Y9 2019 Edition! Is The Budget King Back?

এই বছরের মার্চে রিলিজ হয় হুয়াওয়ের মিড বাজেট ধামাকা Y9 2018 এডিশন। মাত্র ২০ হাজার টাকার মধ্যে বহুল ফিচার ও ক্যামেরার কারণে মিড বাজেট কন্সুমারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই ফোনটি। ফোনটির রিভিউ দেখে আসতে পারেন ডেসক্রিপশনে থাকা লিংকে ক্লিক করে। যাই হোক, ২০১৯ সালের আগে এই ফোনের রিফ্রেশ ভার্শন রিলিজ হবার কথা কেউ চিন্তা না করলেও অক্টোবর মাসেই অফিসিয়ালি রিলিজ হয়ে গেল Y9 2019 এডিশন।

হুয়াওয়ে বলছে বাজেটের মধ্যে বেস্ট ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দেয়ার জন্যই ফোনটি রিলিজ করা হয়েছে। আর প্রথমবারের মত কোন মিড বাজেট ফোনে আমরা পেতে যাচ্ছি চারটি এ আই ক্যামেরা। এই চারটি এ আই ক্যামেরা সহ ফোনটি ওভারঅল কি ধরণের পারফর্মেন্স দিতে পারবে তা নিয়েই পিসিবি বিডির Y9 2019 এডিশনের আজকের এই রিভিউ।

Huawei Y9 2019 Edition Specification

Y9 2019 Edition Review

Body Design

ফোনটি দেখে শুরুতে আপনার হয়ত মনে হতে পারে আপনি Nova 3i এর দিকে তাকিয়ে আছেন। এমনকি হাতে নিলেও অনেক প্রিমিয়াম ফিলিং পাওয়া যাবে। কিন্তু Nova 3i আর Y9 2019 এডিশনের মেইন যে পার্থক্য সেটি হচ্ছে ফোনের সাইজের দিকে। Y9 2019 এডিশনটি Nova 3i থেকে ২ ইঞ্চি বড়।

Huawei Nova 3i Review

ফোনটি আপনারা পাবেন তিনটি কালারে। মিড নাইট ব্ল্যাক, অরোরা পার্পল ও আমাদের রিভিউ করা ইউনিটের সেফায়ার ব্লু কালারে। ফোনের ব্যাককে দেয়া হয়েছে গ্লাস বডি, এতে করে রিমুভ করতে পারছেন না ব্যাটারি। এছাড়াও ফোনটির ব্যাক হয়ে গেছে আঙ্গুল ছাপ চুম্বক। ফোনের বাম পাশে পাচ্ছেন ডুয়াল সিম ও মাইক্রো এসডি কার্ডের হাইব্রিড স্লট, ডানে ভলিউম রকার ও পাওয়ার বাটন। ট্রেন্ডের সাথে মিল রেখে আপনারা পাচ্ছেন সুন্দর এক খানা নচ। কিন্তু নচ দেখে পিক্সেল থ্রি এক্সেলের কথা কিছুটা মনে পরে গেল।

যাই হোক, নচের মধ্যে পাচ্ছেন ডুয়াল ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ও স্পীকার গ্রিল। Y9 2018 এডিশনের মত এতেও আপনারা ফ্রন্ট ফ্ল্যাশ পাচ্ছেন না। তাই যারা বিউটি সচেতন মানুষ আছেন তাদের জন্য সামান্য অসুবিধে হতে পারে।

নীচে পাচ্ছেন ফোনের মেইন স্পীকার, মাইক্রোফোন, ৩.৫ মিমি. হেডফোন জ্যাক ও মাইক্রো ইউ এস বি পোর্ট। তবে টাইপ সি না থাকলেও এই ফোনটি ফাস্ট চার্জ সাপোর্টেড। পেছনে রিয়ার ডুয়াল ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ লাইট। আর বরাবরের পারফেক্টলি প্লেস করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। সেন্সরটি ছিল অনেকটাই ফাস্ট। ল্যাগ খুব কমই ফিল করা গেছে যা সহজেই ইগ্নোর করা যায়।

Display

Y9 2018 এডিশনে মাত্র 0.07 ইঞ্চি বাদ দিয়ে ৬ ইঞ্চি স্ক্রিন না করার কার্পণ্য দেখান হলেও Y9 2019 এডিশনে আপনারা পাচ্ছেন ফুল এইচডি+ ৬.৫ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে যার রেশিও হচ্ছে ১৯.৫ বাই ৯। ডিসপ্লের পিক্সেল ডেন্সিটি হচ্ছে ৩৯৬ পিপিআই আর পাচ্ছেন ৮২.৬৫% স্ক্রিন টু বডি রেশিও। তবে ডিসপ্লে তে গরিলা গ্লাস আপনারা পাচ্ছেন না। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস অনেকটা ভালো। কালার একুরেসিও যথেস্ট ছিল। আমরা এতে কালার রিচ 1080p ভিডিও চালিয়ে দেখেছি। কালারে কোন প্রকার ডিস্টরশন চোখে পরে নি।

এছাড়া এতে আছে আই কমফোরট মোড ও ডিসপ্লেটি হচ্ছে টুভ রাইনল্যান্ড সারটিফাইড। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ব্লু লাইট ফিলটার করে সফট করে দেয় যাতে চোখে দেখতে বেশ আরাম পাওয়া যায়।

Hardware, CPU & GPU

আপনারা ফোনের মধ্যে পাচ্ছেন ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি রম। তবে ডিফল্ট আপনারা মাত্র ৫৩ জিবির কাছাকাছি রিয়াল টাইম ব্যাবহার করতে পারবেন। সিপিউ হিসেবে দেয়া হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব ল্যাটেস্ট মিড রেঞ্জ ১২ ন্যানোমিটারের আট কোরের হাই সিলিকন Kirin 710 প্রসেসর। হুয়াওয়ে বলছে এটি আগের জেনারেশন 695 প্রসেসর থেকে ৬৮% বেটার পারফর্মেন্স দিতে পারবে। কিন্তু কিরিন চিপসেট শুধু মালি গ্রাফিক্স চিপের সাথে কম্প্যাটিবল হওায় এতে আপনারা পাচ্ছেন Mali G51 MP4 জিপিউ। ফোনের গেমিং পারফর্মেন্স এটির পরের অংশে।

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আপনারা পাচ্ছেন এন্ড্রয়েড 8.1 অরিও, তবে হুয়াওয়ে সাপোর্ট থেকে জানা গেছে এর ওএস কে আপনারা এন্ড্রয়েড ৯.০ তেও আপগ্রেড করতে পারবেন। এছাড়া এতে আপনারা পাচ্ছেন হুয়াওয়ের নিজস্ব EMUI 8.2। ৪ জিবি র‍্যাম, কিরিন ৭১০ প্রসেসর আর এই ইমোশন ইউ আই এর কম্বিনেশনে আমি বলব ফোনের পারফর্মেন্স অনেকটাই ফাস্ট। সাধারণ ব্যাবহারে কোন প্রকার ডিলে বা ল্যাগ লক্ষ্য করা যায় নি। এছাড়া মাল্টি টাস্কিং করা গিয়েছে খুব সহজেই। এক সাথে ৮/৯ টি এপ্লিকেশন একসাথে ওপেন করে রেখেও ল্যাগ তেমন ফিল করা যায় নি।

Battery & Gaming Performance

Y9 2019 এডিশনে আপনারা পাচ্ছেন বরাবর ৪০০০ মিলি এম্প আওয়ার ব্যাটারি। এই বাজেটের অন্যান্য ফোনের মধ্যে আমরা সাধারণত এত ব্যাটারি দেখতে পাই না। যা আছে তার ক্ষেত্রেও দেখা যায় ব্যাটারির জন্য সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন থাকে না। যার কারণে ব্যাটারি খুব তাড়াতাড়ি ড্রেন হয়ে যায়। কিন্তু হুয়াওয়ে গ্যারান্টি দিচ্ছে ফুল চার্জে টানা ৯ ঘন্টা গেমিং করে যেতে পারবেন। এছাড়া স্ক্রিন অফ অবস্থায় প্রায় ৬৫ ঘণ্টা ফোন অন থাকবে। ব্যাটারি ও গেমিং দুটোর পারফর্মেন্স টেস্ট করে দেখার জন্য আমরা চালাই পাবজি।

গেম ওপেন করার পর ডিফল্ট সেটিংস ছিল মিডিয়াম। কিন্তু মিডিয়াম সেটিংসে খেলতে গিয়ে অনেকটা পুর এফপিএস লক্ষ্য করা যায়। লো গ্রাফিক্স সেটিংসে নামিয়ে আনার পর গেম স্মুথ হয়। তবে পাবজি খুবই ডিমান্ডিং গেম। অন্যান্য ধরণের গেমগুলো ফোনের মধ্যে বেশ ভালভাবেই চলবে। প্রায় ২০ মিনিট পাবজি খেলার পর আমরা খেয়াল করি ৪ পারসেন্টের মত চার্জ গিয়েছে। সুতরাং হুয়াওয়ের ৯ ঘন্টা গেমিঙের ক্লেম সম্পূর্ণ একুরেট না হলেও ৭/৮ ঘন্টার কাছাকাছি যাবে। কিন্তু গেমিং বা অন্য কোন হেভি টাস্কিং করতে গেলে ফোন কিছুটা গরম হয়ে যায়। এই হিট প্রবলেম আমরা Nova 3i ফোনের মধ্যেও দেখেছি। আমার মতে হুয়াওয়ের তাদের ফোনের মধ্যে বেটার থার্মাল সলিউশন নিয়ে রিসার্চ করা দরকার।

Camera

শুরুতেই বলা হয়েছে ফোনটির মধ্যে আপনারা পাচ্ছেন চারটি এ আই ক্যামেরা। আগের ফোনগুলোতে এই ক্যামেরার কিছুটা লিমিটেশন থাকলেও এই ফোনে আপনারা তা পাচ্ছেন না। এছাড়া সাব্জেক্ট ডিটেক্ট করার জন্য ২২ ধরণের প্রিসেট দেয়া আছে। আপনি কিসের ছবি বা কি এঙ্গেলে ছবি তুলছেন সেই হিসেব করে ফোনের মধ্যে থাকা এ আই প্রিসেটকে সেট করে দেয়। এছাড়া Y9 2018 এডিশনে যত ফিচার ছিল তার প্রায় সবই পাবেন এই ফোনের ক্যামেরায়।

Photography

হুয়াওয়ে সব সময়ই তাদের ফোনে সেলফি ক্যামেরার দিকে গুরুত্ব দিয়ে আসলেও এবার পেছনের মেইন ক্যামেরাও কিছুটা আপগ্রেড পেয়েছে। পেছনে আপনারা পাচ্ছেন ১৩ বা ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরার এপারচার নামিয়ে আনা হয়েছে 1.8 এ। সুতরাং যারা লো লাইট ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য মেজর একটি এডভান্টেজ দেয়া হচ্ছে এখানে। ফ্রন্টে আগের মতই রাখা হয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল বাই ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা, যেখানে মেইন ক্যামেরার এপারচার নিয়ে আনা হয়েছে 2.0 তে। ডেপথ সেন্সর হিসেবে কাজ করা দুটি ক্যামেরার এপারচার 2.8। দুই সাইডের ক্যামেরার মধ্যে কোন ফিজিক্যাল স্টেবিলাইজেশন না থাকলেও ফটোগ্রাফির জন্য দেয়া হয়েছে এ আই স্ট্যবিলাইজেশন। এছাড়া সেলফি ক্যামেরার জন্য দেয়া হয়েছে থ্রি ডি লাইটিং ফিচার, যা ক্যাল্কুলেট করবে আপনার ছবির জন্য কেমন লাইটিং প্রয়োজন আর সেই অনুযায়ি লাইটিঙ্গের ফিল্টার দিয়ে দেবে। নীচে দেয়া রয়েছে কিছু ইমেজ স্যাম্পল।

Video Quality

হুয়াওয়ের ফোনে সাধারণত দেখা যায় ইমেজ কোয়ালিটি সুপারব হলেও ভিডিও কোয়ালিটি তেমন ভালো হয়ে উঠে না। এই ক্ষেত্রেও সেটি দেখা গেল। স্টিল ইমেজের জন্য এ আই পাওয়া গেলেও ভিডিওর জন্য তা নেই। যার কারণে ভিডিওর কালার একুরেসি তেমন একটা পাওয়া যায় না। এত লো এপারেচার থাকা সত্ত্বেও ভিডিও কিছুটা ঘোলাটে থাকে। এছাড়া ফিজিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন নেই বলে মুভমেন্টে ভিডিও অনেকটা শেকি হয়ে যায়। তাই এই ফোন দিয়ে ভ্লগিং বা মুভিং সাব্জেক্টের ভিডিও শুট করার জন্য রেকমেন্ড করব না।

Screenshot from video captured by Y9 2019

Overall Opinion

এবার আসা যাক এই ফোন নিয়ে আমার ওভারল মতামতের দিকে। ফোনের অফিসিয়াল প্রাইস হচ্ছে ২২৯৯০ টাকা। এই প্রাইস রেঞ্জ যদি হিসেব করা হয় তাহলে ফোনের পজিশনটি হচ্ছে Y9 2018 এডিশন ও Nova 3i এর মধ্যবর্তী একটি পজিশনে। যারা Y9 2018 এর চেয়ে বেটার ফিচার চাচ্ছেন কিন্তু Nova 3i কেনার রিস্ক নিতে চাচ্ছেন না তাদের জন্য একটি ভালো অপশন হতে পারে Y9 2019 এডিশন ফোনটি।

Price & Availability

Huawei Y9 2019 এডিশন ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে pickaboo.com এ। ফোনটি এখন প্রিবুক অবস্থায় রয়েছে। প্রিবুক করলে পাবেন হুয়াওয়ের এক্সক্লুসিভ গিফট। এছাড়া পিকাবুতে পাচ্ছেন ই এম আই ও ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা এবং ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রোডাক্ট ফেরত দেবার সুযোগ।

Y9 2019 এডিশন কেনার জন্য ক্লিক করুন এখানে