের ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট থেকে ৩৫% বেশি পারফর্মমেন্স পাওয়া যাবে। কিন্তু এ দ্বারা কি বুঝাচ্ছে তা জানার জন্য আমরা আরেকটু গভীরে যাব।

এতদিন ধরে spectra তে মোট ইমেজ প্রসেসর ছিল ২টা। কিন্তু নতুন spectra তে একটি বাড়িয়ে মোট ৩টি করে দেওয়া হয়েছে। এতে লাভ কি হয়েছে? এখনকার মোস্ট ফ্ল্যাগশিপ তো বটেও ইভেন বাজেট ফোন গুলোতেও ৩/৪টি ক্যামেরা খুব কমন ব্যাপার। যদি আমরা এটলিস্ট ৩টা ধরি তাহলে মেইন,আল্ট্রা ও টেলিফটো থাকছে। আগে দুইটা ইমেজ প্রসেসর থাকার কারণে একইসাথে ৩টি ক্যামেরা লেন্স ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। কিন্তু এটা থেকে উত্তরণে পথ সুগম হল। এখন থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও রের্কড করার সময় একসাথে সব লেন্স একটিভ থাকবে। ফলে একটি ভিডিও বের্কড করার পর ইডিট করার সময় ইজিলি আল্ট্রা ওয়াইড থেকে টেলিফটো লেন্সে নেওয়া শটে যাওয়া যাবে। তাছাড়া আগে দুইটি ইমেজ প্রসেসর থাকার কারণে জুম করার সময় কিছুটা বিলম্ব হত কারণ এই ক্ষেত্রে ISP গুলোকে এজিউম করে নিত হত ইউজার কোন লেন্সে সুইচ করতে পারে। কিন্তু এখন ৩টা লেন্স একই সাথে চলবে যার কারনে জুম হবে স্মুথ ও ফাস্ট।

৩টি ক্যামেরা একসাথে ছবি তুলতে পারবে 28MP ZSL(Zero shutter lag) এ। শুধু একটি ক্যামেরা লেন্সে সর্বোচ্চ 84MP ZSL অথবা 64+25MP ZSL সাপোর্ট করবে। আগের মত রয়েছে 200MP পর্যন্ত মেইন ক্যামেরা লেন্স সাপোর্ট কিন্তু এতে ZSL সাপোর্ট করবে নাহ। তাহলে 108MP ক্যামেরা লেন্সে কিভাবে ZSL দেওয়া হয়। এটা আসলে কাইন্ড অফ আই-ওয়াশ। কেননা স্ক্রিনে 108MPতে স্ট্রিম করা হয় না বরঞ্চ করা হয় ১/৪ ভাগ তারপর যখন সাটার বাটন প্রেস করা হয় তখন ক্যামেরা লেন্স শুধু মাত্র ঐ সময়ের জন্য 108MPতে গিয়ে ছবি ব্যাকগ্রাউন্ড সেভ করার কাজ শুরু করে দেয় আর সামনে দিকে আবার ১/৪ ভাগ মেগা পিক্সেল চলে আসে স্ক্রিনে।

একটা বিষয় নিয়ে কোয়ালকম খুব উচ্ছ্বাসিত সেটা হচ্ছে এই ISP দিয়ে 2.7 Gigapixels/second স্পিডে ছবি তুলা যাবে আগে যেখানে 2 Gigapixels/second এই সীমাবদ্ধ ছিল। মানে হচ্ছে 1sec এ 120টা ছবি তুলতে সমক্ষম এই ISP। আরকেটি মাইনর কিন্তু সিগনিফিক্যান্ট আপগ্রেড হচ্ছে 10bit color নিয়ে HEIF ফরম্যাট এ ছবি তুলা যাবে। আগে 8bit color এ যেখানে 16.7million কালার সাপোর্ট করত কিন্তু 10bit এ সেটা 1billion কালার সাপোর্ট করবে। মানে আগের চেয়ে বেশি স্যাডোস, হাইলাইটস বেশি থাকবে ফলে ছবি গুলো আরো বেশি প্রানবন্ত হবে। নাইটমোডে ছবি তোলা এখন এক প্রকার অত্যাবশ্যকীয়। তাই আরো বেশি লো লাইটে(0.1lux) এর ছবি প্রসেস করতে পারবে এই ISP।

আগে HDR মোডে ছবি তুলা গেলেও ভিডিও রেকর্ড করা যেত না। এইজন্য গুগল পিক্সল ফোন গুলোতে ছবি অনেক ভাল আসলেও সেই তুলনায় ভিডিও ভাল আসত না। কিন্তু computational HDR দিয়ে 4k তে HDR ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। এর জন্য ক্যামেরা লেন্স গুলোকেও এটা সাপোর্ট করতে হবে একই সাথে। লং, মিডিয়াম ও শর্ট এক্সপোজারে একই সাথে ডিডিও রেকর্ড হবে। তারপর Spectra 580 ISP সব একই সাথে মার্জ করে দিবে ফলে ভিডিওতে ভাল ডাইনামিক রেঞ্জ পাওয়া যাবে। তাছাড়া ভিডিও রেকর্ড ও স্লো মো আগের মতই অর্থাৎ 8K@30fps, 4K UHD@120fps ও 720p@960fps সাপোর্ট রয়েছে।

শেষ আরেকটি বিষয় এ কোয়ালকম জোর দিয়েছে সেটা হচ্ছে 3A। অর্থাৎ autofocus, auto-exposure, and auto white balance । এই 3A রিফাইনিং ও টিউনিং করেছে AI দিয়ে। মানে এই 3A সম্পূর্ণ AI দিয়ে চলবে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ এইযে, এত এত আপগ্রেড এসেছে মানে এই না যে, আমরা নেক্সট ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এই চিপসেট ব্যবহার হলেই আমরা সব ফিচার দেখতে পাব। আসলে, কোয়ালকম স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য রুম করে দিয়েছে এখন বাদ বাকি বিষয়টা স্মার্টফোন নির্মাতাদের উপর। এই ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার লিমিটেশন(লেন্স এই ক্ষেত্রে) ও রয়েছে চাইলেই সব কিছু ইমপ্লমেন্টশন করা যায় না। যেমনঃ Dolby vision এ ভিডিও রেকর্ড চিপসেট লেভেলে সাপোর্ট থাকলেও এখনো কোনো এন্ড্রয়েড ফোনে তা করা যায় না। তবে আমরা নতুন কিছু অবশ্যই আশা করতে পারি।

X60 5G Modem

৫ ন্যানো মিটার ফ্র্যাবিকেশন এ তৈরি হওয়ায় চিপসেট আগের চেয়ে বেশি খালি জায়গা পাওয়া গিয়েছে যা দিয়ে কোয়ালকম সহজেই ৫জি মডেম পুরোপুরি ইন্ট্রিগেশন করে দিতে পেরেছে। আমরা জানি যে, কোয়ালকম লিমিটেশন এর কারনে একই চিপে ৫জি মডেম দিতে পারত না, ফলে আলাদা ভাবে দিতে হত মাদারবোর্ডে। X60 5G Modem একটি আপগ্রেডেড মডেল যা কিছুদিন আগে কোয়ালকম এনেছে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে আরো বেশি পাওয়ার সেভিং সাথে 5G carrier aggregation, global multi-SIM, 5G Standalone এর মত গুরত্বপূর্ণ ফিচার সংযোজন করেছিল। তাছাড়া mmWave এবং sub-6GHZ কম্প্যাটাবিলিটি রয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ ব্যান্ডের সাথে। যার ফলে একটি ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট  থেকে টপ-টায়ার 5G এক্সপিয়েরেন্স পাওয়া যাবে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া ফুল ইন্ট্রিগেটেড মডেল দেওয়াতে আগের চেয়ে বেশি পাওয়ার সেভিং চিপসেট হবে।

Qualcomm FastConnect 6900 রয়েছে Wi-Fi 6E ও dual radio Bluetooth 5.2 এর মত গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড। এছাড়া ফাস্ট চার্জিং এর জন্য রয়েছে Qualcomm Quick Charge 5 (100W+) সাপোর্ট।

Security

Snapdragon 888 রয়েছে Hypervisor যা দিয়ে ডাটাকে সিকিউর এন্ড আইসোলেট করে রাখা যাবে এপস থেকে। এছাড়া CAI(Content Authenticity Initiative) কমপ্লায়েন্ট ক্যামেরা হওয়াতে ক্রিপ্টোগ্রাফিক্যালি ক্যামেরার সব মেটাডাটা স্টোর করা যাবে এবং প্রয়োজনে তা ভেরিফাই করা যাবে। এতে করা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স দিয়ে যেভাবে ডীপ ফেইক ছবি ভিডিও বের হচ্ছে তা কমে আসবে।

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here